31/05/2026
হজ্জ শুধু একটি সফর নয়, এটি আত্মার পুনর্জন্ম। কেউ কাবার গিলাফ ছুঁয়ে আসে, আবার কেউ কাবার মালিকের সাথে সম্পর্ক গড়ে ফিরে আসে। তাই আলেমগণ বলেন, হজ্জ কবুল হওয়ার সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো—হজ্জের পরে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসা।
এক ব্যক্তি ছিল, নাম ধরা যাক আবদুল্লাহ। বহু কষ্টে টাকা জমিয়ে তিনি হজ্জে গেলেন। আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি কাঁদলেন, মুযদালিফায় রাত কাটালেন, মিনায় জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করলেন। বাহ্যিকভাবে সব কাজই তিনি সম্পন্ন করলেন। কিন্তু তার অন্তরের ভিতরে তখনও অহংকার, হিংসা, মানুষের প্রতি কষ্ট দেওয়ার স্বভাব রয়ে গেল। দেশে ফিরে আসার পরও তার ভাষা বদলালো না, নামাজে মন বসলো না, মানুষের হক আদায়ের অনুভূতি জাগলো না। লোকেরা তাকে “হাজী সাহেব” বলে ডাকত, কিন্তু তার চরিত্রে হজ্জের আলো ফুটে উঠলো না।
অন্যদিকে আরেক ব্যক্তি ছিলেন—নিঃশব্দ, সাধারণ এক মানুষ। হজ্জে গিয়ে তিনি মিনার প্রান্তরে দাঁড়িয়ে অনুভব করলেন, আসল শয়তান তো বাইরের নয়, নিজের নফসের ভিতরে লুকিয়ে আছে। যখন তিনি জামারায় পাথর মারছিলেন, তখন মনে মনে নিজের অহংকার, লোভ, গুনাহ আর কুপ্রবৃত্তিকেই আঘাত করছিলেন।
লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত আছে—যাদের হজ্জ কবুল হয়, আল্লাহ তাআলা অদৃশ্যভাবে তাদের নিক্ষিপ্ত পাথরগুলো কবুল করে নেন; আর যাদের কবুল হয় না, পাথরগুলো সেখানেই পড়ে থাকে। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য শরয়ি দলিল নেই, তবু এর ভেতরে একটি গভীর ইশারা আছে—আল্লাহ শুধু পাথর দেখেন না, দেখেন অন্তরের অবস্থা।
সেই মানুষটি দেশে ফিরে এসে বদলে গেলেন। আগে যিনি নামাজে অবহেলা করতেন, এখন আজানের আগেই মসজিদে চলে যান। আগে মানুষের ভুল খুঁজতেন, এখন নিজের ভুলের জন্য কান্না করেন। আগে দুনিয়ার জন্য ব্যস্ত ছিলেন, এখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন সাজাতে শুরু করলেন। তার চোখে নম্রতা এল, কথায় মাধুর্য এল, অন্তরে আল্লাহর ভয় জন্ম নিল।
তখন গ্রামের এক বৃদ্ধ বললেন,
“হজ্জ কবুল হয়েছে কি না, তা কাবার দেয়াল বলে না; বলে মানুষের বদলে যাওয়া জীবন।”
হজ্জ কবুল হওয়ার কিছু নিদর্শন হলো—
গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
নামাজ, কুরআন ও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়া।
মানুষের হক আদায়ে সচেতন হওয়া।
অহংকার কমে বিনয় বৃদ্ধি পাওয়া।
দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতের চিন্তা বেশি হওয়া।
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর হওয়া।
আর হজ্জ কবুল না হওয়ার আশঙ্কাজনক লক্ষণ হলো—
হজ্জের পরেও গুনাহে ডুবে থাকা।
আগের মতোই জুলুম, প্রতারণা ও অন্যায় চালিয়ে যাওয়া।
ইবাদতের প্রতি উদাসীনতা রয়ে যাওয়া।
“আমি হাজী” এই অহংকারে মানুষের সম্মান কামনা করা।
কারণ, কবুল হজ্জের প্রতিদান শুধু “হাজী” উপাধি নয়; বরং পরিবর্তিত একটি জীবন এবং জান্নাতের সুসংবাদ।
✍️গাজী আশিক