14/08/2026
অন্যকে কাঁদাইলে নিজেও কাঁদতে হয় অন্যের জন্য গর্ত করলে সেই গর্তে নিজে পড়ে মরতে হয় এটার বাস্তবতা আবারও প্রমাণিত হলো
চক্রের কবলে হাবিবুর রহমান মিছবাহ
১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নেপথ্যে এক নারী অনলাইন ব্যবসায়ী
আমি হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলছি, আজ কথাগুলো সামনে না এনে উপায় দেখছি না।
আপনারা জানেন আমার দুজন স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ৬ বছর সংসার করেছি। গত দুই বছর আগ থেকে কোনো একটা চক্রের সাথে যুক্ত হয় সে। এক বছর আগ থেকে পুরোপুরি কানেক্টেড। তবে আমাকে কোনোকিছুই বুঝতে দেয়নি, আমি নিজেও ধরতে পারিনি।
এক বছর আগে আমার মোবাইল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ এক্সেস তার ডিভাইসে নিয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সন্দেহের সুযোগ রাখিনি তাই বাসায় গেলে আমার মোবাইল সে চালাতো।
সে একবার আমার কাছে কোম্পানির এমডি পদ চেয়েছিল, কিন্তু বিশ্বস্ততার জায়গা থেকে দিইনি, কারণ মানুষের আমানতের ব্যাপার আছে এখানে।
সে আমার হোয়াটসঅ্যাপ ডিভাইস চুরি করে কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য, ১ম স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন নজরদারি করতো এবং আমার পরিচয় ধারণ করে তার মোবাইলে চুরি করে রাখা আমার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বিভিন্নজনকে মেসেজ দিতো।
একদমই হঠাৎ গত ১৯ জুলাই বাদ ফজর প্রচুর সিনক্রিয়েট করে। পরে ২১ জুলাই ২০২৬ তার মায়ের সাথে বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে চলে যায়।
অবাক করা কান্ড! এক সপ্তাহ’র মধ্যে আমার কাছে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটা উকিল নোটিশ আসে। ভরণপোষণ দিই না, মানসিক যন্ত্রণা দিই, পরকীয়া করি। ভেবেছি মামলা বা এসব আদালতি অভিযোগ হিসেবে হয়ত পরকীয়া লিখছে। কিন্তু তার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি সে আমার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে কিছু একটা ছক তৈরি করেছে।
উকিল নোটিশ পাঠানোয় তার বাবা-মা রাগ করেন। ফলে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ আনুমানিক সন্ধা ৬/৭ টার দিকে আমার ছেলেকে নিয়ে কারও কাছে কিছু না বলে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমি থানায় জিডি করেছি আগেই।
আজ ৮/১০ দিন হলো কোথায় আছে জানি না। আমার ছেলের জীবন নিয়েও আমি শঙ্কিত।
১২ জুলাই ২০২৬ রাতে [গতকাল] জানতে পারি ঐ অনলাইন ব্যবসায়ীর বাসায় নাঈমা থাকে এবং ঐ নারীই তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। সেই আমার দ্বিতীয় স্ত্রীকে উস্কানি দিয়ে বাসা থেকে নামিয়ে আনে এবং স্থান দেয়। পাশাপাশি সংসারটা ভাঙার মূল ইন্ধনদাতা এই নারীই।
আমি কদিন আগেও জানতাম না আমার হোয়াটসঅ্যাপ এক্সেস নাঈমার কাছে আছে।
এদিকে পালিয়ে থেকে নিয়মিত ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো শুরু করে। পাশাপাশি চক্রের সদস্যরাও তাকে সাপোর্ট দিতে থাকে।
একের পর এক পোস্ট ও তৈরিকৃত অথবা আমার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে কারও সাথে কথা বলা কিংবা হয়ত নিজেরা নিজেরাই কথা বলে তৈরি করা স্ক্রিণশর্ট ও স্ক্রিণ ভিডিওর হুমকি দিচ্ছে।
সবকিছু ভুয়া জেনে যখন ইগনোর করতে শুরু করলাম, তখন সামনে এলো আসল চক্রান্তের নমুনা। ঢাকার বাসায় আমার বেডরুমে গোপন ক্যামেরা রেখেছে বলে জানায় নাঈমা এবং সেই ভিডিওতে আমার ও আমার ১ম স্ত্রীর অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করেছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ফাঁস করে দেবে!
