15/02/2026
আপনি যখন মসজিদে নববীতে এক কাপ জমজম পানি হাতে নেন,
তখন কি কখনো ভেবে দেখেছেন;
এই পানি এখানে কীভাবে পৌঁছায়?
মক্কা থেকে মদিনার দূরত্ব প্রায় চারশ পঞ্চাশ কিলোমিটার। বিস্তীর্ণ মরুভূমি পেরিয়ে, প্রতিদিন জমজম পানি পৌঁছে যায় মসজিদে নববীতে। অনেকেই ভাবেন, হয়তো কোনো ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই পানি আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মক্কা ও মদিনার মাঝে এমন কোনো পাইপলাইন নেই।
প্রতিদিন বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত ট্যাংকারের মাধ্যমে জমজম পানি মক্কা থেকে মদিনায় আনা হয়। এই ট্যাংকারগুলোকে বলা যায় মোবাইল পাইপলাইন। দৈনিক প্রায় তিনশ টনের কাছাকাছি জমজম পানি বহন করা হয়, যাতে মসজিদে নববীতে আগত প্রতিটি মানুষ এই বরকতময় পানির অংশীদার হতে পারে।
মদিনায় পৌঁছানোর পর জমজম পানি সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। আগে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা হয়, নিশ্চিত করা হয় এর বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা। এরপর বিশেষ স্টিলের ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা করা হয়, এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা পাত্রে ভরে মসজিদের ভেতরে ও চত্বরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই পুরো ব্যবস্থার পেছনে কাজ করেন শত শত মানুষ। কেউ পরিবহন দেখভাল করেন, কেউ পরীক্ষার দায়িত্বে, কেউ পরিষ্কার ও সরবরাহ নিশ্চিত করেন। আমরা যখন এক ঢোক জমজম পানি পান করি, তখন এই বিশাল আয়োজন আমাদের চোখে না পড়লেও সেই ব্যবস্থা থেমে থাকে না।
জমজম শুধু পানি নয়। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রহমত, শিফা আর কবুলিয়তের ওয়াদা।
জমজম পানি পান করার সময় মনে রাখা দরকার, এই মোবারক পানি অপচয় করার জন্য নয়।
প্রতিটি ফোঁটা পান করতে হয় আদবের সঙ্গে, মন থেকে নিয়ত করে। কারণ জমজম পানি শুধু পান করার জন্য নয়, এটা বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করার জন্য।
🤲 আমাদের জন্য শুধু একটাই কাজ শুকরিয়া আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকা।
পোস্টঃ সংগ্রহীত।