Voyager Bangladesh "ঘুরে দেখুন বিশ্ব কে"

Voyager Bangladesh    "ঘুরে দেখুন বিশ্ব কে" দেশের বাইরে ভ্রমন সংক্রান্ত বিস্তারিত এবং বিশ্ব কে জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

ভ্রমন করতে আমাদের সবারই ভাল লাগে এবং সেটা যদি হয় বিদেশ ভ্রমন তাহলে তো কথাই নেই !! কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য এবং সহায়াতার অভাবে আমরা প্রায়শই ভ্রমনে বিরম্বনার শিকার হই। দেশের বাইরে ভ্রমন সংক্রান্ত সার্বিক সহায়াতা এবং বিশ্ব কে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

সিমলিপাল, জেলা - ময়ুরভঞ্জ, রাজ্য - উড়িষ্যা। শিমুল গাছের আধিক্যর জন্যই একসময় এর নাম হয়েছিল সিমলিপাল। আজ যদিও অল্প জঙ্গলে ...
27/01/2014

সিমলিপাল, জেলা - ময়ুরভঞ্জ, রাজ্য - উড়িষ্যা।

শিমুল গাছের আধিক্যর জন্যই একসময় এর নাম হয়েছিল সিমলিপাল। আজ যদিও অল্প জঙ্গলে শিমুল গাছের লাল রং খুঁজে পাওয়া যাবে না। উড়িষ্যার উত্তরদিকের অনেকটা বড় অংশ জুড়ে (২৭৫০বর্গ কিমি) এই অভয়ারণ্য। একসময় ময়ুরভঞ্জের রাজাদের বধ্যভুমি ছিল এই অরণ্য। ১৯৫৬সালে এটিকে তিগের রেসের্ভে হিসেবে চিন্হিত করা হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে এটি "জাতীয় উদ্যান" -এর সম্মান পায়। গাছের মধ্যে প্রধান ভাগ শাল-শিমুল এবং ব্রিটিশদের আমলে লাগনো ইউক্যালিপটাশ। এছাড়াও অংশবিশেষে বিস্তীর্ণ তৃণভুমি। এছাড়াও প্রচুর প্রজাতির ক্যাকটাস এবং আরো অনেক কিছুই পাওয়া যায়। জীব বৈচিত্রে ভরপুর সিমলিপালের প্রধান আকর্ষণ বেঙ্গল টাইগার (১৯৮০ সালে এই জঙ্গল নথিভুক্ত করা হয় ভারতের সবচেয়ে বড় বাঘের প্রোজেক্ট হিসেবে), শেষ গণনার পর এর সংখ্যা ৯৯, এরপরই আসে বুনোহাতি (প্রায় ৪৩০), এছাড়া চিতাবাঘ, বার্কিং ডিয়ার, চৌসিঙ্গা, বুনো খরগোস, অ্যান্টিলোপ, গৌর, জায়ান্ট স্কুইরেল, বুনোবিড়াল, সম্বর, বুনো শুয়োর এবং অবশ্যই হনুমান। এছাড়াও অজস্র প্রজাতির পাখি যাদের মধ্যে অন্যতম প্যাঁচা, হর্নবিল, ময়না, ময়ুর ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আছে সাপ এবং মশা। শীতকালে সাপ নেই, আর সিমলিপালের মশা ম্যালেরিয়ার জন্য জগৎবিখ্যাত।

সিমলিপালের জঙ্গলের দুই প্রধান নদী খইরী আর বুড়িবালাম (উড়িষ্যায় একে বলে "বুড্ঢাবালাঙ্গ") আর আছে বৈতরণী। খইরী নামটা সুন্দর এর পেছনের গল্পটাও সুন্দর। ১৯৭৪ সালে সিমলিপালের রেঞ্জার ছিলেন সরোজ রায়চৌধুরী। একদিন কিছু আদিবাসী (এখনকার আদিবাসীরা প্রধানত খরিয়া) একটি ছোট্ট বাঘের শিশু নিয়ে আসেন তাঁর কাছে যাকে তারা পেয়েছে খইরি নদীর ধারে।
শিশুটি মেয়ে, বয়েস দু-তিন মাস হবে। রায়চৌধুরী তার নাম রাখেন "খইরি"।
এরপর এই খইরী তাঁর পোষ মানা হয়ে যায়, কিন্তু সে বাঁধা থাকত না। থাকত খোলা। গোটা সিমলিপালের আইকন হয়ে ওঠে খইরি।

কিভাবে যাবেনঃ
ময়ুরভঞ্জের জেলা রাজধানী বলতে পারেন বারিপদাকে যা কলকাতা থেকে ২৪০ কিমি দূরে অবিস্থিত। কলকাতা থেকে বাস, ট্যাক্সি বা জিপে করে আসতে পারেন। এছাড়াও কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে বারিপদাতে আসতে পারেন।

আবহাওয়াঃ
গরমের সময় এখানকার তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছেলছিয়াচ থাকে, শিতের সময় এটা কমে ১৪ ডিগ্রিতে নেমে আসে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষায় এখানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।

অনুমতি / ফিঃ
আপনি পিথাবাতা (বারিপদা থেকে ২২ কিমি) হয়ে সিমলিপালে প্রবেশ করতে পারেন। জঙ্গলে ঢোকার অনুমতি রেঞ্জার অফিস থেকে নেয়া যাবে যা পিথাবাতা চেক গেট এ অথবা সহকারি বন রক্ষকের কার্যালয় থেকেও নির্ধারিত ফি দিয়ে নেয়া যাবে। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা সকাল ৬ টা থেকে ১২ টার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন এবং যারা জঙ্গলের ভেতর বাংলো রিজার্ভ করবেন তারা সকাল ৬ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়াও জশিপুর দিয়েও জঙ্গলে প্রবেশ করা যাবে। অনুমতি সাধারনত ১ অথবা ২ সপ্তাহ আগে নিয়ে রাখা ভাল হবে।

কি করবেন / দেখবেনঃ
সিমলিপালের জঙ্গলের ভেতর বরহিপানি এবং জারান্দা ঝরনার অভূতপূর্ব দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এছাড়াও অনিন্দ্যসুন্দর খাইরিবুরু এবং মেঘাসিনি পর্বত তো রয়েছেই। জঙ্গলের ভেতর রয়েছে ছোট ছোট আদিবাসীদের গ্রাম, যা কিনা ছবির মত। জঙ্গলের ভেতর ট্র্যাকিং কতে পারেন, যাদের পাখি দেখার শখ তারা সময় নিয়ে পাখি দেখতে পারেন আর কিছু না কুরতে পারলে অন্তত এই শহুরে জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারেন।

বরহিপানিঃ ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত বরহিপানি। বুড়িবালাম নদী চলতে চলতে হঠাৎই দিক পরিবতন করে উপর থেকে নামছে নিচের জঙ্গলের মধ্যে।
সামনের মেঘাসন পাহাড় এর ৩৯৯মিটার উচ্চতা থেকে বুড়িবালাম নদী এসে পড়ছে। নিচের একটা পুলের মধ্যে, এরপর আবার বয়ে চলছে নিজের গতিতে।
দুটো ভাগে এই জলধারা নিচে আসছে। বর্ষার সময় এই বরহিপানির রুপ পালটে যায়। একটা জলের ধারা নয়, পুরো নদীর জল বিশাল পরিমাণে নেমে আসে ঐ উচ্চতা থেকে।
গুগল-আর্থের দাবী অনুযায়ী, দুটো ভাগে নেমে আসা এই ফলসের আসল উচ্চতা ২১৭ মিটার, পরেরভাগটা আলাদা। যদিও এখনো পর্যন্ত স্বীকৃতি অনুযায়ী এর উচ্চাতা ৩৯৯মিটারের পুরোটাই।
এখানে সুন্দর একট ওয়াচটাওয়ার আছে, যেখান থেকে পুরো ফলসের ভিউঅটা পাওয়া যায়।বলা যায় যে বরহিপানি আপনাদের সিমলিপাল ঘোরা প্রায় সার্থক করে দিবে।

চাহালাঃ ময়ুরভঞ্জের রাজাদের বনবাঙলো ছিল চাহালায়। তাঁরা শিকারে আসতেন এখানে। সুন্দর করে সাজানো বাগানের চারপাশ কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। কাঁটাতারের একদম শেষে একটা সিঁড়ি নেমে যাচ্ছে মাটির নিচে। সেখানে সামনে মাটির প্রায় সমান উঁচুতে পৌঁছনোর পর সামনে জানালার মত। এখান থেকেই আগেকার রাজারা শিকার করতেন। সামনেই একটা লেক, যে লেকের ধারে বনবিভাগের কর্মীরা লবন ঢেলে দিয়ে আসে। রোজ বিকেলে-ভোরে জন্তুরা সেই লবন চাটতে আসে।

জঙ্গলে ঘোরার জন্য আপনি অনেক লোকাল জিপ পাবেন সেগুলো নেয়াই ভাল। আপনার হোটেল বা গেস্ট হাউজে কথা বলতে পারেন তারাই অনেক সময় আয়োজন করে দেন।

কোথায় থাকবেনঃ
উড়িষ্যা ট্যুরিজমের আয়োজনে বেশ কিছু ভাল রেস্ট হাউজ আছে যা জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত। এছাড়াও আপনি বারিপদা আর যশিপুরে অনেক প্রাইভেট হোটেল অথবা রেস্ট হাউজ পাবেন।

