রাজারবাগ পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম শিক্ষা কেন্দ্র,ঢাকা।

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • রাজারবাগ পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম শিক্ষা কেন্দ্র,ঢাকা।

রাজারবাগ পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম শিক্ষা কেন্দ্র,ঢাকা। আসসালামু-আলায়কুম

26/02/2026

গ্রীনলাইন জামে মসজিদ

26/02/2026
26/02/2026

🟪খতম তারাবিহ নামাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়া ও নেওয়া হারাম,নাজায়েয ও অবৈধ কিন্ত সুরা তারাবিহর বিনিময়ে টাকা দেওয়া ও নেওয়া জায়েজ। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।
➡️হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মা'কিল রাঃ থেকে বর্ণিত,তিনি এক রমজানে লোকদের নিয়ে তারাবিহ পড়ালেন। এরপর ঈদের দিন উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ তার কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দেরহাম পাঠাল।তিনি কাপড় জোড়া ও দেরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে,আমরা কুরআনের বিনিময় (কুরআন খতম তারাবীর নামাজের বিনিময়)
গ্রহণ করি না।[মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা:৫/২৩৭, হাদীস ৭৮২১, ফতোয়ায়ে হানাফিয়া: ৩২৬ পৃষ্ঠা]।

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা টাকা বা হাদিয়া দেওয়া-নেওয়া কিয়ামত পর্যন্ত হারাম ও নাজায়েজ। হালাল ও জায়েয বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবেনা। নামাজ বরবাদ হয়ে যাবে,গোনাহগার হবেন।
মসজিদ,ইবাদত বন্দেগী,ইমাম সংক্রান্ত বিষয়ে মনগড়া কার্যক্রম হারাম ও নাজায়েজ।

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি না? এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন দিলে জায়েয হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ফরয নামাযের ইমামতির বিনিময় যখন জায়েয তখন খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণও জায়েয হবে। এছাড়া হাফেজ সাহেবকে যদি দু’এক ওয়াক্ত ফরয নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তো নাজায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের একথা ঠিক কি না? ইমামতির হীলা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে তারাবীর বিনিময় বৈধ কি না?

উত্তর :
খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয,হারাম। হাদিয়ার নামে দিলেও জায়েয হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসাবে দিলেও জায়েয নয়। কারণ এক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন তারাবীহ এবং খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা, খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণের জন্য হিলা অবলম্বন করলেও তা জায়েয হবে না। কারণ খতমে তারাবীহ খালেস একটি ইবাদত,যা নামায ও রোজার মতো ‘ইবাদতে মাকসূদা’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে,না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।

নামাজ পড়ানোর ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয, কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না; বরং তা মূলতঃ খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর কুরআন তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা পৃথিবীর সকল ফকীহগনের নিকট সকল সময়েই হারাম। অধিকন্তু পরবর্তী ফকীহ্গণ যে ইমামতির বেতন জায়েয বলেছেন সেটা হল ফরজ নামাজের ইমামতি। সুন্নাত নামাজের জামাতের ইমামতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর কুরআন হাফেজদের দেওয়া বিনিময়কে জায়েয করার জন্য এই হিলা অবলম্বন করা যে, শুধু রমযান মাসের জন্য তার উপর দু-এক ওয়াক্ত নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হবে-এটা একটা বাহানা মাত্র; যা পরিহার করা জরুরী। কারণ এই হিলার যে বিনিমনয়টা তাকে ফরজের ইমাতির জন্য দেওয়া হচ্ছে আর তারাবীর খতম সে বিনিময়হীন ভাবেই করে দিচ্ছে। কিন্ত আপনার বিবেক-মনকে একটু প্রশ্ন করে দেখুন, যদি ওই হাফেয সাহেব তার দায়িত্বে অর্পিত ফরয নামাযের ইমামতি যথাযথ গুরুত্বের সাথেও আদায় করেন আর খতম তারাবীতে অংশগ্রহণ না করেন তবে কি তাঁকে ওই বিনিময় দেওয়া হবে,যা খতম তারাবী পড়ালে দেওয়া হত? এ কথা সুস্পষ্ট যে, কখনো তা দেওয়া হবে না।
বোঝা গেল,বিনিময়টা মূলত খতম তারাবীর,ফরজের ইমামতির জন্য নয়। এ জন্যই আকাবিরের অনেকে এই হিলা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দলীলের ভিত্তিতেও তাঁদের ফতোয়াই সহীহ। দেখুন : ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪

