ভালবাসার গল্প

ভালবাসার গল্প Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ভালবাসার গল্প, Tour Agency, Chittagong.

03/06/2015

ভালবাসার গল্প
লেখাঃBahar uddin sakib
ক্লাসে স্টুডেন্ট হিসাবে ভালই ছিল
মাহির, সকলেই তাকে পছন্দ করত। স্কুলে
সে নিয়মিত ছিল। প্রায় স্কুল যাওয়ার
পথে একটা ঢিল এসে লাগে মাহিরের
মাথায়, কিন্তু এদিক সেদিক খোজার
পর কাউকে দেখা যায়না।
হঠাৎ একদিন আবারও ঢিল এসে লাগল
মাহিরের মাথায়, এবার ব্যাটারে
মজা দেখামু বলে মাহির উপরে
তাকায় এবার সে দেখতে পেল একটা
মেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে, তাকে
চিনতে বাকি রইলনা মাহিরের, এই
তাদের ক্লাসের সেই দুষ্ট মেয়েটি।
নাম তামান্না। সে মাহির কে পছন্দ
করত। তা অজানা ছিলনা মাহিরের।
- এই যে প্রব্লেম কি? (মাহির)
-কোন কথা না বলেই হাসছে....
(তামান্না)
-সাহস থাকলে নেমে কথা বলুন..
(মাহির)
এই বলেই চলে গেল মাহির, পরের দিন
আর ঢিল না মেরে সোজা সামনা
সামনি মেয়েটি,,,,,
কি ব্যাপার আমার কাছে কি(মাহির)
সে দিন তো খুব সাহস দেখিয়েছো
বললা নিচে নামতে, তো আজ এলাম,
কি করবা বল?(তামান্না)
দেখ আজ আমার সময় নেই প্রাইভেটে
লেট হচ্ছে।(মাহির)
না আন্সার না দিলে যাইতে
দিবোনা..
কিছু না বলেই পাশ কেটে চলে গেল
মাহির, পিছন থেকে ওই ওই ওই,.... শুন।
প্রায় (২-৩) দিন পর আবার ও এই পথে
মাহির....
কি ব্যাপার সেদিন এমন ভাবে চলে
গেছ ক্যান....(তামান্না)
তোমায় আজ আমি কিছু কথা বলবো।
(তামান্না)
না আমি শুনতে চাইনা আমার কাজ
আছে।(মাহির)
প্লীজ প্লীজ একটু সময় দাও।
এত করে যখন বলছে তখন একটু শুনল
মাহির,
ওকে জাস্ট ৫ মিনিট
জান? আমি তোমায় খুব ভালবাসি?
তো আমি কি করতাম?
কেন তুমি আমায় বাসনা?
না এসব ভালবাসা টালবাসা আমায়
দিয়ে হবেনা, আমি আমি....
এই বলে চলে গেল মাহির। এই
ব্যাপারটা নিয়ে মাহিরের আর
সেইপথে যাওয়া হইনি।
একদিন একটা কাজে সেই পথ দিয়েই
যাচ্ছিল মাহির, কিন্তু আজ আর সে
জানালাটা খোলা নেই। বারান্দার
পাখির খাচাটিকেও আর দেখা
যাচ্ছিলনা.... কেমন যেন একটু ফিল করল
মাহির।
পরের দিন আবারও মাহিরের সেই পথে
আসা, আজ আর অন্য কাজ নেই আজ
সত্যি
সত্যিই তার উদ্দেশ্য মেয়েটি। কিন্তু
আজও তাকে পাওয়া গেলনা......
আজ মাহির বুঝতে পারল যে সে
মেয়েটিকে ভালবেসে ফেলেছে।
তাই সে আজও মেয়েটিকে খুজতে বের
হল।
বাড়ির সামনে একজন বৃদ্ধ লোককে
দেখল সে,
আংকেল এই বাড়িতে একটা মেয়ে
থাকত তারা কোথায়?
কোন মেয়ে?
ওই যে সুন্দর করে।
ও তামান্নার কথা বলছ?
হ্যাঁ ওরা তো গত ২০ তারিখেই বাসা
ছেড়ে চলে গছে......
কোথায় গেছে?
তা তো বলতে পারবোনা.......
অনেক খোজা খুজির পর বাসায় ফিরে
এল মাহির, নিজের রুমে বসে বসে
অজস্র কাঁদল।.......
*ছয় বছর পর*
মহির তার বন্ধুকে দেখতে গেলো
হাসপাতালে। ৩০২ নং কক্ষে যাওয়ার
কথা থাকলেও ভুলক্রমে সে ৩০০ নং
কক্ষে ডুকে গেল, দেখল সেখানে
একোটা মেয়ে শুয়ে আছে অবস্থা খুবই
সিরিয়াস। সে হাঁপাচ্ছে। মুখ তুলতেই
সে আর চিনতে ভুল করলনা, এই সে
মেয়েটি.....
পাশে গিয়ে ....
-আমায় ছিনতে পারছ?
-মুচকি হাসি দিয়ে ... কেন ছিনবনা
-কোথায় ছিলে তুমি কত খুজেছি,,
-আসলে সে মাসেই আমরা বাসা
ছেড়ে দেই।
-জানো খুব মিস করতাম তোমায়
আমি ভালবেসে ফেলেছি তামান্না
-আবার ও মুচকি হাসি দিয়ে জানতাম
তুমি আমায় ভালবাসবে, কিন্তু আমার
অনিশ্চিত জীবনের সাথে তোমাকে
জড়াতে চাই না।(তামান্না)
এই যে ওকে ডিষ্টার্ব করবেননা ওর
এখনি অপারেশন হবে।
তামান্নার ক্যান্সার হয়েছে।
ডাক্তাররা তাকে নিয়ে গেল
অপারেশন থিয়েটারে......
কিন্তু থিয়েটার থেকে তামান্না
ফিরলনা। চলে গেল না ফিরার দেশে।
সেদিন থেকেই মাহিরের মুখে আর
হাসি দেখা গেলনা।...........
# # # # # #প্রিতা

