15/03/2026
আসসালামু আলাইকুম সুপ্রিয় গেষ্টস ও ফলোয়ারস। আশা করি মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজ কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলাভাবে আলোচনার জন্যে লিখিত পোস্ট করছি। কাইন্ডলি একটু মনোযোগ রাখবেন।
Hello Cox’s Bazar Tours & Travels বিগত প্রায় ২ বছর ধরে কক্সবাজারে আগত শত শত পর্যটকদের ভ্রমণ সেবা দিয়ে যাচ্ছে সুনামের সহিত। এই পর্যন্ত আমাদের নিয়ে আমাদের অতিথির একটি অভিযোগও নেই, আলহামদুলিল্লাহ। আর অভিযোগের মুখোমুখি যাতে হতে না হয়, তার জন্যে আমরা ব্যবসায়ের পরিধি কেবল কক্সবাজার জেলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছি, যাতে আমরা আমাদের অতিথিদের সেবা ও নিরাপত্তা দুটাই নিশ্চিত করতে পারি। এই কারণেই আমাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ধরন একটা আঞ্চলিক ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস ব্যবসায়।
কিন্তু, ইদানীং একটি খুবই সেনসিটিভ বিষয় আমরা লক্ষ্য করছি যে, হাই পিক সিজন অর্থাৎ ঈদের প্রথম সপ্তাহ বা টানা ৪/৫/৭ দিন যদি কোন সরকারি ছুটি থাকে, সেক্ষেত্রে রুম বা এপার্টমেন্ট বুকিং এর ক্ষেত্রে গেস্ট আমাদের সাথে যোগাযোগ করার সময় কিছু শর্ত দেয়, যেমন: "এ" ক্যাটাগরির বেস্ট রুম দিতে হবে বা "এ" ক্যাটাগরির সবচেয়ে সামনের রুম দিতে হবে ইত্যাদি। ধরে নিলাম "এ" ক্যাটাগরির রেক রেইট ৫০০০/- প্রতি রাত। সাধারণত এই রেইটের রুম থাকে ৩ স্টার স্ট্যান্ডার্ড থেকে ১ স্টার স্ট্যান্ডার্ড পর্যন্ত। এখন গেস্ট যখন এ ক্যাটাগরির বেস্ট রুম টা ডিমান্ড করে তখন B2B থাকার পরেও সেইম ক্যাটাগরির রুমের ভাড়া, একই ক্যাটাগরির অন্যান্য রুমের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়। (সকল ১-৩ স্টারমান হোটেলকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না)
⭕বিশেষ দ্রষ্টব্য: এমন প্রবণতা আবার ৪ স্টার আর ৫ স্টার মান হোটেলে নেই।
কিন্তু, গেস্টদের রেইট জানানোর পরে গেস্ট যখম আবার সরাসরি হোটেলে কথা বলে দেখে তখন একই ক্যাটাগরির রুম হোটেল কর্তৃপক্ষ হাজার খানেক কমে অফার করতে পারে কেননা সরাসরি গেস্টের সাথে হোটেক কর্তৃপক্ষ রুমের ক্ষেত্রে শর্ত মেনে রুম সেল করেনা। বরং উনারা বলবে সব রুমই একই, যেটা আসলেই সত্য এবং এটাই পলিসি। পার্থক্য থাকে শুধু ভিউ এর ক্ষেত্রে, ফ্লোরের ক্ষেত্রে। এখন গেস্ট যেহেতু কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে হাজার খানেক কম ভাড়ায় "এ" ক্যাটাগরির রুম রিজার্ভেশন করতে পারে, তখন গেস্ট রুম সরাসরি বুকিং করে ফেলেন। আমরা সরাসরি বুকিং কে অনুৎসাহিত করছি না। তবে যে বিষয়টি বলার জন্যে পুরো গল্পাকারে চিত্রটি তুলে ধরলাম, সেটি হলো হচ্ছে গেস্ট কিছু টাকা কমে বুকিং করতে পেরে ট্রাভেলস কোম্পানিকে ধান্দাবাজ ভেবে নেই। হ্যাঁ, রুম বুকিং এ ট্রাভেলস কোম্পানির একটা কমিশন অবশ্যই থাকে তবে তা এই পরিমাণের ধারে কাছেও না। গেস্ট এটা আর বুঝে না যে "এ" ক্যাটাগরির একদম ফ্রন্ট সাইডের রুমের ভাড়া ৫০০০/- চাওয়া হয়েছিলো, যেটা কিনা হোটেল কর্তৃপক্ষ উনার জন্যে রিজার্ভেশনই করে নি। সেই ফ্রন্ট রুমটি সেল করবে যখন রেক রেইটে গেস্ট পাবে বা খুবই সামান্য কিছু ডিসকাউন্ট দিয়ে। ব্যাক্তিগত জীবনে আমি নিজেই একটা থ্রি স্টার হোটেলে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এবং আমিও এমনটাই করতাম। এটা দোষের কিছুই নয়। আর হাজার খানেক কমে একই ক্যাটাগরির যেই রুমটি সেল করেছে সেটা বরাদ্দ করবে ৪/৫/৬ নাং সিরিয়াল থেকে। এইখানেই মূলত খেলাটা।
সুতরাং, সম্পূর্ণ ঘটনায় গেস্ট নিজে বঞ্চিত হয় এবং একটা ভুল ধারণা ধারণ করে ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স বয়ে বেড়ায়। সম্মানিত গেস্টদের জানাচ্ছি, প্রায় হোটেলই এই পলিসি-ই ফলো করে যার লিখিত কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং, আপনাদের অনুরোধ করবো সম্পূর্ণ বিষয়ে অবগত না হয়ে যেকোন ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে নেগেটিভ ধারণা যাতে পোষণ না করেন বা অন্যদের যাতে এই বিষয়ে নেগেটিভ মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।
ধন্যবাদান্তে,
মো: জাওয়াদ বখতিয়ার,
ফাউন্ডার এন্ড সিইও,
হেলো কক্সবাজার ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস।