দেশ আমার

দেশ আমার travel & tourism (ঘুরাঘুরি)

দেশ আমার।
এই পেইজটা মুলত আমার দেশকে নিয়েই।
আমি যেমন আরেকজনের চোখে দেখে নিজের দেশ দেখতে উৎসাহিত হয়েছি তেমনি আমারটা দেখে যদি আরেকজন আমাদের এই অতীত-ইতিহাস সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে দেখতে বের হয়, সেখানেই আমার প্রাপ্তি।

'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা' সহ অনেক বিখ্যাত গানের রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন। উনার শেষজীবন কেটেছে ভারতের লক্ষেষ্...
13/10/2019

'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা' সহ অনেক বিখ্যাত গানের রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন। উনার শেষজীবন কেটেছে ভারতের লক্ষেষ্টৗতে।

কিন্তু শ্রীপুর থেকে প্রায় ১২/১৪ কিলো পরে কাওরাইদ স্টেশনে থেকে হাটা পথে সুতিয়া নদীর ধার ঘেঁষে অতুলপ্রসাদ সেনের সমাধির দেখা মিলে। সমকাল পত্রিকায় রাজীব নূর ভাইয়ের একটা ফিচার দেখে ২০১৬ সালে গিয়েছিলাম কাওরাইদে। সম্প্রতি গ্রুপের হেরিটেজ ট্যুর এর পর ওখানকার জঙ্গলাকীর্ণ ছবি দেখে অবাক হচ্ছি, এই ৩/৪ বছরে জায়গাটার একী হাল!

শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামেই ছিল ভাওয়ালের জমিদার কালীনারায়ণ গুপ্তের কাছারিবাড়ি। তাই এ এলাকায় কালীনারায়ণ গুপ্ত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি ব্রাহ্মমন্দির। ব্রাহ্মমন্দির লাগোয়া সমাধিতে রয়েছে তার কালীনারায়ণ ও কেজি গুপ্ত নামে সমধিক পরিচিত স্যার কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্তের সমাধিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কালীনারায়ণ বৃত্তি দেওয়া হয় তা এই এই কালীনারায়ণের নামেই। অর্থমূল্যের কারণে বৃত্তিটা আকর্ষণ হারালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নে এই বৃত্তির মূল্য ছিল অনেক।

গাজীপুরের ইতিহাস নিয়ে প্রচুর গবেষনা করেছেন ড. ফরিদ আহমদ। উনার মতে, এখানে আলোচ্য যে সমাধিগুলো তাতে কারোরই মৃতদেহ নেই, চিতাভস্ম রয়েছে। তারা ভারতের লক্ষেষ্টৗ, এবং লন্ডনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। যে যেখানে মারা গেছেন, সেখানেই তাদের চিতা হয়েছে। পরবর্তীতে চিতাভস্ম এনে কাওরাইদে সমাহিত করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, ব্রাহ্ম ও হিন্দু রীতি অনুযায়ী সবারই পিণ্ডদান করা হয়েছে পাশের সুতিয়া নদীতে।

এখানে একটা জনপ্রিয় জনশ্রুতি রয়েছে যে, কাওরাইদে কিছু সময়ের জন্য বিশ্বকবি রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে এখানে নাকি ব্রাহ্মমন্দিরের উদ্দেশে নেমেছিলেন। তবে প্রামাণ্য কিছু জানা নেই। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসে সপ্তাহখানেক থাকার পর ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন। তাই ঘটনা সত্তিও হতে পারে।

বিভিন্ন সময়ে একাজে-ওকাজে বহুবার গাজীপুর সদর গিয়েছি জয়দেবপুর শিববাড়ি মোড় হয়ে। শিববাড়ি মোড় মাস্ট। কারণ ঢাকা থেকে য...
21/01/2019

বিভিন্ন সময়ে একাজে-ওকাজে বহুবার গাজীপুর সদর গিয়েছি জয়দেবপুর শিববাড়ি মোড় হয়ে। শিববাড়ি মোড় মাস্ট। কারণ ঢাকা থেকে যতগুলো গাড়ি, গাজীপুর যেতে হলে শিববাড়ি অবশ্যই নামতে হবে। গত ক'দিন আগে মৃত্যুঞ্জয় রায় এর লেখা না পড়লে জানতামই না এই শিববাড়ি মোড় জয়দেবপুর এর বিখ্যাত ইন্দ্রেশ্বর শিববাড়ি। ১৩৩ বছর আগে রাজা জয়দেব নারায়ণের পুত্র ইন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী এই শিবমন্দির তৈরি করেন। তার নামেই এই মন্দিরের নাম ইন্দ্রেশ্বর শিব মন্দির। আর জায়গাটির নাম শিববাড়ি নামে পরিচিত।
১৩৩ বছরের পুরনো মন্দিরটি এখনো না থাকলেও আনুমানিক দুই ফুট এর চেয়ে উঁচু পাথরের আদি শিবলিঙ্গটি এখনো বর্তমান। মন্দিরের বাইরে তমাল গাছের নিচে সমসাময়িক আরো বড় আরেকটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। অনেকে ধারণা করেন তমাল গাছটি ভাওয়াল রাজা ইন্দ্রেশ্বর মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় লাগিয়েছিলেন।