03/06/2015

“অতঃপর ঐন্দ্রিলার ফিরে দেখা”
(এরপর)
গত একটা সপ্তাহ সময়টা যেন কাটতেই
চায়ছে না ঐন্দ্রিলার। কখনো
বারান্দায়, কখনো পড়ার টেবিলে,
কখনোবা বিছানার একোণে ওকোণে
নিজেকে আবিষ্কার করছে। মনে হচ্ছে
বুকের পাঁজরটা বারবার ভেঙ্গে আবার
জোড়া লাগছে। এত কষ্ট হওয়ার তো
মানেই হয় না তাই না!!! যাকে চিনে
না, জানে না, এর আগে কখনো দেখে
নি, তার জন্য এরকম অনুভূত হবে এটা
স্বপ্নেও ভাবতে পারে না ঐন্দ্রিলা।
রুদ্র অনেক বছর হলো চলে গেছে
ঐন্দ্রিলাকে ছেড়ে, এরপরও ওকে ছাড়া
আর কারো কথা কখনো মাথাতেই আসে
নি ঐন্দ্রিলার। আজ খুব কষ্ট
হচ্ছে,চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে
বিড়বিড় করে বলছে, “কেনো চলে গেছো
রুদ্র? চলে যখন যাবেই আমায় কেনো
সঙ্গে নিলে না? এমন তো কথা ছিলো
না! আজ যে আমি বড় একলা হয়ে গেছি
রুদ্র!!! ফিরে এসো রুদ্র।” রুদ্র আসে না।
আর কখনো আসবেও না। ও তো খুব
ভালোই আছে। অযথা সেই সব অতুলনীয়
সুখ ছেড়ে এই জঞ্জালে ভরা পৃথিবীতে
আসতে যাবে কেনো রুদ্র!!! যে স্বর্গে
থাকার যোগ্য সে কী আর ইচ্ছা করে
নরক সমতুল্য মর্তে থাকতে চায়! এখন
নিজেই নিজেকে চিনতে পারে না
ঐন্দ্রিলা। মাঝে মাঝে খুব অবাক
লাগে নিজেকে উপলব্ধি করে। রুদ্র তো
চলে গিয়ে বেঁচেই গেছে! সাথে করে
নিয়ে গেছে ঐন্দ্রিলার সব। যা শুধু
রুদ্রের ছিলো! মায়াভরা চোখ, মিষ্টি
হাসি, লাবণ্যতা, কবিতার ছন্দ, গানের
সুর। সবকিছু নিয়ে গেছে স্বার্থপরটা!!
কিছুই নেই আর এখন ঐন্দ্রিলার কাছে!
বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো
ঐন্দ্রিলা। জানালার পাশের বইয়ের
টেবিলটার ড্রয়ারের মধ্যে
ডায়েরিবন্দি করে রাখা কষ্টগুলো আজ
উড়ে যেতে চাইছে। কিন্তু কী করে উড়ে
যেতে দেবে ঐন্দ্রিলা! তা হলে তো ওর
বেঁচে থাকাটায় কষ্টকর হয়ে যাবে!!
রাত ১২ টা…।।।
আয়নার সামনে বসে আছে ঐন্দ্রিলা।
পরনে রুদ্রের দেওয়া সেই আবছা নীল
রঙের শাড়িটা। দেখে মনে হচ্ছে,
শরতের সকালের ঐ বিশাল আকাশটা
নিজের গায়ে জড়িয়ে নিয়েছে ও।
চোখে গাড় কালো কাজল। যার জন্য
চোখের নিচে পড়া কালো দাগগুলো
ঢেকে গেছে। কপালে ছোট নীল টিপ।
আয়নাতে নিজেকে দেখে নিজেই
চিনতে পারছে না ঐন্দ্রিলা। অসম্ভব
সুন্দর লাগছে আজ ওকে। খোপায়
জড়িয়েছে রুদ্রর প্রিয় বেলির মালা।
কিন্তু কিছু একটা বাদ পড়েছে! ড্রেসিং
টেবিলের ড্রয়ার খুলে ধুসর রঙের এক
পুরোনো কালো বাক্স বের করলো ও।
সেখানে শুধুমাত্র একটা মাউথারগান
ছাড়া আর কিছুই নেই। আর মাউথারগান
টা আলতো করে ছুয়ে আদর করে দিলো
ঐন্দ্রিলা। এটা রুদ্রর ছিলো। ওর রেখে
যাওয়া একমাত্র স্মৃতি। রুদ্র খুব ভালো
মাউথারগান বাজাতে পারতো। হয়তো
আদিও পারবে। এবার, দেরি করা ঠিক
হবে না। রাত গড়িয়ে ভোর হতে
চলেছে। টেবিলের ওপর থেকে আদির
উদ্দেশ্য লেখা চিঠি আর এতবছর ধরে
রুদ্রর উদ্দেশ্য জমানো কথার ফুলঝুরি
সে খয়েরি রঙের ডায়েরিটা একটা নীল
কাগজের ব্যাগে পুরে নিলো। সঙ্গে
নিলো মাউথারগানটাকেও। পা টিপে
টিপে ডাইনিং রুমে এসে দেয়ালে
ঝুলিয়ে রাখা গেইটের চাবিটা হাতে
নিয়ে নিচে নেমে এলো ঐন্দ্রিলা।
রাস্তায় বের হয়ে মনটা খানিকটা
ভালো হয়ে গেলো ওর। আজ পূর্ণিমা।
পূর্ণ গোল থালার মতো চাঁদটা মেঘের
মাঝে থেকে উঁকি দিয়ে দেখছে
ঐন্দ্রিলাকে। আবার খানিকপরেই
লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলছে। কিছুদুর
যেতেই একটা রিকশা চোখে পড়লো
ঐন্দ্রিলার। রিকশা তে উঠে বলল,
রেলস্টেশনের দিকে যেতে। ঐন্দ্রিলা
জানে সেদিন চলে আসার পর থেকে
হয়ত প্রতিরাতে অপেক্ষা করে আদি
ঐন্দ্রিলার জন্য। ঐন্দ্রিলা ভেবে
ফেলেছে, কি করবে! কি বলবে আদিকে।
সেদিন রাতে ঐন্দ্রিলা দেখেছিলো,
চশমার ওপারে ওর জন্য স্নিগ্ধ
ভালোবাসা। কিন্তু ঐন্দ্রিলা চায় না
ওর মতো কেউ সারাজীবন ভালোবাসার
অপরাধে ভুগতে থাকুক। তাই আজ সব
বাধা পিছনে ফেলে ছুটে যাচ্ছে
ঐন্দ্রিলা!
প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে এদিকে ওদিকে
তাকাচ্ছে ঐন্দ্রিলা। খুঁজছে আদিকে।
সারা প্লাটফর্মে খুঁজে ফেলছে
ঐন্দ্রিলা আদিকে। কিন্তু কোথাও
পেলো না আদিকে ও। সামনে থাকা
বেঞ্চটাতে বসে পড়লো। আর মনে মনে
বিড়বিড় করে বলতে লাগলো, “আদি কি
আসে নি!! নাকি চলে গেছে।” হঠাত
পাশ থেকে আদির গলা পেয়ে আঁতকে
উঠলো ঐন্দ্রিলা! আরে আদি তো
ঐন্দ্রিলার পাশেই বসে আছে!!
ঃ আদি আসবে না তা কি করে হয়
ঐন্দ্রিলা!!! আদি এসেছে। তুমি আমাকে
এই রেললাইনের ধারে ফেলে যাওয়ার
পর থেকে আমাকে এই জায়গাটা খুব
টানে। তাই অযথাই এসে বসে থাকি
রাতের বেলা। আমি অবশ্য জানতাম
তুমি আসবে। কিন্তু অতটা নিশ্চিত
ছিলাম না। কারণ আমি এটাও জানতাম
তোমার পিছুটান আছে।
ঃ (একটু হাসে ঐন্দ্রিলা) ভয় লাগিয়ে
দিয়েছো। আমিও জানতাম তুমি
থাকবে।
ঃ একটা কথা বলবো তোমাকে? রাগ
করবে না তো?
ঃ না। করবো না। বলতে পারো।
ঃ তোমাকে না আজ খুব সুন্দর লাগছে।
অনেক বেশি! তোমাকে এইরকমভাবে
চোখের সামনে কখনো ভাবি নি।
সেদিন মনে হয়েছিলো আমার পাশে
তেঁতুল গাছ থেকে একটা পেত্নি নেমে
এসেছে। আর আজকে মনে মনে আকাশ
থেকে এক নীলপরী নেমে এসেছে!
তোমার হাসিটাও অনেক বেশি সুন্দর।
যা তুমি ভাবতেও পারবে না ঐন্দ্রিলা!