কোথায় খাবেনঃ
হোটেল বা গেস্ট হাউজে সাধারন ইন্ডিয়ান খাবারের ব্যাবস্থা আছে। বারিপদাতে কিছু লোকাল রেস্টুরেন্ট পাবেন। জঙ্গলের ভেতরে খাবার পানি পাবেন কিন্তু যেকোনো ধরনের এলকোহল জাতীয় পানিয় জঙ্গলে নিষিদ্ধ।

প্রয়োজনীয় তথ্যঃ
# সিমলিপালে আপনি কোনো খাবার পাবেন না, তাই বাইরে থেকে শুকনো খাবার নিয়ে নেয়া ভাল হবে।

# খাতায় কলমে প্রতিদিন ৪০ টি গাড়ি জঙ্গলে ঢুকতে দেবার কথা হলেও এখানে কোনো রুল নেই, সত্যিই তাই। সব গাড়িই পারমিট পাবে বলা যায়। প্রত্যেকের জন্য টিকিট ৪০টাকা, ক্যামেরার জন্য ক্যামেরা প্রতি ১০০, গাড়ির ১০০ আর গাইডের জন্য ২০০ টাকা ফি দিতে হবে।

# কেউ যদি গাড়িতে সিমলিপালের প্ল্যান করেন তাঁকে বলব, কোলকাতা থেকে নিজের গাড়িতে আসুন, কিন্তু সিমলিপালে চেষ্টা করুন স্থানীয় গাড়ি ভাড়া নিতে।

# সিমলিপালের ড্রাইভার-গাইড মহম্মদ মুনতাজ এর নাম্বারঃ ০৯৪৩৭৩৬৩৯৬২

# খইরি রিসর্টঃ শুভদা - ০৯৭৭৬৫১২০০০

# সিমলিপালে মশা প্রচুর। সেরেব্রাল ম্যালেরিয়ার জন্য আদর্শ জায়গা। তবে সন্ধ্যের পর ওডোমস মেখে আর কয়েল জ্বালিয়ে থাকাই যায়। আর এখন মাওবাদী হামলার পর সিমলিপালের ভিতরের ফরেস্ট বাঙলোয় থাকা বন্ধ করে দিয়েছে। সেগুলোতে কারেন্ট ছিলনা বলে মশার উপদ্রব বেশি ছিল।

ভ্রমণপিপাসু মানুষের মন। বিশ্বে যা কিছু আছে তা দেখে মানুষের ভ্রমণের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এই আগ্রহ থেকেই মানুষ ঘুরে বেড়ায় দ...
22/01/2014

ভ্রমণপিপাসু মানুষের মন। বিশ্বে যা কিছু আছে তা দেখে মানুষের ভ্রমণের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এই আগ্রহ থেকেই মানুষ ঘুরে বেড়ায় দেশ থেকে বিদেশে অবাক করা নানান জায়গায়।
ভারতবর্ষের প্রাচীন জনপদ জগন্নাথ ধাম বলে খ্যাত উড়িষ্যার পুরী সমুদ্র সৈকত। কলকাতা থেকে প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিথ সমুদ্র সৈকত শহর পুরী। পুরী জগন্নাথদেবের মন্দিরের জন্য বিখ্যাত তীর্থস্থান। বাঙ্গালীদের সবচেয়ে প্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট। এখানে বাঙ্গালী আসে সমুদ্র আর মন্দির দুটোর জন্যই। পুরী শহরটি বাঙালীদের কাছে একটি পর্যটন শহর হলেও প্রচুর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আসেন পুরী মন্দির দর্শন করতে৷ তবে পুরীর মন্দিরের একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সেটা হল হিন্দু না হলে এখানকার মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

কিভাবে জাবেনঃ
কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে পুরী যেতে সময় নেয় মোটামুটি ৮ ঘণ্টা৷ আর দূরন্ত-তে গেলে সময় লাগবে তার থেকেও কম৷
কলকাতা থেকে বাস এ ও যেতে পারেন পুরী।

কোথায় থাকবেনঃ
সমগ্র ভারতের মানুষের কাছে পুরী খুব জনপ্রিয়, থাকার জন্য অনেক ভালো হোটেল আছে পুরীতে। পুরী রেলস্টেশন থেকে সমুদ্র সৈকত জীপে বিশ মিনিটের পথ। সৈকত ঘেঁষেই অনেক বিলাসবহুল ও মধ্যমমানের হোটেল রয়েছে। এছারাও বিদেশিরা থাকতে পছন্দ করে ছি টি রোড এর কাছাকাছি হোটেলে। ভারতিওরা থাকতে পছন্দ করেন সরগদুয়ারা এর কাছাকাছি হোটেলগুলোতে।

কি দেখবেনঃ
অটোরিকশা বা সাইকেল রিকশায় বা মোটর সাইকেল ভাড়া করে ঘুরে দেখতে পারেন পুরীকে। ঘুরে আসতে পারেন সমুদ্রের পাড় থেকে। দেখতে পাবেন সামনে বিশাল নীল জলরাশি। সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে বালুরাশিতে। অল্প অল্প মেঘলা আকাশ। ঢেউগুলো ঠিক যেন পরীর মতো।
নীল জলে জেলেদের নৌকগুলো যেন সাক্ষাত রূপকথার বই থেকে বেরিয়ে এসে ভাসছে। পুরীর নীল জল দেখে পেয়ে যাবেন গেলাম নীল পৃথিবীর সন্ধান! স্বপ্নলোকের মতো পরিবেশ। এখানকার সমুদ্রের শব্দ যে কোন সুদূরের স্বপ্ন দেখায়।সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় দুটোই দেখতে পারেন পুরীতে।

পুরীতে এলে অবশ্যই দেখতে পারেন পুরীর বিখ্যাত সোনালী বিচ। সোনালী রঙের বালুতে বিচটি আচ্ছাদিত। এটি সার্ফিং এর জন্য আদর্শ স্তান।

অন্যান্য দর্শনিও স্থান সমুহঃ
জগন্নাথ ধাম - অটোতে করে হোটেল থেকে প্রায় বিশ মিনিটে পৌঁছে যাবেন শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে। এ জগন্নাথ মন্দির ১২০০ শতাব্দীতে উড়িষ্যার গঙ্গবংশীয় রাজা অনঙ্গভীম দেব নির্মাণ করেন।
এ মন্দির নির্মাণের জন্য গঙ্গা হতে গোদাবরী পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল সাম্রাজ্যের ১২ বছরের রাজস্ব সে সময় খরচ করা হয়েছিল। মন্দিরের উচ্চতা ২১৪ ফুট। শ্রী জগন্নাথের বারো মাসের ১৩ যাত্রার মধ্যে রথযাত্র সর্বশ্রেষ্ঠ। এই রথযাত্র প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।
রথযাত্রার দিন শ্রী বলরাম, দেবী শুভদ্রা ও শ্রী জগন্নাথ কাঠের নির্মিত সু-সজ্জিত তিন রথে বসে শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরে যান। সেখানে সাত দিন থেকে শ্রী মন্দিরে ফিরে আসেন। রথযাত্রা উৎসব এখান থেকেই শুরু। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে পালিত হয় রথযাত্রা।

স্বর্গদ্বার - এটি একটি বিখ্যাত সমুদ্র ঘাট। স্বর্গের দুয়ার নামে বিখ্যাত এই জায়গা উড়িয়া মানুষদের কাছে খুব জনপ্রিয় মৃতদেহ সৎকার এর জন্য। প্রচলিত আছে যে এখানে সৎকার করলে স্বর্গে যাওয়া যায়।

এছাড়াও পুরীতে আছে অনেক হিন্দু মন্দির এবং মঠ, যেমনঃ শ্রী লোকনাথ মন্দির, সুনারা গৌরাঙ্গ মন্দির, বেদি হনূমান মন্দির, চক্র তীর্থ মন্দির ইত্যাদি।

পুরীর কাছাকাছি দর্শনিও স্তান সমূহঃ

কোণার্ক সুর্য মন্দির বা কোনারক সুর্য মন্দির,পুরী ওড়িশা

কোণার্ক সুর্য মন্দির বা কোনারক সুর্য মন্দির ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরী জেলার কোণার্ক শহর অবস্থিত সুর্য মন্দির। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে পূর্ব গঙ্গা রাজবংশের (১০৭৮-১৪৩৪) রাজা প্রথম নরসিংহদেব(১২৩৮-১২৬৪) দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরটি আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঐতিহ্য প্রকল্প কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ও ইউনেস্কো নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকার মধ্যে স্থান পেয়েছে।

কনার্ক শব্দের অর্থ - কোণ + অর্ক , কোণ= কোণা বা angelএবং অর্ক= সুর্য্য, অর্থাৎ সুর্য্যের বিভিন্ন কোণের অবস্থান । এই মন্দির টি সুর্য্যের বিভিন্ন অবস্থানে গুরুত্ব পুর্ন অর্থ বহন করে।

উড়িষ্যা ও দ্রাবিড় স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে নির্মিত মন্দিরটি ধূসর বেলে পাথরে বিশাল একটি রথের আকারে গড়া হয়েছে । সমুদ্র থেকে উঠে আসা সূর্যদেবের বিশাল রথ,তার সামনে রয়েছে সাত জোড়া ঘোড়া । বারো জোড়া বিশাল চাকার ওপর পুরো মন্দিরটি নির্মিত ।চাকার কারুকার্য দর্শকদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ ।

প্রতিটি চাকা একেকটি সূর্যঘড়ি ।চাকার ভেতরের দাঁড়গুলো সূর্যঘড়ির সময়ের কাঁটা। এখনো নিখুঁতভাবে সময় জানা যায় এই সূর্যঘড়ির সাহায্যে ।মন্দিরের প্রবেশ পথেই রয়েছে বিশাল দুটি সিংহের মূর্তি যারা লড়াই করছে দুটি রণহস্তীর সঙ্গে ।

মন্দিরের বেদী থেকে শুরু করে চূড়া পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি জায়গায় পাথরের ভাস্কর্য ও কারুকার্য রয়েছে । দেবতা,অপ্সরা,কিন্নর,যক্ষ,গন্ধর্ব,নাগ,মানুষ,বিভিন্ন প্রাণী,পৌরাণিক বিভিন্ন ঘটনার প্রতিরূপ,নৃত্যরত নরনারী,প্রেমিক যুগল,রাজদরবারের বিভিন্ন দৃশ্য,শিকারের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাথরের বুকে ।মূর্তিগুলোর মানবিক আবেদন,নিখুঁত গড়ন,লীলায়িত ভঙ্গী শিল্পকলার চরম উত্কর্ষের নিদর্শন ।

কলিঙ্গ রীতিতে নির্মিত মন্দিরের চূড়াগুলো পিরামিড আকৃতির।মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্ডপ ।এখানে একসময় দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে পূজানৃত্য পরিবেশন করতেন ।মন্দিরের ভিতরে রয়েছে নাটমন্দির,ভোগমন্দির ও গর্ভগৃহ।

মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৮৫৭ ফুট ।তবে মন্দিরের অনেক অংশ এখন বালিতে দেবে গেছে । মন্দিরের দেউল এখনো ২০০ ফুট উঁচু।

মন্দিরে সূর্যদেবতার যে বিশাল বিগ্রহ ছিল তা এখন নেই ।কালের করাল গ্রাসে স্থাপনার অনেকটাই আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত । বাংলার সুলতান সুলেমান খান কারানির সেনাপতি কালাপাহাড়ের আক্রমণে কোনার্ক মন্দির প্রথম ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।উড়িষ্যার ইতিহাস অনুযায়ী কালাপাহাড় ১৫০৮ সালে কোনার্ক আক্রমণ করে ।

১৬২৬ সালে খুরদার তত্কালীন রাজা পুরুষোত্তম দেবের পুত্র নরশিমা দেব সূর্যদেবের বিগ্রহটি পুরীর জগন্নাথের মন্দিরে নিয়ে যান । সেখানে একটি পৃথক মন্দিরে সূর্য ও চন্দ্র দেবতার বিগ্রহ স্থাপন করা হয় । শুধু বিগ্রহই নয় তিনি কোনার্ক মন্দির থেকে কারুকার্য করা অনেক পাথর পুরীর মন্দিরে নিয়ে যান।

এমনকি নবগ্রহ পথ নামে একটি বিশাল প্রস্তর খন্ডও তিনি পুরীতে নিয়ে যান। মারাঠা শাসনামলে কোনার্ক মন্দির থেকে অনেক ভাস্কর্য ও প্রস্তরখন্ড পুরীতে নিয়ে যাওয়া হয় । ১৭৭৯ সালে কোনার্ক থেকে অরুণ কুম্ভ নামে বিশাল একটি স্তম্ভ নিয়ে পুরীর সিংহদ্বারের সামনে স্থাপন করা হয় । এই সময় মারাঠা প্রশাসন কোনার্কের নাট মন্ডপটি অপ্রয়োজনীয় মনে করে ভেঙ্গে ফেলে ।

সূর্যদেবের বিগ্রহ অপসারণের পর কোনার্কে পূজা ও আরতি বন্ধ হয়ে যায় । পর্তুগীজ জলদস্যুদের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে কোনার্ক বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আঠারশ' শতক নাগাদ কোনার্ক মন্দির তার সকল গৌরব হারিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে ।মন্দিরের অনেক অংশ বালির নিচে চাপা পড়ে যায় ।মন্দির চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকা ধীরে ধীরে ঘন অরণ্যে ছেয়ে যায় ।
বুনো জন্তুরা বাসা বাঁধে মন্দিরের ভিতর । জলদস্যু ও ডাকাতের আস্তানায় পরিণত হয় কোনার্ক মন্দির । সেসময় দিনের আলোতেও সাধারণ মানুষ ভয়ে এর ত্রিসীমানায় যেত না ।

বিংশ শতাব্দীতে প্রত্নতত্ববিদরা কোনার্ক মন্দির পুনরাবিষ্কার করেন ।খননের ফলে লোকচক্ষুর সামনে উন্মোচিত হয়। কোনার্ক মন্দিরের অপূর্ব স্থাপত্য শৈলী,বিষ্ময়কর ভাস্কর্যকীর্তি ও অনন্য শিল্প সম্ভার । কোনার্ক মন্দিরের অনেক শিল্প কীর্তি এখন সূর্য মন্দির জাদুঘর ও উড়িষ্যার জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে । প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী কোনার্কের সূর্য মন্দির দেখতে আসেন ।প্রাচীন ভারতীয় স্থপতি ও ভাস্করদের শিল্পনৈপুণ্য ও সৃষ্টিশীলতা আজও মানুষকে বিস্ময় বিমুগ্ধ করে।
****কোনার্ক সূর্য মন্দির এখন Archaeological Survey of India (ASI) অধিনে।
****নরসিংহদেব মুসলিম মেয়ে কে বিয়ে করার জন্যে বহিসকিত হয় তাই সে নিজে মন্দির ধঃসক...
*****পর্তুগীজ জলদস্যুদের দস্যুবিতি করতে অসুবিধা হওয়ার জন্য পর্তুগীজ দস্যুরা কোনার্ক মন্দিরের মাথায় অবস্হিত অতি শক্তিশালি চুম্বক টিকে নষ্ঠ করে দেয়।
****কোনার্ক সূর্য মন্দিরের ভিতোরে এখন আর প্রবেশ নিষেধ মন্দিরের পাশে ঘুরতে হয়।

খাবার-দাবারঃ
সকালের নাস্তায় এখানকার মানুষের প্রিয় রাধাবল্লভী আর আলুর তরকারি। রাধাবল্লভী হচ্ছে আদি ও অকৃত্রিম ডালপুরী! খাবার জন্য বেশ কিছু ভালো রেস্টুরেন্ট আছে পুরীতে। যারা ভেজিটেরিয়ান তারা যেতে পারেন সায়মাতে, এটি গ্র্যান্ড রোডে জগন্নাথ মন্দিরের উল্টো পাশে অবস্থিত।
স্বর্গদ্বার এর কাছাকাছি কাকাতুয়াতে যেতে পারেন মিষ্টি খাবার জন্য। যারা চাইনিজ খেতে ভালোবাসেন তারা যেতে পারেন নেতাজি সুবাস বোস জংশনের কাছে আরমস্তং রোড এ লি গার্ডেন চুং ওয়া রেস্টুরেন্টএ। এখানে পাবেন সত্যিকারের চাইনিজ খাবার যা গত ৩০ বছর ধরে একি স্বাদের খাবার বানিয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু টিপসঃ
স্বর্গদ্বার এবং নতুন পুরীর সস্থা হোটেল বা গেস্ট হাউজে যদি উঠেন আপনার মালামাল এর দিকে খেয়াল রাখবেন। রাত ৮ টার পরে বিচে না যাওয়াই ভালো।
যদি খুব অসুস্থ হয়ে পরেন তবে ভুবনেশ্বর এর কালিঙ্গা হাসপাতাল এ যাওয়াই ভালো হবে, কেননা পুরীর হাসপাতাল খুবই নিম্নমানের এবং অপরিষ্কার। আপনি চাইলে হোটেলে একজন লোকাল ডাক্তার ডেকে আনতে পারবেন সেক্ষেত্রে হোটেলএর সাথে কথা বলে নেওয়া ভালো হবে।
মন্দির দর্শনের সময় মন্দিরের পাণ্ডাদের কাছ থেকে সাবধান। তারা বিভিন্ন দেবতার দোহাই দিয়ে আপনার কাছে টাকা ছাইবে, যদি দান করতে ইচ্ছে হয় তাহলে খুচরা টাকা সাথে রাখাই ভাল।

একটার পর একটা, ক্লান্তিহীন, আবিরত সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া বিরাট ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্র পারের বালিয়ারিতে। যতদূর চোখ যায়, ঠি...
21/01/2014

একটার পর একটা, ক্লান্তিহীন, আবিরত সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া বিরাট ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্র পারের বালিয়ারিতে। যতদূর চোখ যায়, ঠিক যেন পানি আর আকাশ একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে ঠিক সেই জায়গাটায় অন্ধকার সরিয়ায় প্রথম ভোর হয়।

