02/06/2026
দুনিয়ার বুকে সামাজিক পরিসরে মুসলিম মিল্লাতের সেরা অর্জন কী?
প্রশ্নটির উত্তরে নিবিষ্ট মনে ক্ষণিক ভাবলে আপনিও নিশ্চয় একমত হবেন, মুসলিম মিল্লাতের অন্যতম সেরা অর্জন হলো-শক্তিশালী পারিবারিক কাঠামো নির্মাণ।
মানবদেহের জন্য যেমন খাবার অপরিহার্য, তেমনি মানবসমাজের জন্য অপরিহার্য পরিবার। বিশ্ববাসীর সামনে আমরা এক অনাবিল প্রশান্তির আধার-শক্ত পরিবারব্যবস্থাকে তুলে ধরতে পেরেছি। ইসলামের মহান আলোর মিছিল আজ তামাম দুনিয়াতে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তার পেছনের প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে এই শক্তিশালী পারিবারিকব্যবস্থা। কারণ, যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রথম পাঠ পরিবার থেকেই শুরু হয়।
প্রশান্ত পরিবার ব্যাতীত প্রশান্ত হৃদয় কখনো তৈরি হতে পারে না। আর প্রশান্ত হৃদয় ছাড়া প্রশান্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন কী করে সম্ভব? সুস্থ পরিবারের উদর থেকেই তো জন্য নেয় সুস্থ সমাজ। অন্যদিকে পারিবারিক জীবনের অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বৃহত্তর মানবজীবনে ছড়িয়ে দেয় অকল্যাণের বিষবাষ্প, যা দ্বারা সংক্রমিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গন।
ইট-পাথর-প্রযুক্তির মতো দৃশ্যমান উন্নয়নে ভরপুর দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন-কী নেই তাদের! আকাশ ছোঁয়া বিল্ডিং, চোখ ধাঁধানো অবকাঠামো, প্রযুক্তির বিস্ময়কর আবিষ্কারসহ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সব উপাদানই আছে তাদের। কিন্তু কখনো কি তাদের ভেতরটা একবার পড়ে দেখেছেন? নিজের অট্টালিকা ফেলে কেন তারা মদের বারে রাতের পর রাত কাটিয়ে দেয়? কেন সেখানকার সন্তানদের খুঁজতে হয় জন্মদাতা পিতার পরিচয়? কেন সন্তানকে বাবার স্নেহের পরশ খুঁজতে যেতে হয় এক বাড়িতে, আবার মাকে দেখাতে যেতে হয় আরেক বাড়িতে? এত আলিশান অট্টালিকা থাকতেও বৃদ্ধ মানুষগুলোর জন্য সেখানে যেন কোনো আশ্রয়ই নেই। জীবনের পড়ন্তবেলায় যখন স্বজনদের সহচার্য খুবই প্রয়োজন, তখন তাদের আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট একটি বেডে। সেখানে খাবারের কোনো অভাব নেই, কিন্তু খাওয়ার লোকের বড্ড অভাব। কেন তাদের এমন ছন্নছাড়া জীবন? উত্তর স্পষ্ট। এই চাকচিক্যময় কৃত্রিম উন্নত সভ্যতা তাদের একটি প্রশান্তচিত্ত হৃদয় উপহার দিতে পারেনি।
উন্নত পারিবারিক কাঠামোর কল্যাণে মুসলিম সমাজ এই বিভীষিকাময় জীবন থেকে মুক্ত ছিল। 'মুক্ত ছিল' বলে অতীতকাল উল্লেখ করতে হচ্ছে অনেক বেদনার সাথে। একুশ শতকের এই সময়ে এসে মুসলিম পারিবারিক জীবনধারাতেও পচন ধরেছে। গৌরবের অর্জন আজ ধ্বংসপ্রায়। আধুনিকতা আর প্রগতির নাম দিয়ে মুসলিম চেতনা, বোধ ও বিশ্বাসের দেয়ালগুলো ভেঙে ফেলার আয়োজন করা হচ্ছে। আমাদের শক্তিশালী পারিবারিকব্যবস্থার দেয়ালের ইটগুলো যেন একটা একটা করে খসে পড়ছে। আমরা আজ সোনা ছেড়ে তামার চাকচিক্য নিয়ে মত্ত।
যদি প্রশ্ন করি-গত দুশো বছরের মধ্যে মুসলিমরা কোন জিনিসটি হারিয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? আপনার সচেতন বোধ থেকে উত্তর আসবে-পরিবার। অনেক গৌরবের মুসলিম পারিবারিক বোধ ও অনুশীলন হারিয়ে আজ আমরা ধুকে বুকে মরছি। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যেটুকু বাকি আছে, তা ধ্বংস হলে মুসলমানদের সর্বনাশের আর কিছু বাকি থাকবে না।
আমরা যখনই বিপদের মুখোমুখি হই, তখনই ফিরে যাই নবিজির সিরাতের কাছে। আমরা হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে ফিরি উসওয়াতুন হাসানা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবন থেকে। একজন বিপ্লবী তাঁর বিশাল কর্মযজ্ঞের ভিড়েও কী করে এক অনাবিল প্রশান্তির পারিবারিক জীবন গঠন করেছিলেন, আজকের এই সময়ে সে পাঠ খুবই জরুরি। আমরা নবিজির জীবন থেকে শিখব, কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পারিবারিক জীবন পরিগঠন করতে হয়।
মুসলিম জাহানের পরিবারগুলো জান্নাতের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠুক।
বই - নবী ও নবী পরিবার