19/06/2022
রাসুল (ﷺ) কে আল্লাহ তাআলা যে সমস্ত গুণ দান করেছিলেন, তার মধ্যে একটি হলো “জাওয়ামিউল কালিম” অর্থাৎ অল্প কথাতেই ব্যাপক অর্থবোধক কিছু বুঝিয়ে দেয়া। তিনি যে সমস্ত দুআগুলো আমাদের শিখিয়েছেন, সেগুলো দেখলেও আমরা এর প্রমান পাই। যেমন একটি দুআ হলো-
রাসুলের চাচা আব্বাস (রা)কে রাসুল (ﷺ) যেটি শিখিয়েছিলেন।
اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْعَافِيَةَ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াহ।)
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে “আফিয়াহ” চাই।
“আফিয়ার” অর্থ কি ?
- আফিয়াহ অর্থ দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্ত থাকা।
- যদি আপনি সুস্থ থাকেন, আপনি আফিয়াহতে আছেন।
- যদি প্রয়োজন মাফিক রিযিক থাকে আপনার, যদি জীবনকে আপনি উপভোগ করতে পারেন, যদি আপনার সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকে সবধরনের অনিষ্টতা থেকে, আপনি আফিয়াহতে আছেন।
- যদি আপনাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদি দেয়া না হয় কোন শাস্তি বা আযাব, আপনি আফিয়াহতে আছেন।
সুবহানাল্লাহ! কত সংক্ষিপ্ত দুআ, অথচ কী ব্যপক অর্থবোধক। আপনি আফিয়াহ চাচ্ছেন, তার মানে আপনি আল্লাহকে বলছেন, তিনি যেন আপনাকে বাঁচিয়ে রাখেন যে কোন যন্ত্রনা, কষ্ট, অসচ্ছলতা, ক্ষতি ও পরিক্ষা থেকে। দুনিয়া আখিরাতের যাবতীয় মুসিবত থেকে।
আব্বাস (রা)কে যখন রাসুল (ﷺ) দুআটির কথা বললেন, তিনি প্রথমে উত্তর দিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এত ছোট দুআ, আমি তো আরও বড় কিছু চেয়েছিলাম।
রাসুল (ﷺ) জবাব দিয়েছিলেন- প্রিয় চাচা! আল্লাহর কাছে আফিয়াহ চান। দেয়ার মত আফিয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
~সুনানে তিরমিযি ২৬৭৫ ও রিয়াদুস সালেহীন।
অগনিত সম্পদ।
বিলাসী জীবন-যাপন এইগুলো কি এক বাক্যে সুখের সংঙ্গাকে প্রকাশ করে?
-আমার মতে অবশ্যই না। কারন এই সবকিছু নিমিষে যে জিনিষটি শোষন করে নেয় তা হল অসুস্থতা।সুতরাং আপনার সুস্থ শরীরের জন্য সবসময় রবের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।