দিগন্ত পার থেকে গোটা আকাশে খুশির রক্তিম আবির ছড়িয়ে হয় সূর্যোদয়। রাতের গভির অন্ধকার উত্তীর্ণ হয়ে গোটা চরাচর জুড়ে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে থাকে রাগ ভৈরবী। সূর্যের প্রথম ছতা বিচ্ছুরিত হয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠে সমুদ্র। ঘুম থেকে জেগে উঠে সমুদ্র সুন্দরী "দিঘা"।
দিঘা, পশ্ছিমবঙ্গের একমাত্র সমুদ্র কেন্দ্রিক ভ্রমণ কেন্দ্র। কলকাতা থেকে মাত্র ১৮৭ কিলোমিটার দূরে মাদেনিপুর জেলায় সমুদ্র, বালিয়াড়ি, ঝাউবন, আর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলিয়ে অপেক্ষা করছে প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকদের জন্য। ৭ কিলোমিটার লম্বা সমুদ্রতট এক পাশে গভীর সমুদ্র অন্যপাশে ঝাউ গাছের অগভীর জঙ্গল। ভেঙ্গে পরা ঢেউএর পানিতে পা ভিজিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় দীর্ঘ পথ। দিঘায় দুটি সৈকত রয়েছে একটি পুরানো দিঘার সৈকত, অপরটি নতুন দিঘার সৈকত। বাঙ্গালির এই পর্যটন কেন্দ্রের রয়েছে এক লম্বা ইতিহাস।

কিভাবে যাবেনঃ
প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে বহু পর্যটক দিঘায় বেরাতে যান। কলকাতা থেকে ১৮৭ কিলোমিটার দুরত্তের এই সমুদ্র শহরে যাওয়ার জন্য আছে রেলপথ। কলকাতা থেকে রেলে চেপে পৌঁছানো যায় সারে ৩ ঘণ্টার মধ্যে। ছখ জুড়িয়ে যাবে পথের প্রাকৃতিক শোভায়। সবুজ ধান ক্ষেত, মেঠো পথ, রেল লাইন থেকে দুরের ছত গ্রাম আর সেই গ্রামকে জড়িয়ে চলছে ছোট নদী।

যাওয়া যায় সরক পথেও। আছে সোনালি ত্রিভুজের রাস্তা। ঝড়ের গতিতে ছুটতে ছুটতে মাঝপথে একটু বিশ্রাম। জাতীয় সড়কের ধারে কোন হোটেলে বা পাঞ্জাবি ধাবায় জমিয়ে করা যেতে পারে খাওয়া দাওয়া। তারপর আবার দিঘা অভিমুখে যাত্রা শুরু। কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে আছে সরকারি-বেসরকারি বাস এর ব্যাবস্থা। বাস এ ৫ থেকে সারে ৫ ঘণ্টা সময় লাগবে দিঘা যেতে।

রাত্রি বাসঃ
পুরানো দিঘা এবং নতুন দিঘায় অনেক হোটেল আছে। রেল স্টেশনটি নতুন দিঘায়। বাস থামে পুরানো দিঘায়। হোটেল গুলিতে আছে আধুনিক সব ব্যাবস্থা। পছন্দ মতো কোন একটা বেছে নিলেই হোল। তবে আগে থেকে “বুকিং” করে রাখলে সুবিধা হবে।

সমুদ্র স্নানঃ
একদিন পুরানো দিঘায় আরেক দিন নতুন দিঘায় স্নান করে দেখতে পারেন। সমুদ্রের তিরে ছাউনির তলায় বসে ডাব খেতে ভুলবেন না যেন। কনভাবেই সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাটি হাতছারা করবেন না।

দিঘার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তর ননাভিরাম দৃশ্য সকলের মনে সৃষ্টি করে এক স্বর্গীয় অনুভূতির। সন্ধ্যে বেলায় পুরানো দিঘার সমুদ্র তটের ধারে বসে হরেক রকমের দোকান। ঝিনুকের গয়না, ঘর সাজাবার জিনিষ, নানা ধরনের শঙ্খ, শামুক, প্রবাল ইত্যাদি দিয়ে অপূর্ব সুন্দর সব জিনিষ। এছাড়াও আছে মেদেনিপুরের বিখ্যাত মাদুর এবং বাঁশের নানা ধরনের সিল্প কর্ম।

খাওয়া দাওয়াঃ
ভোজন রসিক বাঙালি কথাটা দুই বাংলাতেই সমানভাবে প্রযোজ্য। হোটেলে পাবেন আপনার পছন্দ অনুযায়ী সব কিছু। নানা ধরনের মাছ থেকে শুরু করে চাইনিজ, মোঘলাই, থাই কিংবা ইতালিয়ান খাবার দাবার। সমুদ্রের ধারে পাবেন মাছ ভাজার দোকান। সেখানে পাবেন রকমারি সব মাছ ভাজা।

কিছুটা ঘোরা-ঘুরিঃ
দিঘাতে গেলে অবশ্যই একবার যাবেন “ দ্যা মেরিন একুরিয়াম এন্ড রিসার্চ সেন্টারে”।
সমুদ্রতলার গোটা জগত নিয়ে তৈরি এই মেরিন একুরিয়াম। শুধু দেখা নয় জানতে পারবেন বিভিন্ন গবেষণার তথ্যও। ১৯৮৯ সালে ভারতের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এই মেরিন একুরিয়াম এন্ড রিসার্চ সেন্টার তৈরি করা হয়। যেটা আজ ভারতের সমুদ্র গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

দিঘা থেকে কিছুটা দুরেই আছে অমরাবতি লেক। এখানে কিছুটা সময় নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন। এর পাশেই আছে সর্প উদ্যান। দিঘা থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে আছে সুবর্ণরেখা নদী। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা সীমান্তে এই নদীর রূপ মাধুরী আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এছাড়াও দেখে আসতে পারেন ঐতিহাসিক চন্দনেশর মন্দির।

দিঘার আসে পাশে আছে আরও কয়েকটি সমুদ্র সৈকত। প্রতিটি সৈকতই একে অপরের থেকে আলাদা।

দেশের বাহিরে কিন্তু আমাদের অনেক কাছাকাছি ভারতের একটি শহর কলকাতা। ইচ্ছে করলেই আপনারা কয়েকটা দিন ঘুড়ে আসতে পারেন কলকাতা ...
09/01/2014

দেশের বাহিরে কিন্তু আমাদের অনেক কাছাকাছি ভারতের একটি শহর কলকাতা। ইচ্ছে করলেই আপনারা কয়েকটা দিন ঘুড়ে আসতে পারেন কলকাতা শহরটিতে।

কলকাতা দেখতে কিছুটা আমাদের ঢাকার মতই। কলকাতার সবার সাথে আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতে পারবেন। আমার মতে এর থেকে আনন্দের ভ্রমন আর কি হতে পারে।
অবসরে আপনি আপনার কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রোগ্রাম করতে পারেন কলকাতা ঘুরে আসতে। যেই ভাবা সেই কাজ, ভারতের ভিসা করে রওনা দিন কলকাতার উদ্দেশ্যে।

ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে কথিত শহর কলকাতা বাঙালির কৃষ্টি ও সভ্যতার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এই শহরে একদা জন্মগ্রহণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, জ্যোতি বসু প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত বাঙালিরা। আজ এই শহরের বাসিন্দা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মৃণাল সেন, মহাশ্বেতা দেবী, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো কৃতী ব্যক্তিত্ব। ঐতিহাসিক কালবিচারের নিরিখে এই শহর খুব একটা প্রাচীন নয়। তবে নানা জাতি নানা ভাষার মিলনভূমি আজকের কলকাতা শহর শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীই নয়, একটি যথার্থ বিশ্বনগরী এবং বিশ্বভাতৃত্ববোধের প্রতীক।

কলকাতা বা কোলকাতা, (পূর্বনাম: কলিকাতা), ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র এবং বৃহত্তম শহর। হুগলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এই শহরের পৌরএলাকার জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের কিছু বেশি। তবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত বৃহত্তর কলকাতার জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষের কাছাকাছি। এই জনসংখ্যার বিচারে কলকাতা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটান বা মহানগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম মহানগর অঞ্চল। কলকাতা পৌরএলাকার উত্তর দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা, পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা অবস্থিত। পশ্চিম দিকে হুগলি নদী এই শহরকে হাওড়া জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
১৭৭২ সালে মুর্শিদাবাদ শহর থেকে বাংলার রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা শুধুমাত্র বাংলারই নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। ১৯২৩ সালে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের অধীনে কলকাতার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্তৃপক্ষ কলকাতা পৌরসংস্থা স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর কলকাতা নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী ঘোষিত হয়। এই সময় কলকাতা ছিল আধুনিক ভারতের শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতির এক পীঠস্থান। ১৯৫৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের ফলে সেই গৌরব অনেকাংশে খর্ব হয়। তবে ২০০০ সালের পর থেকে এই শহর পুনরায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয় এবং সাংস্কৃতিক হৃতগৌরব অনেকাংশেই পুনরুদ্ধার করে। যদিও ভারতের অন্যান্য শহরের মতো কলকাতাতেও নগরায়ণজনিত দারিদ্র্য ও পরিবেশ দূষণ একটি গুরুতর সমস্যা।

