09/09/2026
একটি ছোট্ট সত্যিকারের গল্প—যেখানে ব্যবসার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে সম্পর্ক
গত ২৭ তারিখ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ৬জন ছাত্রী ও তাদের পরিবার কক্সবাজারে এসেছিলেন।
তারা আমার কাছ থেকে হোটেল বুকিং ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস নিয়েছিলেন।
কক্সবাজারে আসার পর পরিবারের একজন আমাকে বললেন—
|
“আপনার কথার সাথে কাজের মিল আছে। আরেকটু কষ্ট করেন, আমাদের জন্য একটু সময় দেন। কোথায় যাবো, কোথায় খাবো, কোথা থেকে ভালো আচার, ঝিনুক আর শুঁটকি মাছ কিনবো—এসব একটু দেখিয়ে দেন।”
আমি বললাম—
“আপনারা শুধু সময় করে আমাকে স্মরণ করবেন। বাকিটা আমার দায়িত্ব। আমি আপনাদের সাথে থেকেই করে দেবো।”
সত্যি বলতে, এরপর তাদের জন্য শুধু সার্ভিস দেওয়ার কথা মাথায় ছিল না—তাদের যেন ভালো একটা অভিজ্ঞতা হয়, সেটাই ছিল আমার লক্ষ্য।
দাম নিয়ে যতটা সম্ভব দরদাম করেছি, তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছি পণ্যের মান ও ভালো জায়গা বেছে নেওয়ার দিকে।
আলহামদুলিল্লাহ, তারা অনেক খুশি হয়েছেন।
তাদের মুখের প্রশংসা, আন্তরিকতা আর কিছু কথা—সত্যি বলতে, লিখে পুরোটা বোঝানো সম্ভব নয়।
কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়।
ফেরার সময় তারা আমাকে বললেন—
“একটু রেলস্টেশনে আসবেন?”
আমি মনে মনে ভাবলাম, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই বাইক নিয়ে ছুটে গেলাম।
আমি যখন স্টেশনে পৌঁছালাম, ঠিক তখনই তাদের ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে! 😅
পরে জানতে পারলাম, আমার জন্য তারা দুইটি গিফট ক্রয় করেছে তা দেওয়ার জন্য আমাকে আসতে বলেছিলো , পরে সেই ট্রেনের স্টাফের মাধ্যমে। পরের দিন সেই উপহার আমার কাছে পৌঁছাল।
গিফটটা হাতে পেয়ে আমি অবশ্যই খুশি হয়েছি।
কিন্তু তার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছি একটা কারণে—
আমার সেবাকে তারা এতটা আন্তরিকভাবে অনুভব করেছেন যে, যাওয়ার সময় আমাকে মনে রেখেছেন।
এটাই আমার কাছে ব্যবসার সবচেয়ে সুন্দর দিক।
আমি বিশ্বাস করি—
ব্যবসায় টাকা উপার্জন করা যায়,
কিন্তু আন্তরিকতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায়।
আমি শুধু হোটেল বুকিং বা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করি না।
আমি চেষ্টা করি—একজন অতিথি যেন কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় মনে করেন,
“জসিম ভাই আমাদের জন্য সত্যিই আন্তরিকভাবে সময় দিয়েছেন।”
কারণ—
“টাকা মানুষ একসময় ভুলে যায়,
কিন্তু ভালো ব্যবহার, আন্তরিকতা আর সুন্দর স্মৃতি মানুষ অনেকদিন মনে রাখে।”
আলহামদুলিল্লাহ—এমন কিছু সম্পর্কই আমার ব্যবসার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।