আমি অকৃতি অধম বলেও তো কিছু কম করে মোরে দাওনিযা দিয়েছ, তারি অযোগ্য ভাবিয়াকেড়েও তো কিছু নাওনি।।তব আশীষ কুসুম ধরি নাই শিরেপ...
21/09/2018

আমি অকৃতি অধম বলেও তো কিছু
কম করে মোরে দাওনি
যা দিয়েছ, তারি অযোগ্য ভাবিয়া
কেড়েও তো কিছু নাওনি।।
তব আশীষ কুসুম ধরি নাই শিরে
পায়ে দলে গেছি , চাহি নাই ফিরে
তবু দয়া করে কেবলি দিয়েছ,
প্রতিদান কিছু চাওনি
...... আমার অসম্ভব প্রিয় এই প্রার্থনা সঙ্গীতকে আমি এতদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভেবে ভুল করে আসছিলাম। রজনীকান্ত সেনকে নিয়ে সামান্য কিছু পড়াশোনা করতে গিয়ে আশ্চর্য হলাম। এটা যে উনারই লেখা। দুই বাংলার সার্বজনীন পরিচিত পঞ্চকবির একজন রজনীকান্ত সেন। তাঁর জন্ম সিরাজগঞ্জে। সিরাজগঞ্জের বেলকুঁচি এলাকার সেনভাঙ্গা গ্রামে। উনার জন্মভিটার নাম-সাকিন যিনি আমাকে দিলেন তিনি ভাঙ্গা বাড়ির পাশের বাড়ির লোক। আমার সিনিয়র সহকর্মী। কলেজ জীবনে বহুবার ভাঙ্গাবাড়ির পুরনো দালানকোঠা ঘুরে বেড়িয়েছেন। এখনো নানান গল্প করেন, যেন এইতো সেদিন। আসলে এই তো সেদিন মানে প্রায় ১৮/২০ বছর।

গত মাসে আমাদের একসাথেই সিরাজগঞ্জ বেড়ানোর প্রোগ্রাম হয়ে গেল অফিস থেকেই। বায়না রাখতেই তিনি নিয়ে গেলেন কান্তকবি রজনীকান্ত সেনের জন্মভিটায়। আমি এসব দেখে দেখে অভ্যস্ত বলে চমকে উঠিনি কিন্তু তিনি থমকে গেলেন। বিল্ডিং তো দূরের কথা, কোন বসত বাড়িও অবশিষ্ট নেই। একটা জীর্ণ দেয়াল ছাড়া কবির স্মৃতি চিহ্নটুকুও যেন নেই আর।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি বাজার ষ্ট্যান্ড থেকে অটো বা রিকশায় বললেই ৫০/৬০ টাকা ভাড়ায় নামিয়ে দিবে সেনভাঙ্গা বাজার। আবার কড্ডা বেলকুচি সড়কের রজনীকান্ত রোড বাসষ্টান্ড থেকে একইভাবে ৩০/৪০ টাকায় যাওয়া যাবে। কবির নামেই নামকরণ এই ছোট্ট্ বাজারের। বাজারের পাশেই স্কুল মাঠের পাশেই একটা তোরণ, এখানে একটা ক্লাব ছিল, টিনের দোচালা। রজনী সংসদ ও পাঠাগার। উন্নয়নের লক্ষ্যে সেই পাঠাগার ভেঙ্গে তিনতলা ভবনের ফাউন্ডেশন এর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৩ বছরেরও বেশী। এরপর ওভাবেই পড়ে আছে।

সেনভাঙ্গা বাজারে পরিচিত একজনকে সঙ্গী করে আমরা ছোট্ট একটা খাল ব্রীজ পার হয়ে মিনিট পাঁচেক হেঁটে যাওয়ার পরই পঞ্চকবির অন্যতম এক কবি রজনীকান্ত সেন এর জন্মভিটার। ছেলেবেলায় ভাব সম্প্রসারণ মানেই কিন্তু রজনীকান্ত আবশ্যিক ছিল। কয়েক লাইন বললেই মনে পড়ে যাবে নিশ্চয়ই:
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই- কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই; আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে। বাবুই হাসিয়া কহে- সন্দেহ কি তায়? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়; পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা। অথবা, নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল, গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান, কাষ্ঠ- দগ্ধ হয়ে, করে পরে অন্নদান, স্বর্ণ করে নিজরূপে অপরে শোভিত, বংশী করে নিজস্বরে অপরে মোহিত, শস্য জন্মাইয়া, নাহি খায় জলধরে, সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত-তরে।
কিংবা আমরা নেহাৎ গরীব আমরা নেহাৎ ছোট ; তবু আজি সাত কোটি ভাই জেগে ওঠো। জুড়ে দে ঘরের তাঁত সাজা দোকান ; বিদেশে না যায় ভাই গোলারি ধান ; আমরা মোটা খাব, ভাই রে প'রবো মোটা ; মাখবো না ল্যাভেন্ডার, চাই নে 'অটো'। নিয়ে যায় মায়ের দুধ পরে দুয়ে' আমরা, রব কি উপোসী ঘরে শুয়ে ? হারাস্ নে ভাই রে, আর এমন সুদিন, মায়ের পায়ের কাছে এসে জোটো।