কলকাতা শহরের প্রসিদ্ধি এই শহরের বৈপ্লবিক আন্দোলন ও সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তীকালে বামপন্থী গণআন্দোলনগুলিতে এই শহর এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে আধুনিক ভারতের প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলিরও প্রাণকেন্দ্র এই কলকাতা। এই কারণে এই শহরকে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে অভিহিত করা হয়।

আবার কলকাতা শহরে বিভিন্ন ভাষা, জাতি ও ধর্মাবলম্বী মানুষদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় সহাবস্থানের জন্য এই শহরকে আনন্দ নগরী বা সিটি অফ জয় নামেও অভিহিত করা হয়।
রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, রোনাল্ড রস, সুভাষচন্দ্র বসু, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সি ভি রামন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের কর্মভূমি কলকাতা মহানগরী তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য আজও বিশ্ববাসীর চোখে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।

ভিসার জন্য আবেদন
বর্তমানে ভিসা আবেদন প্রকৃয়া পুরোপুরি অনলাইনে চলে যাওয়ায় ফরম জমা দেওয়ার সেই চরম ভোগান্তি একদমই নেই এখন। আবেদন প্রকৃয়া খুবই সোজা, দালাল বা অন্য কারো সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে এখানে https://indianvisaonline.gov.in/visa ঢুকে নিদৃষ্ট ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করতে হবে।
সফলভাবে সাবমিশন হলে আপনি সাবমিটেড ফর্মের একটা প্রিন্ট নিয়ে রাখুন। প্রিন্ট কপিটি আপনাকে নিজে গিয়ে ভিসা অফিসে জমা দিতে হবে। সাবমিশনের সাথে সাথেই আপনি জমা দেওয়ার সময় এবং তারিখ ফর্মের সাথেই পেয়ে যাবেন। সাধারণত অনলাইন সাবমিশনের ৫-৮ দিনের ভেতরেই এই তারিখ হয়ে থাকে। আবেদন পত্রে কোন ভুল হওয়া চলবে না, বিশেষত যে সকল তথ্য পাসপোর্টে দেওয়া আছে সেগুলো কোনভাবেই ভূল হতে পারবে না। তথ্যে ভুল থাকলে আবেদন পত্র সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দেওয়া হয়।

আরেকটা বিষয়, কোন সীমান্ত দিয়ে পার হবেন এই কলামে যদি শুধু বাই হরিদাসপুর (বেনাপোলের ওখানে ভারতীয় সীমান্তের নাম) লিখেন, তাহলে আপনাকে এই সীমান্ত দিয়েই ঢুকতে এবং ফিরতে হবে। কিন্তু আপনি যদি বাই হরিদাসপুর/এয়ার লিখেন, তাহলে বেনাপোল দিয়ে যাওয়া আসার সুবিধার সাথে সাথে এয়ারে যাওয়া/আসার সুবিধাও পাবেন। আর ভিসা অফিস থেকে মাঝে মধ্যে ফোন করে, তাই মোবাইল ফোন নাম্বারটা আপনার নিজের হলেই ভাল।

আবেদন পত্র জমা
আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপিতে উল্লেখিত দিনে আবেদনপত্র ভারতীয় ভিসা অফিসে নিজে গিয়ে জমা দিতে হবে। ভারতীয় ভিসা অফিসটা গুলশান ১ থেকে শ্যুটিং ক্লাবের দিকের রাস্তায় কেএফসি’র পেছনে। হার্ড কপি জমাদানের সময় যেটাই দেওয়া থাকুক না কেন, নিদৃষ্ট দিনে একটু সকাল সকাল চলে আসবেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জমা নেওয়া শুরু হয়। ভিসা অফিসে ঢোকার সময়ে আপনাকে একটা টোকেন নাম্বার দেওয়া হবে। এরপর এই নাম্বার অনুযায়ীই সব হবে। তারপর ফর্ম জমা দিয়ে জমা রশিদ নিয়ে আসুন। ভিসা হোক বা না হোক, ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত জমা দেওয়ার ২দিন পরই পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। ভিসা আবেদন ফর্ম এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ৪০০ টাকা ফি হিসাবে ভিসা সেন্টারেই জমা দিতে হয়। জমা দেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।

১. আবেদনপত্রের নিদৃষ্ট স্থানে ১কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি আঠা দিয়ে আটকে দিন। তার ঠিক নিচে এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর দিতে হবে।

২. স্বাক্ষর পাসপোর্টে দেওয়া স্বাক্ষরের মত হতে হবে। তবে স্বাক্ষর অতটা গুরুত্বপূূর্ণ না, একটু আধটু না মিললেও সমস্যা নেই।

৩. নাগরিকত্ব সনদ (চেয়ারম্যান বা কমিশনারের), ন্যাশনাল আইডি কার্ড, স্থানীয় ঠিকানার সমর্থনে ফোন/ওয়াসা বা বিদ্যুৎ বিল, ডলার এনডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট, পেশার সমর্থনে অফিস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
সব পেপারের অরিজিনাল কপি এবং এবং একসেট ফটোকপি দিতে হবে। শুধু ন্যাশনাল আইডির
২টি ফটোকপি হলেই চলবে। অরিজিনাল কপিগুলো আপনি ভিসার সাথে ফেরত পাবেন। কোন ফটোকপিই এ্যাটাস্টেড লাগবে না।

৪. আপনার ফ্যামিলির অন্য যে কোন সদস্যর ফর্ম আপনি জমা দিতে এবং নিতে পারবেন, সেক্ষেত্রে শুধু আপনার পাসপোর্ট/ন্যাশনাল আইডি দেখাতে হবে। অন্য কারোটা নিতে হলে অথরাইজেশন লেটার লাগবে।

৫. ভিসা সেন্টারের ভেতরে ফটোকপি করার সুবিধা আছে।

৬. ভিসা অফিসের ভেতরে কোন ব্যাগ নিয়ে ঢোকা যায় না এবং গেটে এগুলো রাখারও কোন ব্যবস্থা নেই। তাই সাথে ব্যাগ ট্যাগ না আনাই ভাল।

৭. পার্সপোর্ট এবং ভিসা ব্যতীত আপনার ১দিনের বাচ্চাকেও সাথে নিতে পারবেন না। ওদের জন্য আলাদা ভিসা লাগবে।

৮. ফর্মে “বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা” নামে একটা ঘর আছে, এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। জানা শোনা একটা হোটেলের ঠিকানা বা পরিচিত যে কোন ঠিকানা দিয়ে দিন।

৯. ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য মিনিমাম ১৫০ ডলার এন্ডোর্স করাতে হয়। ভিসা অফিসে আপনার ডলার চেক করবে না, শুধু সার্টিফিকেটটাই দেখবে। তাই ডলার আপনি যেখান থেকেই সংগ্রহ করুন না কেন সার্টিফিকেটটা ব্যাংক বা সরকার অনুমোদিত মানি চেঞ্জার থেকেই সংগ্রহ করুন।
অন্য কোনখান থেকে সার্টিফিকেট নিলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এবার ফর্ম জমা দিয়ে ফেরত নেয়ার তারিখ এবং সময়ের সিøপ নিয়ে চলে আসুন।
ভিসা অফিসে শুধু ফর্ম জমা নেয়। কোন ইন্টারভিউ হয় না, সুতরাং ভীত হওয়ার কিছু নেই। যদি আপনার আবেদনপত্রের সাথে দেওয়া তথ্যে সন্দেহজনক কিছু না থাকে তাহলে আশা করা যায় আপনি এমনিতেই ভিসা পেয়ে যাবেন। আর তা না হলে আপনাকে ইন্টারভিউএর জন্য ডাকতে পারে। তবে ভিসা অফিসের আশে পাশে ঘুরঘুর করা দালালচক্রের যোগসাজসের কারণে একসঙ্গে জমা দেওয়া অনেকগুলো আবেদনপত্রের ভেতরে দু’একটা বাদ হয়ে যেতে দেখা যায়। যেমন, আপনি আপনার স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ ভিসার আবেদন করলেন, দেখা গেল আপনি ছাড়া বাকিদের ভিসা হয়েছে। এখন আপনাকে ছাড়াতো আর আপনার পরিবারের সদস্যরা যেতে পারবেনা, এদিকে আপনি এয়ারে টিকেটও করে ফেলেছেন, ফেরত দিতে গেলে ২৮ হাজার টাকা গচ্চা।
সুতরাং আপনাকে যেতেই হবে। সমস্যা নেই, এই পরিস্থিতিতে আশে পাশে দালালচক্রের কাউকে না কাউকে পেয়ে যাবেনই। ৬ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপনার ভিসা করিয়ে দেবে সে..... এই ভিসা অফিস-দালাল-হাজার দশেক টাকা, এই চক্রের মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে বলে আমার মনে হয়। তবে এসব না ভেবে পজেটিভ চিন্তা করাই ভাল।

পাসপোর্ট ফেরত নেওয়া
আবেদনপত্র জমা দেয়ার সাথে সাথেই আপনাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার দিন ও সময় উল্লেখ করে একটা সিøপ দেয়া হবে। ওই দিনও একইভাবে সময়ের একটু আগে চলে আসুন।
আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতেই পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। পার্সপোট হাতে পেলে নিদৃষ্ট পৃষ্ঠায় ভিসা স্টিকার মারা আছে কি না দেখে নিন। এবার আপনি ভারত যাবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। ১ মাস বা তিন মাস, যে ক’দিনের জন্যেই ভিসা হোক না কেন, মনে রাখবেন সময়টা শুরু হবে আপনার ভারতে প্রবেশের পর থেকে।

ঢাকা টু বেনাপোল
নব্বুই দশকের শেষ দিকে এসে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বেনাপোল সীমান্ত হয়ে কলকাতার সাথে বাস চলাচল শুরু হলে বাংলাদেশিদের জন্য ভারত যাতায়াতের সহজ রাস্তা খুলে যায়।
ভারতের বিভিন্ন যায়গায় থাকা আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ, স্রেফ ভ্রমণ এবং ভারতীয় চিকিৎসাসেবার জন্য বাংলাদেশীদের আগ্রহের জন্যই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে পড়ে ভারত বাংলাদেশের মধ্যকার ব্যস্ততম সীমান্ত পথ। গড়ে হাজার খানেক বাংলাদেশি প্রতিদিন এই সিমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছে।

টিকেটিং
ভিসা পেয়ে গেলে সোজা গিয়ে টিকেট করে ফেলুন। তিনভাবে টিকেট করা যায়।

প্রথমত বিআরটিসি-শ্যামলী যৌথ উদ্যোগ অথবা ইন্ডিয়ান সৌহার্দ’র টিকেট করলে সরাসরি কলকাতা পৌঁছুতে পারবেন। বাস থেকে কোথাও নামতেও হবে না।
এমিগ্রেশনেও ঝামেলা কম হয়। তবে আমাদের এবং ওদের এই দুই তরফে বেনাপোল আর পেট্রাপোলে দুইবারে লাগেজসহ পুরো বাস চেকআপ শেষ হতে যে সময় নেয় ততক্ষণে আপনি কলকাতা পৌঁছে চান করে হালকা ঘুম দিয়ে নিতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত সোহাগ, শ্যামলী, গ্রিন লাইন এবং সৌদিয়া-এস আলমের দুই ভাগে সরাসরি টিকেট পাওয়া যায়। এরা বেনাপোলে নামিয়ে দিয়ে আপনার কপালে একটা স্টিকার লাগিয়ে দিবে। ওপারে আপনার স্টিকার দেখে নিদৃষ্ট বাস সার্ভিস আপনাকে ডেকে নেবে।
এক্ষেত্রেও এমিগ্রেশনে সামান্য চার্জের বিনিময়ে সুপারভাইজার কিছুটা সাহায্য করে থাকে, যদিও বেশিরভাগে হ্যাপা আপনাকেই সইতে হবে।

তৃতীয়ত যেকোনভাবে বেনাপোল পৌঁছে এমিগ্রেশন ফেস করে ওপারে গিয়ে আবার নিজ দায়িত্বে কলকাতা যাওয়া। এক্ষেত্রে এমিগ্রেশন, ওপারে গিয়ে ট্রান্সপোর্ট খুঁজে নেওয়া, সব ঝামেলা আপনাকেই নিতে হবে।
তবে খরচ অনেক কম। কলকাতা পর্যন্ত এই তিন ধরণের যাতায়াত ব্যবস্থাতেই মোটামুটিভাবে ১০০০-২০০০ টাকা খরচ হবে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন
যাবার সময় বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের জন্য অলমোস্ট কোন ঝামেলা নেই। এমিগ্রেশন অফিসের সাথেই সোনালী ব্যাংকের একটা কাউন্টার আছে, শুক্রবারেও খোলা থাকে। ওখানে বন্দর শুল্ক হিসেবে পাসপোর্ট প্রতি ৩০০ টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে নিন। তবে জমা রশিদের বাইরে ২০ টাকা করে দিতে হবে ফাউ। কোন কিছু বলে লাভ নেই। তারপর এমবার্কেশন কার্ড পূরণ করতে হবে। এখানেই প্রচুর সাহায্যকারী পাবেন লিখে দেওয়ার জন্য। পাঁচ, দশ, পনের বিশ, পঞ্চাশ বা একশ, যার কাছ থেকে যা পারে এরা এভাবে চার্জ নিয়ে থাকে। ফর্ম আপনি নিজেও লিখতে পারেন। ঢাকাতেও বাসের টিকেট কাউন্টারেই এমবার্কেশন ফর্ম পাবেন। ফর্মে বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা নামে একটা ঘর আছে, কোন চিন্তা না করেই জানা একটা হোটেলের ঠিকানা বা পরিচিত যে কোন ঠিকানা দিয়ে দিন। এবার পূরণ করা ফর্মটা এমিগ্রেশনের ভেতরে জমা দিতে হবে। ফর্মের নিচের অংশটুকু অফিসার ফেরত দেবে। এটা সঙ্গেই রাখুন যত্নের সাথে। আবার বাংলাদেশে ফেরার সময়ে এটা লাগবে। অফিসার পাসপোর্ট ফেরত দিলে ডিপারচার সিল, তারিখ এবং স্বাক্ষর মিলিয়ে নিন। এবার বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়ুন ভারতীয় সীমান্তে।

ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন
এমিগ্রেশনে আপনার মূল কাজ হল একটা এরাইভাল কার্ড পূরণ করে জমা দিয়ে পাসপোর্টে এরাইভাল সিল ও স্বাক্ষর নেয়া। ইন্ডিয়ায় ঢোকার সময়ে বাংলাদেশ এমিগ্রেশনে লাগেজ চেক করে না। আর এপারে খুব গুরুত্ব না দিলেও লাগেজ চেকিং হয়। কিন্তু ইন্ডিয়ান এমিগ্রেশনে ঢোকার মুখে অন্য ধরণের অভ্যর্থনার মুখোমুখি হবেন আপনি। এ্যারাইভাল ফর্ম পূরণ করে লাগেজ চেকিংয়ের হাত থেকে বাঁচাতে দালালরা আপনাকে প্রতিযোগিতা করে এমনভাবে ডাকাডাকি করতে থাকবে যে আপনার মনে হতে পারে এমিগ্রেশনের মধ্যে না জানি কোন্ কেয়ামত হয়। মূলত এখানকার দালালদের মূল ব্যবসা হল মানি এক্সচেঞ্জ। এরা যে কোন ভাবে হোক আপনাকে পেট্রাপোল বাজারে থাকা তাদের মানি চেঞ্জিং সেন্টারে নিয়ে যাবে এবং ডলার এক্সচেঞ্জ করার জন্য চাপাচাপি করবে। নতুন যায়গা হিসেবে আর আপনার মানসিক স্ট্রেংথ যদি খুব বেশি না হয়, তাহলে এমিগ্রেশনে দালালের সাহায্য নেওয়ায় ভালো। ইন্ডিয়ান এমিগ্রেশনের অফিসারগুলো সাংঘাতিক খতরনাক। সব কিছু ঠিক থাকলেও অহেতুক ঝামেলা করে। দালালকে কিছু টাকা দিলে এই ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন, এমনকি আপনার লাগেজও চেকিং ছাড়াই পার হয়ে যাবে। এমিগ্রেশনে পার হেড ৪০ রুপি দিতে হয় অফিসিয়াল খরচ হিসেবে। যদিও এটার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।

ইন্ডিয়ায় যেতে সাথে কি ধরণের এবং কি পরিমাণ কারেন্সি নেওয়া যাবে এ নিয়ে কিছূটা অনিশ্চয়তা থাকে। বিভিন্ন কথা শোনা যায়। অভিজ্ঞতা হল-

১. সাথে বাংলাদেশি কারেন্সি থাকলে এপার ওপার কোথাওই সমস্যা নেই। বরং সাথে ১০, ২০, ৫০ টাকার নোটে কিছু বাংলাদেশি কারেন্সি রাখা ভালো, ফেরার সময়ে প্রয়োজন হয় খুব। হয়ত যেখানে ১০ টাকা দিলে কাজ হয়ে যেত, সেখানে খুচরা নোটের অভাবে ১০০ টাকা দিতে হবে বাধ্য হবেন।

২. আপনি ঢাকা থেকেই হাজার খানেক ইন্ডিয়ান রুপি সাথে নিয়ে নিন। সাবধানতার জন্য লুকিয়েই নিন, বা গ্রুপে অনেকে থাকলে সবার কাছে ২০০, ৪০০ করে ভাগ করে রাখুন। আমার মনে হয় না কোন সমস্যা হবে। তারপরেও ধরা পড়লে গ্রহণযোগ্য একটা ব্যাখ্য দিলেই হবে।
বেনাপোলে এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে। আপনি টাকা বদলে রুপি বা ডলার বদলে রুপি নিতে পারেন। তবে আমি সীমান্ত এলাকায় কোন ধরণেরই এক্সচেঞ্জ না করার পরামর্শ দেব। ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

৩. ডলার। মোস্ট ইমপর্টেন্ট কেস। সাধারণত ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ১৫০ ডলার এনডোর্স করতে হয়। বেশি এনডোর্স করলে কোন সমস্যা নেই, তবে পরিমান সন্দেহজনক হলে ভিসা অফিসেই ডাকতে পারে।

