Uttara Tourist Club

Uttara Tourist Club Uttara Tourist Club is one of the most prospective tour operator in Bangladesh, run by the most skilled resources to serve the best in travel and tourism

Uttara Tourist Club is one of the most prospective tour operating companies in Bangladesh, run by the most skilled resources with the mission to serve the best in the arena of travel and tourism. Our team is completely geared up to provide various package tours in your favorite destinations in Bangladesh as well as in your neighboring countries such as Nepal, India, Bhutan, Malaysia and Thailand with most affordable worth and professional guide support. Our mission is to build a global concern and positive mindset in favor of Bangladesh by exploring and exploiting the travel prospects for travelers and tourists. Amana Tours and Travels provide first-rate services with integrity, dignity and professionalism for operating national and international (inbound and outbound) tours successfully. We are committed to serve the demands of your precious holidays and vital travels with the best hospitality and care.

সিকিম গ্যাংটক লাচুং ইয়ামথাং ভ্যালী ছাঙ্গু লেক ভ্রমণে বৃত্ত!
06/11/2019

সিকিম গ্যাংটক লাচুং ইয়ামথাং ভ্যালী ছাঙ্গু লেক ভ্রমণে বৃত্ত!

ঘুরে আসুন উত্তর সিকিমের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম লাচুং থেকে
06/11/2019

ঘুরে আসুন উত্তর সিকিমের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম লাচুং থেকে

ঘুরে আসুন উত্তর সিকিমের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম লাচুং থেকে


ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম লাচুং উত্তর সিকিমের ৯৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এই জায়গাটি আপনার ভ্রমণের ঠিকানা হতে পারে দু’দিনের জন্য। যারা নির্জন জায়গা ভালোবাসের তাঁদের অল্প সময়েই প্রিয় হয়ে উঠবে লাচুং। সবুজের কোলে ছবির মতো ভেসে আছে এই পাহাড়ি গ্রামটি।

পাহাড়ের মধ্যে সাজানো ধুপীগাছের সারি। এখানে এলোমেলো ঘুরে বেড়ালে মনে আসবে প্রশান্তি। রয়েছে নানা রকমের রডোডেনড্রন। লাচেন নদী এবং লাচুং নদী দেখার মতো। এই দুই নদী তিস্তা নদীতে গিয়ে মিশেছে। রাজধানী গ্যাংটক থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। এখানে নেপালি, ভুটিয়া এবং লেপচা ভাষার চল বেশি।

লাচুং শব্দের অর্থ ‘ছোট গমনোপযোগী অঞ্চল’। রয়েছে একটি মনাস্ট্রি। কয়েক জন লামা থাকেন এখানে। লাচুঙে আছে একটি কার্পেট বুনন কেন্দ্র। লাচুং থেকে সহজেই যাওয়া যায় ইয়ুমথাং ভ্যালিতে। এখানে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আপনার সারাজীবন মনে থাকবে। এই উপত্যকা শীতের সময় বরফে ঢেকে যায়। সেই সময় ইয়ুমথাং হয়ে ওঠে পর্যটনপ্রিয় বাঙালির মুক্ত বিচরণভূমি।

প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে পর্যটকদের সতর্ক থাকা উচিৎ। পশমের পোশাক সব সময় গায়ে চাপানো থাকলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কম। সারাবিশ্বের পর্যটক অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত এখানে ঘুরতে আসেন। এই সময়টুকুই লাচুং ভ্রমণের পিক টাইম। মূলত ইয়ামথাং ভ্যালি, লাচুং মনাস্টেরি দেখার পথেই তাঁরা লাচুং আসেন। লাচুংয়ের অধিকাংশ অধিবাসীই লেপচা এবং তিব্বতীয়।

উত্তর সিকিমে যেতে হলে গ্যাংটক থেকে অনুমুতি নিতে হয় পর্যটকদের। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে পরিচয়প্তের জেরক্স এবং দু’কপি ছবি দিয়ে আবেদন করতে হয়। সব ঠিক থাকলে অনুমতি পেয়ে অসুবিধে হয় না। ১৮৫৫ সালে বিখ্যাত ভ্রমণিক জোসেফ ডালটন হুকার দ্য হিমালয়ান জার্নালে লাচুংকে সিকিমের ‘ছবির মতো গ্রাম’ হিসেবে আখ্যা দেন। লাচুঙের কাছে ফুনিতে স্কিইং করার ব্যবস্থা আছে।

https://www.facebook.com/events/2475292556035461

সিকিমে যে ৫টি জায়গায় অবশ্যই যাবেন
28/10/2019

সিকিমে যে ৫টি জায়গায় অবশ্যই যাবেন

আমিরাতের ভিসা পেতে টাকা লাগবে না কিশোর-কিশোরীদের
22/10/2019

আমিরাতের ভিসা পেতে টাকা লাগবে না কিশোর-কিশোরীদের

আমিরাতের ভিসা পেতে টাকা লাগবে না কিশোর-কিশোরীদের

কিশোর পর্যটকদের সুখবর দিল আরব আমিরাত। দেশটির সরকার ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোরদের জন্য বিনামূলো ভিসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১৫ জুলাই থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোররা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনামূল্যে পর্যটক ভিসা পাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সরকার পর্যটক টানতে নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাবা-মায়ের সাথে আমিরাত ঘুরতে যাওয়ার জন্য কিশোররা এখন থেকে বিনামূল্যের এই ভিসা পাবেন।

বুধবার আমিরাতের ফেডারেল অথরিটি আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিশোরদের বিনামূল্যে ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৮ বছরের নিচের কিশোররা এই ভিসা পাবেন মূলত প্রত্যেক বছরের ১৫ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তবে বিনামূল্যে এই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, ভিসা পাওয়ার জন্য ১৮ বছরের নিচের কিশোরদের সঙ্গে তাদের বাবা-মায়ের যে কোনো একজনকে থাকতে হবে। আর এজন্য বাবা অথবা মায়ের জন্য পর্যটক ভিসা, স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদের ভিসা দরকার হবে।

এই ভিসা ফি মওকুফের মাধ্যমে পর্যটকরা লাভবান হয়ে আরো বেশি পর্যটককে আমিরাতে যেতে উদ্বুদ্ধ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। পররাষ্ট্র কল্যাণ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সায়িদ রাকান রশীদি বলেছেন, স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে পর্যটকরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আমিরাতের এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও (www.ica.gov.ae) ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।

সম্পদ নয়, ভ্রমণেই প্রকৃত সুখ!
22/10/2019

সম্পদ নয়, ভ্রমণেই প্রকৃত সুখ!

পর্যটন খাতে ৫ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ
19/10/2019

পর্যটন খাতে ৫ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

ফ্রি ভিসা চালু করছে শ্রীলংকা
01/08/2019

ফ্রি ভিসা চালু করছে শ্রীলংকা

ফ্রি ভিসা চালু করছে শ্রীলংকা

পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে ‘অন অ্যারাইভাল’ বা ফ্রি ভিসা (বিমানবন্দর নামার পর ভিসা) চালু করছে শ্রীলংকা। ৫০টি দেশের নাগরিকরা এই ফ্রি ভিসার সুযোগ পাবেন বলে মঙ্গলবার সরকারি একটি নথিতে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। চলতি বছর ইস্টার সানডের উৎসবকালে দেশটিতে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পর পর্যটকদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
পর্যটকদের টানতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালু রয়েছে ভুটান, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায়। খবর এশিয়া টাইমসের।

গত ২১ এপ্রিল শ্রীলংকার বেশ কিছু বিলাসবহুল হোটেল এবং গির্জায় ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এদের মধ্যে ৪২ জনই বিদেশি নাগরিক।

ওই হামলার পর বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রীলংকায় পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেছে। কারণ ওই হামলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের শ্রীলংকা ভ্রমণের ওপর সতর্কতা জারি করে। এতে দেশটির পর্যটন খাতে ধস নামে।

সিঙ্গাপুর ভিসা প্রসেসিং : সিঙ্গাপুর ভ্রমণ ভিসা পেতে যা করণীয়
31/07/2019

সিঙ্গাপুর ভিসা প্রসেসিং : সিঙ্গাপুর ভ্রমণ ভিসা পেতে যা করণীয়

সিঙ্গাপুর ভিসা প্রসেসিং : সিঙ্গাপুর ভ্রমণ ভিসা পেতে যা করণীয়

সিঙ্গাপুর (Singapore) ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করে মাত্র ৫০ বছরে তৃতীয় বিশ্বের একটি অনুন্নত দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। স্বাধীনতা লাভের পর সিঙ্গাপুর আর অগোছালো, নিয়ন্ত্রণহীন দেশ হয়ে থাকেনি বরং যুগোপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর আজ সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে। সিঙ্গাপুর আয়তনে ছোট হলেও সেখানে রয়েছে জনপ্রিয় বেশ কিছু ভ্রমণ স্থান ও স্থাপনা। খুব সহজেই পুরো সিঙ্গাপুর ঘুরে বেড়ানো যায়। তাই পর্যটকদের কাছে সিঙ্গাপুর এক আকর্ষণের নাম।

সিঙ্গাপুর ভিসা কিভাবে পাবেন
রাজধানী ঢাকার সিঙ্গাপুর কনস্যুলেট অফিস হতে সিঙ্গাপুরের ভিসা ইস্যু করা হয়। তবে সেখানে সরাসরি ভিসার জন্য আবেদন করা যায় না। সিঙ্গাপুরের ভিসার জন্য আপনাকে অবশ্যই অনুমোদিত ভিসা এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং সেই সাথে সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী কারো কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেতে হবে। তবে ডিপ্লোম্যাটিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে ভিসা লাগে না।