ভাঙ্গা বাড়ির গুরুপ্রসাদ ও মনোমোহন দেবীর সন্তান রজনীকান্ত। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী। ১৮৬৫ সালে ২৬ জুলাই তাঁর জন্ম। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই কালীসঙ্গীত লিখে ও গেয়ে প্রতিভার প্রকাশ করেন। কান্তকবি নামে তার খ্যাতি ছিল সেসময়। ভক্তি ও দেশপ্রেম ছিল তার কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু। স্বদেশী আন্দোলনে তিনি বিখ্যাত হলেন এই গানটি লিখে - মায়ের দেয়া মোটা কাপড়, মাথায় তুলে নে রে ভাই, দীন দুখিনী মা যে তোদের, তার বেশী আর সাধ্য নাই। ঐ মোটা সুতোর সঙ্গে মায়ের, অপার স্নেহ দেখতে পাই, আমরা এমনি পাষাণ, তাই ফেলে ঐ, পরের দোরে ভিক্ষে চাই। ঐ দু:খী মায়ের ঘরে তোদের, সবার প্রচুর অন্ন নাই, তবু তাই বেচে কাঁচ, সাবান, মোজা কিনে করলি ঘর বোঝাই। আয়রে আমরা মায়ের নামে এই প্রতিজ্ঞা করব ভাই, পরের জিনিস কিনব না, যদি-মায়ের ঘরের জিনিস পাই।

তাঁর রয়েছে অসাধারণ সব প্রার্থণা গীতি : আমি তো তোমারে চাহিনি জীবনে তুমি অভাগারে চেয়েছ; আমি না ডাকিতে, হৃদয় মাঝারে নিজে এসে দেখা দিয়েছ। চির-আদরের বিনিময়ে সখা! চির অবহেলা পেয়েছ, আমি দূরে ছুটে যেতে দুহাত পসারি ধরে টেনে কোলে নিয়েছ। ও পথে যেও না ফিরে এস বলে কানে কানে কত কয়েছ, আমি তবু চলে গেছি ফিরায়ে আনিতে পাছে পাছে ছুটে গিয়েছ। এই চির অপরাধী পাতকীয় বোঝা হাসি মুখে তুমি বয়েছ, আমার নিজ হাতে গড়া বিপদের মাঝে বুকে করে নিয়ে রয়েছ।
আবার লিখেছেন : আমায় সকল রকমে কাঙাল করেছে, গর্ব করিতে চুর ; যশঃ ও অর্থ, মান ও সাস্থ্য, সকলি করেছে দূর। ঐগুলো সব মায়াময় রূপে, ফেলেছিল মোরে অহমিকা-কূপে, তাই সব বাধা সরায়ে দয়াল, করেছে দীন আতুর ; আমায় সকল রকমে কাঙাল করিয়া, গর্ব করিছে চুর। আরেক কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের উৎসাহে প্রচুর হাস্যরসের গান লিখেন, একাধারে আবার লিখেন প্রীতিমূলক গান। ১৯১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রজনীকান্তসেন অসুস্থ্য অবস্থায় দেহত্যাগ করেন।

যা হোক, ফিরে যাই সেন ভাঙ্গা বাড়িতে। পুরো বাড়িটি দখলে চলে গিয়েছে। বাড়ির পশ্চিমে দুটো পুকুর। সেন ভাঙ্গা বাড়িতে পুরনো আর কোন বাড়ির চিহ্ন পর্যন্ত নেই। অনেক খুঁজে ফিরে কেবল একটা দেয়ালের ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেল। তাও একেবাওে যাচ্ছেতাই অবস্থায়। তার খানিক পাশেই দুই পুকুরের মাঝামাঝিতে একটা ছোট স্থাপনা, সম্ভবত টয়লেট বা গোসলখানা ছিল হয়তো। ক্রমশ: ভঙ্গুর, কিছু অংশ ভেঙ্গে পানিতে পড়ে আছে। পঞ্চকবির অন্যতম একজন এই কবির স্মৃতি চিহ্ন বলতে এই। কবির জন্মভিটার কো-অরডিনেট – 24.310821, 89.678637