আমি বলব, এনডোর্সমেন্টের বাইরেও আপনি সাথে বেশি কিছু ডলার নিয়ে নিন। কারণ ফেরত আসার সময়ে ইমিগ্রেশন আপনার পার্সপোর্টে এনডোর্সমেন্টের পরিমাণ এবং ইন্ডিয়ায় ডলার এক্সচেঞ্জের সার্টিফিকেট মিলিয়ে দেখবে। খরচ না হওয়া ডলার এরা ফেরত আনতে দিতে চায় না।
অনেক সময় জোর করে রেখে দেয়। এনডোর্সমেন্টের বাইরে হলে এই সমস্যা নেই। তবে যেহেতু এনডোর্সমেন্টের বাইরে ডলার নেওয়া আইনসিদ্ধ নয়, লুকিয়ে নিন। কিভাবে লুকাবেন সেটা আপনার বিষয়। দয়া করে জুতার ভেতরে, মোজার মধ্যে বা আন্ডার গার্মেন্টস এর ভেতরে রাখবেন না, চেকিং-এ এটা খুব কমন যায়গা।

তবে ইন্ডিয়ান এমিগ্রেশনে সাথে রোগী, অতি বয়স্ক কেউ থাকলে ওরা যথেষ্ঠ নমনীয় ব্যবহার দেখায়, অনেক সময় চেকিংও হয় না। আমাদের এমিগ্রেশনে আবার এসব নেই, সবার সম অধিকার।

সীমান্তের খাদক শ্রেণী
আগেই ওপারের দালাল শ্রেণীর কথা বলেছি। ট্যুরিস্টদের জন্য এরা সাহায্যকারী অবশ্যই। তবে তার চেয়ে বেশি আতংক সৃষ্টিকারী। এমিগ্রেশনে ঢোকার মুখেই ৫ টাকা বা ১০ টাকার বিনিময়ে এমিগ্রেশন পার করিয়ে দেওয়ার কথা বলে আপনার পার্সপোর্ট নিয়ে নেবে। আর একবার পাসপোর্ট আপনার হাতছাড়া হল তো আপনি এদের খপ্পড়ে পড়ে গেলেন। এদের সাথে এমিগ্রেশন অফিসারদের যোগসাজস আছে, তাই আপনার কোন কিছুই করতে হবে না। দালাল চক্রের কেউ একজন আপনাকে পেট্রাপোল বাজারে তাদের মানি এক্সচেঞ্জ অফিসে নিয়ে বসাবে। এরপর দেখা যাবে আপনি একখানে, আপনার লাগেজ এবং পাসপোর্টের কোন হদিস নেই। অন্য একটা দেশের ভুখন্ডে আপনি পাসপোর্ট ছাড়া, লাগেজ ছাড়া। এরচেয়ে আতংকজনক পরিস্থিতি আর কিছুই হতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে আপনার সবকিছু খুইয়ে ফেলাও বিচিত্র কিছু নয়। তবে সচারচর পুরো লাগেজ বা পাসপোর্ট হাওয়া হয়ে যায় না। বিজনেস এথিকস হবে হয়ত। তাই আপনি আপনার সবকিছুই ফেরত পাবেন। তবে আপনাকে এদের কাছ থেকে ডলার ভাঙাতে হবে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এরা কম রেটে আপনার ডলার এক্সচেঞ্জ করবে। দেখা যায়, কলকাতার চেয়ে এখানে ২-৩ রুপি কম দেয়।এটা অনেক। ধরুণ আপনি ১০০ ডলার বদলে পেলেন ৪২০০ রুপি, যেটা কলকাতাতে পেতেন ৪৪৫০ রুপি। ২৫০ রুপি বা প্রায় ৫০০ টাকা নিট লস। এটাই হল এই দালালদের মূল ব্যবসা। আর কোনভাবে যদি কিছু আদায় করা যায়, সেটা উপরি। যেমন ৫ বা ১০ টাকায় যে এমিগ্রেশন পার করিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেটা গিয়ে দাড়াবে ১০০-১৫০ টাকায়।
তারপর এরা প্রায় জোর করে আপনাকে বনগাঁ স্টেশনে গিয়ে রেলে করে কলকাতা যাওয়ার অটোতে তুলে দিতে চাইবে। সেখানে অটোতে অতি অবশ্যই বেশি ভাড়া হবে এবং নিশ্চিতভাবেই এর একটা ভাগ তারা পাবে। তারপর সেই অটো বনগাঁ স্টেশনে দাড়ালে আবার নিশ্চয় কোন ভদ্রলোক এসে জোর করে সাহায্য করতে চাইবে। অতএব মানে মানে করে যত দ্রুত এদের হাত থেকে মুক্ত হতে পারবেন, আপনার পকেট থেকে তত কম খসবে। কিভাবে মুক্ত হবেন, সেটা আপনার মানসিক শক্তি এবং বুদ্ধিমত্তাই বলে দেবে। ভাল হয়, এপারে সীমানায় পরিচিত কেউ থাকলে তার মাধ্যমে ওপারের একজন দালাল কন্ট্রাক্ট করে নেওয়া। তাতে টাকা খসলেও অন্তত মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকবেন।

পেট্রাপোল থেকে কলকাতা
বেনাপোল থেকে কলকাতা মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। কিন্তু অপ্রশস্ত হাইওয়ে, অসংখ্য বাজার আর ইন্ডিয়ার নিজেদের তৈরী বাসের কারনে সময় লাগে প্রায় ৪-৫ ঘন্টা এবং বাসও ঘন্টা, দেড় ঘন্টা পরপর থাকে। পক্ষান্তরে রিকশা বা অটোতে বনগাঁ স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে পারলে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা এবং খরচও কম। তবুও আমার মতে, পেট্রাপোল থেকে সরাসরি বাসে চলে যাওয়াই ভাল। এখানে সোহাগ, গ্রিন লাইন এবং শ্যামলী’র কাউন্টার আছে। ২৬০ রুপি ভাড়া। এগুলোর একটাতে ঢুকে অপেক্ষা করতে থাকুন। এখানে অনেক বাংলাদেশিকে পাবেন। একটা দেশি দেশি ভাব আছে, সাথে দালালদের হাত থেকে মুক্ত হতে পারলেন।

এবার বাস আসলে আপনি উঠে বসুন। ও, এখান থেকে টিকেট নিলে কোন সিট নাম্বার দেয় না, এমনকি কোন কোন সময় টিকেটও দেয় না। হাতে লেখা একটা কাগজ দেয়। চিন্তার কিছু নেই। ওই কাগজ সুপারভাইজারকে দেখালেই হবে আর বাস খালিই থাকে, সিট পাবেন। যদি না পান, আরেকটু অপেক্ষা করে পরের বাসে যান। চার থেকে পাঁচ ঘন্টা পরেই আপনি পৌঁছে গেলেন কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট-এ। ঢাকা-কলকাতা রুটের সব বাস এখানেই থামে।

পেট্রাপোল থেকে যাত্রা শুরুর ঘন্টা দুই পরে রাস্তার মাঝে এক হোটেলে বাসগুলো ২০ মিনিটের একটা ব্রেক দেয়। আর যদি ট্রেনে যান, তাহলে আপনাকে নামতে হবে শিয়ালদা স্টেশনে। এখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে যেকোন যায়গায় যেতে পারবেন।

এখানে দুটো বিষয় বলে রাখা ভালো।
১. ইন্ডিয়ায় ঢুকে প্রথমেই আপনার ঘড়ির সময় আধাঘন্টা পিছিয়ে নিন।
২. যদি আপনার একান্তই টাকা বা ডলার বদলে রুপি নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তাহলে আপনার জন্য ভালো হবে ওপরের তিন বাসের কাউন্টারে আসা। এরা তুলনামূলকভাবে রিজনেবল রেট দেয়।
৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- পুরো পশ্চিমবঙ্গে লোকজন রুপিকে টাকা বলে। পরিচিত শব্দ হওয়াতে আমরা বাংলাদেশিরা অধিকাংশ সময়েই রুপি এবং টাকার পার্থক্যটা ঠিক মনে রাখতে পারি না।

ফলস্বরূপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়ে যায়। যেমন ধরুণ এক বোতল পানি, যেটা আমরা কিনি ১০ টাকা দিয়ে, ইন্ডিয়াতে সেটা ১৪ টাকা। আমরা যেহেতু বাইবর্ন খরুচে স্বভাবের, তাই ৪ টাকা বেশি দিয়ে পানির বোতল কিনতে আমাদের কোন সমস্যা হয় না।
কিন্ত এই ১৪ টাকা যে আসলে প্রায় ২৫ টাকা, সেই বোধটা আমাদের মাথায় থাকে না একদমই। ফলে খরচও বাড়ে হুহু করে। একইভাবে যে আপেল আমাদের এখানে ১০০-১২০ টাকা কেজি, সেই একই আপেল ওখানে ১২০-১৪০ টাকা কেজি। মনে রাখতে হবে এই ১২০-১৪০ টাকা মানে আসলে ২০০-২৫০ টাকা। তাই একটু সাবধান থাকলে আপনার খরচ বাঁচার পাশাপাশি দেশের মূল্যবান ফরেন কারেন্সিও বাঁচে।