মর্মকথা হল, কুরআন তেলাওয়াত, বিশেষত যখন তা নামাযে পড়া হয়, একটি খালেস ইবাদত,যা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তু'ষ্টির জন্যই হওয়া চাই। তাতে কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্য শামিল করা গোনাহ। নিচে এ বিষয়ে কিছু হাদীস, আছারের অনুবাদ ও ফিকহের উদ্ধৃতি পেশ করা হল।

১.হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড়ো তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। কুরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।’(মুসনাদে আহমদ ৩/৪২৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৪০; কিতাবুত তারাবীহ)।

২.হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড়ো এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করো। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে,যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে(অর্থ চাইবে)।[মুসনাদে আহমদ ৪/৪৩৭; জামে তিরমিযী ২/১১৯]।

৩. ‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমজান মাসে লোকদের নিয়ে তারাবীহর নামাজ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ রহ. তাঁর কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া ও দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে,আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩৭)।

আরো দেখুন :
ফাতাওয়া শামী ৬/৫৭; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আল ইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার ২/৬২; শিফাউল আলীল ওয়াবাল্লুল গালীল (রাসায়েলে ইবনে ইবনে আবেদীন) ১/১৫৪-১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৫-৩১৯ ও ৩২২; রাফেউল ইশকালাত আনহুরমাতিল ইসি-জার আলাত্তাআত, মুফতিয়ে আযম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.।