ঃ হা হা হা!! হুম।
ঃ আজকেও এইরকম হুম হুম করবে? ভালো
লাগে না এইসব! কথা বলতে পারো না
তুমি?
ঃ পারি। কিন্তু তোমার মতো অতটা
বলতে পারি না! হা হা হা।
ঃ তুমি কি বলতে চাও,আমি বাচাল!!!
ঃ আমি কেনো বলতে যাবো! সেদিন
তো তুমিই বললে।
ঃ দেখো ঐন্দ্রিলা! ভালো হবে না
কিন্তু!
ঃ কি করবে তুমি? আমি একশবার বলবো।
ঃ দাড়াও দেখাচ্ছি!
আদি ঐন্দ্রিলার চুল ধরে পিছন থেকে
টান দেয়। সাথে সাথে কালো ঘন
চুলগুলো আছড়ে পরে ঐন্দ্রিলার পিঠের
ওপর সামনের চুল গুলো এসে পড়ে চোখের
ওপর। আদি ঐন্দ্রিলার আরো কাছে সরে
আসে। চুলগুলো নিয়ে এসে গুজে দেয়
কানের পাশে। উঠে চলে যেতে চাইলে
আদি শক্ত করে ঐন্দ্রিলার হাতটা
আকড়ে ধরে বললো, “সেদিন তুমি
আমাকে ছেড়ে চলে গেছো। আমি কিছুই
বলতে পারি নি। আজ আর যাবে না।
আমি তোমাকে আর যেতে দেবো না।”
আদি দেখে ওর,হাত ঐন্দ্রিলার চোখের
জলে ভিজে গেছে। অনেকটা অপ্রস্তুত
হয়ে গেলো আদি। ভাবছে, হয়তো অনেক
কষ্ট দিয়ে ফেলেছে ঐন্দ্রিলাকে। আদি
তাই হাতটা ছেড়ে দিলো। ঐন্দ্রিলার
নিয়ে আসা নীল ব্যাগটা চোখে পড়তেই
প্রশ্ন করে আদি।
ঃ এটা কি ঐন্দ্রিলা?
ঃ এটা তোমার। তোমার জন্য নিয়ে
এসেছি।
ঃ দাও তো দেখি। কি এনেছো আমার
জন্য!!!
ঃ না। এখন না। আমি চলে যাওয়ার পর।
এখন দেওয়া যাবে না।
ঃ তাহলে আমার এটা দেখতেও হবে
না। আমি তোমাকে এখন আর যেতে
দেবো না।
ঃ এটা তো সম্ভব না আদি! আমি
পারবো না। এটা আর হয় না।
ঃ কেনো হয় না! কেনো হবে না। আমি
তোমাকে ভালোবাসি ঐন্দ্রিলা।
অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি বলো,
তুমি কি চাও বলো! আমি তোমায় সব
এনে দেবো! সব!!!
ঃ আমি যা চায়,তুমি তা কখনোই এনে
দিতে পারবে না আদি! তুমি পারবে
আদি, আমার রুদ্রকে আমার কাছে
ফিরিয়ে এনে দিতে! তুমি পারবে???
আমি রুদ্রকে ভালোবাসি। আমি রুদ্র
ছাড়া তার স্থানে কাউকে কোনোদিন
আনতে পারবো না। আমার
অনুভূতি,ভালোবাসা সবকিছু রুদ্রের
জন্য। তুমি এনে দাও আমার রুদ্রকে।
(কাঁদতে থাকে ঐন্দ্রিলা)
ঃ কে রুদ্র? কোথায় থাকে সে? তুমি
যদি তার সাথেই সুখি হও, তাহলে
অবশ্যই পারবো তাকে এনে দিতে। বলো
সে কোথায় থাকে?
পাগলের মতো উচ্চস্বরে হাসতে থাকে
ঐন্দ্রিলা। চিৎকার করে বলতে থাকে, “
সে যে এই জগৎসংসারে থাকে না
আদি। সে এখন আকাশজুড়ে থাকে।
তাকে তুমি কোথায় পাবে বলো আদি?
সে যে খুব স্বার্থপর! আমায় ছেড়ে চলে
গেছে সে!” আদি চুপ করে থাকে। কিছু
বলে না। অর যে কিছুই বলার নেই। ও
ঐন্দ্রিলাকে দেখে কখনো বুঝতেই
পারে নি, ওর ভিতরে ও এতটা কষ্ট পুষে
রেখেছিলো। ঐন্দ্রিলা নীল রঙের
ব্যাগটা এগিয়ে দেয় আদির দিকে।
একবার ওর দিকে তাকিয়ে হাত
বাড়িয়ে দেয় আদি। এরপর ঐন্দ্রিলা
উঠে দাড়ায়। যাওয়ার সময় শুধু বলে, “
আদি আমি যাই। হয়তো আর দেখা হবে
না কোনোদিন! আবার হয়েও যেতে
পারে! পৃথিবীটা তো গোল তাই না?
আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার অনেক
দামি কিছু তোমায় উপহার হিসেবে
দিয়ে যাচ্ছি। যত্নে রেখো।” কিছুই
বলছে না আদি। চুপ করে আছে।
ঐন্দ্রিলা কয়েক পা এগিয়ে একবার
ফিরে তাকালো আদির দিকে। তারপর
আবার চলা শুরু করলো। ঐন্দ্রিলা চলে
যাওয়ার পর ব্যাগ থেকে ডায়েরিটা
বের করলো আদি। ডায়েরির পাতা
জুড়ে শুধু রুদ্র আর রুদ্র!!! রাগ হয় আদির।
ছুড়ে ফেলে দেয় ডায়েরি। ডায়েরির
ভেতর থাকা একটা নীল ভাঁজ করা
কাগজ আছড়ে পরে প্লাটফর্মে। কাগজে
আদির উদ্দেশ্যে একটা চিঠি লেখা
ছিলো………………।
প্রিয় আদি,
তুমি যখন চিঠিটা পড়ছো। আমি তোমার
থেকে অনেক দূরে আদি। জানি, অনেক
রাগ হচ্ছে তোমার আমার ওপর। কিন্তু
আমার যে কিচ্ছু করার নেই আদি। আমি
এটাও জানি তুমি আমাকে খুব
ভালোবাসো। কিন্তু তার চায়তেও
অনেক অনেক গুন বেশি ভালোবাসি
আমি রুদ্রকে। রুদ্র আমার সব ছিলো। রুদ্র
আমার পৃথিবী ছিল। সে যখন আমাকে
ছেড়ে অভিমানে এত দূর চলে যেতে
পেরেছে! থাক,এসব আর নাই বললাম।
আমি আমার দিনগুলো ফুরনোর
অপেক্ষায় রয়েছি আদি। স্বর্গদ্বারে
রুদ্র আমার অপেক্ষা করছে। আমার
তোমায় দেওয়ার মতো যা ছিলো সব
নিয়ে গেছে রুদ্র। এখন যা আছে তা শুধু
পোড়া কয়লার মতো। যা আগুনের
সংস্পর্শে এলে দাউ দাউ করে জলে
উঠবে। আর পুরিয়ে ছারখার করে দেবে
তোমাকে। তাই আমি চাই নি আমার
জীবনটার মতো তোমার জীবনটাও পুড়ে
কয়লা হয়ে যাক! তোমাকে খুব সুন্দর
একটা জিনিস দিয়ে গেলাম। আশা করি
পছন্দ হবে তোমার। এটা রুদ্রর রেখে
যাওয়া শেষ স্মৃতি ছিলো। ভালো
থেকো।
ইতি,
ঐন্দ্রিলা…………
আদি ব্যাগের ভিতর থেকে ধুসর কালো
রঙের বাক্সটা খুলে মাউথারগানটা বের
করে। খুব সুন্দর এটা। বোঝায় যাচ্ছে
ঐন্দ্রিলা খুব যত্নে রাখতো এটাকে।
আদি চোখ মুছতে মুছতে বলল, “ ভালোই
করেছো ঐন্দ্রিলা তুমি চলে গেছো।
আমি পারতাম না, তোমার এতটা
ভালোবাসা পেতে। শুধু কষ্ট পেতাম।
তুমি ভালো থেকো।” ঐন্দ্রিলা অনেক
দূর থেকে শুনতে পায় মাউথারগানে সুর
উঠেছে, জন ডেনভারের,,,
You fill up my senses
Like a night in a forest
Like the mountains in springtime
Like a walk in the rain
Like a storm in the desert
Like a sleepy blue ocean
You fill up my senses
Come fill me again
জয়া ।

