03/07/2026
আজ ২ জুলাই। ঠিক এই সময়েই, ১৯৯০ সালের হজ মৌসুমে মক্কার মিনা এলাকার আল মা'আইসিম টানেলে ঘটে গিয়েছিল হজের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ঘটনাটির তারিখ ৩ জুলাই হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল ছিল মক্কার মিনা এলাকার আল মা'আইসিম (Al-Ma'aisim) পথচারী টানেল। প্রায় ৫৫০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত এই টানেলটি মিনা, মক্কা এবং জামারাত এলাকার মধ্যে হজযাত্রীদের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ ছিল। হজের সময় প্রতিদিন লাখ লাখ হাজি এই পথ ব্যবহার করতেন।
সেদিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে লাখো হাজি জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। টানেলটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ১,০০০ জন। কিন্তু একসময় সেখানে প্রায় ৫,০০০ মানুষের প্রচণ্ড ভিড় সৃষ্টি হয়। এ সময় একটি পথচারী সেতুর রেলিং বেঁকে গিয়ে কয়েকজন নিচে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় ভয়াবহ পদদলন। প্রচণ্ড ভিড়, প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং টানেলের বায়ুচলাচল ব্যবস্থার সমস্যার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১,৪২৬ জন হাজি ইন্তেকাল করেন। শত শত মানুষ আহত হন। নিহতদের বড় একটি অংশ ছিলেন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের হাজিরা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৬৮০ জন ইন্দোনেশীয় হাজি নিহত হন। মালয়েশিয়ার একটি সরকারি বিবরণে বলা হয়, প্রায় ৮০ শতাংশ মৃত্যু টানেলের বাইরে এবং প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৮৫ জনের মৃত্যু টানেলের ভেতরে হয়েছিল।
ঘটনার পর সৌদি সরকার হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে। আল মা'আইসিম টানেলসহ পুরো মিনা ও জামারাত এলাকার অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হয়, নতুন সড়ক, বহুতল জামারাত সেতু, উন্নত পথচারী ব্যবস্থা, নজরদারি ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে এলাকাটি ১৯৯০ সালের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।
আজ সেখানে গেলে সেই সময়কার সংকীর্ণ চলাচল ব্যবস্থা আর দেখা যায় না; হজযাত্রীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য বিস্তৃত ও আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষ কখন, কোথায় এবং কী অবস্থায় মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেবে, তা কেউ জানে না। যারা আল্লাহর ঘর জিয়ারতের নিয়তে, হজের পবিত্র ইবাদত পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতি আজও মুসলিম উম্মাহকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
আল্লাহ তাআলা এই দুর্ঘটনায় নিহত সকল হাজিকে ক্ষমা করুন, তাঁদের সকল গুনাহ মাফ করুন, কবরকে প্রশস্ত ও নূরে ভরিয়ে দিন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। তাঁদের স্বজনদের ধৈর্য ও উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের সবাইকে বারবার হজ ও উমরাহ পালন করার, মক্কা ও মদিনা জিয়ারত করার তাওফিক দান করুন এবং ঈমানের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করে উত্তম পরিণতি নসিব করুন। আমীন।
বিঃদ্রঃ ছবি ও তথ্য ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহীত।