SGL Islamic Tours and Travels

SGL Islamic Tours and Travels Hajj is a sacred pilgrimage and the fifth pillar of Islam.
(1)

তায়েফ  ইতিহাস, দর্শনীয় স্থানসমূহ পবিত্র মক্কা ও মদিনা জিয়ারতের পাশাপাশি যারা ইসলামের ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে চা...
17/08/2026

তায়েফ ইতিহাস, দর্শনীয় স্থানসমূহ

পবিত্র মক্কা ও মদিনা জিয়ারতের পাশাপাশি যারা ইসলামের ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে চান, তাদের জন্য তায়েফ জিয়ারত এক অনন্য সুযোগ। এই শহরের প্রতিটি প্রান্তে রয়েছে রাসুল (সা.)–এর দাওয়াতি জীবনের কষ্ট, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসের স্মৃতি। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে সেই ঘটনাগুলো স্মরণ করলে ইমান ও উপলব্ধি দুটোই আরও দৃঢ় হয়।

এই ব্লগে তায়েফ জিয়ারতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গুরুত্বপূর্ণ জিয়ারতস্থান, করণীয় দোয়া-আমল এবং ভ্রমণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে—যাতে জিয়ারতের আগে আপনার ধারণা পরিষ্কার হয় এবং সফরটি হয় অর্থবহ ও হৃদয়ছোঁয়া।

তায়েফের পরিচয় ও অবস্থান

তায়েফ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে, মক্কা মুকাররমা থেকে প্রায় ৮৫–৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পাহাড়ঘেরা শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া মক্কা ও জেদ্দার তুলনায় বেশ শীতল ও আরামদায়ক। এই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই তায়েফকে অনেক সময় সৌদি আরবের “গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্র” বলা হয়।

প্রাকৃতিক পরিবেশ, উঁচু পাহাড় এবং ফলের বাগানে ঘেরা তায়েফ দীর্ঘদিন ধরে আরব অঞ্চলের মানুষের বিশ্রাম ও বসবাসের জন্য পছন্দের স্থান। পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই শহরটি জিয়ারতকারীদের কাছেও বিশেষ মর্যাদা বহন করে।

ইসলামের ইতিহাসে তায়েফের গুরুত্ব

ইসলামের ইতিহাসে তায়েফ এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ নাম। এখানেই রাসূল সা. দাওয়াতি কাজের জন্য এসে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন। অপমান, নির্যাতন ও প্রত্যাখ্যানের মাঝেও তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে ধৈর্যের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সেই মুহূর্তে তাঁর করা দোয়াটি মুসলমানদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস। তায়েফ আমাদের শেখায়—কঠিন সময়েও হতাশ না হয়ে ক্ষমা, সহনশীলতা ও আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা কীভাবে একজন মুমিনের চরিত্র গড়ে তোলে।

তায়েফ জিয়ারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ

তায়েফ জিয়ারত মানেই শুধু একটি শহর দেখা নয়, বরং ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় কিছু স্থান কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ। এই শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নবীজি (সা.)–এর জীবনের ঘটনা, দাওয়াতি সংগ্রাম ও ধৈর্যের শিক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তায়েফ জিয়ারতের সময় এসব স্থান জানা ও বোঝা সফরকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

১. মসজিদে আদ্দাস

মসজিদে আদ্দাস তায়েফ জিয়ারতের অন্যতম আবেগঘন স্থান। এই স্থানেই খ্রিস্টান ক্রীতদাস আদ্দাস মহানবী (সা.)–কে আঙুর খাওয়ান এবং তাঁর কথায় প্রভাবিত হয়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। নবীজি (সা.)–এর পরিচয় ও নবুয়তের কথা শুনে আদ্দাসের হৃদয়ে যে আলো জ্বলে ওঠে, তা ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। এই মসজিদে এসে অনেক জিয়ারতকারী নীরবে দাঁড়িয়ে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করেন এবং আল্লাহর হেদায়াতের জন্য দোয়া করেন।

২. মসজিদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস

এই মসজিদটি সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)–এর নামে প্রতিষ্ঠিত। এটি তায়েফের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ মসজিদ। জিয়ারতকারীরা এখানে নামাজ আদায় করেন, কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং অন্তরের প্রশান্তির জন্য দোয়া করেন। মসজিদটির পরিবেশ শান্ত ও ভাবগম্ভীর, যা ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।

৩. ফলের বাজার ও গোলাপ বাগান

তায়েফ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ফলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় বাজারে আঙুর, ডালিম, পিচসহ নানা ধরনের তাজা মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি তায়েফ গোলাপ বিশ্বজুড়ে সুগন্ধির জন্য বিখ্যাত। গোলাপ বাগানগুলো তায়েফের একটি আলাদা পরিচয় বহন করে এবং এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক অনুগ্রহের কথা মনে করিয়ে দেয়।

রাসুল (সা.)–এর তায়েফ সফরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মক্কার কাফিররা যখন ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করেনি, তখন নবীজি (সা.) তায়েফে গমন করেন। কিন্তু সেখানকার নেতারাও তাঁর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। বরং তাঁকে অপমান করা হয় এবং শিশুদের দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করানো হয়।

শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্টের মাঝেও তিনি আল্লাহর দরবারে অভিযোগ নয়, বরং দোয়া করেন—যেন এই জাতি হেদায়াত পায়। তাঁর এই ক্ষমাশীলতা ও ধৈর্যের শিক্ষা আজও মুসলমানদের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে এবং বিপদে ধৈর্য ধারণের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

তায়েফ জিয়ারতের সময় করণীয় দোয়া ও আমল

তায়েফ জিয়ারতে গিয়ে রাসুল (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শনের সময় মন থেকে দরুদ পাঠ করা, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর কাছে হেদায়াত ও রহমত কামনা করা উত্তম আমল। এই সফরে ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা ও ঈমানের দৃঢ়তার শিক্ষা স্মরণ করে দোয়া করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।

তায়েফ জিয়ারতে যাওয়ার প্রস্তুতি

তায়েফ জিয়ারতে যাওয়ার আগে কিছু প্রয়োজনীয় বাহ্যিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আরামদায়ক পোশাক ও জুতা নির্বাচন করা উচিত, কারণ জিয়ারতের সময় হাঁটাচলা বেশি হতে পারে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি, হালকা খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র রাখা ভালো। আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে ছাতা বা ক্যাপ রাখা উপকারী। এসব প্রস্তুতি সফরকে সহজ, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলে।

হালকা গরম কাপড় সঙ্গে রাখা

আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা

পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা

সময় নিয়ে ধীরে ধীরে জিয়ারত সম্পন্ন করা

কেন তায়েফ জিয়ারত গুরুত্বপূর্ণ?

তায়েফ জিয়ারত মানে শুধু একটি শহর দেখা নয়। এটি নবীজি (সা.)–এর জীবনের বাস্তব শিক্ষা অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ। এই পবিত্র ভূমিতে এসে তাঁর ত্যাগ, ধৈর্য ও মহান চরিত্রের স্মৃতি হৃদয়ে নতুন করে জাগ্রত হয়।

এখানে এসে একজন মুসলমান ক্ষমাশীলতা, বিপদে আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা এবং দাওয়াহর পথে অবিচল থাকার গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে পারে। এসব অনুভূতি ঈমানকে আরও দৃঢ় করে এবং আত্মাকে প্রশান্ত করে তোলে।

👨‍👩‍👧‍👦 পরিবারের সঙ্গে পবিত্র হজের স্বপ্ন দেখছেন? 🕋আপনার এবং পরিবারের পবিত্র সফরকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রয়োজ...
17/08/2026

👨‍👩‍👧‍👦 পরিবারের সঙ্গে পবিত্র হজের স্বপ্ন দেখছেন? 🕋

আপনার এবং পরিবারের পবিত্র সফরকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রয়োজনীয় সেবা এক জায়গায়।

✈️ ফ্লাইট
🏨 হোটেল
🚗 পরিবহন
📄 ভিসা প্রসেসিং
🕌 জিয়ারাত

প্যাকেজ নির্বাচন থেকে যাত্রার প্রস্তুতি—প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থাপনায় থাকছে আমাদের সহযোগিতা।

আজই আপনার কাঙ্ক্ষিত হজ প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

📞 +8801334943180
🌐 www.sglislamictours.com

🕋 হজের প্রস্তুতি হোক পরিকল্পিত, সফর হোক স্বাচ্ছন্দ্যময়।পবিত্র হজ পালনের জন্য সঠিক প্যাকেজ ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সেবা বেছে ন...
14/08/2026

🕋 হজের প্রস্তুতি হোক পরিকল্পিত, সফর হোক স্বাচ্ছন্দ্যময়।

পবিত্র হজ পালনের জন্য সঠিক প্যাকেজ ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সেবা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। SGL Islamic Tours আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী হজ প্যাকেজ ও সংশ্লিষ্ট সেবা সম্পর্কে পরামর্শ দিতে প্রস্তুত।

আমাদের সেবাসমূহ:

🛫 বিমান
🏨 হোটেল
🚗 পরিবহন
📄 ভিসা সহায়তা
🕌 জিয়ারাত

আজই যোগাযোগ করুন এবং আপনার হজযাত্রার পরিকল্পনা শুরু করুন।

📞 +8801334943180
🏢 হাউস-৪২, আজাদ ভবন (৪র্থ তলা), সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা
🌐 www.sglislamictours.com

SGL Islamic Tours — আপনার পবিত্র সফর, আমাদের যত্ন।

মসজিদুল হারামে প্রবেশের জন্য শতাধিক গেট রয়েছে, যার মধ্যে কিছু প্রধান ও ঐতিহাসিক গেট তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর...
13/08/2026

মসজিদুল হারামে প্রবেশের জন্য শতাধিক গেট রয়েছে, যার মধ্যে কিছু প্রধান ও ঐতিহাসিক গেট তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান গেটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাদশাহ আব্দুল আজিজ গেট (গেট-১),
বাবে সালাম, বাবে ফাতাহ (গেট-৪৫) এবং আধুনিক কিং আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ গেট (গেট-১০০),

যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও দীর্ঘতম গেট হিসেবে পরিচিত।

মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গেট:বাদশাহ আব্দুল আজিজ গেট (গেট-১): এটি হারাম শরীফের অন্যতম প্রধান এবং সুপরিচিত দক্ষিণমুখী প্রবেশদ্বার।

কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ গেট (গেট-১০০): এটি সবচেয়ে বড় ও নতুন গেট, যা আধুনিক সম্প্রসারণ এলাকার সাথে সংযুক্ত।

বাবে সালাম: কাবা শরীফ তাওয়াফ শুরু করার জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ গেট।

বাবে ফাতাহ (গেট-৪৫): ঐতিহাসিক গুরত্বপূর্ণ এই গেট দিয়ে নবী করীম (সা.) মক্কা বিজয়ের সময় প্রবেশ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

বাবে মালিক ফাহাদ (গেট-৭৯): এটিও আধুনিক অংশের প্রধান গেটগুলোর মধ্যে একটি।
জরুরি তথ্য:সালাত আদায়ের জন্য সাধারণত নামাজের ৪০-৪৫ মিনিট আগে প্রবেশ করা ভালো।
৭৯ নম্বর গেট দিয়ে সাধারণত ইহরাম পরিহিত যাত্রীরা প্রবেশ করেন।

মসজিদ আল হারামের গেটগুলোর নাম ইসলামের ইতিহাস, নবী-রাসূল এবং সৌদি শাসকদের নামে রাখা হয়েছে।

তাওয়াফ কী? এটা কিভাবে করতে হয়?তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা। এ তাওয়াফ করার নিয়মাবলী নীচে উল্লেখ করা হল...
11/08/2026

তাওয়াফ কী? এটা কিভাবে করতে হয়?

তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা। এ তাওয়াফ করার নিয়মাবলী নীচে উল্লেখ করা হলঃ

(১) তাওয়াফ শুরু করার পূর্বেই তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করে দেয়া। এরপর মনে মনে তাওয়াফের নিয়ত করা। নিয়ত না করলে তাওয়াফ শুদ্ধ হবে না। নিয়ম হল প্রথমে ‘হাজারে আসওয়াদ (কাল পাথরের) কাছে যাওয়া, ‘‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’’ বলে এ পাথরকে চুমু দিয়ে তাওয়াফ কার্য শুরু করা। কিন্তু রমাযান ও হজ্জের মৌসুমে প্রচন্ড ভীড় থাকে। বয়স্ক, বৃদ্ধ ও মহিলাদের জন্য পাথর চুম্বনের কাজটি প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের ভীড় দেখলে ধাক্কাধাক্কি করে নিজেকে ও অন্য হাজীকে কষ্ট না দিয়ে পাথর চুমু দেয়া ছাড়াই ‘‘হাজরে আসওয়াদ’’ থেকে তাওয়াফ শুরু করে দিবেন। কাবাঘরের ‘‘হাজরে আসওয়াদ’’ কোণ থেকে মসজিদে হারামের দেয়াল ঘেষে সবুজ বাতি দেয়া আছে। এ রেখা বরাবর থেকে তাওয়াফ শুরু করে আবার এখানে আসলে তাওয়াফের এক চক্র শেষ হবে। এভাবে ৭ চক্র পূর্ণ করতে হবে। ভীড়ের পরিমাণ যদি আরো বেশী দেখতে পান এবং গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফ করা কঠিন মনে করেন তাহলে দু’তলা বা ছাদের উপর দিয়েও তাওয়াফ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশী লাগলেও ভীড়ের চাপ থেকে রেহাই পাবেন। ছাদের উপর তাওয়াফ করলে দিনের প্রখর রৌদ্রতাপ ও প্রচন্ড গরমে না গিয়ে রাতের বেলায় করবেন। বেশী ভীড়ের মধ্যে ঢুকে মানুষকে কষ্ট দেবেন না। দিলে ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

(২) কাবাঘরকে বামপাশে রেখে তাওয়াফ করতে হয়। তাওয়াফের প্রথম চক্রে ‘‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’’ বলে নীচের দোয়াটি পড়তে পারলে ভাল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন। দোয়াটি হলঃ

اَللَّهُمَّ إِيْمَانًا بِكَ وَتَصْدِيْقًا بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مَحَمَّدٍ -صلى الله عليه وسلم-

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার প্রতি ঈমান এনে, তোমার কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তোমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণের জন্য তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করে এ তাওয়াফ কার্যটি করছি।

(৩) প্রথম তিন চক্রে পুরুষগণ ছোট ছোট পদক্ষেপে দৌড়ের ভঙ্গিতে সামান্য একটু দ্রুত গতিতে চলতে চেষ্টা করবেন। আরবীতে এটাকে ‘রম্ল’ বলা হয়। বাকী চার চক্র সাধারণ হাঁটার গতিতে চলবেন। মক্কায় প্রবেশ করে প্রথম যে তাওয়াফটি করতে হয় শুধু এটাতেই প্রথম তিন চক্রের রম্লের এ বিধান। এরপর যতবার তাওয়াফ করবেন সেগুলোতে আর ‘‘রমল’’ করতে হবে না। মহিলাদের রমল করতে হয় না।

(৪) পুরুষেরা ইহরামের গায়ের কাপড়টির একমাথা ডান বগলের নীচ দিয়ে এমনভাবে পেঁচিয়ে দেবেন যাতে ডান কাঁধ, বাহু ও হাত খোলা থাকে। কাপড়ের বাকী অংশ ও উভয় মাথা দিয়ে বাম কাঁধ ও বাহু ঢেকে ফেলবেন। এ নিয়মটাকে আরবীতেও اضطباع (ইয্তিবা) বলা হয়। এটা শুধুমাত্র প্রথম তাওয়াফে করতে হয়। পরবর্তী তাওয়াফগুলোতে এ নিয়ম নেই, অর্থাৎ ডান কাঁধ ও বাহু খোলা রাখতে হয় না।

(৫) কাবাঘরের চারটি কোণের মধ্যে একটি কোণের নাম হল ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’। হাজরে আসওয়াদ-এর কোণটিকে প্রথম কোণ ধরে তাওয়াফ শুরু করে আসলে ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’ হবে চতুর্থ কোণ। এ ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’র পাশে এসে পৌঁছলে ভীড় না হলে এ কোণকে ডান হাত দিয়ে ছুইতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু সাবধান, এ রুকনে ইয়ামেনীকে চুমু দেবেন না, এর পাশে এসে হাত উঠিয়ে ইশারাও করবেন না এবং সেখানে ‘আল্লাহু আকবার’ও বলবেন না। ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন হাজরে আসওয়াদে পৌঁছে। তাওয়াফ শুরু করবেন ‘‘হাজরে আওয়াদ’’ থেকে এবং শেষও করবেন সেখানে গিয়েই।

(৬) রুকনে ইয়ামেনী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নিম্নের এ দোয়াটি পড়া মুস্তাহাবঃ

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থঃ হে আমাদের রব! আমাদেরকে তুমি দুনিয়ায় সুখ দাও, আখেরাতেও আমাদেরকে সুখী কর এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও।[1]

(৭) তাওয়াফের প্রত্যেক চক্রেই হাজরে আসওয়াদ ছুঁয়া ও চুমু দেয়া উত্তম। কিন্তু প্রচন্ড ভীড়ের কারণে এটি খুবই দূরূহ কাজ। সেক্ষেত্রে প্রতি চক্রেই হাজ্রে আসওয়াদের পাশে এসে এর দিকে মুখ করে ডান হাত উঠিয়ে ইশারা করবেন। ইশারাকৃত এ হাত চুম্বন করবেন না। ইশারা করার সময় একবার বলবেন بسم الله الله أكبر ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’।

(৮) তাওয়াফরত অবস্থায় খুব বেশী বেশী যিক্র, দোয়া ও তাওবা করতে থাকবেন। কুরআন তিলাওয়াতও করা যায়। কিছু কিছু বইতে আছে প্রথম চক্রের দোয়া, ২য় চক্রের দোয়া ইত্যাদি। কুরআন হাদীসে এ ধরনের চক্রভিত্তিক দোয়ার কোন ভিত্তি নেই। যত পারেন একের পর এক দোয়া আপনি করতে থাকবেন। এ বইয়ের ২১ ও ২২ নং অধ্যায়ে কিছু দোয়া দেয়া আছে। এ দোয়াগুলো করতে পারেন। তাছাড়া আপনার নিজ ভাষায় আপনার মনের কথাগুলো আল্লাহর কাছে বলতে থাকবেন, মিনতি সহকারে চাইতে থাকবেন। দলবেঁধে সমস্বরে জোরে জোরে দোয়া করে অন্যদের দোয়ার মনোযোগ নষ্ট করবেন না। আরবীতে দোয়া করলে এগুলোর অর্থ জেনে নেয়ার চেষ্টা করবেন যাতে আল্লাহর সাথে আপনি কি বলছেন তা যেন হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন।

(৯) তাওয়াফের ৭ চক্র শেষ হলে দু’কাঁধ এবং বাহু ইহরামের কাপড় দিয়ে আবার ঢেকে ফেলবেন এবং ‘‘মাকামে ইব্রাহীমের’’ কাছে গিয়ে পড়বেনঃ

وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً

অর্থঃ ইব্রাহীম (পয়গাম্বর)-এর দন্ডায়মানস্থলকে সালাত আদায়ের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।[2]

অতঃপর তাওয়াফ শেষে এ মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে এসে দু’রাকআত সালাত আদায় করবেন। ভীড়ের কারণে এখানে জায়গা না পেলে মসজিদে হারামের যে কোন অংশে এ সালাত আদায় করা জায়েয আছে। মানুষকে কষ্ট দেবেন না, যে পথে মুসল্লীরা চলাফেরা করে সেখানে সালাতে দাঁড়াবেন না। সুন্নত হলো এ সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর প্রথম রাকআতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পড়া।

(১০) এরপর যমযমের পানি পান করতে যাওয়া মুস্তাহাব। পান শেষে যমযমের কিছু পানি মাথার উপর ঢেলে দেয়া সুন্নাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন। (আহমাদ)

(১১) মুস্তাহাব হলো পুনরায় হাজ্রে আসওয়াদের কাছে গিয়ে এটা স্পর্শ করা ও চুম্বন করা। সম্ভব হলে এটা করবেন। আর ভীড় বেশী থাকলে এ কাজটা করতে যাবেন না।

(১২) বেগানা পুরুষের সামনে মহিলারা হাজারে আসওয়াদ চুম্বনের সময় মুখ খোলা রাখবেন না। কাবার গা ঘেঁষে পুরুষদের মধ্যে না ঢুকে মেয়েদের একটু দূর দিয়ে তাওয়াফ করা উত্তম।

(১৩) তাওয়াফ করার সময় যদি জামা‘আতের ইকামত দিয়ে দেয় তখন সঙ্গে সঙ্গে তাওয়াফ বন্ধ করে দিয়ে নামাযের জামা‘আতে শরীক হবেন এবং ডান কাঁধ ও বাহু চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলবেন। নামায রত অবস্থায় কাঁধ ও বাহু খোলা রাখা জায়েয না। সালাত শেষে তাওয়াফের বাকী অংশ পূর্ণ করবেন।

[1] (সূরা বাকারা ২০১)
[2](বাকারাঃ ১২৫

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক মদিনায় মসজিদে নববীর অভ্যন্তরে হযরত আয়েশা (রা.)-এর নিজস্ব আবাসের (হুজরা) ভেতর...
11/08/2026

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক মদিনায় মসজিদে নববীর অভ্যন্তরে হযরত আয়েশা (রা.)-এর নিজস্ব আবাসের (হুজরা) ভেতর অবস্থিত।

এই পবিত্র কাঠামোর চারপাশ কোনো দরজা বা জানালা ছাড়াই একাধিক সুরক্ষিত ও মজবুত প্রাচীর এবং বিশেষ জালি দিয়ে সম্পূর্ণ আবদ্ধ রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণের পক্ষে ভেতরে প্রবেশ বা সরাসরি কবর স্পর্শ করার কোনো সুযোগ নেই।
এর ভেতরের কাঠামোর মূল কক্ষটি তৈরি হয়েছিল হযরত আয়েশা (রা.)-এর মাটির ইটের ঘর হিসেবে, যেখানে মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেন।পরবর্তীতে ৯১ হিজরিতে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (র.) এই হুজরার চারপাশে অনন্য নকশার শক্ত কালো ও ধূসর পাথরের শক্ত দেয়াল নির্মাণ করেন।
এই পাথরের দেয়ালটিতে কোনো দরজা বা জানালা রাখা হয়নি, যা ভেতরের মূল কবরগুলোকে বাইরের পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও সুরক্ষিত রাখে।
বাইরের আবরণ ও জালিপাথরের দেয়ালের বাইরে রয়েছে বিশেষ নকশা করা পিতল ও লোহার আকর্ষণীয় সবুজ রঙের জালি বা বেষ্টনী।এই জালিটির সামনে দর্শনার্থীদের জন্য তিনটি বিশেষ ছিদ্রপথ বা গোল গোল জালের অংশ রয়েছে।বাঁ পাশের সবচেয়ে বড় ছিদ্রটি সোজাসুজি মহানবী (সা.)-এর চেহারা মোবারকের মুখোমুখি, মাঝেরটি হযরত আবু বকর (রা.) এবং ডান দিকেরটি হযরত উমর (রা.)-এর কবরের অংশ নির্দেশ করে।
গম্বুজ ও ছাদপুরো রওজা মোবারকের ওপরের অংশটি বিখ্যাত সবুজ গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন মুসলিম শাসকের আমলে সম্প্রসারিত ও সুন্দর করা হয়েছে।ভেতরের পবিত্র কামরা ও বাইরের কাঠামোর মাঝখানে বায়ু চলাচল ও সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সুদৃঢ় ছাদ ও কাঠামোগত স্তর রয়েছে।

#ইসলামেরইতিহাস #পবিত্ররওজামোবারক #মদিনা

🕋 হজ হোক ইবাদতের, ব্যবস্থাপনা হোক নিশ্চিন্তের।পবিত্র মক্কা ও মদিনায় আপনার হজযাত্রাকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে SGL Isl...
11/08/2026

🕋 হজ হোক ইবাদতের, ব্যবস্থাপনা হোক নিশ্চিন্তের।

পবিত্র মক্কা ও মদিনায় আপনার হজযাত্রাকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে SGL Islamic Tours-এর সমন্বিত হজ সেবা।

আমাদের সেবায় থাকছে:

✈️ ফ্লাইট ব্যবস্থা
📄 ভিসা সহায়তা
🏨 হোটেল ব্যবস্থা
🚗 পরিবহন
🕌 জিয়ারাত সেবা

আপনার পবিত্র সফরের প্রতিটি ধাপে পাশে থাকতে আমরা প্রস্তুত।

📞 +8801334943180
📍 হাউস-৪২, আজাদ ভবন, ৪র্থ তলা, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা
🌐 www.sglislamictours.com

26/05/2026
“২৬ মে মাগরিবের পর থেকে ২৭ মে মাগরিব পর্যন্ত (৯ জিলহজ্জ/আরাফার দিন) আপনি নিজেকে ঘরে বন্দি করে ফেলেন। আরাফার দিন। দোয়া কব...
25/05/2026

“২৬ মে মাগরিবের পর থেকে ২৭ মে মাগরিব পর্যন্ত (৯ জিলহজ্জ/আরাফার দিন) আপনি নিজেকে ঘরে বন্দি করে ফেলেন। আরাফার দিন। দোয়া কবুলের দিন। ইচ্ছা মতো দোয়া করতে থাকেন। হালাল যা কিছু আছে সব চান আল্লাহর কাছে। জুতার ফিতাটা হইলেও চান। একটা কথা মনে রাখবেন, আল্লাহ ছাড়া এই দুনিয়াতে আপনার কেউ নাই। আপনার কেউ আছে ভাবতেছেন। কালকে হয়তো সে নাও থাকতে পারে। কাজেই দিল খুলে দোয়া করেন।

আরাফার দিনের দোয়া হচ্ছে সব থেকে বড় দোয়া। দোয়া কবুলের দিন। যার যা ইচ্ছা এই দিনে চেয়ে নেন। এমনো হতে পারে সামনের আরাফায় আপনি নাও থাকতে পারেন।

আর বেশি করে পড়বেন, আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।" (তিরমিযী)

এমন কোনো নবী রাসুল নাই যে এই দোয়াটা পড়ে নাই। এটা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ দোয়া। নিজের প্রয়োজনীয় কিছু চাওয়ার আগে মাস্ট এই দোয়া ২০-৩০ বার পড়ে নিয়েন। এর বেশি পড়লে আরো ভালো। যত পড়া যায় এই দোয়া।

বাসে থাকেন, রিক্সায় থাকেন যেখানে খুশি থাকেন ওয়াশরুম ব্যতীত, মনে মনে অই দোয়াটা পড়তে থাকবেন।

তাকবির (বেশি বেশি পড়বেন):
اَللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ
اَللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَللهِ الْحَمْدُ
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

সাধারণ দোয়া:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
“রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা ‘আযাবান্নার।”
— (সূরা বাকারা: ২০১)

আরাফার দিনের এই কয়েক ঘন্টা কাজে লাগালে আপনার লাইফ চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। আজ থেকে, এখন থেকেই দোয়া শুরু করে দেন...।
বিঃদ্রঃ ৯ জিলহজ্ব হিসেবে বাংলাদেশে আরাফার রোজা হবে বুধবার। তবে যেহেতু জিলহজের শুরুর দশক পুরোটাই ইবাদাতের তাই কেউ চাইলে বাংলাদেশ মঙ্গলবার /বুধবার দুই দিনই রেখে দিতে পারেন। ইখতিলাফ থেকেও বাঁচা গেল, রোজাও বেশি রাখা হলো।

Address

Uttara 11, Garib-e Newaz Avenue, Azad Bhaban, House 42, Sector 11, Uttara, Lift Press 4
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SGL Islamic Tours and Travels posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category