22/05/2015

একটি ছেলে একটি
মেয়েকে প্রচন্ড
ভালোবাসতো
কিন্তু
মেয়েটা ছেলেটাকে
ভালোবাসতনা
তাই,,ছেলেটা একদিন
মেয়েটার
কাছে গিয়ে বলল,,
আমি তোমাকে
ভালোবাসি,
তুমি কেন
বুঝতে পারনা।
তোমার খারাপ
লাগবে বলে আমি
তোমার পিছু
নেই না, তোমার খারাপ
লাগবে বলে আমার
কথাগুলো শোনার
অনুরধও করিনা।
কিন্তু আজ অনুরোধ
করছি আমার
কথাগুলো শোনার জন্য।
কারন আমি আর
থাকতে পারছিনা,
ঠিকমত খেতে
পারছিনা
যেদিন থেকে তোমায়
দেখেছি
ঘুমোতে পারছিনা
ঘুমোবার সময় তোমার
কথা ভাবতে ভাবতে
চোখে জল চলে আসে
শুধু ভাবি তুমি কেন
বুঝতে পারনা আমি
তোমায়
কতটা ভালোবাসি,,,,
তোমার মনে কি আমার
জন্য একটুও
জায়গা নেই,,,
মেয়েটি কিছু না বলে
চলে গেলো
কয়েকদিন পর
ছেলেটা মেয়েটিকে
আবার বলল,
তোমাকে ছাড়া আমার
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে
আসছে পাখি,,,,তাই
বারবার তোমার
কাছে ছুটে আসতে
ইচ্ছে করে,,তোমার
সঙ্গে কথা বলতে
ইচ্ছে করে,
মেয়েটি বলল, আমার
সঙ্গে এইসব নাটক
করা বাদ দাও!
ছেলেটি বলল,,আমার
মুখের
কথা মিথ্যে হতে
পারে,,,কিন্তু এই
চোখের জল
মিথ্যে নয়,
আর নাটকের কথা
বলছ তো,ঠিকআছে
তোমাকে দুই বছর
ধরে ভালোবেসে যাওয়া
যদি নাটক হয়
তো এই নাটক আমি
সারাজিবনের জন্য
করে যাব,তোমায়
ভালোবাসি,তোমাকেই
ভালোবাসব,,,,,
আর একটা কথা আমার
এই চোখের জল
একদিন
তোমাকেউ কাঁদাবে
আর সেদিন হইতো
আমি আর থাকবনা,,,,
একদিন রাত্রে,,
মেয়েটি ছেলেটির
বন্ধুর কাছ
থেকে ছেলেটির নম্বর
নিয়ে ফোন করে বলল,
আমি বৃষ্টি,
কে তুমি আকাশ তো!
ছেলেটি মানে আকাশ
খুশি হয়ে বলল,,
তুমি আমাকে ফোন
করেছ বৃস্টি
আমি খুব খুশি
হয়েছি,বলো কি বলবে
মেয়েটি বলল,,
তুমি আমাকে সত্যি
ভালোবাস????
ছেলেটি বলল হ্যাঁ
মেয়েটি বলল,তাহলে
তুমি আমার
একটা কথা রাখবে??
ছেলেটি বলল,বলো কি
কথা রাখব,,,,
মেয়েটি বলল,
তুমি আমাকে ভুলে যাও
আর আমি চাই তুমি
কখনও আমায় দেখার
চেষ্টা করবেনা,,,
কারন আমার বিয়ে
ঠিক হয়ে গেছে,,
তাই আমি এইসবের
মধ্যে জড়াতে চাইনা
ছেলেটি বলল ঠিক
আছে,তবে তোমাকে
আমি আর
একটি বার দেখতে চাই
মেয়েটি বলল বল কখন
কাল সকাল ৮টার সময়
কলেজের বড়
বটগাছটার কাছে
মেয়েটি বলল ঠিক
আছে আমি আসব
পরের দিন
মেয়েটি সেখানে গিয়ে
দেখে
ছেলেটি ফাঁসি দিয়েছে
আর সেখানে একটা বড়
কাগজে রক্ত
দিয়ে লেখা আছে
""""আজ
আমি ভীশন
খুশি কারন আমার
প্রিয় মানুষটির
দেওয়া কথা আমি
রাখতে পেরেছি"""""""
আর সেখানে একটি
ছোট্ট চিঠিও
ছিলো
যেটিতে লেখা
ছিল,,,,,পাখি
কাল রাত্রে আমার
ভীষন কষ্ট হচ্ছিল।
শুধু তোমার কথা মনে
পরছিল।তাই ভাবলাম
আমি মরে গেলেইতো
তোমাকে ভুলে যেতে
পারব।
তাই"
তোমাকে সুখের বাসায়
রেখে চলে গেলাম।শুধু
একটিবার তোমার মুখ
দিয়ে আমায় i love you
বলো!!!!!

15/04/2015

স্বপ্নবালক- বৈশাখী!
বৈশাখী- হ্যা বলো স্বপ্ন, নতুন করে আবার
কি স্বপ্ন বুনেছো?
স্বপ্নবালক- এটা কিন্তু বেশ বলেছো,স্বপ্ন
আছে বলেই যে আমি স্বপ্নবালক।
বৈশাখী- তাড়াহুড়োর মাঝে কিছু বলতে
এসেছি তোমায়,ফের চলে যেতে হবে
সাঁজঘরে, আজ হাতে সময় কম।
স্বপ্নবালক- এতো তাড়ার মাঝেও কেন
এসেছো তাহলে?
বৈশাখী- পূর্বাভাস! সবার ভিড়ে হারিয়ে
যাবার আগে তোমার সামনে না এসে যে
থাকতে পারিনা।
স্বপ্নবালক- আচ্ছা, তোমার নাম বৈশাখী
হল কেন?
বৈশাখী- বৈশাখের প্রথম দিনেই যে
আমার জন্ম।
স্বপ্নবালক- এই সন্ধ্যা রাতে সাঁজঘরে যাবে
কেন?
বৈশাখী- আয়োজনের সব ঠিক আছে কিনা
মিলিয়ে দেখব বলে।
স্বপ্নবালক- কি সাঁজে সাঁজবে তুমি?
বৈশাখী-লালপারে বাসন্তী শাড়ি,হাতে
কাঁচের রেশমী চুঁড়ি,গলায় পুতির
মালা,খোঁপায় বেলীফুল,কপালে লালটিপ
আর…
স্বপ্নবালক- আর কি ?
বৈশাখী- আর আলতায় রাঙাবো পা।
স্বপ্নবালক- তো কি করবে সারাদিন?
বৈশাখী- মেলায় যাব, ঘুরে ঘুরে বাংলার
ঐতিহ্য কুড়াবো।ঢাক-ঢোলের শব্দ আর
গানের ছন্দে হেঁটে বেড়াব এ পথ থেকে সে
পথ।
স্বপ্নবালক- তারপর?
বৈশাখী- সবাই যখন আনন্দে মেতে
উঠবে,আমি পথ হারাবো অন্যপথে। ধীরে
ধীরে ভুলে যাবে সবাই, আমায় খুঁজবেনা
কেহ,তুমিও ভুলে যাবে একসময় হয়তো সবার
পরে। তবুও কেন জানিনা তোমার কাছেই
ছুটে আসি সবার আগে, হয়তোবা…
স্বপ্নবালক- হয়তোবা কি?
বৈশাখী- সেটা না হয় বলবো বছর পরে,
ভালো থেকো। #অভি

