27/07/2026
এই লাইনে কাজ করতে করতে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে শিখেছি,
বাংলাদেশে ভিসার ব্যবসা শুধু ব্যবসা না, এটা ধৈর্যের পরীক্ষা, মানসিক চাপের যুদ্ধ, আর মানুষের আসল চেহারা চেনার জায়গা।
ভিসা হওয়ার আগে যাত্রীদের অনেকেই এমন ভাব নেয়, যেন এজেন্সি টাকা নিয়ে বসে আছে, কাজ করছে না, শুধু ঘুরাচ্ছে।
অগ্রিম টাকা চাইলে মনে করে, “এই বুঝি টাকা মেরে দিবে!”
কিন্তু ভাই,
ভিসা হওয়ার আগ পর্যন্ত যে দৌড়ঝাঁপ, যে রিস্ক, যে ইনভেস্টমেন্ট, যে টেনশন, যে দায়ভার, সেটা এজেন্সিকেই নিতে হয়।
ফাইল সাবমিট, ফলোআপ, ডকুমেন্ট, প্রসেসিং, লোকজন সামলানো, চাপ নেওয়া, ঝুঁকি নেওয়া
সবকিছু এজেন্সির ঘাড়ে।
আর যাত্রীর ডায়লগ?
“ভাই, ভিসা হলেই টাকা কোনো ব্যাপার না।”
“টেবিলে বসেই সব ক্লিয়ার করে দিব।”
“আপনি শুধু ভিসাটা করান।”
তারপর যখন সত্যি সত্যি ভিসা হয়ে যায়, তখনই শুরু হয় আসল সিনেমা।
ফোন দিলে ধরে না।
ধরলেও বলে,
“ভাই একটু ব্যস্ত ছিলাম…”
“টয়লেটে ছিলাম…”
“২ দিন সময় দেন…”
“টাকা জোগাড় করছি…”
“এত টাকা তো হাতে থাকে না…”
“পরিবার এখনো রাজি না…”
“ম্যানপাওয়ার হলে দিব…”
“টিকিট কাটেন, তারপর দিয়ে দিচ্ছি…”
মানে ভিসা হওয়ার আগে যে লোকের কাছে লাখ লাখ টাকা কোনো বিষয়ই ছিল না,
ভিসা হওয়ার পর সেই লোকের কাছে নিজের পাওনা টাকা চাইতে চাইতে এজেন্সির অবস্থা হয়ে যায় ভিক্ষুকের মতো।
সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা কোথায় জানেন?
নিজের পকেট থেকে খরচ করে, নিজের সুনাম দিয়ে, নিজের দায়িত্বে কাজ শেষ করতে হয়।
আর কাজ হয়ে যাওয়ার পর সেই পাওনা টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ফোন, বারবার রিকোয়েস্ট, বারবার অপেক্ষা।
এই সেক্টরে টাকা কামানোর আগে মানুষকে সহ্য করতে শিখতে হয়।
কারণ এখানে শুধু ভিসা প্রসেস হয় না,
এখানে মানুষের প্রতিশ্রুতির দাম, বিশ্বাসের ওজন, আর কথার মূল্যও মাপা হয়।
সব যাত্রী খারাপ না।
অনেক ভালো মানুষ আছেন, যারা কথা দিলে কথা রাখেন, সময়মতো পেমেন্ট করেন, সম্মান দেন।
তাদের জন্যই এখনো এই সেক্টরে টিকে থাকা যায়।
কিন্তু কিছু মানুষ আছে, যারা ভিসা হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত “ভাই ভাই” করে,
আর ভিসা হাতে পেলেই এমন আচরণ করে যেন এজেন্সির পাওনা টাকা চাওয়া একটা অপরাধ।
এই পোস্টটা কাউকে ছোট করার জন্য না।
এই পোস্টটা শুধু তাদের জন্য,
যারা মনে করে এজেন্সির টাকা, সময়, পরিশ্রম, রিস্ক আর মানসিক চাপের কোনো দাম নেই।
ভিসা শুধু কাগজ না।
এর পেছনে কারও ঘুমহীন রাত থাকে, কারও টেনশন থাকে, কারও নিজের পকেটের টাকা থাকে।