23/06/2026
মুর্শিদাবাদের খোশবাগে একদিনঃ
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে আজকের দিনে ২৩ জুন বাংলা উড়িষ্যা বিহারের শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের প্রায় ১০ দিন পর ২ জুলাই ১৭৫৭ (রাজমহলের কাছে) নিঃস্ব অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। ধারণা করা হয়, সেই রাতে কিংবা পরের দিন মীর জাফর আলীর পুত্র মিরনের নির্দেশে মোহাম্মাদ আলী বেগ তাঁকে হত্যা করে। এরপর তাঁর মৃতদেহ হাতির পিঠে চাপিয়ে মুর্শিদাবাদ শহরে প্রদর্শন করা হয়। এটি ছিল রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি নির্মম বার্তা—সিরাজের শাসনের অবসান ঘটেছে তা জনসাধারণকে দেখানো।
তাঁর মরদেহকে মুর্শিদাবাদে খোশবাগে দাফন করা হয়, যা ভাগীরথী নদীর ওপারে অবস্থিত। ঐ সময়কার প্রেক্ষাপটে মূল নগর থেকে সেটি বেশ দূরেই ছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল- রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়ানো। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত নবাবের মৃত্যু জনরোষ বা বিদ্রোহ সৃষ্টি করতে পারত। তাই, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। নতুন শাসকদের বৈধতা প্রতিষ্ঠা মীর জাফর এবং ইংরেজদের জন্য সিরাজকে শহীদ বা প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। নতুন ক্ষমতাসীনরা জনআবেগ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল। ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমরা ও আমাদের দেশে এই সামরিক চিন্তার প্রতিফলন দেখতে পাই প্রায় ২০০ বছর পর।
মীর জাফরের সমাধি মুর্শিদাবাদের জাফরগঞ্জ কবরস্থানে, যা ঐতিহাসিক রাজধানীর মধ্যেই অবস্থিত। ইতিহাসের প্রতীকী দিক থেকে বিষয়টি অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়। কারণ- পরাজিত ও নিহত সিরাজের সমাধি তুলনামূলকভাবে নিরিবিলি স্থানে, আর ইংরেজদের সহায়তায় ক্ষমতায় আসা মিরজাফরের সমাধি ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি। ফলে, পরবর্তী প্রজন্মের জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চায় এটি এক ধরনের প্রতীক হয়ে উঠেছে—যেখানে সিরাজকে প্রতিরোধের প্রতীক এবং মিরজাফরকে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
খোশবাগের যে মূল সমাধি ভবনটি আছে, তার ভেতরেই আলীবর্দী খান, সিরাজউদ্দৌলা এবং পরিবারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের কবর রয়েছে। আলীবর্দীর কবরটি সাধারণত সবচেয়ে বড় এবং কালো পাথরে আবৃত বলে বর্ণনা করা হয়।
কিছু বছর পূর্বে শীত ঋতুর শুরুতে আমরা দুই বন্ধু (হাসান ও আমি) মুর্শিদাবাদে খোশবাগের সমাধি ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সূর্য ডোবানোর ঘটনার শিকার নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতি চিহ্নের পাশে বসে ভাবিত হয়েছিলাম। খুঁজে ফিরেছিলাম এর পুনরাবৃত্তির ইতিহাস।
#ভ্রমণ
#বাংলারইতিহাস