21/10/2025
ভ্যালেন্সিয়া ডাইনামিক ও ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির প্রতারণার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই
যে টিকিট ডেলিভারি হয়ে গেছে এবং যেখানে কনফার্ম টিকিট নম্বর ও IATA নাম্বার যুক্ত আছে, সেটি যেকোনো শর্তেই বিক্রি হয়ে গেছে। তারা সেই টিকিট ক্যাশে দিয়েছে না ক্রেডিটে দিয়েছে; সেটা আমাদের জানার বা বোঝার বিষয় নয়, দরকারও নেই।
ক্লায়েন্ট পণ্য বুঝে পেয়েছে। তারা কার সঙ্গে, কোন ভিত্তিতে, বা কোন কারণে পাওনাদার হয়েছে—এটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।
টিকিট রিফান্ডকে রিকভারি করার মাধ্যম বানানো আইনগতভাবে চূড়ান্ত অপরাধ এবং এটি চূড়ান্ত প্রতারণা।
তারা বড় ব্যবসায়ী বলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের 'জীবিতভাবে' শেষ করে দেবে, আর আমরা মাথা পেতে নেবো—এটা চলতে পারে না।
আপনারা একদল হোন — বছর পর বছর এদের ধান্দাবাজি বন্ধ করতে পারিনি। ভ্যালেন্সিয়া ডাইনামিকের মতো এজেন্সি বছর পর বছর আমাদের রক্ত চুষে এত বড় প্রতিষ্ঠান হয়েছে।
প্রতিবার একই ফাঁদে পাকতে আমাদেরকে ঠকায় ওই বড় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো — ভ্যালেন্সিয়া ডাইনামিকসহ শীর্ষ দশ এজেন্ট ও কিছু OTA-কে সামনে রেখে তারা প্রতি বছরই একটাই গেইম খেলছে, আর আমরা ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা চোখের পানি ফেলি।
আসুন উত্তর খুঁজি — ভ্যালেন্সিয়া ও ডাইনামিকের মতো সংস্থাদের কেন এবং কিসের সার্থ্যে কোটি কোটি টাকার এই অস্বাভাবিক বাকিতে টিকেট দেওয়া হয়?
১) ‘বেশি বিক্রি, বেশি লাভ’ এই আশায়। তাদের প্রথম কথা থাকে — “বেচো, বেচতে থাকো; ক্রেডিট কোনো ব্যাপার নয়; API বা NDC পারলে আমার IATA নিয়ে যাও, আমাকে শুধু সেল দাও।” টাকা-পয়সা নিয়ে তারা বলে — “কোনো সমস্যা নেই, টাকা ধীরে ধীরে দিলেই হবে।”
২) যত বেশি বিক্রি, তত বেশি ট্যাক্স ফাইল ভারী দেখানো যায় — AIT রিপোর্টিং কৌশল ব্যবহার করে। এক AIT ট্যাক্স এর হিসাব দিয়ে পুরো বংশের করা পাপ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার ১ বছরের জন্ন্য ফ্ল্যাট বাড়ি ইনকামের টাকা থেকে কিছুই আর সরকারকে দেয়া লাগলো না। একটা AIT হিসাব দেখিয়ে অনেক অনৈতিক উপায়ে অর্থ লুকানো , ফলে সরকারের কাছে সঠিকভাবে কর পরিশোধ না করেও উপকার পাওয়া যায়। টিকিটারের ওপরই সবকিছু দিয়ে দেওয়া হয়; সাব-এজেন্সিরাই বেশির ভাগ সময় AIT ও অন্য দাবির তদন্তের দায় নিয়ে ফেলে দেয়া হয়, কারণ তাদের চোখে তারা ‘অজ্ঞ’ মনে করা হয়।
৩) এয়ারলাইন্সের টপ-সেলার হওয়া — টপ-সেলারদের প্রাইভেট ফেয়ার, অতিরিক্ত ৩–৫% কমিশন ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যায়। সবাইকে ৭% কয়ে দেওয়া হয়, বাকি সুবিধাগুলো অনেকে নিজেরাই পকেটে তোলেন।
আর বছর শেষে এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বাহবা — ট্রফি, উপহার, অভ্যর্থনা, দেশি-বিদেশি ট্রিপ; টপ-সেলার মিটআপ হয়।
এই কাজের জন্য তারা বিভিন্ন এজেন্সিকে কাজে লাগায়; সবচেয়ে বেশি কাজে লাগায় কিছু OTA-কে।
আশা করি সহজে বোঝাতে পেরেছি—কেন তারা এই অস্বাভাবিক কোটি কোটি টাকার টিকেট ক্রেডিটে বা ব্যতিক্রমী শর্তে দিয়ে থাকে।
*এবার আসি—বুঝে নেই কেন তারা রিফান্ড করে?*
সহজ কথায় — যখন তাদের চাহিদা শেষ হয়ে যায়, টার্গেট পূরণ হয়ে যায়।
এবার বাকির টাকা তোলার পালা শুরু হয়!!
