13/12/2024
“সেন্টমার্টিন”
কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। ভৌগলিকভাবে এটি তিন অংশে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় নারিকেল জিঞ্জিরা বা উত্তর পাড়া। দক্ষিন অংশকে বলে দক্ষিন পাড়া। একটি সংকীর্ণ অঞ্চল এই দুই অংশকে যুক্ত করেছে যা মধ্য পাড়া নামে পরিচিত।
মূল দ্বীপ ছাড়াও কয়েকটি ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে যা ছেড়াদিয়া বা ছেড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে এর নাম ছেড়া দ্বীপ। মাছ সংগ্রহস্থল, বাজার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু উত্তর পাড়াতেই সীমাবদ্ধ।
যেদিকে চোখ যায় শুধু নীল আর নীল, আকাশ আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার। চোখ জুড়ানো এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের অনন্যসুন্দর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন যার আরেকটি নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।
অগভীর দীর্ঘ সমুদ্রতট, সামুদ্রিক প্রবাল, সাগরের ঢেউয়ের ছন্দ, প্রচুর দক্ষিণা হাওয়া, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি, সাগর তীরে বাঁধা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এসবই সেন্টমার্টিন দ্বীপের মহাত্ম যা ছোট্ট এই দ্বীপটিকে করেছে অনন্যসুন্দর। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা নানা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য একটি অনুপম অবকাশ কেন্দ্র। এর স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল দেখতে পাওয়া যায় যা এই দ্বীপের অন্যতম আকর্ষন।
এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ যার চারিদিকে শুধুই নীল সমুদ্র। দ্বীপের মোট আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। টেকনাফ থেকে ট্রলারে কিংবা জাহাজে যেতে সময় লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। এর জনসংখ্যা প্রায় আট হাজার। দ্বীপের অধিবাসীদের প্রায় সবারই মূল পেশা মৎস্য শিকার। তবে ইদানীং পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজসরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এখানে পর্যটকদের জন্য ভাল মানের হোটেলের পাশাপাশি স্বল্প খরচে থাকা-খাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। এই সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে রয়েছে ছেড়া দ্বীপ যা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ। প্রচুর প্রবাল, পাথর, স্বচ্ছ পানিতে নানান জীব বৈচিত্র দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঘুরে আসতে হবে ছেড়া দ্বীপ। সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারে মাত্র ২০ মিনিট লাগবে ছেড়া দ্বীপ পৌঁছতে। ভাটার সময় সেন্ট মার্টিন থেকে হেটেও ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়।