05/04/2026
যু/দ্ধ ও অশান্তির এ সময়ে মুসলমানদের করণীয় কী? | কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে সমাধান! |
যুদ্ধ, অশান্তি ও সংকটের সময় মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহ খুব স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এসব সময়ে আবেগের বশবর্তী না হয়ে ঈমান, ধৈর্য ও হিকমতের সাথে চলাই হলো মূল পথ।
১. আল্লাহর দিকে ফিরে আসা (তাওবা ও ইবাদত বৃদ্ধি)
আল্লাহ বলেন:
“তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের হাতের অর্জনের কারণেই…” (সূরা শূরা: ৩০)
তাই প্রথম করণীয় হলো গুনাহ থেকে তাওবা করা, নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা।
২. ধৈর্য (সবর) ধারণ করা
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা বাকারা: ১৫৩)
বিপদের সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা জরুরি।
৩. দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা
রাসূল (সা.) বিপদের সময় বেশি বেশি দোয়া করতেন।
আমাদের উচিত—উম্মাহর জন্য, নির্যাতিতদের জন্য, শান্তির জন্য দোয়া করা।
৪. ঐক্য বজায় রাখা, বিভেদ এড়ানো
“তোমরা সবাই আল্লাহর রশি দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না।” (আলে ইমরান: ১০৩)
ফিতনা ও ঝগড়া মুসলিমদের দুর্বল করে দেয়।
৫. অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকা
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।” (বুখারি)
যুদ্ধের সময়ও নিরপরাধদের ক্ষতি করা হারাম।
৬. সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা
“ন্যায়ের উপর দৃঢ় থাকো, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে যায়…” (সূরা নিসা: ১৩৫)
মিথ্যা প্রচার, গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. অসহায়দের সাহায্য করা
যুদ্ধ ও অশান্তির সময় এতিম, গরীব, শরণার্থীদের সাহায্য করা বড় ইবাদত।
৮. গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য থেকে দূরে থাকা
“যখন তাদের কাছে কোনো সংবাদ আসে, তারা তা যাচাই না করে ছড়িয়ে দেয়…” (সূরা নিসা: ৮৩)
সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই ছাড়া কিছু শেয়ার করা উচিত নয়।
৯. হিকমত ও ধৈর্যের সাথে দাওয়াহ
কঠিন সময়েও ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা, উত্তেজনা নয়—শান্তিপূর্ণ আচরণ করা জরুরি।
সংক্ষেপে:
এই সময়ে একজন মুসলমানের মূল শক্তি হলো—
ঈমান + সবর + দোয়া + ঐক্য + সৎকর্ম
#ইসলাম #কুরআন #হাদিস #সবর #দোয়া #উম্মাহ #শান্তি