13/10/2019
'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা' সহ অনেক বিখ্যাত গানের রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন। উনার শেষজীবন কেটেছে ভারতের লক্ষেষ্টৗতে।
কিন্তু শ্রীপুর থেকে প্রায় ১২/১৪ কিলো পরে কাওরাইদ স্টেশনে থেকে হাটা পথে সুতিয়া নদীর ধার ঘেঁষে অতুলপ্রসাদ সেনের সমাধির দেখা মিলে। সমকাল পত্রিকায় রাজীব নূর ভাইয়ের একটা ফিচার দেখে ২০১৬ সালে গিয়েছিলাম কাওরাইদে। সম্প্রতি গ্রুপের হেরিটেজ ট্যুর এর পর ওখানকার জঙ্গলাকীর্ণ ছবি দেখে অবাক হচ্ছি, এই ৩/৪ বছরে জায়গাটার একী হাল!
শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামেই ছিল ভাওয়ালের জমিদার কালীনারায়ণ গুপ্তের কাছারিবাড়ি। তাই এ এলাকায় কালীনারায়ণ গুপ্ত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি ব্রাহ্মমন্দির। ব্রাহ্মমন্দির লাগোয়া সমাধিতে রয়েছে তার কালীনারায়ণ ও কেজি গুপ্ত নামে সমধিক পরিচিত স্যার কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্তের সমাধিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কালীনারায়ণ বৃত্তি দেওয়া হয় তা এই এই কালীনারায়ণের নামেই। অর্থমূল্যের কারণে বৃত্তিটা আকর্ষণ হারালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নে এই বৃত্তির মূল্য ছিল অনেক।
গাজীপুরের ইতিহাস নিয়ে প্রচুর গবেষনা করেছেন ড. ফরিদ আহমদ। উনার মতে, এখানে আলোচ্য যে সমাধিগুলো তাতে কারোরই মৃতদেহ নেই, চিতাভস্ম রয়েছে। তারা ভারতের লক্ষেষ্টৗ, এবং লন্ডনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। যে যেখানে মারা গেছেন, সেখানেই তাদের চিতা হয়েছে। পরবর্তীতে চিতাভস্ম এনে কাওরাইদে সমাহিত করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, ব্রাহ্ম ও হিন্দু রীতি অনুযায়ী সবারই পিণ্ডদান করা হয়েছে পাশের সুতিয়া নদীতে।
এখানে একটা জনপ্রিয় জনশ্রুতি রয়েছে যে, কাওরাইদে কিছু সময়ের জন্য বিশ্বকবি রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে এখানে নাকি ব্রাহ্মমন্দিরের উদ্দেশে নেমেছিলেন। তবে প্রামাণ্য কিছু জানা নেই। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসে সপ্তাহখানেক থাকার পর ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন। তাই ঘটনা সত্তিও হতে পারে।