চক্রটা মূলত এই সময়টাকে বেছে নিয়েছে সু-নিপুন কৌশলে। আমার ব্যবসাবাণিজ্য, রাজনীতি, নিজস্ব অবস্থান— সব মিলিয়ে আমাকে হেনস্তার ভয় দেখিয়ে যেন বড় কিছু আদায় করতে পারে।
আমিও ব্যাপারটাতে নরমাল থাকতে পারিনি। গত কয়েকটা দিন ধরে পেরেশানিতে কাটিয়েছি। চেয়েছি ঘরোয়াভাবে সবকিছু মিটমাট হোক। এই মর্মে ১২ আগস্ট ২০২৬ [গতকাল] বিকাল ৫টায় পল্টনের ফারস হোটেলের একটি সেমিনার রুমে আমরা উভয়ের আইনজীবী নিয়ে বসি।
সেখানে সবাই আন্তরিকভাবে বলেছেন এমনকি তার আইনজীবীও বলেছেন অন্তত আমাদের দেড় বছরের সন্তান আফরাদের দিকে তাকিয়ে সংসারটা করতে। সে রাজিই না। তাকে বুঝিয়েছি, ছেলেটার জীবন নষ্ট করো না। ছেলেটার কী দোষ? কিন্তু যতই বুঝিয়েছি ব্ল্যাকমেইল থেকে বিরত থাকেনি সে। দুইটা উদ্দেশ্য স্পষ্ট ; এক টাকা, দুই কোম্পানি-সহ আমার সম্মানহানি।
আমি শুধু ভেবে পাই না হঠাৎ এমন কেন করলো আমার দ্বিতীয় স্ত্রী।
সংসারে মারপিট বা ঝামেলাও ছিল না। আমার ব্যাপারে এ ধরণের নারী ঘটিত কোনো অভিযোগ কোনোদিন নাঈমা আমাকে করেনি।
কিন্তু এক বছর পর হঠাৎ এসেই উপুর্যুপরি উকিল নোটিশ, নারী ঘটিত তোহমত/মিথ্যাচার, কী কারণ?
একজন স্ত্রী তার স্বামীকে উল্টাপথে যেতে দেখলে ফিরাবে এটাই স্বাভাবিক! তা না করে সে আমার বেডরুমে গোপন ক্যামেরা পর্যন্ত চলে এসেছে!
১২ আগস্টের বৈঠকে শরিয়াহ’র আলোকে সেফারেশনের অফার করি। সে কোনো নিয়ম মানবে না, তাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে, এর এক টাকা কমও নেবে না। না দিলে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর প্রাইভেট ভিডিও ফাঁস করে দেবে।
হোয়াটসঅ্যাপ এক্সেস চুরি ও গোপন ক্যামেরা রাখার বিষয়টা বৈঠকে সবার সামনে স্বীকার করেছে সে। ঐ বৈঠকে তার আপন খালু, আপন মামা ও খালাতো ভাইও উপস্থিত ছিল। তার আইনজীবী Adv Jannatul Ferdus এবং আমার আইনজীবী Adv Monir Hossain তো ছিলেনই।
নাঈমা এত শক্তি কোথায় পেলো? একা একাই গোপন ক্যামেরা সেট করেছে? নিজ বুদ্ধিতেই স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপ এক্সেস চুরি করেছে? একজন নারী তার শিশু সন্তান নিয়ে এতদিন পর্যন্ত বাড়ির বাইরে একা কাটিয়ে দিচ্ছে? পেছনে কি কেউ নাই?
ঐ অনলাইন লেডি ব্যবসায়ী এর পেছনে কলকাঠী নাড়ছে। নাঈমা বাসা থেকে নেমেছেই তার প্ররোচনায় এবং তার বাসায় নাঈমাকে আশ্রয় দিয়ে গোপন রাখে। সে চাচ্ছে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের এই টাকা তার ব্যবসায় খাটাবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে নাঈমাকে এই নারী কোনোকিছুর ব্ল্যাকমেইল করেছে। নাহয় যেখানে আমাদের সংসারে কোনো সমস্যা নাই, সেখানে একবার সংসার ভেঙে আসা মেয়ে আবার একটা সুন্দর সংসার ভাঙতে যাচ্ছে! তাও একজন নিষ্পাপ সন্তানকে এতীম করে!
ঐ নারী গোপনে নাঈমাকে প্রশ্রয় দিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে, সংসার ভাঙিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত। নাহয় ঐ নারী আমাকে নিয়ে বারবার কুরুচিপূর্ণ পোস্ট কেন দেবে?
মিডিয়ায় ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ার আগে ক্লিয়ার করা জরুরি মনে করেছি। কারণ ঐ নারী অনলাইন ব্যবসায়ী নাঈমাকে নিয়ে আরজের কাছে যাবে, ইলিয়াস হোসাইনকে ভিডিও বানাতে বলবে, মিডিয়ায় ব্রিফিং দেবে। আমার কোম্পানি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেবে, যাতে আমার নিজস্ব ইমেজ, দলীয় ইমেজ, ব্যবসা কোম্পানি এবং আলেম শ্রেণির বিশাল ক্ষতি করা যায়। এদের পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে। আল্লাহর দয়ায় আমার ব্যবসা ও কোম্পানি বিশ্বস্ততা, আমানতদারি ও সততায় দেশ-বিদেশে প্রসিদ্ধতা ও সুনাম অর্জন করেছে।
ফেস দ্যা পিপল পরিচয়ে সাইফুল ইসলাম নামে এক সাংবাদিক আমাকে ফোন করেছিল। সে নিউজ করার জন্য মরিয়া মনে হলো। তাকে অনুরোধ করেছি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে নিউজ না বানাতে। এতে আমার ও আলেম সমাজের ক্ষতি ছাড়া কিছুই হবে না।
নাঈমা কী একটা স্ক্রীণ ভিডিওর কথা বলে জানি না। সেখানে নাকি একটা মেয়ে প্রেগনেন্সি না কী যেন ইসূর কথা বলে বেড়ায়। প্রশ্ন হলো অভিযোগ কি ঐ প্রেগনেন্ট নারীর নাকি নাঈমার? আদৌ ঐ নারী কি আসলেই রিয়েল কেউ? নাকি আমাকে ফাঁসাতে চক্রটা ফেইক চ্যাটিং করছে জানি না। আমি এখনও দেখিনি। আর আসল হলেও এটা চক্রান্ত কারণ হোয়াটসঅ্যাপটা তারা ব্যবহার করেছে।
গোপনে অনুপ্রবেশকারী তৃতীয় পক্ষের অভিযোগে এই বিষয়ে নিউজ বা অভিযুক্ত করা যায়? বরং এখানে তো অনুপ্রবেশকারী অপরাধী। যেটাই হোক, আমার হোয়াটসঅ্যাপের একটা ডিভাইস যেহেতু এক বছর আগেই চুরি করেছে, সেহেতু অনেক কিছুই তারা তৈরি বা রিয়েলই বানাতে পারে।
দেখুন! আমার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে আমি কোনো মেয়ের সাথে খোলামেলা কথা বলব, আমি এতটাই নির্বোধ? তাও এই সময়ে এসে! আমার হোয়াটসঅ্যাপে কোম্পানির প্রায় ১৮ হাজার নাম্বার সেভ করা, তারা সবাই আমার নাম্বার জানে। সেই নাম্বারে আমি কথা বলব এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না!
আমি আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছি ইনশাআল্লাহ। পর্ণগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি মামলা প্রস্তুত করছি। যে বা যারাই আমাকে এ বিষয়ে হেয় করবে প্রত্যেকের ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেবো ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যাব। ব্যাপারটা আমার একান্ত ব্যক্তি রিলেটেড হলে অনেক কিছুই মেনে নিতাম। কিন্তু আমার সাথে হাজার হাজার মানুষ জড়িত, শতাধিক পরিবারের রিজিক আল্লাহ আমার মাধ্যমে ব্যবস্থা করেন। সমস্ত আলেম সমাজের সাথে কানেন্টেড। এতবড় ষড়যন্ত্র এভাবে ছেড়ে দিতে পারি না।
আমরা প্রতি বছর সরকারী সংস্থার মাধ্যমে কোম্পানির অডিট এবং ভ্যাট ট্যাক্স ক্লিয়ার রাখি। সবকিছুর স্বচ্ছতা একদম স্পষ্ট। কেউ বলতে পারবে না কারও এক টাকার তসরুফ বা খেয়ানত করেছি আমরা। লাভ-লস কমবেশি হতে পারে যেহেতু ব্যবসা। কারও টাকা রিটার্নেও মাঝে মাঝে আগপর হতে পারে, কিন্তু কারও এক পয়সার খেয়ানত এই কোম্পানি আজোব্দি করেনি আলহামদুলিল্লাহ।
একজন স্ত্রী চলে যেতেই পারে, কিন্তু এভাবে শত্রুতার কোনো কারণ হতে পারে না। পেছনে বড় সিন্ডিকেট থাকতে পারে।
আমার অপরাধ থাকলে নিজেই চুপ থেকে সব দাবি মেনে নিতাম। আলহামদুলিল্লাহ! আমি পাপ করিনি।