03/05/2026
মিনার তাঁবু বনাম বাঙালি পুরুষ ভাইদের নজরের বেহাল দশা: এক বোনের আকুতি!!
অধিকাংশ বাঙালি পুরুষদের কাছে হজ্বের দিন গুলোতেই মনে হয় বউয়ের প্রতি মুহাব্বাত বেড়ে যায়। খাবার খেয়েছে কিনা সেটা খবর নেওয়ার জন্য তাঁবুতে এসে এসে ডাকাডাকি শুরু করে। মনে হয় যেন তারা দেশে বউদেরকে মাথায় তুলে রাখে, লোকমা তুলে খাওয়ায়।
বেয়াদবি মাফ করবেন ভাইয়েরা! অনেক রাগ থেকে কথাগুলো লিখছি।
তাদের কি নজরের হেফাজতের প্রয়োজন নাই?
অথচ কুরআনে আগে পুরুষদের দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরে নারীদের কথা আসছে!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন -
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنْ أَبْصَـٰرِهِمْ وَيَحْفَظُواْ فُرُوجَهُمْۚ ذَٲلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْۗ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصْنَعُونَ
(মু’মিন পুরুষদের বলুন, তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র, তারা যা কিছু করে সে সম্পর্কে আল্লাহ খুব ভালভাবেই অবগত।)-সূরা নূর:৩০।
তারপরের আয়াতে আসছে মু'মিনাতের(নারীদের) কথা।
মিনার প্রচন্ড গরমে তাঁবুর ভিতরে মা-বোনেরা মুখের পর্দা খুলে/একটু হালকা পোষাকে থাকতেই পারে, বিশেষ করে এয়ার কুলারের বাতাস যাদের কাছে আসেনা এমন যায়গায় বসে থাকা মা-বোনেরা অনেক কষ্ট করে থাকেন। আর ঠিক ঐ সময়গুলোতে দেখবেন তাঁবুর ভিতরে থাকা কোন এক মা-বোনের মাহরাম তার খোঁজ নিতে আসছেন, নিজের বেডরুম মনে করে পর্দা সরিয়ে তাঁবু ভর্তি মহিলাসবগুলোকে স্ক্যানিং করে তার বউ/মেয়েকে খুঁজতেছেন! লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ!
আমার দুই দুইবারের হজ্বে এই সময়ের বাজে অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।
এই কাজটি করার সময় কেউ কেউ মুখেও বলতে থাকেন- এই অমুকের মা, তমুক, তুমি কি খাইছো?? আপেল পাইছো? আইসক্রিম খাবে? মোবাইলের চার্জার টা দাও! চা এনে দিবো??
আবার কেউ কেউ চুপচাপ ইতিউতি নজর বুলিয়ে নিজের মানুষ খুঁজতে থাকেন। প্রায় একশ মহিলার মুখে পালা করে নজর বুলাতে গিয়ে তিনি কতজনের পর্দার বরখেলাপ করছেন, একজন হজ্বযাত্রী হিসেবে এতটুকু সচেতনতা না থাকা সত্যিই দুঃখজনক।
অথচ মোবাইল ফোনের যুগে এটার সহজ সমাধান আছে। ফোন না থাকলেও সমস্যা নাই। দরজার মুখ থেকে সরে পেছন ফিরে জোরে হাঁক দিলেও হয়। তারচেও বড় কথা দুই তাঁবুতে আলাদা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়, তাঁবুর সামনে পানি এবং কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজ আছে, চা এর বড় বড় ফ্লাক্স আছে, সবচেয়ে বড় কথা তাঁবুর মধ্যে বিরাজমান অপেক্ষাকৃত কম বয়সের হাজি বোনেরা প্রচুর খেদমত করে। বাইরে থেকে খাবার গুলো এনে দেয়, চা এনে দেয়। এখানে পুরুষদের সাহায্য করার মত কিছুই নাই!
অনেক পুরুষ আছেন পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন, ওজু করছেন, নজরের হেফাজত বিষয়ে সবাই সিরিয়াস নন।
তাঁবুর ভেতরে একটু রিল্যাক্স হয়ে বিশ্রাম করা তাই মেয়েদের জন্য একটু মুশকিলই। হজ্বের জন্য যেসব মা বোনেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা এটা মাথায় রাখবেন।
সম্ভব হলে প্রতিবাদ করবেন। আর মা বোনেরাও আপনাদের মাহরামকে সামলাবেন, মহিলা তাবুতে না আসার জন্য জোর দিবেন।
গত হজ্বে একজন বোনকে আমি কড়া করে বলতে বাধ্য হয়েছিলাম, উনিও মহিলাদের মাঝখানে দাড়িয়ে তাঁবুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তার স্বামীর সাথে কথোপকথন করতেছে। আর না পেরে গরম হয়ে দুইজনকে তাঁবু থেকে বের হয়ে প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে আসতে বলেছি।
আবার এমন সম্মানিত হাজী ভাইদের কেও দেখেছি যারা তাদের মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে নিতেন, এমনকি মোবাইল ফোন না থাকলে পাশের জনের মোবাইল থেকে তার মাহরাম কে ফোন করে, তাকে বাইরে পাঠানোর জন্য বলতেন। মোটকথা আপনার ইচ্ছা থাকলে যে কোনভাবে পর্দা মেইনটেইন করা যায়, আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এটা আপনার বেডরুম নয়, এখানে হাজারো অপরিচিত মহিলা সহ আপনার বউ বসবাস করতেছে।
আর কিছু কিছু হাজী বোনদের কে দেখেছি তাঁবু থেকে বের হওয়ার সময় তাবুর মুখের পর্দাটা ( যেহেতু ব্যালক্রু দিয়ে লাগানো) ভালোমতো না লাগিয়ে ওয়াশরুমে চলে যান।
এদিকে বাহিরে থেকে হেঁটে যাওয়ার সময় অনায়াসে ই দরজার মুখে থাকা মা-বোনদেরকে দেখা যাচ্ছে।
মিনার এই বিড়ম্বনার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার।
হজ্ব কাফেলার মালিকগণ! আপনারাও আপনাদের যায়গা থেকে প্রতিটি হাজীকে এই ব্যাপারে সতর্ক করে দিবেন প্লীজ। এতে করে বিশাল একটা অংশের বোধদয় হবে , অসংখ্য হাজী গোনাহ থেকে হেফাজত থাকবেন।
-উম্মে সায়েমা তাযকিয়া