➡️তাহলে করণীয় কি? সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মাসআলা-ফতোয়ার কিতাব থেকে জানতে হবে।
➡️খতমে তারাবিহ সংক্রান্ত সঠিক মাসালা হারিয়ে যেতে বসেছে। সকল মসজিদ কমিটি,হাফেজ-ইমামদের জন্য জানা প্রয়োজনঃ খতম তারাবিহ এর বিনিময়ে টাকা দেওয়া ও নেওয়া নাজায়েয ও অবৈধ বরং এরূপ খতমের দ্বারা সাওয়াবের ভাগী হওয়া যাবে না বরং গোনাহের কারণ হবে।
🟪➡️কুরআন খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। এর বিনিময় হাদিয়ার নামে দিলেও তা জায়েয হবে না। রমজানের খতম তারাবী খালেস একটি ইবাদত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় দেওয়া -নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐক্যমতের ভিত্তিতে নাজায়েয। সকল মাযহাব, লামাযহাবের মধ্যে কোন মতপার্থক্য নাই,পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাসআলা এক ও অভিন্ন।
⭕মাসআলাঃ⭕
কুরআন খতম তারাবিহর ইমামতি করে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।(ফতোয়ায়ে শামি-রদ্দুল মুহতার ৫/৪৭,দুররুল মুখতার ২/১৭৯,হিদায়া ৩/২৮৭, ফাতহুল কাদির ৮/৪১,ইমদাদুল মুফতিয়িন ২/৩৬৪,কিফায়াতুল মুফতি ৩/৩৮৪,ফতোয়ারে রহিমীয়া ১/৩৪৯, আহসানুল ফতোয়া ৩/৫১৫ )।
➡️বিনিময় লেনদেন হয় এমন খতম তারাবি শরিয়ত পরিপন্থী। এরূপ খতমের দ্বারা সাওয়াবের ভাগী হওয়া যাবে না বরং গোনাহের কারণ হবে। (এমদাদুল ফতোয়া ১/৪৮)।
➡️ছোট ছোট সুরা দিয়ে তারাবি পড়ে নিন। বিনিময় দিয়ে কোরআন শুনবেন না। কারণ কোরআন শোনানোর মাধ্যমে বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ নেই। (জাওয়াহেরুল ফিকহ ১/৩৮২)।
🟪➡️তবে যদি হাফেজ সাহেবকে রমজান মাসে 'সহকারী ইমাম' হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং দুই/তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়,তাহলে 'সহকারী ইমাম' হিসেবে টাকা নেওয়া ও দেওয়া জায়েজ হবে। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যে,হাফেজ সাহেবের নামে বা খতম তারাবিহর কথা বলে টাকা তোলা এবং সেই টাকা দিয়ে বেতন দেওয়া বৈধ হবেনা।(দুররুল মুখতার ২/১৭৯,ফতোয়ায়ে শামি-রদ্দুল মুহতার ৫/৪৬,হিদায়া ৩/২৮৭, ফাতহুল কাদির ৮/৪১,ইমদাদুল মুফতিয়িন ২/৩৬৪,কিফায়াতুল মুফতি ৩/৩৮৪, ফতোয়ারে রহিমীয়া ১/৩৪৯,আহসানুল ফতোয়া ৩/৫১৫ )।
🟪➡️দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতাওয়াঃ কুরআন খতম করে তারাবিহ পড়িয়ে বিনিময় নেওয়ার কাজ শরিয়াতের দৃষ্টিতে ঠিক নয়,নাজায়েজ। কোনো ইমাম যদি এইকাজে লিপ্ত হয়,তাহলে তার পেছনে নামাজ আদায় করা মাকরূহ হবে।(দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতাওয়া:Sd=12/1436-U/725-726, শরহুল ফিকহিল আকবার,মাওলানা ইলিয়াস ঘুম্মন,তুরস্ক,মাকতুবাতুস সুন্নাহ প্রকাশনী পৃষ্টা:৪১৬)।
🟪বিষয়টি বুঝার জন্য আরো বিস্তারিত জেনে নিই। বহু হাদিস ও দলিল প্রমাণের আলোকে উম্মতের ফকিহগণ তারাবিতে পবিত্র কোরআন খতমের বিনিময়ে বা হাদিয়া দেওয়া- নেওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম বলেছেন।
প্রখ্যাত ফকিহদের মতামত :
➡️১.হযরত রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী বলেন,তারাবিতে যে পবিত্র কোরআন পড়ে এবং শোনে তাদের বিনিময় দেওয়া হারাম। (ফতোয়ায়ে রশীদিয়া ৩৯২)।
➡️২.হযরত খলিল আহমদ সাহারান পুরী (রহ.) বলেন,বিনিময় দিয়ে পবিত্র কোরআন শোনা জায়েজ নয়। বিনিময় দানকারী এবং গ্রহণকারী উভয় গোনাহগার হবে। (ফতোয়ায়ে খলিলিয়া ১/৪৮)