কিভাবে যাওয়া যায় লিখতে গিয়ে সংকোচ লাগছে, আমার মন বলছে লিখে দেই। হয়তো আমার মতো আরও কিছু বোকা মানুষ থাকতেও পারে যারা সেন ভাঙ্গা বাড়িতে যাবে এইটুকু স্মৃতি নিজের ঝুলিতে নেয়ার জন্য। ষ্টারলিট, দিনা বা এসআই পরিবহন ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ (বেলকুচি) পথে নিয়মিত সারাদিন সন্ধ্যা অব্দি চলাচল করে। মহাখালি থেকে আবদুল্লাপুর চন্দ্রা এবং কল্যাণপুর থেকে সাভার হয়ে যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে এই গাড়িগুলোর নিয়মিত যাতায়াত।

সরাইল শাহী মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াজিপিএস কোঅরডিনেট - 24.07171, 91.11267
19/04/2017

সরাইল শাহী মসজিদ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জিপিএস কোঅরডিনেট - 24.07171, 91.11267

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল এলাকায় বাজার এর ভেতরে এই মসজিদ। মসজিদের পুনর্নির্মাণ এবং মেরামতে এর আদিরুপ এখন প্রায় অদৃশ্য। কেবলমাত্র মসজিদের পেছন অর্দিথাৎ পশ্চিম দিক থেকে এর পুরনো স্থাপনা কিছুটা আঁচ করা যায়। পেছন দিকে যেতে হলে বাজারের মূল কবরস্থান এর ভেতর দিয়ে ঝোপঝাড় পার হয়ে যেতে হয়।

মসজিদটিতে একটি শিলালিপি আছে। সে অনুযায়ী ও ঐতিহাসিকদের মতে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর শাসনামল (১৬৫৮-১৭০৭) এ এই মসজিদ ১৬৬২ খ্রিষ্টাব্দে দেওয়ান নুর মোহাম্মদের স্ত্রী আরাফান্নেসা এই মসজিদ তৈরী করেন।

জিপিএস কোঅরডিনেট - 24.07171, 91.11267

ডাংগা জমিদার বাড়ির কথা শুনেছিলাম আরো আগেই, লোকেশন না জানার কারণে যাওয়া হয় নাই। গত সপ্তাহে ট্রাভেলগ (TOB) পাতায় প্রিন্স ভ...
04/03/2017

ডাংগা জমিদার বাড়ির কথা শুনেছিলাম আরো আগেই, লোকেশন না জানার কারণে যাওয়া হয় নাই। গত সপ্তাহে ট্রাভেলগ (TOB) পাতায় প্রিন্স ভাই এর পোস্ট এর সুত্র ধরে এবার যাওয়া হল।

নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় হলেই মুল নরসিংদী যেতে হয় না। কালীগঞ্জ বাজার দিয়ে ট্রলারে শীতলক্ষ্যা পার হয়ে অটোতে ডাংগা বাজারে যাওয়া যায়। ভাড়া প্রতিজন ১৫ টাকা। বাজার থেকে হাটা পথেই এই জমিদার বাড়ি অথবা রিকশায় ১০ টাকা। স্থানীয় ভাবে উকিল বাড়ি নামে পরিচিত। ডাংগা জমিদার বাড়ি বললেও লোকজন দেখিয়ে দিবে।

দোতলা বাড়িটি ছোট তবে খুবই দৃষ্টিনন্দন। চুপচাপ, ছিমছাম এবং বেড়ানোর জন্য নিরাপদ অবশ্যই। বাড়িতে লোকজন বিশেষ এখন আর কেউ থাকে না, খালিই বলা যায়। বাড়ির পাশেই সুদৃশ্য রাধাগোবিন্দ মন্দির। এর অলঙ্করণ অবশ্যই মুগ্ধ করবে। পূজা আরচনার সময় ছাড়া তালা দেয়া থাকে। বাড়ির পেছনে দেয়াল ঘেরা ফাঁকা জায়গা অনেকটা। বাড়ির অন্য পাশে ভেঙ্গে যাওয়া দুর্গা মন্দিরের ফসিল কেবল। তার সামনেই সান বাধানো পুকুর ঘাট। পুকুরের একপাশে ছোট মঠ সদৃশ স্থাপনা একটা। সম্ভবত কোন সৃতিস্তম্ভ। এই পুকুরের পর আরেকটি পুকুর, তার ঘাট বরাবর একতলা আরেকটি বাড়ি, পাশে মন্দির ভবনও আছে। দেখে মনে হয় মূল বাড়ির কোন শরিকদেরই হবে।

