27/09/2025
হারাম ইনকাম (অবৈধ আয়ের টাকা) দিয়ে হজ্জ করলে ইসলামী শরীয়তের বিধান কী?
📖 কোরআনের নির্দেশনা:
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা কিছু উপার্জন কর, তার ভালো অংশ এবং আমি তোমাদের জন্য যা মাটি থেকে উৎপন্ন করেছি, তার উত্তম অংশ থেকে ব্যয় কর। আর তোমরা নিকৃষ্ট অংশ ব্যয় করার চেষ্টা করো না, যা তোমরা নিজেরাও নিতে রাজি হতে না, যদি তা চোখ বন্ধ করে না নেও।”
(সূরা আল-বাকারাহ: ২৬৭)
এছাড়া আল্লাহ বলেন—
"হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র জিনিস থেকে আহার কর এবং সৎকর্ম কর। আমি যা কিছু তোমরা কর, সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।”
(সূরা আল-মু’মিনূন: ৫১)
এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে আল্লাহ তাআলা হালাল উপার্জন দিয়ে ইবাদত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
🕌 হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“আল্লাহ পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্র জিনিসই কবুল করেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)
আরেকটি হাদিসে আছে:
“যে ব্যক্তি হারাম রুজি খেয়ে শরীর গড়ে তোলে, তার দোয়া কবুল হয় না।”
(আল-মুজামুল আওসত, ৬/৩১১)
⚖️ ফিকহের মাসআলা:
১. হারাম ইনকামে হজ্জ করলে হজ্জ ফরজ আদায় হবে – অর্থাৎ পরবর্তীতে আবার ফরজ হজ্জ করার দরকার হবে না। কিন্তু এই হজ্জ মাকবুল (গ্রহণযোগ্য/সওয়াবপ্রাপ্ত) হবে না।
কারণ, হজ্জের জন্য শর্ত পূরণ হয়েছে (যাওয়া, কাজ সম্পাদন করা), কিন্তু ইবাদত কবুলের শর্ত হালাল রিজিক।
২.হজ্জের সওয়াব নষ্ট হয়ে যাবে – হালাল উপার্জন ছাড়া হজ্জে সেই নূরানিয়াত, কবুলিয়াত, ও পবিত্রতা আসবে না।
৩. হারাম আয়ে হজ্জ করা গুনাহ – কেননা একই সাথে ফরজ আদায় করলেও গুনাহর কাজ (হারাম উপার্জন) হয়েছে।
🌷 সহজভাবে বলা যায়:
হজ্জ আদায় হয়ে যাবে (ফরজ খালাস হবে)।
সওয়াব পাওয়া যাবে না।
গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না, বরং আল্লাহর কাছে দায়ী হতে হবে।
👉 তাই সবচেয়ে উত্তম হলো শুধু হালাল রিজিক দিয়ে হজ্জ ও অন্যান্য ইবাদত করা।
✒️ Saleha Hajj Kafela.সালেহা হজ্জ কাফেলা।
📞 01617-866165