প্রচলিত আছে, সম্পূর্ণ নতুন অর্থাৎ ফ্রেশ পাসপোর্টে সিঙ্গাপুরের ভিসা পাওয়া যায় না। এই কথার শতভাগ ভিত্তি না থাকলেও ইতিপূর্বে আপনি অন্য কোন দেশ ভ্রমণ করে থাকলে কি ভিসায়, কিভাবে সেই দেশ ভ্রমণ করেছেন তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত ভিসা আবেদন জমা দেয়ার ৫ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই সিঙ্গাপুরের ভিসার কাজ শেষ হয়, যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগতে পারে। সিঙ্গাপুরের ভিসা জন্য ৩০ সিঙ্গাপুর ডলার ফিসা ফি এবং এজেন্টের সার্ভিস চার্জ জমা দিতে হয়।

ভিসা আবদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
এক সেট ১৪এ (14A) ফর্ম সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে। ১৪এ ফর্ম ডাউনলোড করুন এই লিংক থেকে।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর দিন থেকে নূন্যতম ৬ মাস মেয়াদী পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টে কমপক্ষে ১ টি ফাকা পৃষ্টা থাকতে হবে।
পাসপোর্টে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যের পৃষ্টার একটি ফটোকপি আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।
বিগত তিন মাসে মধ্যে সাদা পটভূমিতে (ব্যাকগ্রাউন্ড) ম্যাট পেপারে তোলা ২ কপি (৩৫*৪৫ mm) রঙ্গিন ছবি। মাথায় ক্যাপ এবং চোখে সানগ্লাস গ্রহণযোগ্য নয়।
সাধারণ ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক (২১ বছর বয়স) সিঙ্গাপুরের স্থায়ী নাগরিক কতৃক ‘লেটার অফ ইন্ট্রোডাকশন’ (Letter of Introduction) ফর্ম ইস্যু থাকতে হবে।
৬ মাসের ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট (নূন্যতম ১ লাখ টাকা থাকতে হবে) এবং ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
চাকরিজীবী হলে অফিস কতৃক ছুটির অনুমতি পত্র, ছাত্রছাত্রী হলে আইডি কার্ডের কপি এবং ব্যবসাহী হয়ে থাকলে ট্রেড লাইন্সেসের কপি
কোম্পানির একটি খালি প্যাড এবং ভিজিটিং কার্ড
শিশুদের জন্য জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট বা স্কুল আইডি কার্ডের কপি
হোটেল বুকিং-এর তথ্য
ফিরতি বিমান টিকেট
বিবাহিত হলে ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে
ব্যবসায়ী ভ্রমণকারীদের ভিসা পেতে সিঙ্গাপুরে রেজিস্টারকৃত কোম্পানির স্থানীয় যোগাযোগের ঠিকানা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির স্বাক্ষর করা আমন্ত্রণপত্র থাকতে হবে। আর আমন্ত্রণকারী যদি কোন ব্যক্তি হত তবে আমন্ত্রণকারী কতৃকপ্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্র এবং তার আইডি কার্ডের কপি জমা দিতে হবে।

কাশ্মীর
31/07/2019

কাশ্মীর

কাশ্মীর

ভূ-স্বর্গ নামে পরিচিত কাশ্মীর। এর রূপে এমনই মুগ্ধ হয়েছিলেন মোঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরযে কাশ্মীরকে স্বর্গের সাথে তুলনা করেছেন। কাশ্মীরের রূপের কথা নতুন করে বলার কিছু নাই। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে এমন সবারই মনে সুপ্ত বাসনা থাকে জীবনে একবার হলেও কাশ্মীর ঘুরে আসার। প্রতি বছরই দেশের অনেক ভ্রমণ পিপাসুরা এই স্বর্গরাজ্য কাশ্মীরে ছুটে যায় এর অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে।

কাশ্মীরের দর্শনীয় স্থান
কাশ্মীরের পুরো শহরটাই যেন স্বর্গ রাজ্য, দিগন্ত জোড়া উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝে দেখা মিলে সাদা বরফের খেলা।রাজ্যের ভিতরে রয়েছে দেখার মতো নানা জায়গা। আর শহরের একটু বাইরে অপেক্ষা করছে আরেক সৌন্দর্য। তারপরও পর্যটকদের সুবিধার জন্য কিছু উল্লেখযোগ্য স্থানের নাম নিচে দেওয়া হলঃ

শ্রীনগর : শ্রীনগরে প্রথমেই চোখে পড়বে পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মতো সাদা তুষার কনা। এখানে আছে মোঘল গার্ডেন, টিউলিপ গার্ডেন, হযরত বাল মসজিদ, ডাল লেক ও নাগিন লেক। গাড়ি ভাড়া করে সারাদিনের জন্য শ্রীনগর শহর টা দেখলে ভালো লাগবে। আরডাল লেকের ভাসমান শহরও ভালো লাগার মতো।