নেটে বা কোন নোটে ডাংগা জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কিছু পাই নি। প্রিন্স ভাই এর পোস্টের সুত্র ধরে এর কথ্য ইতিহাস হল তৎকালীন ভারতবর্ষে এই দেবোত্তর সম্পত্তিতে লক্ষ্মণ সাহা নামে একজন জমিদারের অধিনস্থ কর্মচারী লক্ষ্মণ সাহা এই বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ছিল তিন জন ছেলে। ডাংগার এই জমিদার বাড়ির কাছাকাছি প্রায় একই আদলে আরো দুইটা বাড়ি দেখা গেছে, তবে তার একটি ধ্বংসপ্রায়।

কালীগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা- নরসিংদী রুটের যে কোন গাড়িতে পাচদোনা মোড় দিয়ে এখানে যাওয়া যাবে। পাচদোনা মোড় থেকে ডাংগা বাজারের সিএনজি পাওয়া যায়। ভাড়া ৩০ টাকা প্রতিজন।

GPS : 23.89910, 90.59483

দারস বাড়ি মসজিদচাপাই নবাবগঞ্জজিপিএস কোঅরডিনেট - 24.83254, 88.13637
06/02/2017

দারস বাড়ি মসজিদ
চাপাই নবাবগঞ্জ
জিপিএস কোঅরডিনেট - 24.83254, 88.13637

খঞ্জন দিঘী মসজিদ দেখে সোনা মসজিদের দিকে ফিরে আসার সময় রিকসা নিলাম। আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা ভর্তি কাদা। রিকসা ওয়ালা মূল রাস্তা থেকে পশ্চিমের কাচা রাস্তায় ঢুকতেই বেকে বসলো। বলল আর সামনে যাবে না। কি আর করা। নেমে হাটা ধরলাম। চিনি না, জানিও না। আশেপাশে কাউকে দেখাও যায় না যে, জানতে চাইবো। নিজের উপর ভরসা করেই হাটা ধরলাম। ডান দিকে আম বাগান । বাম দিকে আম বাগান। রাস্তাটাও আকাবাঁকা। দুপাশেই কোন কিছুর অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছিলাম না। প্রায় ২০ মিনিট হাটার পর একজন লোক পেলাম, তাও রাস্তা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে। নীচু জমিতে ছোট একটা আম গাছের মাথায় বসে গাছের কলম তৈরী করছে। নেমে গিয়ে জানতে চাইলাম দারস বাড়ির কথা। আঙুল সামনে নিয়ে আমার পেছনের দিকে দেখিয়ে বললেন ওই তো। আমি পেছনে তাকিয়ে রাস্তা পার করে আরো পেছনে তাকাই। হুম দেখা যাচ্ছে লাল ইটের অস্তিত্ব। নিজেকে ধমক মারলাম তখনই ডান দিকে না তাকিয়ে কেন এতদূর হেটে আসলাম। খুব ক্লান্ত লাগছিল। ভীষণ রোদ, সাথে পানির তেষ্টা। ব্যাগের ভেতর রাখা দুটো পানির বোতল সেই কখন শেষ। আশে পাশে দোকান বা বাড়িঘর দেখতে পাইনি যে পানি খাব। দারস বাড়ি মসজিদ মাটির রাস্তা থেকে সামান্য ভেতরে। ডান দিকে মোড় ঘুরতেই আরো ডানে ছোট্ট একটা পুকুরের মতো। খুব ছোটও না, আবার বড়ও না। পানি কম কিন্তু সবুজ টলটলে পরিষ্কার। ওটা পার হয়ে বামে তাকালেই উঁচু ভিটাতে সবুজ ঘাসের উপর দারস বাড়ি মসজিদ। এক পলক দেখার পর আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। মুগ্ধ হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকার পালা। ছবি তুলতে তুলতে সামনে এগিয়ে গেলাম। সম্পূর্ন পরিত্যাক্ত কিন্ত অসম্ভব সুন্দর। আসলেই অসম্ভব সুন্দর। ছাদ নেই মসজিদটার। পাথরের পিলারগুলো পড়ে আছে। কোনটা খাড়া দাঁডিয়ে আছে, বেশীরভাগই ভাঙ্গা। বারান্দার পিলারগুলো ধ্বংস প্রায়।

কিন্তু পাথরের মধ্যেও অপূর্ব কারুকার্য এখনো পরিষ্কার। পাথরের গায়ে ঠিক হুবুহু একই কারুকার্য দেখেছিলাম সিরাজগঞ্জের শাহ মখদুম শাহী (রা: ) এর মাযার সংলগ্ন মসজিদে।

