27/04/2026
হজ্জ পূর্বপ্রস্তুতি: মানসিক ও শিক্ষামূলক প্রস্তুতি
■ হজ্জের প্রথম মানসিক ও শিক্ষামূলক প্রস্তুতি হলো: ঈমানকে পরিশুদ্ধ করা এবং আক্বীদাকে ইসলামের স্বর্ণযুগের তথা পূর্বসূরীদের মতো বিশুদ্ধ করা। প্রকৃত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র বিশুদ্ধ আক্বীদা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা।
■ ঈমান ও আমল ধ্বংসকারী সকল ভ্রান্ত আক্বীদা, কুফরী, শিরক, তাগুত, মুনাফেকী ও বিদআত সম্পর্কে জানা এবং তা থেকে তাওবা করে মুক্ত হওয়া। কারণ ১টি মাত্র কুফরী ও শিরক সকল আমল নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
■ নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা। নিয়তের উপর আমল নির্ভরশীল। খ্যাতি, হলিডে ট্যুর বা কারো মাহরাম হওয়ার জন্য হজ্জে যাওয়া যাবে না। একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি জন্য হজ্জ করতে হবে।
■ হজ্জ কার মতো পালন করবেন সে মানদণ্ড আগে ঠিক করতে হবে। হজ্জ কি রাসূল(স) ও সাহাবীদের মতো হবে? নাকি হজ্জ কোন ইমাম সাহেব বা এজেন্সি হুজুরের কথা মতো বা কোন হজ্জ বইয়ের লেখা মতো হবে?
■ হজ্জের সকল কাজ বিশুদ্ধ সুন্নাহ/হাদীস মোতাবেক সামর্থ্য অনুযায়ী নিজস্ব জ্ঞান ও বিবেক দ্বারা পরিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য তৎপর হতে হবে। কোনো কাজ যত কম করে পার পাওয়া যায়, এমন চিন্তা করা যাবে না।
■ হজ্জ মানেই মনে রাখতে হবে টাকা দিয়ে কষ্ট কেনা ও অব্যবস্থাপনার আতিথেয়তা নেওয়া। হজ্জের জন্য ৬-১০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে যে সব ভালো ও সহজ হবে আর কোন কষ্ট হবে না তা আশা করা যাবে না।
■ হজ্জের সফরকে জীবনের প্রথম ও শেষ হজ্জ সফর মনে করা। সুতরাং এই যাত্রাকে জীবন পরিবর্তনের কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। এই হজ্জ যেন বাকি জীবনের কার্যকলাপ পরিবর্তনকারী হয় এমন ইচ্ছা পোষণ করা।
■ কবিরা গুনাহর বই থেকে মিলিয়ে অতীতের সকল বড় গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং গুনাহের লিস্ট করে হজ্জে নিয়ে যাওয়া উচিত এবং ওখানে গিয়ে ফের গুনাহের জন্য ইস্তেগফার করা।
■ নিজের চারিত্রিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা মুখ, চোখ, হাত, পা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা। নিজকে সংযত ও মার্জিত করা। ধৈর্য্যশীল হওয়া, কষ্টের সময় নিজকে মানিয়ে নেওয়া, রাগকে দমন করা ও ত্যাগ শিকারকারী হওয়া।
■ হজ্জে যাওয়ার সময় অবশ্যই পাথেয় হিসাবে সূরা বাকারা'র ১৯৭ নং আয়াতকে বুঝে ও অন্তরে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য সচেষ্ট হওয়া!
■ হজ্জের সফরে সকল অসুবিধা, বিপদ, কষ্ট আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মনে করতে হবে। আর ইবলিশ শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সব সমস্যা সমাধানের জন্য আগে একমাত্র আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
■ হজ্জে গিয়ে মানুষের দেখাদেখি বা মানুষের মুখের কথা শুনে কোন কাজ না করা। হজ্জে গিয়ে ইসলামের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ দেখে আবেগে ভুল (শিরক/বিদআত) কিছু না করা হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকা।
■ হজ্জ সফরে হাজীদের একটা কমন কাজ হলো ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা এবং অন্যের নামে/এজেন্সির নামে গীবত চর্চা করা। তাই হজ্জ সফরে গিয়ে সংযত, উত্তম আচরণকারী ও বিনয়ী আল্লাহর এক বান্দা হতে হবে।
■ হজ্জ সফরে ধৈর্য, ত্যাগ ও ক্ষমার চর্চা করতে হবে। সহযাত্রীদের কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। তাদের পক্ষ থেকে আগত যাবতীয় মন্দের জবাব ভালোর মাধ্যমে দিতে হবে। সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলতে হবে।
■ হজ্জ সফরে পরোপকারী ও সাহায্যকারী মনোভব রাখতে হবে। সকল দেশের মুসলিমকে ভাই মনে করতে হবে। অপর মুসলিম ভাইয়ের অসুবিধা, বিপদ-আপদ নিজের মনে করে অপরের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
■ হজ্জে যাওয়ার পূর্বে মৌলিক আমলীয় বিষয় যেমন পবিত্রতা, ওযু, গোসল, নামায ও প্রতিনিয়ত পালনীয় দু'আ-যিকির শিক্ষা করে যাওয়া। হজ্জে গিয়ে প্রয়োজনে আমলসমূহ যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের উন্মুক্ত মানসিকতা রাখা।
■ হজ্জে যাওয়ার আগে সাওয়াব কামাই/নেকী কামানোর টার্গেট করা। কিভাবে হজ্জের পুরো সময়টিকে কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে বেশি নেকী অর্জনকারী হওয়া যায় এবং নিষ্পাপ শিশু হয়ে ফেরত আসা যায় সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা।
■ হজ্জ ও উমরাহ সম্পর্কে দলিল ভিত্তিক সহীহ বই থেকে জ্ঞানার্জন করা এবং হজ্জের কিছু প্রয়োজনীয় দু'আ মুখস্থ করা। পূর্বে হজ্জ করেছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে হজ্জের বাস্তবতার বিষয় সম্পর্কে জানা।
■ হজ্জ সফরে অর্থ বুঝে পুরো কুরআন পড়ে খতম করার এবং কিছু নতুন সূরা বা দু'আ মুখস্থ করার টার্গেট করা। প্রতিদিন কি কি আমল, দু'আ ও ইবাদত করতে হবে তা মনে মনে স্থির করা এবং তা লিখে লিস্ট করে নিয়ে যাওয়া।
■ বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন দু'আ-অজিফার বই; যেগুলোতে বিশুদ্ধ হাদীসের দলিল নেই এবং বিভিন্ন স্বলাতের নিয়ত, বিভিন্ন দুরূদ, বিভিন্ন খতম ও লক্ষ-কোটি নেকীর ফযীলত বর্ণনা থাকে সেগুলো আমল করা থেকে বিরত থাকা।