07/05/2016
ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়নের ভিন্ন ধারনা ও আমাদের করনীয়
আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহি অবারকাতুহ
যারা মুসলিম ও ইসলামী অর্থনৈতিক বিধান মেনে আর্থিক লেনদেন করে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জন করতে চান সেইসব ধনবান বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্যই আমার লেখা............. আশাকরি সবাই মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়বেন
আমি এর আগে কখনও এতবড় আর্টিকেল লেখিনি তাই আশা করি লেখায় কোন ভুল হলে অবশ্যই সকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তো অসীম ক্ষমতাময় ও দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করিলাম ......
“মহান আল্লাহ পবিত্র কুর-আনে ইরশাদ করেন আমি তোমাদের জন্য ব্যবসাকে করেছি হালাল আর সুদকে করেছি হারাম”
আমাদের সমাজের এমন অনেক মুসলিম রয়েছেন (বিশেষ করে প্রবাসীরা) যারা তাদের উদৃত্ত অর্থাৎ বাড়তি টাকা ব্যংক অথবা ইন্সুরেন্স নামক আর্থিক কম্পানিতে জমা রাখেন । এসব ব্যংক ও ইন্সুরেন্স নামক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছে জমাকৃত টাকার উপর জমাকারিকে শতাংশ হিসেবে কিছু বাড়তি টাকা প্রদান করে যেটাকে লাভ (সুদ) বলা হয় । এখন কথা হল ব্যংক বা ইন্সুরেন্স কিভাবে এ বাড়তি টাকা দেয় ? উত্তর হল ওই প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাদের জমাকৃত টাকাগুলো (মুলধনের অভাবে যারা ব্যবসা করতে পারে না ) সেসব নবীন উদ্দক্তাদেরকে চড়া সুদে লোন দেয় এবং সেখান থেকে আদায়কৃত সুদের একটা অংশ আপনাদেরকে প্রদান করে থাকে তার মানে আপনিও সুদের একজন অংশিদার হলেন আর কি!একবার ভেবে দেখেছেন কি এটা আমাদের ধর্ম মতে আদৌ বৈধ কিনা ? আশাকরি মুসলিমরা একটু সময় নিয়ে ভাববেন।
এক্ষেত্রে দুটো মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয় যথা –
১। আরথিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অতিরিক্ত যেটা দেয়া হচ্ছে সেটা শরিয়তসম্মত নয় এবং এর জন্য পরকালে কঠিন আজাবের কথা উল্লেখ আছে।
২। যারা আমার মতো সুদের টাকা দিয়ে ব্যবসা বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায় না তাদের আর ব্যবসা করা বা উদ্যোক্তা হওয়ার সপ্ন বাস্তবায়িত হয় না ।
এক্ষেত্রে আমার ক্ষুদ্র চিন্তাশক্তি দিয়ে এটার একটা সমাধান খুজে পেয়েছি জানিনা এর বাস্তবতা কতটুকু সম্ভব!তবে আশা রাখি একটা হারাম থেকে বের হবার চেষ্টা করলে সেটা যেভাবেই হোক আল্লাহ তায়ালা সেটা বাস্তবায়নে সাহায্য করবেন।
এখন আপনাদের সাথে আমার দৃষ্টিতে সমাধানটি শেয়ার করছি .........
