16/05/2026
বায়তুল্লাহতে প্রবেশের আদাব
-----
১. হোটেলে পৌঁছে ব্যাগ-ব্যাগেজ রেখে ওজু-গোসল করে ধীরেসুস্থে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে।
২. আল্লাহ তাআলার সম্মান, মযাদা, বড়ত্ব, মহত্বের কথা ভাবতে ভাবতে হোটেল থেকে রওয়ানা দিব। মুখে থাকবে তালবিয়া।
৩. সম্ভব হলে বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করব। অন্য দরজা দিয়ে হারাম শরীফে প্রবেশ করলেও কোনো সমস্যা নেই।
৪. মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় এই দোয়া পড়ব,
بِسْمِ اللَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، رَبِّ اغْفِرْلِيْ ذُنُوْبِيْ وَافْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِك
“বিসমিল্লাহি, ওয়াস্-সালাতু ওয়াস্-সালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ। রাব্বিগফিরলী ওয়াফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক।
আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। ইয়া রব, আমার পাপরাশি ক্ষমা করুন, এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।
৫. মসজিদে প্রবেশের সময় এতেকাফের নিয়ত করব।
৬. হাঁটতে হাঁটতে তালবিয়া পড়তে থাকব। ফাঁকে ফাঁকে দুরুদ শরীফও পড়তে পারি।
৭. কাবা শরীফ প্রথম দেখার মুহূর্তটি অত্যন্ত বরকতময়, এ সময় দোয়া কবুল হয়। মসজিদুল হারামে আসার আগেই কাবা শরীফ দেখার পর কী দোয়া করব, সেটা ঠিক করে রাখব।
৭. কাবা শরীফ দেখার পর তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে তিনবার আল্লাহু আকবার বলব, তারপর তিনবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলব। তারপর দুরুদ পাঠ করব।
৮. তারপর এই দোয়া পড়তে পারি,
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ، فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلاَمِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, ফাহাইয়্যিনা রাব্বানা বিসসালাম।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (শান্তির আধার), আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে। অতএব, হে আমাদের রব!
আমাদের শান্তির সাথে বাঁচিয়ে রাখুন।
২. পাশাপাশি কাবাঘরের সম্মান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে পারি,
اللَّهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَشْرِيفًا وَتَعْظِيمًا وَتَكْرِيمًا وَمَهَابَةً، وَزِدْ مَنْ شَرَّفَهُ وَكَرَّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ أَوِ اعْتَمَرَهً تَشْرِيفًا وَتَكْرِيمًا وَتَعْظِيمًا وَبِرًّا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা যিদ হাজাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা'জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মাহাবাতান; ওয়া যিদ মান শাররাফাহু, ওয়া কাররামাহু মিম্মান হাজ্জাহু আওয়ি'তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তাজিমান।
অর্থ: "হে আল্লাহ! এই ঘরের সম্মান, মর্যাদা, কদর ও ভীতি বাড়িয়ে দিন। আর যে ব্যক্তি এই ঘরকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে—হজ বা উমরার মাধ্যমে—তারও সম্মান, মর্যাদা, কদর ও পুণ্য বাড়িয়ে দিন।
৩. তারপর এই দোয়া পড়তে পারি,
اللهُمَّ إِنِّيْ أَسْئَلُكَ رِضاكَ والجنَّةَ وَأَعُوْذُ بك من غَضَبِكَ والنارِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউযু বিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান নার।
ইয়া আল্লাহ, আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাত প্রার্থনা করছি। আপনার অসন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে পানাহ চাইছি।
- শায়খ আতিক উল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