➡️৩.হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন,বিনিময় লেনদেন হয় এমন খতম তারাবি শরিয়ত পরিপন্থী। এরূপ খতমের দ্বারা সাওয়াবের ভাগী হওয়া যাবে না বরং গোনাহের কারণ হবে। (এমদাদুল ফতোয়া ১/৪৮)।
➡️৪.মুফতি কেফায়াতুল্লাহ (রহ.) বলেন, তারাবিতে পবিত্র কোরআন শোনানোর বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ নেই। (কেফায়াতুল মুফতি ৩/২৬৫)।
➡️৫.হজরত মুফতি আযীযুর রহমান (রহ.) বলেন,বিনিময় গ্রহণ করে কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করা জায়েজ নেই। যাদের নিয়তে দেওয়া- নেওয়া আছে,তাও বিনিময়ের হুকুমে হবে। এমতাবস্থায় শুধু তারাবি আদায় করাই ভালো। বিনিময়ের কোরআন শরিফ না শোনা উত্তম। কিয়ামুল লাইলের সাওয়াব শুধু তারাবি পড়লেই অর্জন হয়ে যাবে। (ফতোওয়া দারুল উলুম ৪/২৪৬)।
➡️৬.হজরত মাওলানা মুফতি শফী (রহ.) বলেন,ছোট ছোট সুরা দিয়ে তারাবি পড়ে নিন। বিনিময় দিয়ে কোরআন শুনবেন না। কারণ কোরআন শোনানোর মাধ্যমে বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ নেই। (জাওয়াহেরুল ফিকহ ১/৩৮২)।
➡️৭.সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত মারেফুল কোরআন-পবিত্র কোরআনুল করীমের ৩৫ পৃষ্ঠায় লেখা আছে,
পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন খতম করানো হারাম। যেহেতু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন পড়া হারাম সুতরাং যে পড়বে এবং যিনি পড়াবেন উভয়েই গোনাহগার হবেন,এর বিনিময়ে কোন সওয়াব হবেনা।
➡️৮.তারাবিতে কোরআন পড়ার বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ নেই। কুরআন খতম তারাবীর হাদিয়া দানকারী এবং গ্রহণকারী উভয়েই গোনাহগার হবে। যদি বিনিময়বিহীন কোরআন শোনানোর মতো হাফেজ পাওয়া না যায়, তবে ছোট ছোট সুরা দিয়ে তারাবি পড়ে নেওয়াই উত্তম। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ৭/১৭১)।
➡️৯.খেদমতের নামে নগদ টাকা বা কাপড়চোপড় ইত্যাদি দেওয়াও বিনিময়ের মধ্যে শামিল। বরং তা বিনিময় ধার্য করা থেকেও জঘন্য। কারণ তাতে দুটি গোনাহ একত্রিত হয়। একটি কোরআনের বিনিময় গ্রহণের গোনাহ। দ্বিতীয়টি হলো,যে বিনিময় হচ্ছে তা মাসআলা-ফতোয়া নাজানার গোনাহ। (আহসানুল ফতোওয়া ৩/৫১৪)।
➡️এ বিষয়ে বেরলভি সম্প্রদায়ের মতামত :
বিশিষ্ট বেরলভি মুফতি আমজাদ আলী কাদেরী আজমী এক ফতোয়ায় লেখেন, বর্তমানে অধিক প্রচলন দেখা যায়, হাফেজ সাহেবকে বিনিময় দিয়ে তারাবি পড়া হয় যা জায়েজ নেই। দানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ই গোনাহগার হয়। এটুকু নেব বা এটুকু দেবে- এটিই শুধু বিনিময় নয়। বরং যদি জানা থাকে যে, এখানে কিছু পাওয়া যায়,যদিও তা নির্দিষ্ট নয়,তা নাজায়েজ। (বাহারে শরিয়ত ৪/৬৯২)।
➡️লা-মাজহাবি সম্প্রদায়ের ফতোয়া : লা-মাজহাবিদের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুর রহমান মোবারকপুরী লেখেন,ইমাম আহদ ইবনে হাম্বল (রহ.) এর কাছে বিনিময় নিয়ে তারাবি নামাজে ইমামতকারী ইমামের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, সেরূপ ইমামের পেছনে কে বা কারা নামাজ আদায় করবে? আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক বলেন,আমি বিনিময় নিয়ে নামাজ পড়ানোকে মাকরূহ মনে করি এবং আমার ভয় হয়,ওই সব লোকের নামাজ আবার পড়তে হবে কি না,যারা এমন ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করে। এরপর তিনি বলেন,আমার মত হলো,বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না। (ফতোয়ায়ে নজিরিয়া ১/৬৪২)
➡️মাওলানা আব্দুল্লাহ অমৃতসরী লেখেন,বিনিময়ের মাধ্যমে তারাবিতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা বা বিনিময় নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ হারাম। বরং এরূপ লোকের পেছনে তারাবিও হয় না। (ফতোয়ায়ে আহলে হাদিস ২/৩০২)।
🟪🟪কুরআন খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। এর বিনিময় হাদিয়ার নামে দিলেও তা জায়েয হবে না। রমজানের খতম তারাবী খালেস একটি ইবাদত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় দেওয়া -নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐক্যমতের ভিত্তিতে নাজায়েয। সকল মাযহাব, লামাযহাবের মধ্যে কোন মতপার্থক্য নাই,পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাসআলা এক ও অভিন্ন।
⏩আমাদের দেশের সকল মসজিদে পবিত্র রমজানে অধিকাংশ মসজিদে সুন্নাতে মুয়াক্কাদার তারাবিহ এর ২০ (বিশ) রাকাত নামাজ পড়ানো হয়। তারাবিহতে হাফেজ সাহেবদের দিয়ে কুরআন খতমের মাধ্যমে খতমে তারাবিহ পড়ানো হয় এবং ধর্ম প্রাণ মুসলমানেরা রমজান মাসে হাফেজ দের খতম তারাবিহ উপলক্ষে টাকা প্রদান করেন যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শরিয়তে নিষেধ।
⭕⏩প্রতিটি নারী পুরুষের ওপর রমজান মাসে এশা নামাজের পর ২০(বিশ) রাকাত তারাবিহ নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।(বাইহাকি শরিফ ২/৪৯৬,মুয়াত্তা মালেক ১/১১৫,মুসান্নাফ আবি শায়বা ২/২৮৫,ফতোয়ায়ে শামি-রদ্দুল মুহতার২/৪৫,ফতোয়ায়ে আলমগীরি ১/১১৭,আহসানুল ফতোয়া ৩/৫২৪, ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া ১১৯,ফতোয়ায়ে রাহমানিয়া১/৪৭৩)।
➡️উপরোক্ত দলিলভিত্তিক আলোচনার মধ্যে পরিস্কার ধারণা হলো,খতম তারাবিতে যেহেতু কুরআন খতমই মূল লক্ষ্য থাকে,তাই খতম তারাবিহ পড়িয়ে টাকা নেওয়া ও দেওয়া জায়েয নেই। কেননা,তা খতমেরই বিনিময় বলে গণ্য হবে। বিশেষ করে বর্তমানে আমাদের সমাজে রমযানের শেষে যে পদ্ধতিতে হাফেজগণের জন্য চাঁদা উঠানো হয় এবং হাফেজ সাহেবদের তা প্রদান করা হয়,তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কেননা,উক্ত পদ্ধতিতে শরিয়তে নিষিদ্ধ একাধিক কারণ বিদ্যমান।
➡️যদি কোথাও মসজিদের ইমামই তারাবিহর নামায পড়ান,হাফেজ সহকারী ইমাম হিসেবে তারাবিহর নামাজ পড়ান সেক্ষেত্রে পূর্ব চুক্তি ছাড়া ইমাম সাহেবকে অন্য মাসের তুলনায় বোনাস হিসাবে অতিরিক্ত হাদিয়া দেয়া যাবে। অথবা কোনো ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ থেকেই টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়ার ব্যাপারে পূর্ব চুক্তি না থাকলে এবং টাকা না দিলে কোনোরূপ অসন্তুষ্ট না হলে কোনো ব্যক্তি কাউকে কিছু না জানিয়ে একান্ত ব্যক্তিগত ভাবে বিনিময়ের নিয়ত ছাড়া হাফেজ সাহেবকে হাদিয়া স্বরূপ ‍কিছু দেন,তাহলে তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে।
🟪🟪এক্ষেত্রে মসজিদ কমিটি "রমজান মাসের মসজিদের হাদিয়া" বা রমজান মাস উপলক্ষে মসজিদের হাদিয়া" শিরোনামে টাকা সংগ্রহ করে মসজিদ কমিটি ইমাম ও সহকারী ইমামের বেতন,বোনাস প্রদান করবেন।
সকল মুসলমানদের পবিত্র রমজানে খতম তারাবিহ-খতম তারাবিহ নামাজ পড়ানোর শর্ত,খতম তারাবিহ এর নামে টাকা আদায় নাজায়েয এই গুরুত্বপূর্ণ সঠিক মাসালা জানা দরকার।
🟪আর যদি রমজান মাসে সুরা তারাবিহর নামাজ পড়িয়ে ইমাম সাহেবকে হাদিয়া আদায় করে প্রদান করা হয় তাহলে সেটা জায়েয।