এখানে দেখলাম অন্যান্য পুরনো মসজিদগুলার মতো এটি বর্গাকার না। দারস বাড়ি মসজিদ আয়তাকার। তিনভাগে ভাগ করা। উত্তরের অংশটায় অন্য দুই অংশের চেয়ে মোটা পাথরের পিলার। মেহরাবের আকৃতির। অল্প অভিজ্ঞতায় অনুমান করলাম এই অংশে দোতলা ছিল। মহিলাদের নামাযের ব্যবস্থার জন্য। দেয়ালগুলো এখনও মজবুত। চমৎকার দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যে ভরা, একেবারে পুরো দেয়াল জুড়ে। রোদের আলোয় চকচকে রঙে সবুজ মেঝেতে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। পুরনো ঐতিহ্যের অহংকারে আর মসজিদের পবিত্রতায় বুকের ভেতর কেমন করে। ছবি তোলা ভুলেই গেলাম মুহুর্তের জন্য। হটাৎ জানি না কেন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়ল। মুহুর্তের সিদ্ধান্তে পাশের পুকুরটায় অযু করে দু’রাকাত নফল নামায পড়লাম। এত ভালো লাগল। ভেতরটা একেবারে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ঘন গাঢ় সবুজ ঘাসে ভরা। বুঝা যায় লোকজন এখানে খুব কম আসে।

ঢাকায় ফিরে এসে যথারীতি খোঁজ লাগালাম নেট, পাবলিক লাইব্রেরী আর চাপাইনবগঞ্জ থেকে কেনা ‘গৌড় থেকে চাঁপাই’ ও ‘চাপাইনবগঞ্জের ইতিহাস’ বইয়ে। খুব বেশী কিছু পেলাম না। আরো হতাশ হলাম। খুব মন খারাপ হল। এসব ইতিহাস কি কোথাও লেখা নেই? এভাবেই কি হারিয়ে যাবে সব? যতটুকু খুঁজে পেলাম তা হল, দারস বাড়ির মূল নাম দর্সবাড়ি। দর্স অর্থ পাঠ। একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল সেখানে। মাদ্রাসাটার অস্তিত্ব এখনও আছে, সেটা পরে বলছি। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্যার কানিংহ্যাম এর ভাষ্যও একইরকম। তো এই তথ্য অনুযায়ী মসজিদটার বয়স ৫৩১ বছর।

মসজিদ এর আয়তন লম্বায় ১০০ ফুট, পার্শ্বে ৩৫ ফুটের চেয়ে একটু কম। পূব পার্শ্বের বারান্দাও ১১ ফুটের একটু কম। এ মসজিদটিও বাংলার প্রথম যুগের মুসলিম স্থাপত্যের কীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এখানে প্রাপ্ত ভোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে। লিপিটির দৈর্ঘের কারণে নাকি একে দু’ভাগ করতে হয়েছে। লিপির অর্থ হচ্ছে- ‘‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন- নিশ্চয়ই সব মসজিদ আল্লাহর, সুতরাং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নবীও বলেছেন, আল্লাহর জন্য যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য বেহেস্তে অনুরূপ একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন। এই জামে মসজিদ ন্যায় পরায়ণ ও মহান সুলতান, জনগণ ও জাতি সমূহের প্রভু, সুলতানের পুত্র সুলতান, তাঁর পুত্র সুলতানের পুত্র শামসুদ্দুনীয়া ওয়াদ্দীন আবুল মুজাফ্ফর ইউসুফ শাহ সুলতান, পিতা মাহমুদ শাহ সুলতান কর্তৃক নির্মিত। আল্লাহ তার শাসন ও সার্বভৌমত্ব চিরস্থায়ী করুন এবং তার উদারতা ও উপচিকীর্ষা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। তারিখ ৮৮৪ হিঃ’’। একটা রেফারেন্সে পেলাম কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত এই লিপিটার ক্রম নম্বর -৩১৩৯।

জিপিএস কোঅরডিনেট - 24.83254, 88.13637

বেগম বাজার মসজিদ, (করতলব খান মসজিদ)বেগমবাজার, ঢাকাজিপিএস - 23.71722, 90.39852
02/02/2017

বেগম বাজার মসজিদ,
(করতলব খান মসজিদ)
বেগমবাজার, ঢাকা
জিপিএস - 23.71722, 90.39852

ঢাকার মুঘল স্থাপত্যের ধর্মীয় বিল্ডিংগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাজার মসজিদ। একই সাথে এই মসজিদ টি বাংলার নবাবী আমলের প্রতিনিধিত্বকারি মসজিদও বটে।

১৭০০-১৭০৪ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন মুর্শিদকুলি খাঁ। তাই সাভাবিকভাবেই মসজিদটি তার নামে প্রথমে মুর্শিদকুলি খাঁ নাম হয়। পরে সম্রাট আওরঙ্গজেব তরুণ মুর্শিদকুলী খাঁকে ১৭০০ সালে সম্মানসূচক করতলব খাঁ উপাধি দিয়ে দেওয়ান হিসেবে বাংলায় পাঠান। এরপর এই মসজিদের নাম হয়ে যায় করতলব খান মসজিদ।

