10/06/2026
নেপাল, পাকিস্তান ও ভারত থেকে ইতোমধ্যেই কলিং ভিসায় কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে, নেপাল থেকেও অনেক কর্মী ৪–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। অথচ বাংলাদেশ এখনও মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা পুরোপুরি চালু করতে পারেনি। এর পেছনে সরকারের চিন্তা-ভাবনা কী, তা আমরা জানি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশ যত বেশি দেরি করবে, ততই ভালো কাজের চাহিদা কমে যাবে এবং সেই সুযোগগুলো অন্য দেশগুলো কাজে লাগিয়ে নেবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা অতীতেও বারবার দেখেছি যে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে বাংলাদেশ অনেক ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আজ যে কাজগুলো বাংলাদেশের কর্মীদের পাওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর বড় অংশই নেপাল, ভারত ও পাকিস্তানের কর্মীরা পাচ্ছেন।
আমাদের জাতিগতভাবে আরও দূরদর্শী, পরিকল্পনামাফিক এবং বাস্তবমুখী হওয়া দরকার। সময়ের মূল্য বুঝে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে উন্নয়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়। অনেক সময় মনে হয়, আমরা নিজেরাই নিজেদের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াই।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর আলোচনা, চেষ্টা ও নানা উদ্যোগের পরও যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না যায়, তাহলে সেটিকে সফলতা নয়, বরং ব্যর্থতাই বলতে হবে। কারণ প্রতিটি সুযোগেরই একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। সুযোগ যখন আসে, তখনই সেটিকে কাজে লাগাতে হয়। দীর্ঘ সময় নষ্ট করে পরে সেই একই সুযোগ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলে অনেক ক্ষেত্রেই আর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।
সময়মতো সিদ্ধান্ত, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই পারে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগগুলো দেশের মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে।