10/04/2026
কোভিডে যখন বসে ছিলাম পায়ের তলার সর্ষেটাকে চেপে রেখে,
ঠিক তখন এইসব টুকটাক লেখা জড়ো করা ছাড়া উপায় ছিল না
পোস্টের নিচে সবগুলো পর্বের লিংক দেয়া আছে
বাংলায় চায়ের আগমন:
চা(Tea) - Camellia Sinensis
যত কিছু থাক না কেন অনেকের সকাল শুরু হয় চায়ের কাপ দিয়ে। গরম গরম এক কাপ চা না খেলে মাথা কিছুতেই কাজ করে না। আবার কোনদিন যদি কোনো কারণে চা মিস হয়ে যায়, মনে হয় কি যেন খাওয়া হয়নি কি জন্য খাওয়া হয়নি। হাঁসফাঁস করে ভেতরটা।
এই ভারতীয় উপমহাদেশে চায়ের আগমনটা অত্যন্ত মজার। চায়ের উৎপত্তি চীনে হলেও এই ভারতীয় উপমহাদেশে চায়ের আগমন হয় অন্যভাবে। বৃটিশদের হাত ধরে চায়ের চাষাবাদ শুরু হয় কিন্তু চা এই বাংলা মুলুকে পা দিয়েছিলো আরো আগেই। ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নিজেদের জন্য চা নিয়ে আসতো। চীন কেবল ডাচদের কাছেই বিক্রি করতো। আর চীনাদের সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক তো কখনোই ভালো ছিল না। চায়ের নেশায় বুঁদ ইংরেজরা তাই বাধ্য হয়ে ২০ হাজার চায়ের চারা এবং ৭/৮ জন চায়ের মাস্টারকে চুরি করে আফিমের জাহাজে লুকিয়ে নিয়ে আসে এই উপমহাদেশে।
উপমহাদেশের প্রথম সফল চা বাগান হয়েছিলো আসামের জয়পুরে; যা এখনো বর্তমান। আর্দ্র বায়ু, নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রা, ব্রক্ষ্মপুত্র বাহিত পলি, বেলে দো আঁশ মাটিতে বেশ সহজেই জন্মাতে থাকে। আর আশীর্বাদস্বরুপ ছিলো, মৌসুমী বায়ু। উপমহাদেশে এর আগে চায়ের প্রচলন যে একেবারেই ছিলো না তা কিন্তু নয়। এর আগের ইতিহাসে একটু চোখ বুলানো যাক;
স্কটিশ ব্যবসায়ী, এক্সপ্লোরার, রবার্ট ব্রুস ১৮২৩ সালে শিংপো উপজাতিদের হাতে চায়ের পাতা দেখতে পান। সাধারণত, তারা তেল দিয়ে রসুন সহকারে খেত (অনেকটা বার্মিজ খাবার-লাপেট এর অনুরূপ)। শিংপো উপজাতিরা ভারতের আদি চা নিজস্ব উপায়ে পান করত। সেই চায়ের বীজ সংগ্রহ করে রবার্ট ব্রুস পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করতে উদ্যত হন। কিন্তু, ১৮২৪ এ প্রথম আসাম - বার্মিজ যুদ্ধে মারা যান।
রবার্ট ব্রুস এর ছোট ভাই, চার্লস আলেকজান্ডার ব্রুস (বৃটিশ ফ্লোটিলার ক্যাপেটন- আসাম-বার্মিজ যুদ্ধের সময়) বড় ভাইয়ের কাছে আসামে জন্মানো এই চায়ের গল্প শুনেছিলেন। কোনভাবে যদি চা ভারতবর্ষের মাটিতে জন্মানো যায়, ব্রিটিশদের জন্য সেটা একটা অসাধারণ ব্যাপার হবে ঠিক ঠিক বুঝে যান আলেকজান্ডার ব্রুস। এরপর কলকাতার শিবপুরে হুগলি নদীর তীরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে( স্থাপিত 1787 সাল) পরীক্ষামূলক চাষ চালানোর জন্য চা গাছের চারা পাঠানো হয়।
চাষের জন্য এই চায়ের চারা কোথা থেকে এসেছিলো এ নিয়ে তিনটি ভিন্ন মতামত পাওয়া যায়,
১) বিসা গাম নিজে চায়ের স্যাম্পল দিয়েছেন,
২)সেনাবাহিনীর প্রধান ব্রুসের ছোটভাইকে প্রায় শ'খানেক চায়ের চারা দেন,
৩) বিসা গাম সম্মান জানিয়ে চা-র চারা দিয়েছেন।
সেবারের পরীক্ষামুলক চাষ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দেখা গেলো, যেটা পাঠিয়েছেন সেটা Camellia গোত্রের কিন্তু Camellia sinensis চা নয়। পরবর্তীতে ইংরেজদের নিয়ে আসা( চুরি করা) চায়ের চারাতেই প্রথম সফল চা বাগান হয়েছিলো উপমহাদেশে।
এই চা কিভাবে আসাম পেরিয়ে, সারা ভারতবর্ষ আর বাংলায় কি করে এলো; ঢাকাকে কেন্দ্র করে এবং একইসাথে দার্জিলিং এ কিভাবে ব্র্যান্ডিং করা হলো - সেই গল্প থাকবে আগামীর পর্বে।
আমরা নারিন্দা খ্রিস্টান কবরস্থানে আসামের দায়িত্বরত কয়েকজন ক্যাপ্টেনের কবরের সামনে এই গল্পটাও বলে থাকি। সবাই সেটা উপভোগ করেন আগ্রহ ভরেই। করোনার এই সময়ে আমরা গল্পগুলো ঠিক বলতে পারছি না সামনাসামনি। তাই, বেছে নিতে হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মকেই। আরো যেসব গল্প শুনতে চান, জানাবেন। আমরা চেষ্টা করবো।
Heritage Walk Dhaka
Walk Through the Memories
প্রথম পর্ব: https://bit.ly/2S8b0NB
দ্বিতীয় পর্ব:https://bit.ly/2x7knG4
তৃতীয় পর্ব:https://bit.ly/2SaDRkC
চতুর্থ পর্ব:https://bit.ly/3eQBrRJ
পঞ্চম পর্ব:https://bit.ly/3bEcpmY