04/08/2026
আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে❓
——————————————
সূরা আল-বাকারায় আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া এবং সবর করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন:
“তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের ওপর অতীত হওয়া লোকদের মতো অবস্থা আসেনি? কষ্ট ও বিপদ তাদের স্পর্শ করেছিল এবং তারা এমনভাবে ভীত-কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সাথী মুমিনগণ বলে উঠেছিল—‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?’ জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।”
— (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৪)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, নবী-রাসুল এবং তাদের সাথীরাও কঠিন বিপদে আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষায় দিন গুনেছেন, কিন্তু সাহায্য না আসা পর্যন্ত তারা ধৈর্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।
মানুষের মনে হতে পারে, "আমি তো এক বছর ধৈর্য ধরলাম, আর কত?" কিন্তু কুরআনে ধৈর্যের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়নি। বরং আল্লাহর নির্দেশ হলো চূড়ান্ত সফলতা বা ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত সবর চালিয়ে যাওয়া।
“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হও এবং নিজেদের প্রস্তুত রাখো; আর আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।”
— (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ২০০)
হয়রত ইয়াকুব (আ.) তাঁর পুত্র ইউসুফ (আ.)-কে হারানোর পর দীর্ঘ বছর ধরে কান্নাকাটি করলেও আল্লাহর ওপর আস্থা হারাননি বরং ধৈর্য ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
“সুতরাং উত্তম ধৈর্যই আমার একমাত্র উপায়। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের সবাইকে একসাথে আমার কাছে ফিরিয়ে দেবেন”
— (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন:
“জেনে রেখো! নিশ্চয়ই ধৈর্যের সাথেই রয়েছে জয় বা সাহায্য, কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি এবং বিপদের সাথেই রয়েছে তা থেকে মুক্তির পথ।”
— (মুসনাদে আহমাদ: ২৮০৩, জামে তিরমিজি)
আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় পাওয়ার পূর্বশর্তই হলো ধৈর্য ধরে টিকে থাকা। সাহায্য কখন আসবে তা আল্লাহই ভালো জানেন, কিন্তু তা আসা পর্যন্ত বান্দাকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতেই হবে।
সবরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই—এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো প্রার্থনায় বা পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো না করার হাদিসটি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে এবং বলে: ‘আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না!’”
— (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০, সহিহ মুসলিম: ২৭৩৫)
বিপদ বা পরীক্ষার সময়সীমা কতদিন হবে তা মানুষ নির্ধারণ করতে পারে না। সাহায্য আসতে দেরি হওয়া মানেই আল্লাহ ভুলে গেছেন তা নয়, বরং আল্লাহ সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলছেন।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”
— (সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৩)
সুতরাং, আল্লাহর সাহায্য পৌঁছানো পর্যন্ত অবিচল থাকা এবং আশা না হারানোই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়…