07/05/2025
বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে যে ৫টি ডকুমেন্ট লাগবেঃ
১। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট:
আপনি যদি অনার্সের জন্য আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে আপনার SSC এবং HSC পরীক্ষার ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট লাগবে। মাস্টার্সের জন্য আবেদন করলে, অনার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
২। IELTS সার্টিফিকেট:
IELTS স্কোর কত থাকা উচিত—এটি নিয়ে অনেকেই কনফিউশনে থাকেন। এক্ষেত্রে সেইফ স্কোর হচ্ছে 6.5 (with no band less than 6.0)। এই স্কোর থাকলে আপনি মোটামুটি সেইফ।
এর চেয়েও কম স্কোরে অনেকে অফার লেটার এবং ভিসা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে। আমি একটি স্ট্যান্ডার্ড স্কোর বললাম যেটা থাকলে আপনি প্রায় সব জায়গায় আবেদন করতে পারবেন।
আরেকটি বিষয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে রিকোয়ারমেন্ট ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি (Wichita State University) সেখানে Graduate Teaching Assistant পজিশনের জন্য Speaking-এ ৭ থাকতে হয়, যদিও বাকি মডিউলে ৬ হলেই চলে। তাই, বেস্ট হচ্ছে আবেদন করার আগে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে রিকোয়ারমেন্ট ভেরিফাই করে নেয়া।
৩। Statement of Purpose (SOP):
সহজ করে বললে, SOP হচ্ছে ভর্তি কমিটির কাছে আপনার পরিচয়পত্র। আপনি কে, কী নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, ভবিষ্যতে কী করতে চান, ক্যারিয়ার লক্ষ্য কী—এসব সুন্দরভাবে SOP-এ তুলে ধরতে হবে। ভর্তি এবং স্কলারশিপ—উভয় ক্ষেত্রেই SOP অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪। Letter of Recommendations (LoRs):
Letter of Recommendation মানে হলো আপনাকে চিনেন এই রকম একজন আপনাকে এবং আপনার এপ্লিকেশনকে সমর্থন ও সত্যতা দিচ্ছেন। সাধারণত এটি আপনার আগের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দিয়ে থাকেন।
আপনি যদি চাকরিজীবী হন এবং যেই বিষয়ের উপর আবেদন করছেন তা যদি আপনার চাকরির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে আপনার এমপ্লয়ারের কাছ থেকেও Recommendation Letter নিতে পারেন।
যাদের কাছ থেকে LoR নিতে চান, তাদের সাথে আগে থেকেই কথা বলে রাখুন। আবেদন করার সময় সাধারণত recommender-দের ইমেইল আইডি দিতে হয়, তখন সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি রিকোয়েস্ট চলে যায়।
ব্যাচেলর প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে Recommendation Letter লাগে কিনা এ ব্যাপারে আমার ঠিক জানা নেই তবে মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে এটি মাস্ট এবং আপনার ভর্তি ও ফান্ডিং—দু’টোতেই recommendation letters গুরুত্বপূর্ণ ভুমিয়া পালন করে।
৫। CV বা Academic Résumé:
আবেদনের সময় একটি একাডেমিক CV লাগবে। CV-তে হাবিজাবি জিনিসপত্র দেয়া থেকে বিরত থাকুন। অনেকেই CV-তে নিজের ছবি দিয়ে থাকেন। Don’t do it. আমেরিকান একাডেমিক সিভিতে ফটো ব্যবহার করা হয় না। সিভিতে আপনার শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড, স্কিলস, রিসার্চ, পাবলিকেশন, ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স ইত্যাদি গুছিয়ে প্রেজেন্ট করুন।
পাব্লিকেশন বা রিসার্স অভিজ্ঞতা না থাকলে নার্ভাস হবেন না। অনার্সের একটা ছেলের পাব্লিকেশন থাকবে না এটাই স্বভাবিক তাই সিভি ভারী করার জন্য অহেতুক মিথ্যা বা ভুল তত্ত্য দিবেন না।
আপনার কোনো সিনিয়র যদি বিদেশে পড়তে যান, তাদের কাছ থেকে SOP বা CV দেখে আইডিয়া নিতে পারেন। তবে যদি কেউ দিতে না চায়, তাহলে মন খারাপ করবেন না। SOP ও CV পার্সোনাল ডকুমেন্টস—এগুলো শেয়ার করা একান্তই ঐ ব্যক্তিগত বিষয়। গুগল থেকে ধারণা নিন। অনলাইনে অলমোস্ট সব সাবজেক্টের উপর স্যাম্পল SOPs পাওয়া যায়। ChatGPT ব্যবহার করে SOP লিখবেন না।
চলবে…
Copyright: IELTS Mahir