15/05/2026
”ইয়া উম্মাতি!ইয়া উম্মাতি.. যে আহাজারি শুনে আরশের অধিপতির দয়া হয়, 🤲 ”আমরা কি সেই নবীর উম্মত হওয়ার মর্যাদা রক্ষা করছি?”
”ইয়া উম্মাতি! ইয়া উম্মাতি!!"
"এক মহানবীর (সঃ) বিরহ ও জান্নাতী পরিবারের আত্মত্যাগের অমর উপাখ্যান”
"মদিনার আকাশে একদিন নেমে এলো গভীর বিষাদের ছায়া! প্রাণের চেয়েও প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না..
সংবাদ শুনে বীর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) শোকে ও ক্রোধে অস্থির হয়ে উঠলেন। কোষমুক্ত তরবারি হাতে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন-
”আল্লাহর কসম! আমার রাসূলের একটি পশমেরও যদি কোনো ক্ষতি হয়, তবে মক্কার বুকে একজন মুনাফিকেরও অস্তিত্ব আমি রাখব না!”
সিদ্দীকে আকবর আবু বকর (রাঃ) তৎক্ষণাৎ তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে শান্ত কণ্ঠে বললেন, "হে উমর, ধৈর্য ধারণ করো। ক্রোধ নয়, এখন প্রয়োজন অনুসন্ধানের। চলো, আমরা আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় নবীকে খুঁজে বের করি।"💚
দুই মহান সাহাবী মদিনা ত্যাগ করে উত্তপ্ত মরুভূমির পথে এক পর্বতের পাদদেশে উপনীত হলেন। সেখানে একজন রাখালের সাক্ষাৎ পেয়ে তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, "হে ভাই! তুমি কি আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছ?"
রাখাল বিস্ময়ের সাথে উত্তর দিল, "ইয়া আসহাবী"(হে মহোদয়গণ) আমি আপনাদের পরিচয় জানি না!! মুহাম্মদ নামের কাউকেও চিনি না। কিন্তু ওই পর্বতের শীর্ষে একজন নূরানী চেহারার মানুষ তিন দিন যাবৎ সেজদাবনত অবস্থায় ‘ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি’ বলে এমনভাবে ক্রন্দন করছেন যে, তাঁর আর্তনাদে আমার উট ও মেষপাল তিন দিন ধরে ঘাস-পানি স্পর্শ করেনি। তারাও সেই মহামানবের সাথে সুর মিলিয়ে অশ্রু বিসর্জন করছে।💦
আপনারা দয়া করে তাঁকে থামান,তাকে নিয়ে যান, নতুবা, আমার নিরীহ পশুগুলো শোকে প্রাণত্যাগ করবে।"
ইতিমধ্য হজরত আবু বকর ও উমর (রা.) দ্রুত পর্বতশীর্ষে আরোহণ করে দেখলেন—সৃষ্টিকুলের রহমত, দোজাহানের সরদার,রাহমাতুল্লিল আলামিন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" সেজদায় লুণ্ঠিত হয়ে উম্মতের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে কাতর মিনতি করছেন।🤲
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) অশ্রুসিক্ত নয়নে আরজ করলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! সঃ আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। আমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আজ পর্যন্ত যত সালাত আদায় করেছি, যত সিয়াম পালন করেছি, যত দান-সদকা করেছি-আমার জীবনের সমস্ত নেক আমল আমি আপনার গুনাহগার উম্মতের নাজাতের জন্য উৎসর্গ করলাম। আপনি দয়া করে সেজদা থেকে মস্তক উত্তোলন করুন। আপনার এই ক্রন্দন আমরা সহ্য করতে পারছি না!!""
কিন্তু, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মস্তক উত্তোলন করলেন না। উমর ফারুক (রা.)-ও তাঁর সমগ্র জীবনের আমল উম্মতের মুক্তির জন্য বিলিয়ে দিলেন, তথাপি সেই পবিত্র ক্রন্দনের বিরাম হলো না।
তখন আবু বকর (রা.) উপলব্ধি করলেন, এই গভীর বিরহ প্রশমনের ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই আছে, যিনি নবীজির নয়নের মণি, জান্নাতের নারীকুলের সরদার—ফাতিমাতুয যাহরা (রাঃ)
"সংবাদ পেয়ে মা ফাতিমা (রা.) ছুটে এলেন। পিতার এই করুণ অবস্থা অবলোকন করে তিনি ‘আব্বাজান’ বলে এক হৃদয়বিদারক💔 আর্তনাদ করে উঠলেন, যাতে সমগ্র পর্বত প্রকম্পিত হলো।
তিনি পিতার পাশে বসে কাঁদতে বললেন.. "আব্বাজান, আপনার ফাতিমা উপস্থিত হয়েছে। আমার জীবনের সকল পুণ্য, সকল ধৈর্য, সকল কষ্ট আমি আপনার উম্মতের জন্য উৎসর্গ করলাম। আপনি দয়া করে শান্ত হোন, আব্বাজান ”
কিন্তু উম্মতের প্রতি রাসূলের ভালোবাসা ছিল সাত আসমান ও জমিনের চেয়েও বিশাল ও গভীর।
অতঃপর শিশু হাসান ও হুসাইন (রা.) নানাজানের দুই পাশে দাঁড়িয়ে কোমল ও সিক্ত কণ্ঠে ডাকতে লাগলেন, ""নানাজান, ও নানাজান! আমরা আপনার হাসান ও হুসাইন।
আপনি আমাদের দিকে একবার তাকান। আপনি কেন আমাদের সাথে কথা বলছেন না, নানাজান? আমাদের যে ভয় করছে..”