এরপর সময়ের পরিক্রমায় ১৭৩৯-৪০ সালে ঢাকার নায়েবে নাজিম সরফরাজ খাঁর কন্যা লাভলি বেগমের নাম থেকে মাছপ্রধান এই এলাকার বড় বাজারের নাম হয় বেগম বাজার। এই বাজারটি মূলত স্থাপন করা হয়েছিল পাঁচ গম্বুজ মসজিদটির ব্যয় নির্বাহ করার জন্য। সময়ের কালস্রোতে, লোকজনের সহজ পরিচিতির জন্য এক সময় বেগম বাজারের নাম জুড়ে দিয়ে মসজিদটির নাম হয়ে যায় বেগম বাজার মসজিদ। যা এখনও চলছে।

ব্রিটিশ লাইব্রেরির ওয়েবসাইটসহ ঢাকার পুরোনো ছবি আছে এমন অনেক সাইট ও প্রকাশনীতে চারপাশে সবুজ গাছগাছালিঘেরা পাশাপাশি একই রকমের পাঁচটি আকর্ষণীয় গম্বুজ দেয়া পুরোনো স্থাপত্যশিল্পের যে মসজিদের ছবিটি দেখা যায়, সেটি এই বেগম বাজার মসজিদেরই ছবি। ধারণা করা হয়, এক সময় বুড়িগঙ্গা নদীর অববাহিকা এই মসজিদের কোল ঘেষে প্রবাহিত হত । পরে নদীর গতি পথ পরিবর্তিত হয়ে প্রায় দেড় কি.মি. দূরে চলে যায়।

গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে রিকশায় ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড ধরে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দিয়ে বেগমবাজারের দিকে গেলেই রাস্তার মোড়ে মসজিদটি দেখা যাবে।

জিপিএস - 23.71722, 90.39852

রোজ গার্ডেনকে এম দাস লেন, টিকাটুলি, ঢাকাGPS Coordinate : 23.71832, 90.42646
13/12/2016

রোজ গার্ডেন
কে এম দাস লেন, টিকাটুলি, ঢাকা
GPS Coordinate : 23.71832, 90.42646

আজ আর সেই বাগান অবশিষ্ট নেই।
শান বাধানো পুকুরঘাট আছে কিন্ত তাতে আর জল টলমল করে না। বড় অনাদরে, অবহেলা, নি:সঙ্গতায় দাঁড়িয়ে আছে রোজ গার্ডেন। ঢাকার এক সময়কার ধণাঢ্য ব্যবসায়ী ও জমিদার হৃষিকেশ দাস বাইশ বিঘা জমির উপর টিকাটুলির এই কে এম দাস লেনে নির্মাণ করেন ‘রোজ গার্ডেন’। অট্টালিকা ও সামনের বাগান। বর্তমানে বাগানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুস্কর। ভেতরে ঢুকেই রোজ গার্ডেন এর নয়নাভিরাম রাজকীয় সৌন্দর্যে মন ভরে গেল। সম্পূর্ণ সাদা রঙের রোজ গার্ডেন ভবনটা দুই তলা। করিন্থীয়ান গ্রিক স্থাপত্যরীতিতে বড় বড় পিলার বাড়িটায় আলাদারকম গাম্ভীর্য এনে দিয়েছে।

মূল ভবনের প্রবেশমুখে চওড়া সিঁড়ি। ছয় ধাপ বিশিষ্ট সেই সিঁড়ির দুইপাশে দুটি ভাস্কর্য মূর্তি। এছাড়া পুকুরঘাট, বাগান এ আশেপাশে ইউরোপীয় ঢঙে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ভাস্কর্য। এগুলো আগে বাগানেরই অংশ ছিল। কালের বিবর্তনে আজ সেগুলো ছন্নছাড়া।

সমগ্র ভারতে অদ্বিতীয় গোলাপ বাগান সমৃদ্ধ বাড়ি হওয়ার কারনেই এর নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’। বেশীর ভাগ উপাত্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ১৯৩০ সালের দিকেই হৃষিকেশ বাবু এ বাগান নির্মাণ শুরু করেন। এই বাগানের জন্য তিনি চীন, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে মাটিসহ গোলাপের চারা এনে লাগিয়েছিলেন।

হৃষিকেশ বাবু ছিলেন ধণাঢ্য বিলাসী ব্যবসায়ী। কিন্তু তাঁর শেষ বয়সে এই অভিমানী, জেদী বিলাসী মানুষটি তাঁর সন্মানের প্রতীক বাগানবাড়িটি ১৯৩৬ সালে খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হন। এরপর হাত বদল হয় প্রথম ১৯৩৭ সালে। এরপর ১৯৬৬ সালে আবদুর রশীদের বড় ভাই কাজী হুমায়ুন বশীর এই রোজ গার্ডেনের মালিকানা লাভ করেন। এ সময় তাঁর নামেই রোজ গার্ডেন হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কাজী হুমায়ুন ১৯৭০ সালে ততকালীন স্বনামধন্য চলচিত্র উন্নয়ন সংস্থা বেঙ্গল ষ্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লি: এর কাছে বাড়িটি ভাড়া দেন। শেষে ১৯৯৩ সালে বাড়িটির অধিকার ফিরে পান কাজী রকিব, হুমায়ুন সাহেবের পারিবারিক বংশধর।

