31/12/2025
💧যে কূপকে জান্নাতি কূপ বলা হয়💧
বীরে গরস কূপ (Well of Ghars).
মদিনার একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
এটি মুসলিমদের কাছে এক বিশেষ আবেগের স্থান।
বীরে গরস কূপের অবস্থান:
বীরে গরস কূপ ,
সৌদি আরবের মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত।
এটি মাসজিদে নববী থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে
আল-আওয়ালিয়া জেলায় অবস্থিত।
কুবা মসজিদের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এর অবস্থান।
বীরে গরস কূপের ইতিহাস ও তাৎপর্য :
বীরে গরস কূপের ইতিহাস মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এর বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।
* নবীজীর পছন্দের কূপ:
বলা হয়ে থাকে যে, নবী করীম (সা.) এই কূপের পানি পান করতেন এবং এই কূপের পানি দিয়ে ওযু করতেন।
এই কূপের পানি তিনি পছন্দ করতেন কারণ এটি ছিল বিশুদ্ধ এবং সতেজ।
হাদিসের বর্ণনা :💧
قال رسول الله ﷺ: نعم البئر بئر غرس هي من عيون الجنة وماؤها أطيب الماء.
বিরে গারস একটি উৎকৃষ্ট কুয়া।
এটি জান্নাতের ঝরনাগুলোর একটি এবং
এর পানি সর্বাধিক উৎকৃষ্ট
(মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৩/২৮৬ ,জামে আস-সগীর হাদীস ৭৮৯২; আলবানী সহীহ বলেছেন)।
বিরে গারস শুধু একটি কুয়া নয় এটি ইসলামের জীবন্ত ইতিহাস। বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই কুয়ার পানি পান করেছেন এবং এর জন্য দোয়া করেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন—
لقد رأيت الليلة كأني على بئر من بئر الجنة.
আমি রাতে স্বপ্নে দেখেছি যেন আমি জান্নাতের এক কুয়ার উপর অবস্থান করছি।
(মুসনাদে আহমদ হাদীস ১১৫৮২,সুনান ইবন মাজাহ হাদীস ১০৪)।
আনাস (রাঃ) বলেন,
একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ,বিরে গারস কুয়ার পানি দিয়ে অজু করেন এবং অবশিষ্ট পানি কুয়ার ভেতর ঢেলে দেন।
এর পর থেকে কুয়ার পানি আর কখনো শুকায়নি।
(তাবাকাত ইবন সা’দ, তারিখ মদীনা ইবন শাব্বাহ)।
রাসূল সা. তাঁর মৃত্যুর সময় হযরত আলী (রাঃ) কে وصية করেন যে,
قال علي رضي الله عنه: قال رسول الله ﷺ: "اغسلوني بسبع قرب من بئر غرس.
হযরত আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ),বলেছেন: ‘
আমাকে গোসল করাও বিরে গারস কুয়ার পানি দিয়ে,
সাতটি চৌবাচ্চা (মশক) দিয়ে।’
(মুসনাদ আহমদ ৮৩৪, সহীহ ইবন হিব্বান ৬৬৪৯,তাবাকাত ইবন সা’দ)।
তাঁর নির্দেশ অনুসারে, হযরত আলী রা.,আব্বাস রা. ও ফাযল ইবনে আব্বাস রা. মিলে সেই পানি দিয়ে নবীজির পবিত্র দেহ মোবারক গোসল করান। এই ঘটনাগুলো কুয়াটিকে শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন বানায়নি, বরং এক আত্মিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
* বরকত:
তিনি এই কূপকে "আমার কূপ" বলে উল্লেখ করেছেন এবং একে জান্নাতের ঝর্ণা বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
* ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
হিজরতের পর মদিনায় এসে মহানবী (সা.) কিছুকাল সাদ ইবনে খায়সামাহ বিন হারিস (রা.)-এর বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন, যিনি এই কূপের মালিক ছিলেন।
তাই এই কূপটি মদিনার প্রাথমিক ইসলামের ইতিহাসের
এক জীবন্ত সাক্ষী।
* পুনরুদ্ধার ও সংস্কার:
সময়ের সাথে সাথে এই কূপটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তবে সৌদি সরকারের অধীনে এটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা হয়েছে এবং এখন এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
এখানে পান করার ব্যবস্থা এবং নামাজের স্থানও রয়েছে।
জিয়ারত:
মুসলিমরা, বিশেষ করে যারা হজ বা উমরা করতে মদিনায় যান, তারা এই ঐতিহাসিক কূপটি জিয়ারত করতে যান।
এটি নবীজীর স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান হওয়ায় এর প্রতি মুসলিমদের গভীর ভক্তি রয়েছে।
দর্শনার্থীরা এই কূপের পানি পান করেন এবং এর বরকত হাসিলের চেষ্টা করেন। এটি মদিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান, যা নবীজীর সীরাত এবং ইসলামী ইতিহাসের সাথে সরাসরি যুক্ত।
আপনি যদি মদিনায় যান, তবে বীরে গরস কূপটি জিয়ারত করার সুযোগ পেলে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অনুভব করতে পারবেন।
উমরাহ এর বুকিং চলছে,
আপনি চাইলে আমাদের মাধ্যমে উমরাহ হজ্জ করতে পারেন।
বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন:
☞ মোহাম্মদ রুম্মান খান
মোবাইল নাম্বার - 01723055738
মোবাইল নাম্বার - 01737401476
বি:দ্র: নাম্বার গুলোতে ইমু এবং হোয়াটস্যাপ যুক্ত আছে।
চাইলে ইমু এবং হোয়াটস্যাপে ও যোগাযোগ করতে পারেন।
ফেসবুক ইনবক্সে ও যোগাযোগ করতে পারেন।