10/02/2025
চোখের সামনে ঘুরতে থাকা সুরমা রঙয়ের জালালি কবুতরগুলোর ভারতবর্ষে ইসলামের ছড়িয়ে পরার কতো সুন্দর একটা ইতিহাস বহন করে তা আমরা অনেকেই জানিনা। প্রবীণদের এই কবুতরকে সন্মান দেখিয়ে খেতে দেয়া এবং এর গোস্ত না খাওয়ার পেছনের কারণও এটি। হযরত শাহ জালাল (রাহ:) এর আগমন এবং হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাহ:) এর সাথে উনার সাক্ষাতের বিরাট বড় সাক্ষী এই জালালি কবুতর। বিস্তারিতঃ
হযরত শাহ জালাল (রাহ:) উনার মামা ও শিক্ষাগুরু সৈয়দ আহমদ কবিরের আস্তানায় আরব দেশে ছিলেন। হযরত শাহ জালাল (রাহ:) ভারতবর্ষে ধর্ম প্রচারের স্বপ্ন দেখার পরে সৈয়দ আহমদ কবির-এর কাছে ব্যক্ত করেন। মামা ও মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবিরকে তা জানান। আহমদ কবির এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে হযরত শাহ জালাল (রাহ:) কে ভারতবর্ষে যাবার পরামর্শ দেন। যাত্রাকালে আহমদ কবির হযরত শাহ জালাল (রাহ:) এর হাতে এক মুঠো মাটি তুলে দিয়ে বললেন: যে স্থানে এই মাটির স্বাদগ্ধ গন্ধগ্ধ ও বর্ণেরগ্ধ মিল এক হবে, সেখানেই ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গড়বে। মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির (রাহ:) এর দোয়া নিয়ে হযরত শাহ জালাল (রাহ:) ধর্মপ্রচার অভিযানে আরবের মক্কা শরিফ হতে একা-একাই যাত্রা শুরু করেন। তিনি যখন দিল্লী পর্যন্ত এসে পৌঁছালেন তখন তার শিষ্যদের সংখ্যা ২৪০ জন বলে ধারণা পাওয়া যায়।
দিল্লিতে আসার পর হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাহ:) এর জনৈক শিষ্য গুরুর কাছে হযরত শাহ জালাল (রাহ:) এর কুৎসা প্রচার করে। সঙ্গে সঙ্গে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাহ:) অন্যের কুৎসা রটনাকারী এ শিষ্যকে উপযুক্ত শাস্তিস্বরূপ দরবার থেকে তাড়িয়ে দেন এবং অন্য দুই শিষ্যকে ডেকে তাদের মারফতে হযরত শাহ জালাল (রাহ:) এর কাছে সালাম পাঠান । হযরত শাহ জালাল (রাহ:) সালামের উত্তরে উপঢৌকনস্বরূপ ছোট একটি বাক্সে প্রজ্জলিত অঙ্গারের মধ্যে কিছু তুলা ভরে নিজামুদ্দীন আউলিয়ার নিকট পাঠান। নিজামুদ্দিন আউলিয়া হযরত শাহ জালাল (রাহ:) এর আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে উনাকে সাদরে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। বিদায়কালে প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাহ:) উনাকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দেন। মাজার সংলগ্ন এলাকায় সুরমা রঙের যে কবুতর দেখা যায় তা ঐ কবুতরের বংশধর। যা জালালি কবুতর নামে খ্যাত।