14/04/2015

চাকচিক্যময় ভালোবাসা
-কিরে জয় পরীক্ষাতো শেষ হলো।কি করবি
ভাবছিস?
-আমিতো বাবাকে বলেছি পরীক্ষার পর
মোবাইল কিনে দিতে।তোর কি প্ল্যান?
-আমিও মোবাইল কিনবো।
-কোনটা কেনা যায় বলতো!
-দেখি বাবা কি বলেন
-আচ্ছা চল বাড়ি যাই এখন।পরে দেখা যাবে৷
সোহান আর জয়ের বন্ধুত্তের উপমা মেলা
ভার।প্রতিটি পদে তারা এক সাথে।দুই জন
যেনো বন্ধু কম ভাই বেশি।তাদের
এইচ.এস.সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিছুদিন
হল।দুজন এক সাথে মোবাইল কেনার চিন্তা
করছে।তাদের বাবাও রাজি।তারা ছোট
থেকেই ছিলো খুব ভাল ছাত্র।কোনদিন
বাবা মা তাদের লিখা পড়ার দিকে আঙুল
তুলতে পারেনি।তাই তাদের এই আবদারটা
আজ ফেলনা হয়নি।
-কিরে সোহান কতখন লাগে?
-ঘুমিয়ে গিয়েছিলামরে ভাই।
-আচ্ছা এবার চল।কোনটা কিনবি ঠিক
করলি?
-নকিয়া ৫৮০০।
-আমিও তবে এইটাই কিনবো তাহলে।
-১২০০ টাকা দাম।
-চল্ চল্।টাকা বেপার না।
-আমার বৃত্তি আর বাবার জমানো টাকা
দিয়ে অনেক কষ্টে এটার দাম হল।
-কিছু লাগলে আমার থেকে নিস।
জয় আর সোহান মোবাইল কেনে।জয়
মোবাইল কিনে তথা কথিত ফেসবুক একাউন্ট
খোলে।অনেকের সাথে পরিচয় হয়।এদিকে
সোহান চলে যায় কানাডা তার ফুফুর
কাছে।একা হয়ে যায় জয়।
জয় মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে৷তার বাবা
রিটায়ার্ড অফিসার!
তাদের পরিবার অনেক কষ্টে জীবন-যাপন
করে।
অন্যদিকে সোহান ধনী পরিবারের ছেলে।
ধনী হলেও তাদের মধ্যে অহংকারের
ছিটেফোটাও নেই।
সোহান চলে যাবার পর জয় একেবারে একা
হয়ে যায়।সে বন্ধুত্ত্বের অভাব অনুভব করতে
থাকে।ফেসবুকে সোহানের কোনো আইডি
ছিলোনা।তাই তাদের যোগাযোগ হতো না।
এমন সময় জয় ফেসবুকে একজন মেয়ে বন্ধু
পায়।মেয়েটির নাম ছিল লিসা।লিসা
ছিলো জয়ের সমবয়সী।কিছুদিনের মধ্যে
তাদের মধ্যে অনেক ভালো বন্ধুত্ত্ব হয়ে
যায়।হঠাৎ একদিন লিসা জয়কে প্রোপোজ
করে বসে।
-জয়?
-লিসা?
-একটা কথা বলবো?
-বলো!
-কিছু মনে করবে নাতো?
-না বলো।
-আমি...
-তুমি কি?
-আসলে আমি...
-আহা বলতো।
-আমি তোমাকে ভালোবাসি জয়।
-কি বলছো তুমি?মজা কর?
-সত্যি বলছি।ওবার তোমার উত্তর কি?
-এক দিন সময় দাও।
-আচ্ছা।
মনে জমে থাকা অনুভুতি যেনো দরজা খুলে
বের হতে শুরু করে।জয় দেখতে সুন্দর ছিল।
কিন্তু খুব সাধারণ ভাবে চলতো।সে ভাবতে
থাকে তাকে কেও কিভাবে ভালোবাসতে
পারে।কিন্তু উঠতি বয়সের আবেগের
মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ায় জয় লিসাকে নিজের
প্রেমিকার জায়গাটা দিয়ে দেয়।জয় ধীরে
ধীরে লিসার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে
শুরু করে।
জয় প্রায়দিনই লিসাকে নিয়ে বাইরে
যেতো।জয় ছিলো অতি সাধারণ ছেলে।
লিসার বন্ধুরা তাকে দেখে লিসাকে খুব
কটুক্তি করতো রোজ।
-কিরে লিসা!তুই এমন একটা ছেলেকে পছন্দ
করলি কি করে।না স্টাইল আছে না কোন
চলার ভংগিমা।
-এসব বলছিস কেনো মেঘা?
-দেখ,Let's be frank!জয় কে নিয়ে যেখানেই
যাবি তুই পচবি।
লিসা চুপ হয়ে যায়।রোজ এসব শুনতে শুনতে
লিসা তার আসল রং দেখিয়ে দেয় জয় কে।
-জয়?
-লিসা?
-কাল দেখা করবে?
-আচ্ছা।
লিসা জয়ের সাথে দেখা করতে যায়
বিকেলে।গিয়ে দেখে জয় বসে আছে।
-জয়?
-বলো।
-আমি তোমার সাথে আর থাকতে পারবো
না।তোমার জন্য আমার অনেক অপমানিত
হতে হয় জয়।
-কি বলছো তুমি।দয়া করে এসব বোলো না।
তুমি নিশ্চই মজা করছো তাইনা?
-না জয়।
সেইদিন জয় লিসার পায়ে ধরতেও সংকোচ
করেনি।কিন্তু লিসা জয়ের পাগলামি
দেখে তাকে মানুষের সামনে পাগল বলে
উপস্থাপন করে।জয় লিসার রং দেখে হতভম্ব
হয়ে যায়।
-তোমাকে আমি আমার মুখ আর কোনোদিন
দেখাবো না।
-আরে যাও যাও।কে দেখতে চায় তোমার
মুখ।
খন্ড বিখন্ড হৃদয় নিয়ে জয় সেদিন চলে যায়।
জয়ের প্রতি সামান্য মায়া হয়নি সেইদিন
লিসার।পাগল উপাধি নিয়ে কোন এক
অচেনা জায়গায় জয় নামের ছেলেটি
হারিয়ে যায়৷
৪ বছর পর...
লিসা টিভি দেখছে বসে বসে।অনেক দিন
হলো টিভি দেখেনি সে।আজ তাই ঘন্টার
পর ঘন্টা ধরে সে টিভি দেখছে।চ্যানেল
বদলাতে বদলাতে হঠাত একটি এডভার্টাইজ
দেখে তার চোখ আটকে যায়।একি!এড এর
ছেলেটি যে জয়।জয় মডেল হয়ে গেছে দেখে
লিসা হতচকিত্ হয়ে যায়।সে মেঘা কে
ফোন করে।
-হ্যালো মেঘা?
-বল্।
-টিভি ছার।*** চ্যানেলটা দেখ।
-কেনো?
-দেখ বলছি।
-আচ্ছা।
মেঘা জয় কে দেখে নির্বাক হয়ে যায়।
-লিসা শোন তুই যেভাবেই পারিস জয়ের
ফোন নম্বর জোগাড় কর।দেখা কর।সব ঠিক
করার চেষ্টা কর।
-কিন্তু ও কি মানবে?
-ও তোর দিওয়ানা ছিলো।মানবেই।
-আচ্ছা ঠিকাছে।
অনেক কষ্টে লিসা কোনভাবে জয়ের ফোন
নম্বর জোগাড় করে তাকে ফোন করে।
-জয়?
-ক?
-চিনতে পারছোনা?
-লিসা?
-বুঝলে কিভাবে?
-তোমাকে কি করে ভুলি বলো।
-তমার কন্ঠ বদলে গেছে।
-হয়তো।
-দেখা করা যাবে কি?
-যাবে।
-আজ বিকেলে?
-আসবো।
লিসা খুব আনন্দিত হয়।সে আজ খুব করে
সেজেছে।তাকে দেখতেও ভারি মিষ্টি
লাগছে।জয় কেনো,যে কেও দেখেই ফিদা
হয়ে যাবে!
সেই পুরনো জায়গায় গিয়ে জয়কে বসে
থাকতে দেখে লিসা।জয়ের কাছে গিয়ে
জয়কে ডাক দেয় লিসা।
-জয়?
-বসো!
-কেমন আছ?
-ভালো না৷
-কেনো?
-নিজের ভাইয়ের মতো বন্ধু ছাড়া কেউ
কিভাবে ভালো থাকে বলো
-কার কথা বলছো?
-জয়ের কথা!
-মানে?তুমিই তো জয়!
-তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
-না!
-তবে কেন এসছো?
-ভালোবাসি জন্য।
-সত্যি? কতটুক বাসো?
-অনেক।
-মিথ্যে।
-নাতো!
-সত্য হলে বুঝতে আমি জয় নই।জয়ের হাতের
কাতটা দাগ ছিলো যা তুমি জানতে৷দাগটা
কি আছে আমার হাতে?
-কি যা তা বলছো।জয়ের মতো দেখতে
আবার জয় না তা কি করে হয়।
-মনে পরে ৪ বছর আগে আমার বন্ধু জয়
এখানেই তোমার পায়ে ধরেছিল।পাগল
বলেছিলে তুমি তাকে।সেইদিনই জয় আমার
জন্য একটি ডায়রি লিখে আত্মহত্যা করে।
আমি হলাম সোহান।জয়ের বন্ধু নয় জয়ের এক
ভাই।আমি কানাডায় বসেই সেই ডায়রি
পাই।বন্ধু হারানোর বেদনায় পাগল হয়ে
প্লাস্টিক সার্জারি করাই।জয়ের রুপ ধারন
করি।নিজেকে বদলাই আমি।অভিনয় জগতে
আসি৷কেনো জানো?তোমাকে শিক্ষা
দিতে।তুমি হলে বাহিরের রুপের
পূজারি৷তোমার মতো মানুষ পৃথিবীতে
আসে কেবল অন্যকে মারতে।অন্যের
জীবনের গলা টিপতে।
নির্বাক ছিল সেইদিন লিসা।তাকে আর
কখন কোথাও দেখা যায়নি...কেও জানেনা
সে কোথায়৷
আজকালকার দুনিয়াটাই এমন।সবাই শুধু
বাইরের চমক দেখে বিমহিত হয়।ভেতরের
অন্তর্নিহিত চমক না দেখার অভাবে
মানুষের জীবনের কাল হয়ে দারায় কিছু
সুন্দরের পূজারীর চাকচিক্যময় ভালোবাসা!
লিখা:বিস্কুট পাগলা (SiFu)

