23/04/2026
পবিত্র হজ্বে হাইড্রেশন: যা #না #জানলেই #নয়
মক্কার তীব্র গরমে লাখো মানুষের ভিড়ে শরীর ঠিক রাখা কঠিন। আর এই কঠিন পরিবেশে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো পানি। সঠিকভাবে হাইড্রেটেড না থাকলে হজের ইবাদতে মনোযোগ দেওয়াই দায় হয়ে পড়ে।
১. তৃষ্ণার অপেক্ষা করবেন না
তৃষ্ণা লাগার মানেই শরীর আগে থেকে পানিশূন্য হতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ৩.৫ থেকে ৫ লিটার পানি পান করুন — একবারে নয়, সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে। গরম বেশি হলে বা ঘাম বেশি হলে ৫ লিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২. জমজমের পানি নিন স্বাভাবিক তাপমাত্রায়
হারামে জমজমের পানির দুটো ট্যাপ থাকে — ঠান্ডা ও স্বাভাবিক। শরীর যখন গরমে উত্তপ্ত, তখন হঠাৎ বরফ-ঠান্ডা পানি পেটে গেলে সমস্যা হতে পারে। "Normal" বা "Not Cold" লেখা ট্যাপ থেকে পানি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. ছোট বোতল — বড় সুবিধা
ভারী বড় বোতল বহন করতে গিয়ে শ্রান্ত হবেন না। ৫০০ মিলি বা ১ লিটারের হালকা রিইউজেবল বোতল নিন। মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা — সবখানেই রিফিলের ব্যবস্থা আছে।
৪. খেজুর ও জমজম — এই জুটি অসাধারণ
প্রতি এক-দুই ঘণ্টায় দুই-তিনটা খেজুর আর কয়েক চুমুক জমজম। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ ও শর্করা শরীরের ক্লান্তি কমায়, ডিহাইড্রেশন পুষিয়ে দেয়। আর এটা নবীজি ﷺ-এর সুন্নাহও বটে।
৫. দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
বেলা ১২টা থেকে ৪টা — এই সময়টা মক্কায় সবচেয়ে কড়া। যতটা পারুন ছায়ায় থাকুন। সকালে ও সন্ধ্যায় বেশি পানি পান করে নিন, যাতে দুপুরের চাপ কিছুটা সামলানো যায়।
৬. শুধু পানি নয়, ইলেকট্রোলাইটও চাই
ঘামের সাথে শুধু পানি নয়, লবণও বের হয়ে যায়। তাই সাথে রাখুন ওরস্যালাইন স্যাচেট। হোটেলে থাকলে লেবু-মধু-পানির শরবত বানিয়ে নিতে পারেন। নারকেল পানি পেলে সেটাও চমৎকার। তবে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকুন — এগুলো তৃষ্ণা বাড়ায়, মেটায় না।
৭. ইহরাম, আরাফাত ও জামরাতের দিনগুলোতে বাড়তি সতর্কতা
হজের এই মুহূর্তগুলোতে শরীরের উপর চাপ সবচেয়ে বেশি। প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে অন্তত ১৫০-২০০ মিলি পানি পান করুন। ঘড়ি ধরে না হলেও, নিজেকে মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দিন।
৮. এই লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হন
প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা কমলা
মাথা ঝিমঝিম করা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া
অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা হাত-পায়ে টান ধরা
এই লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ছায়ায় বিশ্রাম নিন এবং ধীরে ধীরে লবণ-চিনির পানি বা ওরস্যালাইন খান।
৯. চা-কফি যতটা সম্ভব কম
ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। একদম বাদ দিতে না পারলে পরিমাণ কমিয়ে আনুন। হালকা গরম দুধ-চা সামান্য পরিমাণে খেতে পারেন।
১০. রাতটাকে কাজে লাগান
দিনভর ব্যস্ততায় পানি পান করতে ভুলে গেলে রাতে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে। ঘুমানোর আগে ও সকালে উঠেই দুই গ্লাস করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। শরীর সারারাত যা হারায়, এতে অনেকটাই ফিরে পায়।
হজ কবুল হোক। সুস্থ থাকুন, ইবাদতে মনোযোগ দিন। 🤲
যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন:
☎ 01610-677996 (WhatsApp)
🏠 খুলনা অফিস: তাজ কমপ্লেক্স, কুয়েট মোড়, ফুলবাড়িগেট, খুলনা।
🏠 ঢাকা অফিস :
৩. আর. কে. মিশন রোড, লিলিপন্ড সেন্টার (লিফট-৯) ইত্তেফাক মোড়, মতিঝিল- ১০০০, ঢাকা।