05/01/2026
কনে দেখতে এসে ঘরভর্তি আত্মীয়স্বজনের সামনে পাত্রের বাবা হাসিমুখে বললেন,
—“আপনাদের কিছু জানার থাকলে বলতে পারেন।”
ঠিক তখনই ইশা হঠাৎ করেই পাত্রের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
—“আপনি কি ঘুরতে পছন্দ করেন?”
ঘরের ভেতর মুহূর্তে অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এলো।
ইশার বোন ফিসফিস করে বললো,
—“আরে এসব কেন…”
বলেই বোনের হাত চেপে ধরলো।
আত্মীয়স্বজনরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। কেউ কিছু বলছে না।
ইশা আবার জিজ্ঞেস করলো,
—“করেন?”
পাত্র হেসে বললো,
—“ঘুরতে তো সবাই পছন্দ করে।”
—“সবার মতো না,” ইশার কণ্ঠ দৃঢ়,
“আপনি বিশেষভাবে পছন্দ করেন কিনা?”
ইশার বাবা তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন,
—“এসব কি বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন! পাগলী মেয়ে আমার। তা ফারহান, আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছেন?”
ইশার মুখটা মুহূর্তেই গোমড়া হয়ে গেল।
মাথা নিচু করে সে নিজের নখ খুঁটতে লাগলো।
তার প্রশ্নটা কেউ গুরুত্বই দিল না—এই কথাটাই বেশি করে চোখে লাগলো।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে—এটাই কি সবচেয়ে জরুরি?
পাত্রপক্ষ চলে গেল।
যাওয়ার আগে জানিয়ে গেল, ইশাকে তাদের বেশ পছন্দ হয়েছে।
এখন দুই পরিবার পরস্পরের বাড়িঘর দেখে নেবে, তারপর দিনক্ষণ পাকা।
ইশা নিজের ঘরে বসে রইলো, মনটা ভারী।
মা ঢুকতেই সে বলে উঠলো,
—“মা, এত সহজে বিয়ে হয়? আর কথা বলার দরকার নেই?”
মা শান্ত গলায় বললেন,
—“যথেষ্ট খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ভালো কোম্পানিতে চাকরি করে, ভালো ফ্যামিলির ছেলে।”
—“কিন্তু মা,” ইশার গলা কেঁপে ওঠে,
“আমার কি কিছু জানার থাকতে পারে না? আমার সঙ্গে মনের মিল হবে কিনা—এগুলো?”
—“বিয়ে ঠিক হলে ফোনে কথা বলবি। কথা বললেই মনের মিল হয়।”
—“এভাবে মনের মিল হয়?”
মা হালকা হেসে বললেন,
—“আমার বিয়ের দিনই রেজিস্ট্রি হয়েছিল। আমাদের কি মিল হয়নি?”
—“ঘণ্টা মিল,” ইশা বিরক্ত হয়ে বললো,
“ছেলের নাম্বার দাও।”
—“লজ্জা শরম নেই?”
মা উঠে গেলেন।
ইশা গালে হাত দিয়ে বসে পড়লো।
এত সহজে সে কারো হয়ে যাবে?
এত অল্প কথায়?
আরও কত কিছু জানার ছিল…
কিন্তু জানার সুযোগ এলো না।
তার আগেই বিয়ের দিনক্ষণ পাকা।
একদিন সন্ধ্যায় ফেসবুকে নক এলো।
ফারহান।
ইশা সালামের জবাব দিয়ে সরাসরি বললো,
—“আমার প্রশ্নের উত্তর এখনও পাইনি।”
—“হা হা, আপনি বোধহয় রেগে আছেন?”
—“একটু,”
তারপর আবার,
“আমার সম্পর্কে কিছু না জেনেই আপনি রাজি হলেন কেন?”
—“সবই তো জানা।”
—“কচু জানা,” ইশা বললো।
“আপনি ঘুরতে ভালোবাসেন?”
—“আবার সেই প্রশ্ন!”
কল এলো।
—“সবাই বলছে আপনি নাকি খুব ঘুরুন্টি,”
ফারহান হেসে বললো।
—“তা হলে শুনে রাখুন,”
ইশা দৃঢ় কণ্ঠে বললো,
“আমি প্রচুর ঘুরতে চাই। আপনি রাজি না হলে বিয়ে ক্যানসেল।”
তারপর স্বপ্নের কথা বললো—
পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য, পুরো বাংলাদেশ, তারপর পৃথিবী।
ফারহান চুপচাপ শুনলো।
সে নিজে ভ্রমণভীতু।
কক্সবাজারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
কিন্তু ইশার কথা শুনে তার মনে হলো—
হয়তো ভালোবাসার মানুষ পাশে থাকলে ভয়টা কমে যাবে।
সেদিন রাতে সে বিয়ের জন্য জমানো টাকা থেকে কিছু আলাদা করে রাখে।
মা জানতে চাইলে বলে,
—“এটা আমার লাগবে।”
এই টাকাগুলো একদিন ইশার হাতে দিয়ে বলবে—
“আমাদের প্রথম হানিমুনের বাজেট।”
ইশার উচ্ছ্বসিত মুখটা কল্পনা করতেই
ফারহানের ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে।
✦✦✦
সমাপ্ত
লেখা: মিশু মনি