গুলমার্গ : শ্রীনগর থেকে মাত্র ৫২ কিলো দূরে সবুজ ঘাসে বিস্তৃত গুলমার্গ, যা সারা বছরই বরফে ঢাকা থাকে। এখানে দেখতে পারবেন গন্ডোলা, গলফ কোর্স, বাবা ঋষির মাজার, আফারওয়াত পিক, সেন্ট ম্যারি চার্চ। ক্যাবল কার ছাড়াও প্যারাগ্লাইডিং এর মজা পাবেন গুলমার্গে।

পেহেলগাম : শ্রীনগর থেকে ৯৭ কিলো দূরে ট্যাক্সি করে যেতে পারবেন পেহেলগামে। জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝে গেলে এখানে দেখা মিলবে রাস্তার দুধারের আপেল বাগান। আছে দেখার মতো অনেক কিছু। একটু সময় নিয়ে ঘুরলে ভালো ভাবে দেখতে পারবেন সবকিছু, যেমনঃ লিদার নদী, বেতাব ভ্যালি, চান্দেরওয়ারি, আরু ভ্যালি, ধাবিয়ান, কাশ্মীর ভ্যালী পয়েন্ট, কানিমার্গ। ঘোড়ায় বসে ঘুরে বেড়াবার মজা পাবেন পেগেলহাম ভিউ পয়েন্টে। এখানের মিনি সুইজারল্যান্ড হিসেবে পরিচিত বাইসারানে যেতে ভুলবেন না।

সোনামার্গ : শ্রীনগর থেকে ৪২ কিলো দূরে সুন্দর উপত্যকা ও ঝর্ণার দেখা মিলবে সোনামার্গে। এখানে আছে থাজিয়ান হিমবাহ। এছাড়াও দেখা মিলবে সিন্ধু নদীর। আছে স্লেজিং, স্নো বাইক ও ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ।

এছাড়াও কাশ্মীরে কিছু জায়গা রয়েছে যা শহর থেকে একটু দূরে, হয়তোবা অনেকেরই অজানা, তবে ভালো লাগার মতো। যেমন – মার্তণ্ড মন্দির শ্রীনগর থেকে ৬৪ কিলো দূরে অন্যরকম স্থাপত্যে গড়ে উঠা এক হিন্দু মন্দির। এখানে “হায়দার” ছবির একটা বিখ্যাত গানের শুটিং হয়। ছোট্ট একটি শহর কোকেরনাগ , রয়েছে মাছ ধরার ব্যবস্থা। ছটপলে রয়েছে আছে কাঠ বাদাম ও আপেল বাগানের সমাহার। আরও যেতে পারেন নুব্রা উপাতাক্য ও দুধপতরির মতো জায়গায়।

কখন যাবেন কাশ্মীর
রূপে অন্যান্য কাশ্মীর যেকোনো সময়ই ভ্রমণ পিপাসুদের ভালো লাগার মতো একটি জায়গা। তবে কিছু বিশেষ সময়ে কাশ্মীরের সৌন্দর্য বিশেষ ভাবে ধরা পড়ে সবার চোখে।

বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল সেই হিসেবে ইংরেজি বছরের এপ্রিল থেকে মে, এই সময়টাকে কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় বলা হয়। এই সময় ফুলে ভরা থাকে চারদিক, বিশেষ করে টিউলিপ ফুল।

বাংলাদেশের শরৎকাল সেই হিসেবে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের সময়টাতে বরফ কিছুটা কম থাকে। তবে নানা ধরনের ফল পাওয়া যায় এই সময়ে। বিশেষ করে আপেল আর চীনা বাদামের দেখা মিলবে এই সময়।

আর শীতকাল হিসেবে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে, কাশ্মীরে চারিদিকে শুধু বরফ আর বরফ,সাথে স্নোফল। আর তাই এই সময় কাশ্মীরে গেলে চারপাশের এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়বে। তবে শীতকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতার প্রয়োজন আছে।

কিভাবে যাবেন কাশ্মীর
কাশ্মীর যেতে পারেন প্লেনে, ট্রেনে বা বাসে। বিমানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে প্রথমে দিল্লি যেতে হবে, তারপর সেখান থেকে শ্রীনগর। তারপর শ্রীনগর থেকে গাড়ি করে পৌঁছে যাবেন কাশ্মীর।

