21/04/2026
আমি একজন মানুষ হয়ে
এই দৃশ্য কিভাবে সই?
ছেলের লাশ কোলে নিয়ে রাজধানী ঘুরছেন এক অসহায় বাবা...
চার বছরের ছোট্ট সাদমান, যে বয়সে শিশুরা খেলনা নিয়ে হাসে, মায়ের কোলে ঘুমায়, বাবার হাত ধরে হাঁটতে শেখে সেই শিশুটি নিথর হয়ে শুয়ে আছে বাবার কোলে। জীবনের শেষ যাত্রায় নেই কোনো সহানুভূতির হাত বাবা ছাড়া। এ শহরে কান্না কোন দাম নেই, আছে শুরু নির্লিপ্ততা।
অভিযোগ উঠেছে, মহাখালীর ডিএনসিসি হাম ডেডিকেটেড হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে বিনা চিকিৎসায় ঝরে গেছে সাদমানের জীবন।
মৃত্যুর পরও যেন শেষ হলো না এই নির্মমতা। নিজ সন্তানের ছোট্ট দেহটি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন বাবা, এই সামান্য মানবিক সহায়তাটুকুও মেলেনি। হাসপাতালে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও মেলেনি অনুমতি। নিয়মের দেয়াল মানবিকতার চেয়েও উঁচু হয়ে দাঁড়াল।
অবশেষে, কোনো উপায় না পেয়ে, বিছানার চাদরে জড়িয়ে নিজের সন্তানের নিথর দেহটিকে বুকে তুলে নিলেন বাবা। দুই হাতে আঁকড়ে ধরে, যেন এখনও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। সেই অবস্থায় তিনি ছুটলেন রাস্তায়, একটা সিএনজির খোঁজে।
রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তাগুলো তখনও স্বাভাবিক ছন্দে চলছে। কেউ জানে না, বা জানলেও থামে না, একজন বাবা তার সন্তানের লাশ বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই শহর, এই ব্যবস্থা, এই উদাসীনতা, সবকিছু যেন একসাথে মিলে আরও ভারী করে তুলেছে সেই ছোট্ট দেহটিকে।
একজন বাবা, তার সন্তানের নিথর দেহ বুকে নিয়ে অসহায়ের মত শহরে শহরে ঘুরছেন। কি পাষাণ এই শহরের মানুষগুলো। সাদমানকে কি কেউ তাঁর বাবার কোলে ফিরিয়ে দিতে পারবে? এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?
এ শহরে মানুষের চেয়ে অক্সিজেনের দাম বেশি, লাশের চেয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দাম। এ শহরে আসনে মানুষ ছাড়া সবকিছুর দামই চড়া। দাম নেই শুধু মানুষের।