আমাদের সমাজে এমন অনেক বেকার আছে যারা হালালভাবে আয় করতে ইচ্ছুক এবং তাদের মেধায় আছে নানা ধরনের নতুক উদ্যোগ আর সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দুরিকরনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্তেও যথেষ্ট মুলধন তথা পুজির অভাবে তারা তাদের নব চেতনা নিয়ে নিরবে ধুকে ধুকে কাল খেপন করছে এবং তাদের সপ্ন আর বাস্তবায়িতও হচ্ছে না । এক্ষেত্রে ধনবান ব্যক্তিরা বিশেষ করে প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অলস অর্থ দিয়ে এসব বেকারদের সাথে ব্যবসায়িক অংশিদার হলে আপনার অলস টাকা আর অলস পরে থাকবে না এবং হালালভাবে কিছু টাকা বাড়তি আসবে আর হারাম থেকেও বাচা যাবে সব মিলিয়ে ফলাফল খুবই ভাল হবে ইংশা আল্লাহ্।
যাদের অলস টাকা আছে এবং সেটা কাজে খাটিয়ে হালালভাবে কিছু বাড়তি আয় করতে চান তারা যদি নিজে পারেন তো নিজেই কোন উদ্যোগ গ্রহন বা ব্যবসা করেন আর তা না পারলে আপনার সমমনা,আস্থাভাজন কোন নব উদ্দক্তাকে দিয়ে তার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হালালভাবে টাকা আয় করতে পারেন বলে আমি আশা করি ।
এতে আপনারও হালাভাবে কিছু টাকা আয় হল এবং আপনার টাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এক বা একাধিক বেকারের কর্মের ব্যবস্থাও হল ।
এখন আসি এক্ষেত্রে কি কি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সেগুলো নিয়ে আলোচনায়...
১। বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা/গ্রহীতা উভয়কেই সমমনা হতে হবে অরথাত হালালভাবে উপার্জন করার মানসিকতা থাকতে হবে। কারন আপনি যার কাছে বিনিয়োগ করলেন সে যদি হারামভাবে আয় করে তাহলে আর লাভ হল কি !
২। যেকোনো লেনদেন উভয়কে অবশ্যই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আইনানুগ বাধ্যবাধকতার অধিনে করতে হবে কোনরূপ কাগজি দলীল ছাড়া আর্থিক লেনদেন বৈধ নয় ।
৩। উদ্যোক্তা/গ্রহীতা বিনিয়োগকারীর পূর্ব পরিচিত বা নিজ এলাকার হলে ভালো হয় এবং কোন প্রকার অক্ষম ব্যক্তিকে টাকা দেয়া যাবে না ।
৪। উদ্যোক্তা/গ্রহীতার নিকট থেকে জামানত হিসেবে বিনিয়গের সমপরিমান মূল্যের জমির দলীল অথবা সম্পদ বিনিয়গ্লকারি জমা রাখতে পারেন তবে উভয়েই হালাল আয়ের ইচ্ছুক থাকলে ও সমমনা হলে এটার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
৫। বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা/গ্রহীতা উভয়কেই ব্যবসার লাভ-লোকসানের সমভাগি হবার জন্য বাধ্য থাকিতে হইবে।
৬। উভয়ের মাঝে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে সকল প্রকার ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে এবং উদ্যোক্তা/গ্রহীতা বিনিয়োগকারীর কাছে ব্যবসার সার্বিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করিতে বাধ্য থাকিবে ।
৭। ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে নিদৃষ্ট সময়ের পর লাভের হিসাব হবে এবং যে যার অংশ কেবল তখনই নিতে পারিবেন এর পূর্বে ব্যক্তিগত কাজে উদ্যোক্তা/গ্রহীতা টাকা খরচ করিলে তার যথার্থ হিসাব বিনিয়োগকারীকে দিতে বাধ্য থাকিবেন।
৮। এমন উদ্যোগের বা ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করিবেন যাতে লোকসান হবার সম্ভাবনা খুবই কম । যেমন – ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা , ঔষধের ব্যবসা , কাপরের ব্যবসা , আইটি ব্যবসা , প্রিন্টিং ব্যবসা , হার্ডওয়্যার ব্যবসা , মিনি সোলার সিস্টেম , ডেইরি ফার্ম , ডিলারসিপ ব্যবসা ইত্যাদি ।
লেখক, মোঃ শামিম হোসেন । (কাঁঠালিয়া ,ঝালকাঠি)
অনার্স ২য় বর্ষ , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা ।