01/02/2026
সেদিন একটি পোস্টে জানতে চেয়েছিলাম—কে কে বায়তুল্লাহর মুসাফির হতে চান? সেখানে এক বোনের একটি কমেন্ট পড়লাম;
“InshaAllah… amar mahram nai.”
মাত্র চারটা শব্দ।
কিন্তু আমি মুহূর্তে থেমে গেলাম।
এই ছোট্ট লাইনের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, একজন নারীর আজীবনের আকাঙ্ক্ষা, কাবা দেখার স্বপ্ন, আর চুপচাপ মেনে নেওয়া এক গভীর সবর।
আমরা হজ্জ ও উমরাহর অনেক ছবি দেখি,
ভেজা চোখ, সাদা এহরাম, কালো কাবা। কিন্তু আমরা খুব কমই দেখি সেই নারীদের গল্প;
যারা শুধু একটি কারণে থেমে আছেন—“আমার মাহরাম নেই।”
এটা কোনো অজুহাত নয়।
এটা অনেকের জীবনের বাস্তবতা।
🌍 বাস্তবতা: যা আজ চলছে
বাংলাদেশ থেকে অনেক নারী হজ্জ ও উমরাহ পালনে সফর করছেন—মাহরাম ছাড়া।
গত বছর হজের সময় (২০২৫) এক ঘটনা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
ফরজ তাওয়াফ, সাঈ ও জামারার সময়—ভিড় প্রচণ্ড। এক বোন কাছে এসে বললেন,
“ভাই, খুব ভয় লাগছে… আমাকে একটু সাথে রাখবেন প্লিজ”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“আপনার সাথে কে এসেছেন?”
তিনি বললেন—একাই।
আমি কিছুক্ষণ থেমে গেলাম।
পরে অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেল—তার ভাইও এসেছে। বুঝলাম, হজ রেজিস্ট্রেশনের সময় বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল।
এখানে কাউকে দোষারোপ করার জায়গা নেই।
কারণ প্রায় ৩০০ হাজিকে একে একে যাচাই করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু প্রশ্নটা থেকে যায়,
এই ঝুঁকিটা কি আদৌ প্রয়োজন ছিল?
❓ তাহলে ইসলাম কী চায়?
ইসলাম কখনো নারীর কষ্ট চায় না।
ইসলাম কখনো নারীকে বঞ্চিত করতে আসেনি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নারীর সফরের ক্ষেত্রে মাহরাম থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা কোনো সামাজিক নিয়ম নয়—এটা নিরাপত্তা, মর্যাদা ও রহমতের অংশ।
⚖️ শরিয়ত ও সুন্নাহ কী বলে?
মূলনীতি পরিষ্কার;
👉 নারীর দীর্ঘ সফরে মাহরাম থাকা।
ফিকহে কিছু ভিন্নমত আছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য দল ও সংগঠিত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। কিন্তু একটি মতও এই কথা বলে না যে, মাহরামের বিষয়টি গুরুত্বহীন।
🧕 মাহরাম মানে কে?
• যার সাথে বিয়ে হারাম
• যে নিরাপত্তার প্রতীক
• যে বলে: “তুমি একা নও”
🛡️ মাহরাম থাকার সুবিধা
• শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা
• বিপদে আশ্রয়
• সিদ্ধান্তে সাহস
• ইবাদতে প্রশান্তি
⚠️ না থাকার অসুবিধা
• নিরাপত্তাহীনতা
• একাকিত্ব
• মানসিক চাপ
• অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি
এগুলো কল্পনা নয়—বাস্তব অভিজ্ঞতা।
🤍 যারা থেমে আছেন—তাঁরা কারা?
তাঁরা সেই নারীরা, যারা চাইলেও থেমে যান।
প্রতি বছর বহু নারী আমাদের অফিস থেকে ফিরে যান, কারণ আমরা মাহরাম ছাড়া কাউকে নিই না।
আমাদের শরিয়াহ টিমের সহায়তায় যখন তারা বিষয়টি বোঝেন, অনেকেই কষ্ট পেলেও শেষমেশ বলেন,
“ঠিকই করেছেন।”
কারণ তারা বোঝেন; এটা বঞ্চনা নয়, এটা দায়িত্ব।
আমাদের একটি বিশ্বাস আছে,
আল্লাহ তা'আলা বান্দার নিয়ত দেখেন, বান্দার মান্যতা দেখেন, বান্দার থেমে থাকাকে দেখেন।
যে সব বোনেরা কাবা দর্শনের গভীর আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে লালন করেন, হজ পালনের প্রত্যয় রাখেন, কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর আদেশকে সম্মান করে নিজেদের চাওয়ার জায়গা থেকে সরে আসেন—তাদেরকে মহান রব আল্লাহ শূন্য হাতে ফেরান না।
আল্লাহ কতটুকু সওয়াব দান করবেন, তা নির্ধারণ করা আমাদের কাজ নয়। কিন্তু এটুকু আমরা জানি—আল্লাহ কারো খাঁটি নিয়ত অপচয় করেন না। তিনি অশেষ দানশীল, অশেষ করুণাময়।
🌱 ইসলাম আপনাকে বঞ্চিত করছে না
আপনি যদি মাহরাম না থাকার কারণে থেমে থাকেন, ইসলাম আপনাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে না। বরং ইসলাম আপনাকে বলছে;
• আমি তোমার নিরাপত্তা চাই।
• আমি তোমার সম্মান চাই।
• আমি তোমার সবরের মূল্য দেব।
ইয়া রব্ব!
যাই হোক, আমরা আমাদের হজযাত্রীদের জন্য ১৪–১৫টি পূর্ণাঙ্গ হজ প্রশিক্ষণ সেশন রাখি। সেখানে যা ঘটে তা আপনি উপস্থিত না থাকা ছাড়া বুঝবেন না।
এমন কি, যারা আমাদের হজ এজেন্সির হাজি নন, কিন্তু হজ শেখার বা হজ প্রশিক্ষনের বিষয়ে অনেক আগ্রহী তাদের জন্য প্রায় ১০টি সেশন রাখি।
এই সেশনগুলো উন্মুক্ত, মানে একদম ফ্রি–আমাদের থেকে হজ প্যাকেজ নেওয়া শর্ত নয়, এমন কি প্রশিক্ষনের জন্য আলাদা কোন ফি/ খরচও নেই।
সেশনের ছবি, ভিডিও বা উন্মুক্ত সেশনের লিংক—কোনটি চান সেটা কমেন্টে বলুন। আমরা দেবো, ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে–হে প্রিয় বোন,
আপনার কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ জানেন। আপনার নীরব কান্না তিনি শোনেন। আজ না হোক কাল, কাল না হোক একদিন, আল্লাহ কারো নেক নিয়ত অপচয় করেন না।
আল্লাহ সহজ করুন, কবুল করুন, আমিন 🤲 copy