18/08/2026
অনেকেই প্রশ্ন করেন—‘ঢাকা হজ কাফেলার লাইসেন্স আছে কি না?’
আলহামদুলিল্লাহ, ঢাকা হজ কাফেলা দুটি হজ লাইসেন্সের পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।
প্রথমটি ৭০৮ নম্বর লাইসেন্স। এখানে আমি, ইব্রাহিম খলিল, বর্তমানে ম্যানেজার ও ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি hajj.gov.bd ওয়েবসাইটে যাচাই করা যাবে। যেহেতু এটি প্রোপ্রাইটরশিপ লাইসেন্স, তাই মালিকানা আপডেট হতে কিছুটা সময় লাগছে।
দ্বিতীয়টি মাম ট্রাভেলস, ৯১৬ নম্বর লাইসেন্স। এখানে আমি সিইও পদে নিযুক্ত আছি।
এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের লিখিত পার্টনারশিপ চুক্তি রয়েছে এবং এখানে ৯৫% হাজি আমাদের। চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স পরিচালনা, ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড এবং লিড করার পূর্ণ ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
এখন প্রশ্ন হলো—বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে নতুন করে হজ লাইসেন্স দেওয়া না হলে, যারা নতুন করে হজের কাজে আসতে চান, তারা কীভাবে কাজ করবেন?
বাংলাদেশের প্রথম সারির অনেক আলেমও কোনো না কোনো লাইসেন্সধারী হজ এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত হয়েই হজের কাজ করছেন। দেশের অধিকাংশ হাজিও বিভিন্ন গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে হজে যান। তাহলে গ্রুপ লিডারদের ভূমিকা কি পুরোপুরি অস্বীকার করা যায়?
আমরা গত বছর ‘ঢাকা হজ কাফেলা’ নামে হজ ও ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। মূল এজেন্সি হিসেবে ব্রিটেনিয়া ও মাম ট্রাভেলসের নামেই কাজ করেছি। হাজিদের সঙ্গে কমিটমেন্ট ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, সময়মতো ফ্লাইট না দেওয়া বা হাজির অর্থ আটকে রাখার মতো কোনো অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে নেই।
প্রতিটি হাজির প্রাক-নিবন্ধন আমরা নিজেদের অর্থে অগ্রিম করেছি এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের ইউজারনেম-পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে অফিস থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, লাইসেন্সধারীরা অনেক সময় লাইসেন্স বিক্রি করতে চান না, আবার নতুন উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করেও কাজ করতে দিতে চান না। ফলে যারা দীর্ঘদিন ধরে হজের কাজ করতে চান, তাদের সামনে কার্যত নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্সের ওপর নির্ভর করা ছাড়া পথ থাকে না।
একজন উদ্যোক্তা কয়েক বছর সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড তৈরি করবেন, হাজিদের সেবা দেবেন—কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের কোনো স্বতন্ত্র লাইসেন্স বা পরিচয় থাকবে না—এটা কি একটি সুস্থ ও ন্যায্য ব্যবস্থা হতে পারে?
আমাদের দাবি খুবই পরিষ্কার:
হয় নতুন করে হজের লাইসেন্স দেওয়া হোক, অথবা লাইসেন্সধারী এজেন্সি, গ্রুপ লিডার ও নতুন উদ্যোক্তাদের কাজের জন্য একটি স্বচ্ছ, বৈধ ও কার্যকর নীতিমালা করা হোক।
আর যদি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈধভাবে যুক্ত হয়ে, তাদের কাঠামোর অধীনে হজের কাজ করা অবৈধ না হয়, তাহলে যারা এভাবে কাজ করছেন—বিশেষ করে দেশের প্রথম সারির আলেমদের—তাদের কার্যক্রমকে ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করার আগে বাস্তবতা ও আইনগত কাঠামো বিবেচনা করা জরুরি।