25/01/2025
পৃথিবীবাসীর জন্য অনুসরণীয় খোলাফায়ে রাশেদার যুগ,
খোলাফায়ে রাশেদার সোনালী দিন কেন যে ফিরে আসে না, সকলে পেয়ে তার অধিকার কেন যে প্রাণ খুলে হাসে না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে দুনিয়ার মানুষ আল্লাহর বিধান ও নবী-রসূলগণের আদর্শ ভুলে সর্বপ্রকারের জঘন্য অনাচার ও পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের আচার-আচরণ ছিল বর্বর ও মানবতা বিরোধী। এ কারণে এ যুগ আইয়্যামে জাহেলিয়া (অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ) হিসেবে পরিচিত। এ সময়ে মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আবরুর কোন নিরাপত্তা ছিল না। শান্তি-শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা বলতে কিছুই ছিল না। নরহত্যা, রাহাজানি, ডাকাতি, মারামারি, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া, জুয়াখেলা, মদ্যপান, সুদ, ব্যাভিচার ছিল তখনকার লোকদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। শত শত দেব-দেবীর মূর্তি নির্মাণ ও তার পূজা করা, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাই ছিল তাদের ধর্ম। এক কখায় পাপ-পঙ্কিলতার অতল তলে নিমজ্জিত ছিল তারা। মানবতার এ চরম দুর্দিনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর প্রিয়বন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, রহমাতুলিলল্ ‘আলামীন হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাঠালেন বিশ্বমানবতার শান্তির দূত হিসেবে। পথহারা আত্মভোলা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ নির্দেশ করার ফলশ্রুতিতে দশজন জান্নাতী চেহারা এ জমিনে হাদিয়া স্বরূপ প্রদান করেছিলেন। সর্বাঙ্গীণ জীবনে যাঁরা ছিল তাঁদের রবের ওপর রাজি- খুশি আর তাঁদের রবও তাঁদের প্রতি ছিল রাজি- খুশি। এদের মধ্যে প্রথম কাঁতারের চারজন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), হযরত ওমর ফারুক্ব (রা.), হযরত ওসমান গণি (রা.) ও হযরত আলি ইবনে আবুতালেব (রা.) ছিল হুজুরের একনিষ্ঠ খাদেম। দ্বীনকে বুলন্দ করতে তাঁদের ছিল সার্বিকভাবে সহযোগীতা। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝদান করেছিলেন। পরবর্তিতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর খেলাফত কালে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে একজন অসুস্থ তিনি ফজরের নামাযের পর মরুভূমির দিকে হাঁটাহাঁটি করতেন এবং কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থানের পর শহরে ফিরে আসতেন। ওমর (রা.) তাঁকে প্রতিদিন শহরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখে কৌতূহল বোধ করলেন। তাই একদিন ফজরের নামাযের পর এর যথোপযুক্ত কারণ অনুসন্ধান করতে হযরত আবু বকর (রা.)-এর অনুসরণ করলেন। অতঃপর আবুবকর (রা.) মরুভূমিতে হাঁটতে হাঁটতে একটি পুরাতন তাঁবুতে প্রবেশ করলে ওমর (রা.) একটি টিলার পেছনে লুকিয়ে থাকলেন সন্তর্পণে। বেশ কিছুক্ষণ পর আবুবকর (রা.) সেই তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে আবার শহরের পথ ধরলেন। এদিকে ওমর (রা.) টিলার আড়াল থেকে বের হয়ে উক্ত তাঁবুতে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি এমন একজন মহিলাকে দেখতে পেলেন, যিনি অন্ধ ও দুর্বল যার কয়েকটি শিশু সন্তান রয়েছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান, তোমার নিকটে কে আসে? মহিলা বলল, আমি তাকে চিনি না। তবে তিনি একজন মুসলিম। প্রতিদিন সকালে তিনি আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের গৃহ পরিস্কার করেন। তারপর রুটি তৈরির জন্য আটা পিষে এবং গৃহপালিত পশুগুলির দুগ্ধ দোহন করে চলে যান। একথা শুনে ওমর (রা.) বিস্ময়াভিভূতভাবে বেরিয়ে আসলেন এবং স্বগতোক্তি করলেন, ‘হে আবুবকর! পরবর্তী খলীফাদের ওপর তুমি কত কষ্টই না চাপিয়ে দিলে’! সিদ্দীকে আকবর বললেন, প্রিয় বন্ধু আখেরি নবী (স.)ই এই আদর্শ শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলামের বিপদ সঙ্কুল মুহূর্তে তাঁর দ্ব্যর্থহীন ভাষণে ও ঈমানী দৃঢ়তায় উজ্জীবিত হয়ে আনছার ও মুহাজির সাহাবিগণ তাঁরই নেতৃত্বে মিথ্যা নবী দাবিদার, যাকাতদানে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে সফল হন। ওমর ফারুক্ব (রা.), ওসমান গণি (রা.), আলী (রা.) সহ জালিলুল ক্বদর সাহাবীগণ রসূলুল্লাহ্ (স.) এর আদর্শের প্রতীক হিসেবে আমৃত্যু সচেষ্ট থেকেছেন। বর্তমানে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি স্তরে তাঁদের রেখে যাওয়া জীবন ব্যবস্থাকে আঁঁকড়ে ধরতে পারলেই যেন প্রকৃত পক্ষে রসূলে কারীম (স.) এর আনুসরণ সম্ভব হত। কিন্তু বর্তমানে আমরা তাঁদের আদর্শকে সেকেলে মনে করে আধুনিকতার ছোয়ায় নিজেদেরকে সভ্য সাঁজতে যেয়ে সে যুগের জাহেলি আরবকেও যেন হার মানিয়েছি।