27/05/2026
বৃষ্টিভেজা বিকেল ছিল সেদিন। শহরের ব্যস্ত রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা কফিশপে বসে ছিল নীল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ, কিন্তু তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল কাঁচের বাইরে।
হঠাৎ দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল একটা মেয়ে। সাদা নীল শাড়ি, ভেজা চুল আর চোখে এক অদ্ভুত মায়া। মেয়েটি চারপাশে তাকিয়ে খালি সিট খুঁজছিল। কফিশপে আর কোনো জায়গা না থাকায় নীল একটু ইতস্তত করে বলল—
“আপনি চাইলে এখানে বসতে পারেন।”
মেয়েটি মৃদু হেসে বলল,
“ধন্যবাদ।”
সেই হাসিটা যেন নীলের ভেতর কোথাও গিয়ে থেমে রইল।
মেয়েটির নাম ছিল মেঘলা। নামের মতোই শান্ত, নরম আর একটু রহস্যময়। প্রথমদিন খুব বেশি কথা হয়নি। কিন্তু এরপর প্রায়ই তাদের দেখা হতে লাগল সেই একই কফিশপে। কখনো বই নিয়ে আলোচনা, কখনো বৃষ্টির গল্প, কখনো আবার নীরবতায় কেটে যেত পুরো বিকেল।
একদিন মেঘলা হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,
“তুমি এত চুপচাপ কেন?”
নীল হেসে বলল,
“সব অনুভূতি শব্দে বলতে নেই।”
মেঘলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
“তাহলে একদিন না বলা কথাগুলো শুনব আমি।”
সেদিনের পর থেকে নীল বুঝতে পারল, সে বদলে যাচ্ছে। জীবনে প্রথমবার কারো অপেক্ষা তার ভালো লাগতে শুরু করেছে। ফোনের ছোট্ট একটা মেসেজও তার মুখে হাসি এনে দিচ্ছে।
শীতের এক সন্ধ্যায়, শহরের লাইটগুলো যখন একে একে জ্বলছিল, নীল মেঘলাকে নিয়ে গেল নদীর পাড়ে। চারদিকে ঠান্ডা বাতাস আর নরম কুয়াশা। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর নীল ধীরে বলল—
“জানো মেঘলা, আমি কখন যে তোমাকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছি, বুঝতেই পারিনি।”
মেঘলা চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর মৃদু হেসে বলল,
“আমিও তো প্রতিদিন তোমার অপেক্ষায় থাকি।”
নীল অবাক হয়ে তাকাতেই মেঘলা তার হাতটা আলতো করে ধরে বলল—
“ভালোবাসা হয়তো এমনই…
হঠাৎ করেই কেউ একজন পুরো পৃথিবী হয়ে যায়।”