কিভাবে?
১) এজেন্সির ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
২) তারপর রিফান্ড/রিইস্যু প্রক্রিয়া আটকে রাখা।
৩) তখন টিকিট রিফান্ডের ভয় দেখিয়ে এজেন্সিকে ভীত করা।
যদি সময়মতো টাকা দিতে পারে, ভালো; না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হবে।
ওই এজেন্সি বা OTA চাপের মুখে বন্ধ হয়ে যায় বা পালিয়ে যায়।
বস, এটাই মজার অংশ!!
— পাইতো ৫ কোটি রিফান্ড দেখিয়ে দিলো ১০ কোটি! কে গিয়ে টিকিট ধরে ধরে মিলাইবে যে কত টাকা রিফান্ড হচ্ছে বা হচ্ছে না? কার টিকিট কোন ধরনের টিকিট, কারা কমপ্লেইন করবে—এগুলো কারো পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয় না।
জীবনেও এই জটিল হিসাব তারা ছাড়া আপনি-আমি মিলাতে পারব না।
তাহলে লাভ হল আরও ৫ কোটি টাকা!
তাহলে মোট লাভ কত হলো?
তিনটা?
বিক্রয় বাড়ল, প্রফিট বাড়ল, ট্যাক্স ফাইল ভারী দেখাল—এভাবেই তারা এয়ারলাইন্সের টপ-সেলারও হলো।
OTA টাকা না দিয়ে পালিয়ে গেছে—ভিকটিম রোল প্লে করে হাহাকার করবে; মিডিয়া বলবে “একটা OTA ভেগে গেছে।” ভ্যালেন্সিয়া ডাইনামিকের নাম কেউ নেবেনা, আর লাভ তো হলো আরও ৫ কোটি। এ বছরের জন্য এটাই যথেষ্ট—আর কিছু চাওয়া হবে না।
কয়েক দিন একটু চাপ, কিছু হুমকি-ধামকি—ব্যাপারই শেষ, এবং পরের বছর আবার একই গেইম।
এভাবেই প্রতি বছর আমাদের টাকাগুলো চলে যায়—ওই ভ্যালেন্সিয়া ডাইনামিকের মতো কুখ্যাত, পর্দার পেছনের ‘মাস্টারমাইন্ড’দের হাতে।
তাহলে করণীয় কী?
দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
প্রতিজ্ঞা করুন—এইবার ভ্যালেন্সিয়া ডাইনামিক এই গেইম আর খেলতে পারবে না।
আপনার-আমার কষ্টার্জিত টাকা তারা আর আত্মসাৎ করতে পারবে না।
প্রয়োজনে আমরা আমাদের টিকিটের পূর্ণ মূল্য ফেরত নেবো—না হলে তাদের এই ধান্দাবাজি ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করে দেবো।
হার মানবেন না, ভুলেও পিছিয়ে যাবেন না।
১০ দিনের সময় দিন—এই সময়ের মধ্যে তারা টাকা ফেরত দিক, অথবা নতুন টিকিট দিক—অন্যথায় আমরা আইনি ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
চোখ—কান খোলা রাখুন
কেউ কেউ আন্দোলনের নেতা সেজে তাদের পক্ষ নেবে, কেউ কেউ ডামি মামলা সাজাবে।
চতুরতার সঙ্গে কোনো পক্ষ বাদ দেওয়া হতে পারে।
তাই সবাই সজাগ থাকুন, একে অপরকে খবর দিন—যাতে সত্যিকারের ছোট এজেন্সি ও ক্লায়েন্টরা আবার হার না মানে।
শেষ কথা
আমরা ছোট, কিন্তু একসাথে হলে বিশাল শক্তি।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই প্রকৃত সাহস।
টিকিট বিক্রি কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু টিকিট রিফান্ডকে ক্রেডিট রিকভারি বানানো এক ভয়াবহ প্রতারণা এবং আইনত অপরাধ।
আমাদের অধিকার আমাদের কণ্ঠে—চুপ থাকলে প্রতারকরা আরও শক্তিশালী হবে।
তাই এখনই সময়—সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, একসাথে আওয়াজ তোলার।
🕊️ আমরা কারও বিরুদ্ধে নই — আমরা শুধু সত্যের পক্ষে।
✊ একসাথে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন, এবং এই প্রতারণার চক্রের অবসান ঘটান।