14/04/2015

**একটি বৈশাখ অতঃপর হারিয়ে যাওয়া
ছেলে**
লেখাঃ অনাদৃত রাজকুমার
আজ পহেলা বৈশাখ। রমনার বটমূলে
দাড়িয়ে আছি
আমি। অপেক্ষা করছি দুইটি প্রিয় মুখের। এই
বুঝি তারা
এল। কিন্তু সেটা আমার দৃষ্টিভ্রম। কেউ
আসে না।
আজকে ১২টি বছর যাবৎ এই মেলাতে
অপেক্ষা
করি দুজন মানুষের জন্য। গত বার বছরে কোন
বছরই বাদ দিই নি। অপেক্ষা করি এই বুঝি
আমার বাবা মা
এলো। আমাকে জড়িয়ে ধরবে। খোকা
খোকা
বলে আদর করবে।
১২ বছর আগে.............
–: মা, কালকে নাকি পহেলা বৈশাখ?
__ হ্যা বাবা। কালকে বাংলা বছরের প্রথম
দিন।
–: মা, রায়ানের বাবা রায়ান কে নিয়ে
ঘুরতে যাবে।
ওরা নাকি অনেক আনন্দ করবে।
__ তাই নাকি!!
–: মা, আমরা কোথাও যাবো না?
__ তোমার আব্বুকে বলে দেখি। এখন ঘুমিয়ে
পড় খোকা।
এটাই পহেলা বৈশাখের আগের রাত্রে
মায়ের সাথে
আমার কথোপকথন। আমি বাবা মায়ের
একমাত্র
সন্তান। আমার নাম আরিয়ান। বাবা একটি
বেসরকারি
কোম্পানি তে চাকরী করতো। একটি মফস্বল
এলাকায় থাকতাম। কিন্তু নাম ঠিকানা
কিছুই মনে নেই। শুধু
নিজের নাম আর বাবা মায়ের নাম
জানতাম।
পরেরদিন আম্মু আমাকে বৈশাখী জামা
পরিয়ে
দেয়। আমি খুবই খুশি হই। তারপর আমি
জানতে পারলাম
আমরা রমনা বটমূলে মেলায় যাব। তখন এতটা
খুশি
হয়েছিলাম যা বলার মত ভাষা আমার নেই।
সকালে রওয়ানা দিলেও মেলায় পৌছাতে
পৌছাতে
আমাদের বিকেল হয়ে যায়। সেদিন এত
মানুষ
দেখেছিলাম যা আমার জীবনে প্রথম।
অন্যরকম
অনুভূতি কাজ করছিল আমার ভেতর।
চারদিকে
বাঁশির শব্দ। নাগরদোলা, পুতুলনাচ ইত্যাদি
আমাকে
অন্যরকম করে তুলেছিল।
আমি আনমনা হয়ে দেখতে লাগলাম সবকিছু।
কিন্তু
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমি একা। হ্যা আমি
একা একা হাটছি।
কিন্তু আমার আব্বু আম্মু কোথায়। আমি
চারদিকে
খুঁজতে থাকলাম। কিন্তু কারও দেখা পাচ্ছি
না।
সবগুলো অপরিচিত মুখ আমার সামনে।
তারমানে আমি আমার আব্বু আম্মুকে
হারিয়ে
ফেলেছি। ততক্ষণে প্রায় রাত হয়ে পড়েছে।
কি
করব বুঝতে পারছি না। আমি একটি গাছের
নিচে বসে
বসে কাঁদতে লাগলাম। তখন এক ভদ্রলোক
আমাকে সবকিছু জিজ্ঞেস করল। আমি
তাকে বললাম
যে আমি হারিয়ে গেছি।
তিনি আমার নাম,বাবার নাম জিজ্ঞেস
করেন। আমি
উত্তর দিলাম। তারপর মাইকে ঘোষনা
দিলেন।
কোন কাজ হল না। সবাই বলল যে হয়তো
আমাকে
খুঁজে না পেয়ে বাবা মা চলে গেছে।তারপর
উনি আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে
আসেন।
আজকে আমার আঠার বছর। বাবা মাকে
হারিয়েছি বার
বছর আগে। এই ১২টি বছর অসম্ভব শূন্যতায়
ভুগছি।
প্রত্যেক মেলায় আমি অপেক্ষা করি বাবা
মায়ের
জন্য।
রাত হয়ে গেছে। নাহ্, এবারও কেউ এলো না।
আচ্ছা, বাবা মা কেমন আছে? কোথায়
আছেন
তারা?? কেউ খোজ দিতে পারবেন আমার
বাবা
মায়ের??
মনে মনে কথা গুলো বলতে বলতে চলে
এলাম। আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে।
নাহ্,
আমি সারাজীবন অপেক্ষা করবো। আমার
বাবা মা
একদিন ফিরে আসবেই।
# পুনশ্চঃ গল্পটা কাল্পনিক।হয়তো তেমন
ভাবে
সাজাতে পারিনি। হয়তো অনেকে বাংলা
সিনেমার
কাহিনী মনে করবেন। কিন্তু বৈশাখী
মেলা
উপলক্ষে অনেকেই ঘুরতে বের হবে।
অনেক বাবা মা তাদের ছোট ছোট
সন্তানদের
নিয়ে বের হবে। প্লিজ আপনাদের
সন্তানের
প্রতি খেয়াল রাখুন। আপনার একটু
অসতর্কতার ফলে
হয়তো আপনি হারিয়ে ফেলতে পারেন
আপনার
প্রিয় সন্তান কে।
সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।
সবাইকে শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা।

14/04/2015

এসো, হে বৈশাখ, এসো, এসো ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও
উড়ায়ে,বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে
যাক ।।যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক
ভুলে-যাওয়া গীতি,অশ্রুবাষ্প
সুদূরে মিলাক।মুছে যাক গ্লানি,
ঘুচে যাক জরা,অগ্নিস্নানে শুচি
হোক ধরা ।রসের আবেশরাশি শুষ্ক
করি দাও আসি,আনো আনো
আনো তব প্রলয়ের শাঁখ ।।

14/04/2015

সকাল ৬:০০ বাজে।
ফোন বাজার শব্দে ঘুম ভাংল।
-হ্যাল,আসসালামু-আলাইকুম,কে বলছেন?
-কেন,এখন চিনতে পার না আমি কে?
আমি তোমার পেত্নি।
-ওহ তুমি।আমি চিনতে পারিনি?
-তুমি চিনবে না কেন আমার নাম্বার কি
সেভড করা নাই?
-ঘুমের চোখে ফোন ধরলাম তো তাই
নামটাও দেখি নাই।
-আচ্ছা আমি কি তোমাকে এমনি অন্ধ বলি।
যে কোন কিছু সামনেই থাকে কিন্তু তুমি
তা দেখই না।
-আচ্ছা আমি অন্ধ ঠিক আছে।
এবার রাখো।
কলেজের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
-আচ্ছা রাখি।
(প্রিয় মানুষের মুখ থেকে যত খারাপ কিছু
শুনেন না কেন তাতে মন খারাপ হবে না।
অন্ধ বলছে, বলুক সে যা বলে খুশি হয়।)
এবার নিজেই ফোন দিলাম .....
১বার নয় ২ বার ও নয় ৩ বার ফোন দিলাম।
ফোনটা রিসিভ করল ...
-এই মেয়ে কোথায় ছিলে?ফোন রিসিভ
করতে দেরি কেন?
-এইতো মাকে সাহায্য করছিলাম।
তোমার কলেজ কি শেষ?
-হুম্ম,মাএ বাসায় ফিরলাম।
-আচ্ছা, সামনে তো পহেলা বৈশাখ ইলিশ
মাছ কিনে ফেলছ?
-না মা কিছুক্ষণ আগে ২,০০০ টাকা দিয়ে
বলল"দুইটা বড় ইলিশ মাছ আনবি"।
-আচ্ছা তাহলে যাও বাজারে।রাখি,
Bay...
-আচ্ছা রাখ।
বাজারে যাবার পর দেখি বাজারে অনেক
মানুষ।
আর সকলের নজর ছিল ইলিশ মাছের দোকান
গুলুতে।
একটি মাছের দোকানে গিয়ে দুইটা বড়
ইলিশের দাম জানতে চাইলাম।
-এই যে এই ২ টা মাছের দাম কত?
-জি একদাম ৩,০০০টাকা দেন।
আমিতো সম্পূর্ণ টাস্কিত।
দুইটা মাছের দাম ৩,০০০ টাকা।
তখন আর কি করব?মাছ না নিয়েই বাড়ি
ফিরলাম।
বাড়ি ফেরার পথে দেখি ২ টা
ছেলে,দেখতে কাল,শরির শুকনো আর
রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করছে।
আমি তাদের ডেকে বললাম ...
-তোমারা ভিক্ষা করছ কে?
- সের(স্যার)আমরা খুবই গরিব।বাবা নেই।
খাওয়ার জন্য খাবার নেই।
আর ভিক্ষা করলে কিছু পেটে জোটে তাই
ভিক্ষা করি।
-আচ্ছা তোমরা কোথায় থাক?
-সের(স্যার)কমলাপুর এর বস্তিতে।
একটা ৫০০ টাকার নোট দিয়ে বললাম
"যাও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে কিছু
কিনে খেয়"
ছেলে গুলো বিনয়ে পা ধরে বলল
"আপনার মত মানুষ থাকলে আমরা কখনই
ক্ষুধার্ত থাকব না"আপনি মহাণ"
আর এর পর চলে গেল।
আচ্ছা আপনাদের কি মনে হয়,আমি কি
তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি ????
(.....এমন হাজার হাজার শিশু আছে যারা
পথেঘাটে ভিক্ষা করে।
যাদের বাড়ি নেই,খাবার নেই,নেই কোন
শিক্ষার পরিবেশ।
শুধু পেটের দায় মেটাতে তাদের এসব করতে
হয়।
আমরাও পারি তাদের সেবা করতে,তাদের
মুখে হাসি ফোটাতে।
পহেলা বৈশাখ এ ইলিশ মাছ অনেক
খেয়েছি।
কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখেন---
আমরা মজা করে পান্তা ইলিশ খাব কিন্তু
অপর দিকে এই গরিব ছেলেরা ও মানুষগুলো
কি করবে?
হয়ত বসে কোন রাস্তার পাশে বসে করবে
ভিক্ষা না হয় কিছু না খেয়েই দিন
কাটাবে।
একদিন পান্তা ইলিশ না খেলে যে মারা
যাব তেমন তো কিছুই নয়।
সে টাকা দিয়ে কিছু মুখে তুলে দিলাম
খাবার।দিলাম কিছু নতুন জামা।
আর একেই বলে মানুষ্যত্ব বোধ।....)
আবার ফোন দিলাম ...
-হ্যাল তুমি কি করছ?
-কিছু না।
-আচ্ছা পহেলা বৈশাখ এ কিকি কিনেছ?
-কিছুই না।
-কেন?
-ভাবলাম পাশের কিছু গরিব শিশু দের নতুন
জামা-কাপড় কিনে দেই।
সারা বছর ঈ তো জামা কাপড় অনেক
কিনলাম।কিন্তু পহেলা বৈশাখ এ নতুন
জামা পরতে হবে তা তো নয়।।
তাই কিছুই কিনি নাই।
-ও ভাল।তোমার কথা শুনে খুশি হলাম।
আচ্ছা bay.
-bay.
কি আমরা কি পারি না কিছু মুখে হাসি
ফোটাতে ??
হ্যা ,অবশ্যই পারব।
কিন্তু যার জন্য দরকার প্রয়োজনীয়উদ্যোগ।
আজ আমাদের কাছে পহেলা বৈশাখ ফেশন
এ পরিনত হয়েছে।
যার ফলে সকলে পান্তা ইলিশ আর নতুন
জামা পরে ঘুরে বেরায়।
কিন্তু কেউ নিন্ম বা গরিবদের ভাবি না।
যা আমাদের কাম্য নয়।
লেখাঃ
Anik (অজশ্র কাব্যধারা
∞∞∞∞∞∞∞∞∞