নিষ্পাপ শিশুদের এই আকুতিতে পাষাণ হৃদয় ও বিগলিত হয়,,কিন্তু রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তখনও সেজদায় অবনত। উম্মতের গুনাহের বোঝা যে তাঁর কাঁধে। তিনি কীভাবে মাথা উত্তোলন করবেন?
"অবশেষে ফাতিমা (রা.) আর স্থির থাকতে পারলেন না!!
তিনি পিতার মাথা মোবারক নিজের কোলে তুলে নিলেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এমন এক ঘোষণা দিলেন, যা শুনে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল এবং ফেরেশতাকুল ক্রন্দনে ভেঙে পড়েছিল।
"তিনি বললেন- ”আব্বাজান! আপনি চক্ষু মেলে তাকান। আমি আপনার ফাতিমা, মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এবং কাবার 🕋রবের নামে শপথ করে বলছি-
আপনার এই পথহারা, গুনাহগার উম্মতের মুক্তির জন্য আমি আমার হৃদয়ের স্পন্দন, আমার নয়নের মণি, আমার হাসান ও হুসাইনকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি করার অঙ্গীকার করছি।💔 আব্বাজান, তবুও আপনি শান্ত হোন, আপনি ক্রন্দন সম্বরণ করুন।”
এই কথা কর্ণগোচর হওয়া মাত্রই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি ধীরে, অতি কষ্টে সেজদা থেকে মাথা তুললেন। তাঁর পবিত্র দুই নয়ন থেকে তখনও অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি কম্পিত হাতে কন্যার অশ্রু মুছে দিয়ে বললেন, ”ফাতিমা, আমার মা! তুমি এ কী বললে? আল্লাহ তা'আলা তোমার এই অতুলনীয় ত্যাগ কবুল করে নিয়েছেন। আমার উম্মতের নাজাতের ফয়সালা হয়ে গেছে।"
'সেই মুহূর্তে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় হাবীবের পরিবার ও সমগ্র উম্মতের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও জান্নাতের দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন।
" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার সমস্ত সম্পর্ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের ঊর্ধ্বে তাঁর উম্মতের কল্যাণ ও নাজাতকে স্থান দিয়েছেন।
”আহলে বাইতের অনুপম ত্যাগ-হাসান, হুসাইন ও ফাতিমা (রা.)-এর এই আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসের প্রাণশক্তি। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, হক ও উম্মতের কল্যাণের জন্য সর্বাধিক প্রিয় বস্তুও হাসিমুখে উৎসর্গ করতে হয়।
-হে আমার ভাই ও বোনেরা, একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন...
”যে নবী আমাদের জন্য তিন দিন অভুক্ত থেকে সেজদায় কেঁদেছেন..💧
''যে ফাতিমা আমাদের জন্য নিজ সন্তানদের কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন...
-আমরা সেই নবীর প্রতি দিনে কতবার দরুদ পাঠ করি? তাঁর সুন্নাহকে কতটুকু আঁকড়ে ধরেছি?
"আসুন, আজ এই মুহূর্তে অঙ্গীকার করি-
"যতদিন এই দেহে প্রাণ থাকবে, আমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করব।
"তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবো এবং তাঁর উম্মতের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।"
-নতুবা কিয়ামতের সেই কঠিন দিনে, সেই অশ্রুসিক্ত নবীর সম্মুখে আমরা কোন মুখে দাঁড়াব?*
”আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ” (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 💚
"যে নবী উম্মতের জন্য কেঁদেছেন, তাঁর পবিত্র ভূমিতে আপনার যাত্রা আমাদের আমানত"
-”তাক্ওয়া হজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ ”🇧🇩
☞2027 সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে,, বুকিং করতে যোগাযোগ করুন-”01721700112” গোবিন্দগঞ্জ ব্রাঞ্চ
#ইয়া_উম্মাতি #রাসূলের_ক্রন্দন #আহলে_বাইত #ত্যাগের_মহিমা #উম্মতে_মুহাম্মদী #সীরাতুন্নবী Mahfuzur Rahman
মীর মোঃ খায়রুল ইসলাম Taqwa Hajj Group Bangladesh