➡️সকলের মনে রাখতে হবে,কুরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য,পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের ইলেম শিক্ষার জন্য শিক্ষকের বেতন দেওয়া ওয়াজিব (ফরজ)।(দুররে মুখতার,শামী,শিফাউল আলীল,মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৩৫)।
⭕সুরা তারাবিহর বিনিময় জায়েজঃ
ফরজ নামাজের ইমামতি করে যেমন টাকা নেওয়া জায়েজ,তেমনিভাবে 'সুরা তারাবিহর' ইমামতি করেও টাকা নেওয়া জায়েজ।(দুররুল মূখতার ২/১৭৯, বাহারুর রায়েক ১/২৫৪)।
🟪➡️মহিলা নয়,পুরুষের জন্য তারাবিহ জামাতে পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়াহ। তবে মহিলাদের জন্য জামাতে পড়া সুন্নত নয় বরং নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়া উত্তম।(ফতোয়ায়ে শামি ২/৪৫, আহসানুল ফতোয়া ৩/৫২৪, ফতোয়ায়ে রহিমিয়া ৪ /৩৯৮)।
🟥প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি পড়ালেখা শেষ করে মাওলানা হতে পারে কিন্তু প্রকৃত আলিম হতে পারে না। প্রকৃত আলিম হবার জন্য গভীর পাণ্ডিত্য ও যথাযথ আমল থাকা আবশ্যক। (ইকতিদাউল ইলম আল আমল-খতিব বাগদাদী পৃ:২১,বাংলা মাকতুবাতুস সুন্নাহ)।
🟥সুফিয়ান সাওরী বলেন, আলেম তিন প্রকারের; প্রথমঃ আলেম বিল্লাহ অআলেম বিআমরিল্লাহ। এই প্রকার আলেম হলেন তাঁরা, যাঁরা আল্লাহকে ভয় করেন এবং তাঁর হদ্দ্ ও ফারায়েযের জ্ঞান রাখেন। দ্বিতীয়ঃ আলেম বিল্লাহ, এঁরা আল্লাহকে ভয় তো করেন; কিন্তু তাঁর হদ্দ্ ও ফারায়েয সম্পর্কে অবগত নন। তৃতীয়ঃ আলেম বিআমরিল্লাহ, এঁরা আল্লাহর হদ্দ্ ও ফারায়েয সম্পর্কে তো অবগত; কিন্তু আল্লাহ-ভীতি থেকে বঞ্চিত। (ইবনে কাসীর)।
🟥সমাজের বেশির ভাগ মানুষ জানেনা কাহারা আলেম আর কাহারা জাহেল । মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী (রঃ) লিখেছেন বাংলাদেশের তিন দল লোক দাগাবাজ। এক দল আলেম;তারা আলেম না হয়ে আলেম সাজে,আরেক দল আলেম না হয়ে পীর সাজে,আরেক দল আলেম না হয়ে বক্তা সাজে,এই তিন দল লোক দাগাবাজ। এদের ফাঁদে সাধারন মানুষ আটকা পরে আছে। এদের থেকে দুরে থাকা ওয়াজিব।
🟥নিজের অজ্ঞতা ও পছন্দ অপছন্দকে ব্যবহার করে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দেওয়া কোন ভাবেই বৈধ নয়। বর্তমান সময়ে অনেক নামধারী আলিম ও পীর মাশায়েখকে এমন অপকর্ম করতে দেখা যায়। যেই বাতাসের জোড়ে পাল যেদিকে যায় সেই দিকে তারা চলে যায়। দ্বীনের বিষয়টি তাদের কাছে গৌণ হয়ে যায়। তাই বিভ্রান্ত মাওলানা অনুসরণ পরিহার করুন। আর অসৎ পীর শায়খদের দরবার ত্যাগ করুন।(ইকতিদাউল ইলম আল আমল-খতিব বাগদাদী পৃ:৩২,বাংলা মাকতুবাতুস সুন্নাহ)।

⭕⏩বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ হায়দার আলী হিটলু,পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম শিক্ষার্থী- মির্জাপুর পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও তাছাওউফ মাদ্রাসা এবং নায়েবে রাসুল হযরত মাওলানা শাহ মোঃ আবদুশ শাকূর দাঃবাঃ চার গ্রুপ টাইটেল ও ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা প্রাপ্ত আলেমের ছাত্র।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক-রাজারবাগ গ্লোবনিবাস জামে মসজিদ,ঢাকা। গ্লোবনিবাস রাজারবাগ ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি।

Address

গ্লোবনিবাস রাজারবাগ, ৩৭০-৩৭১ আউটার সার্কুলার রোড, শাহাজানপুর, ঢাকা ১২১৭
Dhaka
1217

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রাজারবাগ পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম শিক্ষা কেন্দ্র,ঢাকা। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share