12/04/2015

বিশ্বাস ঘাতকতা
লেখা:অস্পষ্ট আমি(আপন)
--------------★-------------★--------------
পড়ে দেখুন, ভালো লাগবে। সেই সাথে
মেয়ে বন্ধুদের বিষেশ ভাবে অনুরুধ করবো
গল্পটি পড়ার জন্য। কারণ এতে আপনাদের
শিখার কিছু আছে।
★★★
ফেসবুকে মেয়েটি নতুন। বন্ধুদের থেক
ফেসবুক নামের দুনিয়ার কথা শুনতে শুনতে
একসম নিজের ও এই জগতে প্রবেশ করার
আগ্রহ জাগে। এক ফ্রেন্ডের ভাই "মেঘ পরী"
নামে একটা আইডি খুলে দেয় মেয়েটি কে।
সেই আইডি দিয়েই মেয়েটির ফেসবুক জগতে
প্রথম পা রাখা। প্রথম প্রথম অন্য সবার মত
মেয়েটি ও তেমন কিছুই বুঝতো না। কিন্তু
কি করে ফ্রেন্ড এড করতে হয় সেটা বান্ধবী
থেকে শিখে নিয়েছিলো মেয়েটি।
পরিচিত সবাই কে এড দিতে থাকে
মেয়েটি। কয়েকদিনের মধ্যেই অনেক কিছুই
বুঝে যায় ফেসবুকের। বেশ কিছু ভালো
গল্পের পেজেও লাইক দেয় মেয়েটি।
ফেসবুকে লগইন করে নিউজফিডের গল্পগুলো
পড়েই আবার বের হয়ে যাওয়াই ছিলো
মেয়েটির নিত্যদিনের কাজ। কারণ তখন
তেমন কারো সাথেই চ্যাট হতো না। ফ্রেন্ড
ছিলো খুবই কম।
★★★
একসময় একটা গল্প পড়তে পড়তে ভালো
লেগে যায় মেয়েটির। তাই গল্পের কমেন্ট
গুলো ও দেখছিলো। একটা কমেন্টে চোখ
আটকে যায় মেয়েটির। কয়েকবার করে পড়ে
কমেন্টটি। কমেন্টটি পড়ে ভালো লাগে
তাই কমেন্ট করা ব্যক্তির প্রোফাইলে ঢুকে
মেয়েটি। প্রোফাইলের নাম ছিলো "কোন
এক পরীর অপেক্ষায় আমি"। বেশ সুন্দর করে
সাজানো গুছানো একটা প্রোফাইল। দেখে
ভালো লাগে মেয়েটির। ফটোস এ ঢুকে কিছু
পিক দেখতে পায় মেয়েটি। ছেলেটির পুরো
ফেস এর কোন পিক নেই। কাটা কাটা
কয়েকটা পিক আছে শুধু। চোখ, নাক, ঠোঁট,
এভাবে কিছু পিক ছিলো। পিকগুলো সেভ
করে নেয় মেয়েটি। তারপর ছেলেটি কে
রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে বের হয়ে আসে ফেসবুক
থেকে। নিজের লেপটপে পিক গুলো কে
একসাথে মিলায় মেয়েটি। মিলিয়ে
একপলকে তাকিয়ে থাকে মিলানো
ফেসটার দিকে। অনেক সুন্দর একটা ফেস
ছেলেটির। কতক্ষন তাকিয়ে ছিলো খেয়াল
করে নি মেয়েটি। হঠাৎ নোটিফিকেশন এর
টোন শব্দে ঘোর কাটে মেয়েটির।
নোটিফিকেশন চেক করে দেখে ছেলেটি
মেয়েটির রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে। খুশির
ঝলক বয়ে যায় মেয়েটির মনে। এই প্রথম
কোন ছেলের জন্য এতটা উদগ্রীব মেয়েটি।
চোখে মুখে খুশির আভা। মেসেজ দিবে কি
দিবে না ভেবে ছোট করে একটা মেসেজ
দিয়েই ফেলে ছেলেটি কে। মেসেজে
লেখা ছিলো "ধন্যবাদ"। অপর প্রান্ত থেকে
রিপ্লে আসে "ওয়েলকাম" সাথে হাসির
ইমো। ছেলেটি রিপ্লে দিয়েছে দেখে
মেয়েটি আবার হাসে। তারপর বেরিয়ে যায়
ফেসবুক থেকে।
★★★
রাতে আবার ফেসবুকে লগইন করে মেয়েটি।
চ্যাট বক্স চেক করে দেখে ছেলেটি
অনলাইনে আছে। কিছুটা দিধা করেই নক
করে ছেলেটি কে। ছেলেটি ও সাথে সাথে
রিপ্লে দেয়। তারপর থেকে ওদের প্রতিদিন
প্রায় অনেকটা সময় ধরে চ্যাটিং হতো।
আস্তে আস্তে একসময় দুজন দুজনের প্রেমে
পরে যায়। ছেলেটির মিষ্টি কথা মেয়েটি
কে ভূলিয়ে দেয় ওর নিজেকে। হারিয়ে যায়
ছেলেটার মাঝে। এভাবেই হঠাৎ করেই
রিলেশন হয়ে যায় দুজনের মাঝে। আস্তে
আস্তে সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে।
একসময় ছেলেটির মিষ্টি কথায় ভূলে
মেয়েটি ছেলেটির সাথে সেক্স চ্যাট ও
করতে থাকে। রিলেশনের কয়েকদিন পর
ছেলেটি জোর করে মেয়েটি কে দেখা
করার জন্য। মেয়েটি রাজি হয় দেখা করার
জন্য। ঠিক হয় ১৪ ই ফেব্রুয়ারি তে দেখা
করবে দুজন।
★★★
অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন।
ভালোবাসা দিবসে নিজের প্রিয় মানুষটির
সাথে দেখা করার জন্য কুমিল্লা থেকে
মেয়েটি ছুটে যায় ঢাকায়। মেয়েটি
ছেলেটা কে দেখে আরো অবাক হয়।
ফেসবুকে ছেলেটি কে যতটা সুন্দর লাগে
তারথেকে বেশি সুন্দর বাস্তবে। সারাদিন
দুজনে ঘুরাফেরা করে বিকেল বেলা যখন
মেয়েটি বলে বাসায় যাবো তখন ছেলেটি
মেয়েটি কে বাধা দেয়। বলে আরো কিছুক্ষন
থাকতে হবে। একটা বন্ধুর বাসায় দাওয়াত
আছে। মেয়েটি ও সরল মনে বিশ্বাস করে
চলে যায় ছেলেটির সাথে । বন্ধুর বাসায়
যাওয়ার নাম করে মেয়েটি কে নিয়ে যায়
একটি আবাসিক হোটেলে। মেয়েটি কিছুটা
বুঝতে পেরে ছেলেটি কে জিজ্ঞেস করে
এখানে কেন এসেছে? ছেলেটা বলে যে
এখানেই নাকি ওর বন্ধুরা মিলে পার্টি
দিয়েছে। তাই এখানে এসেছে। মেয়েটি
আবারো ছেলেটি কে বিশ্বাস করে উপরে
যায়। তারপর ছেলেটি মেয়েটি কে একটা
রুমে নিয়ে যায়। কিন্তু রুমে কেউ ছিলো না
দেখে মেয়েটি পুরোপুরিভাবে বুঝে যায় কি
হতে যাচ্ছে ওর সাথে। তাই মেয়েটি
ছেলেটি কে প্রথমে বাধা দিলেও ছেলেটা
আবারো মিষ্টি কথায় মন ভূলিয়ে দেয়
মেয়েটির। আর বলে যে বন্ধুরা আসতে
আসতেই ওদের হয়ে যাবে। আবারো বোকা
মেয়েটি নিজের প্রিয় মানুষটি কে
বিশ্বাস করে নিজেকে জড়িয়ে নেয়
ছেলেটির বাহুডোরে।
★★★
কিছুক্ষন পর ওদের এই নিষিদ্ধ খেলা শেষ
করে উঠে তৈরি হয়ে নেয় ছেলেটি।
মেয়েটি জিজ্ঞেস করে কোথায় যাচ্ছে।
উত্তরে ছেলেটি বলে যে বন্ধুদের এগিয়ে
আনতে যাচ্ছে এক্ষুনি ফিরে আসবে।
মেয়েটি আবারো বিশ্বাস করে ছেলেটি
কে। ছেলেটি বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
মেয়েটি শুনতে পায় রুমের বাহিরে
ছেলেটি কার সাথে যেন হেসে হেসে কথা
বলছে। মেয়েটি ভেবেছে হয়তো ওর বন্ধুরা
এসেছে। আর এক্ষুনি চলে আসবে রুমে।
মেয়েটি অপেক্ষা করতে থাকে। অপেক্ষা
করতে করতে ঘন্টা পেরিয়ে যায় কিন্তু
ছেলেটা আসে না। তাই মেয়েটির খুব
চিন্তা হতে থাকে। এমন সময় রুমের দরজায়
নক করে কে যেন। মেয়েটি দৌরে গিয়ে
দরজা খুলে। কিন্তু খুলেই অবাক হয়ে যায়।
একি এতো দেখি মাঝ বয়সি দুজন লোক। এরা
ছেলেটির বন্ধু হতে পারে কি করে?
মেয়েটির ভাবনা দূর করতে লোক দুটি একজন
আরেকজনকে বলতে থাকে মাল টা তো
ভালোই রে। খুব টাকা কামানো যাবে একে
দিয়ে। চল আমরাই আগে শুরু করি। বলেই
হায়নার মত লোকগুলো ঝাপিয়ে পরে
মেয়েটির উপর। মেয়েটি এতক্ষনে বুঝে
নিয়েছে যা বোঝার। বুঝে নিয়েছে ওর সেই
পরম বিশ্বাসী মানুষটি ওর সাথে বিশ্বাস
ঘাতকতা করেছে।
★★★
আপুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা:- যখন তখন
যারতার উপর ক্রাশ খাওয়া খুবই সহজ। কিন্তু
কখনো কখনো সেই ক্রাশের মুল্য হিসেবে
অনেক বড় কিছু দিতে হয়। কখনো নিজের
জীবনটা ও নিয়ে যায় একমূহুর্তের খাওয়া
ক্রাশ। তাই বলছি ভেবে চিন্তে ক্রাশ
খাবেন। নিজের মনকে তুলে দিন মনের
পাওয়ার যোগ্য এমন মানুষের হাতে।
তাহলেই ভালোবেসে ভালো থাকবেন।
★★★
বিঃদ্রঃ- গল্পের শেষ অংশ পড়ে হয়তো
অনেক ছেলে বন্ধুই আমার বিরুদ্ধে কথা
বলতে পারেন। তাই আপনাদের বলছি,
এখানে আমি সবার কথা উল্লেখ করি নি।
সব মানুষ যেমন ভালো না, তেমনি সব মানুষ
ও খারাপ না। তাই আমার উপর কেউ রাগ
করবেন না। নিজের বিবেক কে একবার
হলেও জাগিয়ে দেখুন আপনি যা করছেন তা
ঠিক করছেন তো?

Address

Chittagong

Telephone

01862003996

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভালবাসার গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category