মতিঝিল, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ বা ইত্তেফাক মোড় - সবখান থেকেই রিকসায় ১৫/২০ টাকার ভেতর আসা যাবে এই টিকাটুলির রোজ গার্ডেন এ। রিকসাওয়ালাকে বললেই হবে রোজ গার্ডেন যাবো। না চিনলে বলতে হবে হুমাযুন সাহেবের বাড়ি অথবা বেঙ্গল ষ্টুডিও।

GPS Coordinate : 23.71832, 90.42646

(সেন্ট অগাস্টিন ক্যাথোলিক চার্চ -মঠবাড়ি ধর্মপল্লী) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বনবনানী ঘেরা ধর্মপল্লী মঠবাড়ি। যা গাজীপুর জেলার...
04/12/2016

(সেন্ট অগাস্টিন ক্যাথোলিক চার্চ -মঠবাড়ি ধর্মপল্লী)

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বনবনানী ঘেরা ধর্মপল্লী মঠবাড়ি। যা গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের একেবারে দক্ষিণে। এই ধর্মপল্লী ‘হিপ্পোর সাধু অগাষ্টিনের গির্জা’ নামে পরিচিত। খ্রিস্টভক্তের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে তিন হাজারের কিছু বেশী। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে মঠবাড়ি নাগরী ধর্মপল্লীর অধীনে ছিল। নাগরী ভাওয়াল অঞ্চলের প্রথম ধর্মপল্লী। মঠবাড়ি ধর্মপল্লীর জনসাধারণকে রবিবারের খ্রিস্টযাগ, বিয়ে, বাপ্তিস্ম, হস্তার্পণ, সমাধিস্থসহ পর্বীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য নাগরী যেতে হত।

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে মঠবাড়িকে নাগরীর উপ-ধর্মপল্লী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারপর ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে মাইলাপুরের মন্ডলী পরিচালক মঠবাড়িকে উপ-ধর্মপল্লী থেকে ধর্মপল্লী ঘোষণা করেন। কালের পরিক্রমায় মঠবাড়ি ধর্মপল্লীর ইট সুরকীর তৈরী পুরনো গির্জা ঘরটি ব্যবহারের উপযুক্ততা হারায়। পরে ২০০৩ সালে নতুন গীর্জা ভবনের কাজের শুরু হয়ে ২০১৩ সালে এই নতুন ভবনের উদ্ধোধন করা হয়।

টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে উলুখোলা ব্রীজ পার হয়ে মঠবাড়ি বাজার বাস স্ট্যান্ড - কিছুদিন আগ পর্যন্ত এই রুটই ছিল একমাত্র যাতায়াত পথ, এখন ৩০০ ফিট হয়ে কাঞ্চন ব্রীজের একটু আগেই বাদিকের মোড়ে কয়েক কিলো এগুলেই মঠবাড়ি। দুভাবেই যাওয়া যায় সহজেই। ধারে কাছেই নাগরী, সে আরেক ইতিহাস।

জিপিএস কোঅর্ডিনেট : 23.88672, 90.48424

রানী ময়নামতির প্রাসাদ, কুমিল্লা বিশ্লেষকদের ধারনায় প্রাসাদটি ৮ম থেকে ১২শ শতকের প্রাচীন একটি বৌদ্ধ বিহার। আঞ্চলিক ভাবে পর...
03/12/2016

রানী ময়নামতির প্রাসাদ, কুমিল্লা

বিশ্লেষকদের ধারনায় প্রাসাদটি ৮ম থেকে ১২শ শতকের প্রাচীন একটি বৌদ্ধ বিহার। আঞ্চলিক ভাবে পরিচিত রানী ময়নামতির প্রাসাদ হিসেবে। কুমিল্লা সেনানিবাসের বেশ কাছেই। ঢাকা থেকে কুমিল্লা সেনানিবাসের গেইটে নেমে অটোরিকশায় ১০ টাকা নিবে এই প্রাসাদে পৌছাতে। এলাকার নাম সাবের বাজার। বাজার থেকে উত্তর পশ্চিমে সামান্য ভেতরে সমতল থেকে কিছুটা উঁচুতে এই বিশাল বিহার। ১৯৮৮ সালের নাগাদ এর খনন কাজ শুরু হয়। সমতল থেকে উচ্চতা কম বেশী প্রায় ১৫ মিটার।

জিপিএস কোওরডিনেট 23°29'46.50"N, 91° 6'27.50"E

Address

Dhaka

Telephone

01811413826

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দেশ আমার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to দেশ আমার:

Share