আবার, ট্রেনে যাবার ক্ষেত্রে প্রথমে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে হবে। কলকাতা যাবার জন্য আছে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ট্রেনে কলকাতা নামতে হবে তারপর ওখান থেকে ৩৫-৩৬ ঘণ্টা সফর করে ‘জম্বু’ যেতে হবে। কলকাতা থেকে জম্বু যাওয়ার জন্য “হিমগিরি” ও “জম্বু তাওয়াই” নামের দুইটি ট্রেন আছে। সপ্তাহে তিনদিন ( মঙ্গল, শুক্র আর শনিবার) রাত ১১.৫০ মিনিটে কলকাতার হাওড়া থেকে জম্বুর উদ্দ্যেশে রওনা দেয় হিমগিরি ট্রেন। আর তাওয়াই প্রতিদিনই যাতায়াত করে হাওরা টু জম্বু, তবে সময় বেশি লাগে। সেই ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না থাকলে হিমগিরিতে যাওয়াই ভালো। তারপর জম্বু থেকে ৮-১০ ঘণ্টার সফর শেষে শ্রীনগর যেতে হবে। শ্রীনগর থেকে গাড়ি করে পৌঁছে যাবেন স্বপ্নের শহর কাশ্মীরে।

বাসের ক্ষেত্রেও প্রথমে গ্রিনলাইন, সোহাগ বা শ্যামলি পরিবহনে কলকাতা থেকে জম্বু গিয়ে ওখান থেকে শ্রীনগরে পৌঁছে গাড়ি করে কাশ্মীরে যেতে হবে। ইচ্ছা হলে কলকাতা থেকে জম্বু অথবা শ্রীনগরে “ডোমেস্টিক বিমানে” ও যেতে পারেন। তবে সেই ক্ষেত্রে ভাড়া একটু বেশি হবে।

কাশ্মীর ভ্রমণ খরচ
ট্রেনে কলকাতা থেকে জম্বু পর্যন্ত নন এসি স্লিপারের ভাড়া ২২০০-২৫০০ টাকা আর এসির ক্ষেত্রে ভাড়া ৩৩০০- ৩৫০০ টাকা। তবে ৬-৮ জনের দল মিলে কাশ্মীর গেলে খরচ কিছুটা কম পড়ে। সেইক্ষেত্রে জম্বু থেকে শ্রীনগর যাওয়ার জনপ্রতি ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা পড়বে।

বিমানের ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ভাড়া ১২-২০ হাজার।

বাসে গেলে জনপ্রতি খরচ পড়বে ১৮০০-২০০০ টাকা, ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার জন্য।তবে খরচ কমানোর আরও একটা উপায় আছে যদি সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া যায় কাশ্মীর। সীমান্ত পেরিয়ে লোকাল বাসে কলকাতায় গিয়ে সেখান থেকে জম্বু, শ্রীনগর ও তারপর কাশ্মীর।

তবে সব মিলিয়ে যদি থাকার আর যাতায়াতের খরচ একটু কমানো যায় তাহলে ৩০-৩২ হাজারের মধ্যে কাশ্মীর ঘুরে আসতে পারবেন আর শপিং একটু ভালো ভাবে করতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
কাশ্মীরে বেশকিছু হোটেল পাবেন থাকার জন্য। ভাড়া পড়বে ১০০০- ১৫০০ রুপির মধ্যে। শ্রীনগর ও জম্বুতেও আছে থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল, রিসোর্ট ও হাউজ বোট। এর মধ্যে হোটেল জামরুদ, হোটেল জাহাঙ্গীর, গ্র্যান্ড হোটেল উল্লেখযোগ্য। রুম হিসেবে ভাড়া ১২০০- ২৫০০ রুপির মধ্যে দুই জনের জন্য।

তবে ভালো টুরিস্ট এরিয়ায় যদি থাকতে চান তাহলে শ্রীনগরেরে ডাল লেকের পাশে রয়েছে বেশ কিছু হাউস বোট। যেমন-প্রিন্স অফ ভ্যালে, ইয়ং মর্নিং স্টার, নিউজিল্যান্ড হাউস বোট । তবে সেই ক্ষেত্রে খরচ অন্যান্য হোটেলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হবে। আবার, পেহেলগামের কটেজে থাকলে যদি নিজেরা বাজার করে দেওয়া হয় তাহলে খরচ কম পড়বে।

তবে এই ক্ষেত্রে অনলাইনে বুকিং না দিয়ে কাশ্মীর গিয়ে আপনার যে শহরে থাকতে ইচ্ছে হয় সেই হিসেবে হোটেল বুকিং দিলে ভালো।

কোথায় কি খাবেন
কাশ্মীর গিয়ে নানা ধরনের তাজা ফলের স্বাদ নিতে ভুল করবেন না। এছাড়াও কাশ্মীরের মাটন বিরিয়ানি বিখ্যাত। এখানকার ওজওয়ান (নানা ধরনের খাবারের এক প্লেটার), কাশ্মীরি কাবাব, মাটন রোগান জোশ, ভেড়ার মাংস, পনির চামান,আলুর দম, টক বেগুন,নাদরু ইয়াখনি বিখ্যাত। আর রফিক ক্যাফেটেরিয়ার কাবাব আর কুলফির স্বাদও মুখে লেগে থাকার মতো।

কেনাকাটা
জম্বুতে কম দামে প্রচুর ড্রাই ফ্রুইটস পাওয়া যায়।আর এখানকার জাফরানও বিশেষ ভাবে বিখ্যাত। এছাড়া কেনাকাটার জন্য জম্বুর রঘুনাথ টেম্পল বেশ পরিচিত। এখানে কাশ্মীরি যাবতীয় জিনিস পাবেন। তবে কাশ্মীরের পশমিনা শাল কেনার ক্ষেত্রে দাম যাচাই করে দেখবেন। কারন ভালো পশমিনা সালের দাম সর্বনিম্ন হলেও ৩০০০রুপি। তাই কম দাম বলে অনেকে নকল ও খারাপ জিনিস দিয়ে দিতে পারে। পেহেলগামে থেকে মেয়েদের নানা জুয়েলারি, ব্যাগ, কয়েন বক্স ও শো-পিস কিনতে পারেন। আর কাশ্মীরে গেলে পাবেন নানা মশলারখোঁজ যা রন্ধন প্রেমীদের নিঃসন্দেহে কাজে লাগবে।

কাশ্মীর ভ্রমণ টিপস
ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ১-২মাস আগে বিমানের টিকেট কাটলে খরচ কম পড়বে।
শীতকালে কাশ্মীর যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই শীতের প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে।
কাশ্মীরে ট্রিপে একটু সময় নিয়ে যাওয়া ভালো। সেই ক্ষেত্রে ৫-৬ দিনের সময় নিয়ে গেলে কাশ্মীর ট্রিপটা সার্থক হবে।
কাশ্মীরের টুরিস্ট স্পট গুলোতে ভ্রমণের মজা বাড়ানোর নানা কথা বলে ওপ্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় বেশ কিছু চাটুকার লোকজন। তাই নিজে ভালো ভাবে আগে যাচাই করে টাকা খরচ করবেন।
একটা ভালো বুদ্ধি হলো সীমান্ত পার হয়ে কলকাতা গিয়ে তারপর কাশ্মীর যাওয়া, তাতে কলকাতাও দেখা হবে ও খরচও কম হবে। আবার সাথে ফেরার পথে চাইলে লাদাখ ও ঘুরে আসতে পারেন।
অনলাইনে টাকা ও রুপির রেট জেনে টাকা রুপিতে এক্সচেঞ্জ করে নিবেন আগেই।
যেকোনো জিনিস কেনার আগে দামাদামি করবেন কারন কাশ্মীরে সবকিছুর দাম বাইরের পর্যটকদের কাছে একটু বেশি চাওয়া হয়।
কাশ্মীরের খাবারে মশলা বেশি থাকে তাই একটু বুঝে শুনে খাবেন।
এখানে সাধারনত রাত ৮ টার পর সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
কাশ্মীর ভ্রমণের আগে ট্র্যাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা সোনালি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।

টাঙ্গুয়ার হাওর
27/07/2019

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor) সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। অথৈ পানি, জলাবন, নীল আকাশ, পাহাড় ও চোখ জুড়ানো সবুজ এই হাওরকে অপরুপ সাজে সাজিয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের মোট আয়তন ৬৯১২ একর। তবে বর্ষাকালে এই হাওরের আয়তন বেড়ে প্রায় ২০,০০০ একর পর্যন্ত হয়ে থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২ প্রজাতির ব্যাঙ এবং ১৫০ প্রজাতির বেশি সরীসৃপের সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে। শীতকালে এই হাওরে প্রায় ২৫০ প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ ঘটে।

টাঙ্গুয়ার হাওড় থেকে ভারতের মেঘালয়ের পাহারগুলো দেখা যায়। মেঘালয় থেকে প্রায় ৩০টি ছোট বড় ঝর্ণা বা ছড়া টাঙ্গুয়ার হাওরে এসে মিশেছে। এই হাওরে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, এর আশেপাশের পানি খুবই স্বচ্ছ হওয়ায় উপর থেকে হাওরের তলা দেখা যায়। টাঙ্গুয়ার হাওরে ছোট বড় প্রায় ৪৬ টি দ্বীপের মত ভাসমান গ্রাম বা দ্বীপ গ্রাম আছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে Ecologically Critical Area (ECA) হিসেবে ঘোষণা করে। আর ২০০০ সালে টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট (Ramsar site) এর তালিকায় স্থান করে নেয়।

টাঙ্গুয়ার হাওর কখন যাবেন এবং আরো যা দেখবেন
বর্ষাকাল টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বছরের অন্য সময় সাধারণত এর পানি অনেক কম থাকে। তবে পাখি দেখতে চাইলে শীতকালেই যেতে হবে আপনাকে। টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সাথে আরো যা দেখতে পারেন ছোট-ছোট সোয়াম্প ফরেস্ট, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রি লেক), বারিক টিলা, যাদুকাটা নদী, লাউড়ের গড়, অপরূপ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

টাঙ্গুয়ার হাওর কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ : প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহণের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় এনা পরিবহণের বাস। এসব বাসে এন-এসিতে জনপ্রতি টিকেট কাটতে ৫৫০ টাকা লাগে আর সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় লাগে।

সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ : সিলেটের কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জ যাবার লোকাল ও সিটিং বাস আছে। সিটিং বাস ভাড়া ১০০ টাকা, সুনামগঞ্জ যেতে দুই ঘন্টার মত সময় লাগবে। অথবা শাহজালাল মাজারের সামনে থেকে সুনামগঞ্জ যাবার লাইট গাড়ি তে ২০০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ থেকে টাংগুয়া : সুনামগঞ্জ নেমে সুরমা নদীর উপর নির্মিত বড় ব্রীজের কাছে লেগুনা/সিএনজি/বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুরে নৌকা ঘাট থেকে সাইজ এবং সামর্থ অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করে বেড়িয়ে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে। তবে শীতকালে পানি কমে যায় বলে আপনাকে লেগুনা/সিএনজি/বাইক যোগে যেতে হবে সোলেমানপুর। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে নিতে পারবেন। আর শীতকালে গেলে আপনি অতিথি পাখির দেখা পাবেন।

কোথায় থাকবেন
টাঙ্গুয়ার হাওরে থাকার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তবে যদি নৌকায় রাত কাটাতে চান তবে নিরাপত্তার জন্যে পাড়ের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। আর ঘর ভাড়া করতে চাইলে টেকেরঘাট এলাকায় হাওর বিলাশ নামে কাঠের বাড়িতে সল্প মূল্যে রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবেন। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌকায় এক রাত থাকার অভিজ্ঞতা নিলে অবশ্যই ভাল লাগবে।

নৌকা ভাড়া
নৌকা ভাড়া করতে কিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখুন যেমন নৌকায় বাথরুম আছে কিনা, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে মোবাইল চার্জ দেওয়া, লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা ব্যবস্থা আছে কিনা। নৌকা ভাড়া করতে দরদাম করে নিন। নৌকা ভাড়া মূলত ৩টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নৌকায় ধারণ ক্ষমতা, নৌকার সুযোগ সুবিধা এবং সিজনের উপর। সাধারণত ছোট নৌকা ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, মাঝারি নৌকা ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা এবং বড় নৌকা ৩৫০০ থেকে ৬০০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ভাড়া করা যায়। ১ রাত নৌকায় কাটাতে চাইলে ছোট নৌকা ৩৫০০-৫০০০ টাকা এবং বড় নৌকা ভাড়া করতে ৭০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মত লাগবে। নৌকায় সোলার প্যানেল ও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা না থাকলে তাহিরপুর বাজার থেকে আইপিএস ও লাইফ জ্যাকেট ভাড়া নিতে পারবেন। রান্নার জন্য নৌকার মাঝিকে খরচের টাকা দিলে সে বাবুর্চি নিয়ে যাবে কিংবা নিজেই রান্নার ব্যবস্থা করে ফেলবে। কি করবেন তা অবশ্যই মাঝির সাথে আগে আলোচনা করে দরদাম ঠিক করে নিবেন।

খাবার ব্যবস্থা
দিনে দিনে ঘুরে চলে আসলে তাহিরপুরে খাবার হোটেল থেকে রওনা হবার আগে সকালের ও ফিরে আসার পর দুপুরের খাবার হাওরের প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছের মধ্যে নিজের পছন্দের মাছ দিয়ে আহার পর্ব সেরে ফেলতে পারেন। আর যদি টাঙ্গুয়ায় রাতে থাকার পরিকল্পনা থাকে এবং নিজেরা রান্না করে খাওয়ার ইচ্ছে থাকে তবে তাহিরপুর থেকে নৌকায় উঠার আগে যে কয়দিন অবস্থান করবেন সেই কয়দিনের বাজার করে নিতে পারেন। আর তাজা মাছ কেনার জন্য হাওরের মাঝখানের ছোট বাজারগুলোতে যেতে পারেন। এছাড়া সাথে নিতে পারেন দেশি হাঁস কিংবা দারুণ সব শুঁটকি। আবার নিজেরা রান্না করার ঝামেলা এড়াতে চাইলে টেকেরঘাট রাত্রি যাপন করলে সেখানে টেকেরঘাট বাজার থেকে রাতের খাবার খেয়ে নিতে পারবেন।

টাঙ্গুয়ার হাওরে ২ দিন ১ রাতের ট্যুর প্ল্যান
সুবিধামত যেকোন দিন রাতের বাসে করে সুনামগঞ্জ গেলে সকাল ৭ টার মধ্যে সেখানে পৌছে যাবেন। সুনামগঞ্জে নাস্তা সেরে সিএনজি ভাড়া করে তাহিরপুর যেতে ১ ঘন্টার মত সময় লাগবে। ঘাট থেকে নৌকা ঠিক করে নৌকায় ওঠার আগে ২ দিন ১ রাতের জন্য মাছ ছাড়া অন্য প্রয়োজনীয় বাজার করে নিন। সকাল ৯ থেকে ১০ টার মধ্যে নৌকায় যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করুন। সোজা নৌকা নিয়ে চলে আসুন ওয়াচ টাওয়ার এলাকায়।

এদিকে জলাবনের সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি ছোট ছোট নৌকা নিয়ে ছোট বাচ্চাদের ঘুরতে দেখবেন। চাইলে ওয়াচ টাওয়ারে রান্নার কাজ করে ফেলতে পারেন। ওয়াচ টাওয়ার দেখা শেষে চলে যেতে পারেন হাওরের মাঝখানে। দিগন্তজোড়া জলরাশি দেখে দুপুরের পর পরই টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন। এই দিকে নৌকা যতই এগুতে থাকবে ততই পানি স্বচ্ছ হতে হতে এক সময় হাওরের তলা পর্যন্ত দেখতে পারবেন।

হাওরে গোসল না করে থাকলে টেকেরঘাটের নীলাদ্রি লেকে এসে গা ভেজাতে পারেন। আর এখানেই হাওরে নৌকা বেধে নৌকার মধ্যে রাত কাটিয়ে দিতে পারেন। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যাদুকাটা নদী ও বারিক্কাটিলা দেখতে রওনা দিন। টেকেরঘাট থেকে মটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারবেন। নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় তবে একটু দূর হওয়ায় মাঝি আপত্তি করতে পারে অথবা আরো ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকা অতিরিক্ত চাইতে পারে তাই সবচেয়ে ভালো হয় তাহিরপুর ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করার সময় মাঝিকে যাদুকাটা নিয়ে যাবার কথা বলে নৌকা ঠিক করা।

যাদুকাটা নদী ও বারিক্কাটিলা দেখে দুপুরের মধ্যে টেকেরঘাট ফিরে আরেকটু সময় হাওর ঘুরে সন্ধ্যার আগেই তাহিরপুর চলে আসুন। সেখান থেকে সিএনজি ভাড়া করে অথবা লোকাল লেগুনাতে সরাসরি সুনামগঞ্জ চলে আসতে পারেন। সুনামগঞ্জ ট্যুর প্ল্যান নিয়ে বিস্তারিত পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।

ভ্রমণ খরচ
এক নজরে ১০ জনের একটি দলের ২ দিন ১ রাতের খরচের একটু ধারণা নেয়া যাক। ঢাকা থেকে আসা যাওয়ার বাস ভাড়া জনপ্রতি ১১০০ টাকা। ২ দিন ১ রাতের জন্য নৌকা ভাড়া ৫০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা। দুই দিন নাস্তার জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা। প্রতিবেলা ২০০ টাকা ধরে দুইদিনের জনপ্রতি ৪ মিল খাবার খরচ ৮০০ টাকা। তাহিরপুর যাওয়া ও আসার জনপ্রতি খরচ ২০০ টাকা। তাহিরপুর থেকে বাস স্টান্ডে আসার জনপ্রতি খরচ ২০ টাকা। অন্যান্য খরচ জনপ্রতি ২০০ টাকা।

টাংগুয়া ভ্রমণের সতর্কতা ও কিছু পরামর্শ
হাওর ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিন।
হাওরে রওনা হবার আগে তাহিরপুরে থানায় আপনার নিরাপত্তার জন্যে জিডি করে নিন।
যে কোন কিছুর জন্যে দামাদামি করে নিবেন।
একসাথে গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে। ৪-৫ জন বা ৮-১০ জনের গ্রুপ হলে ভালো।
হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করুন।
খাবারের অতিরিক্ত অংশ/উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট ইত্যাদি হাওরের পানিতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করুন।
রাতের বেলা অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো উৎপন্ন করবেন না।
টাংগুয়ার মাছ, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি ধরা বা এদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরিত থাকুন।
টাংগুয়ার জলাবনের কোন রুপ ক্ষতিসাধন না করার ব্যপারে সতর্ক থাকুন।
ভ্রমণে সাথে নিন
টর্চ ব্যাকআপ ব্যাটারিসহ, পাওয়ার ব্যাংক, ক্যাম্পিং মগ, চাদর, রেইনকোর্ট বা ছাতা, নিয়মতি সেবনীয় ওষুধ, টয়লেট পেপার, ব্যাগ ঢেকে ফেলার মতো বড় পলিথিন, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল (চামড়ার স্যান্ডেল পরিহার করা ভাল হবে), সানগ্লাস, ক্যাপ বা হ্যাট, গামছা (যা সহজে শুকাবে), খাবার পানি, হাফ প্যান্ট এবং সহজে শুকায় এমন জামাকাপড়।

Address

House-51, Road-12, Sector/11
Dhaka
1230

Telephone

+8801783799799

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Uttara Tourist Club posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category