হোটেল বুকিং
মারকুইস স্ট্রিটে নেমে আপনার প্রথম কাজ হবে হোটেল খুঁজে নেওয়া। পুরো মারকুইস স্ট্রিট এবং পার্ক স্ট্রিট জুড়ে অসংখ্য চলনসই হোটেল আছে। পেট্রাপোল (ওরা বলে, বর্ডার) থেকে আসা বাসগুলো যেখানে থামে সেখানে দাড়িয়ে আশেপাশে তাকালেই এর অনেকগুলো চোখে পড়বে।
এসি, নন এসি, সব ধরণের রুমই আছে। সাধারণত ৫০০ থেকে ১০০০ এর ভেতরে ভাড়া। আরো বেশি ভাড়ার ভালো হোটেলও আছে। প্রথম দিনে আপনি পছন্দসই হোটেল নাও পেতে পারেন।
প্রথম দিনের জন্য আপনি বরং সবচে কাছের হোটেল সম্রাট বা হোটেল ২১ এ উঠুন, পরদিন খুঁজে নিতে পারবেন আপনার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে থাকা হোটেলগুলো। তারপর একটা মোবাইল ফোনের সিম কিনে নিন। ১৫০ টাকা মত লাগবে, সাথে দুই কপি ছবি এবং পাসপোর্টের নিদৃষ্ট কিছু পাতার ফটোকপি। এখানে একটা বিষয় বলা উচিৎ। ভারত আমাদের বৃহত্তম প্রতিবেশি হওয়ায়, অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা বেশি হওয়ায় এবং বাংলাদেশিদের বিদেশপ্রীতি আর খরচের বহর দেখে বাংলাদেশিরা এখন ভারতীয়দের কাছে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুধেল গাভীর মত হয়ে গেছে। কর্পোরেট সার্ভিসগুলোতে বাংলাদেশিদের এরা খুবই খাতির করে। শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের এন্টারটেইন করার জন্য এখানকার প্রায় সব সেলফোন অপারেটরেরই বাংলাদেশ প্যাকেজ আছে। এইসব প্যাকেজের ফোন থেকে বাংলাদেশে যত কম খরচে কথা বলা যায়, ভারতের অন্যান্যা রাজ্যে তা যায় না। ভাবার কোন কারণ নেই যে, এটা আমরা যেমন বিদেশি দেখলে গলে গিয়ে কিছু একটা করে বর্তে যাই সেরকম কিছু, বরং এর সবটার পেছনেই টাকা। এইসব প্যাকেজের সিম কার্ডের প্যাকেটে থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ছবি। আবেগতারিত হয়ে আমরা সেইসব ছবি দেখে আপ্লুত হয়ে সাট সাট করে দেশে ফোন করি আর রেভিনিউটা চলে যায় ইন্ডিয়াতে।

পার্ক স্ট্রিট এলাকাটা কলকাতা নিউ মার্কেটের (ওরা বলে, মার্কেট) পাশেই। যায়গাটা একটু ঘিঞ্জি। তবে আপনি যদি কলকাতাতে ট্যুরের জন্য এসে থাকেন বা চেন্নাই-ভেলোর-মাদ্রাজ-হায়দ্রাবাদ যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চান এবং এখানে আপনার পরিচিত কেউ যদি না থাকে, তাহলে থাকার জন্য এই এলাকাই ভালো। বাংলাদেশ বাংলাদেশ গন্ধ লেগে আছে। খেতে ঢুকলে বা রাস্তাতে নোয়াখালি, চাটগাঁ, রংপুর, পুরান ঢাকা, সব ল্যাংগুয়েজই শুনতে পাবেন। মুসলিম প্রধান এলাকা হওয়ায় মুসলিম হোটেলও আছে একাধিক। কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন এখানে। সোনালী ব্যাংকের একটা শাখাও রয়েছে পার্ক স্ট্রিটের ওয়ান্ডারল্যান্ডের পাশে, পার্ক ম্যানসনে। পার্ক স্ট্রিট থেকে কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলোও থাকবে আপনার নাগালের ভেতরে। ট্যাক্সি, বা রুট নাম্বার জেনে নিতে পারলে ট্রাম ও পাবলিক বাস ব্যবহার করতে পারবেন সহজেই।

আর যদি চিকিৎসার জন্য আসেন, সেক্ষেত্রে সেন্ট্রাল কলকাতায় না থেকে বাই পাস বা মুকুন্দপুর-সন্তোষপুরের আশেপাশে থাকাই ভালো। হসপিটালগুলোর বেশিরভাগ এ এলাকাতেই। আর থাকার খরচও কম।

কিছু টিপস-

*মারকুইস স্ট্রিট থেকে দর্শনীয় স্থানগুলো-
# নিউ মার্কেট- হাটা পথের দূরত্ব। আমাদের গাওসিয়া, চাঁদনি চক, ধানমন্ডি হকার্স, নিউমার্কেট, নিলক্ষেত, বাবুপুরা এবং গাউসুল আজম মার্কেট এর মিলিত আয়তনের সমান হবে, আর চরিত্রে কোন পার্থক্য নেই। সেই একই ভিড়।
# ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম- হাটা পথের দূরত্ব।
# ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল- ২ কিমি। ইন্ডিয়ার ইতিহাস এখানে সচিত্র সংরক্ষণ করা আছে।
# বিড়লা প্লানেটোরিয়াম- ২ কিমি। আমাদের ভাসানি নভো থিয়েটার।
# সায়েন্স সিটি- ৭ কিমি। বাচ্চা কাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
# নিক্কো পার্ক- ১২ কিমি। মিরপুরের বোটানিকাল গার্ডেন।
# বিড়লা মন্দির-৪ কি.মি.
# ইডেন গার্ডেন- ২ কিমি
# রেসকোর্স (ওরা বলে, ময়দান)- ২ কি.মি.
# কফি হাউজ- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। মধুর ক্যান্টিনের মত গেলেই ধাক্কা খেতে হয়। মান্নাদে’র গানে ছাড়া কলকাতার আমজনতা এর নাম জানে না।
# এ্যকোয়াটিকা- ১৫ কিমি। সমূদ্রতলদেশের একটা ডামি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
# হাওড়া ব্রিজ, শিয়ালদহ এবং মহাকরণও রাখতে পারেন তালিকায়।

* মেট্রো রেলে একটা ট্রিপ দিতে পারেন। এখানে মনে রাখতে হবে, ইন্ডিয়ানরা মেট্রো স্টেশনে ঢোকার সাথে সাথে চরিত্র বদলে ফেলে। এর ভেতরে এরা সুশৃংখল, নিয়মানুবর্তি এবং সৎ।
*কলকাতাতে ঘুরতে গেলে গ্রুপে যাওয়াই ভালো। অনেক দিক দিয়ে সাশ্রয় হবে।
*সাধারণত ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ধান্ধাবাজি করেনা। তবুও আগে ভাগে বলে নেওয়াই ভালো। মিটার এবং রিজার্ভ, দু’ভাবেই যাওয়া যায়। মিটারে গেলে যা বিল আসে তার ডাবল দিতে হয়। এখানে মিটার থেকে বিল পেপার প্রিন্ট হয়ে আসে।
*সারা ইন্ডিয়াতেই সরকারি দর্শনীয় স্থানগুলোতে ইন্ডিয়ান এবং নন ইন্ডিয়ান টিকেটের মূল্য দুই রকম। যেমন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ইন্ডিয়ানদের জন্য ১০ রুপি এবং নন ইন্ডিয়ানদের জন্য ১৫০ রুপি। অনেক পার্থক্য। কিছু হিন্দি জানা থাকলে বা সাথে কোন ইন্ডিয়ান থাকলে এক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন।
* আর যদি চিকিৎসার জন্যে দূরে কোথাও যাবার প্লান থাকে, তাহলে দেরি না করে ট্রেনের টিকেট বুক করে ফেলুন। স্টেশনে গিয়ে নিজেই করতে পারেন। বিদেশিদের জন্য আলাদা কাউন্টার আছে। ইন্ডিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমের মূল চালিকা শক্তি হলো রেল।
তাই এদের রেল ব্যবস্থা অতি উন্নত না হলেও সিস্টেমেটিক। সমস্যা হওয়ার কথা না। তারপরও বাসের কাউন্টারে নেমে হেলপ নিতে পারেন।
*কলকাতা থেকে কেনাকাটা না করাই ভাল। আমাদের দেশের চেয়ে বিশেষ উন্নত কিছু পাওয়া যায় না, তাছাড়া দামও বেশি (বাক্তিগত পরামর্শ)।
# কলকাতায় যখন ডলার ভাংগাবেন, তখন অবশ্য অবশ্যই ডলার ভাংগানোর মানি রিসিপট নেবেন। তা না হলে বর্ডারে বিপদে পড়তে পারেন।

ফিরতি বেলা
ফেরার সময়ে শুধু একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ইন্ডিয়ান সময় ৫টায় বর্ডার বন্ধ হয়ে যায়। সেভাবে সময় নিয়েই আসবেন। আসার সময়ে দু’পাশের কাস্টমসেই বেশ ঝামেলা করে, বিশেষ করে বাংলাদেশ কাস্টমসে। উপরওয়ালা দিয়ে ফোন না করিয়ে, বা টাকা না দিলে আপনার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ডিওডোরান্টটাও রেখে দিতে পারে। আবার টাকা দিলে লাগেজ চেকও হয় না।
ইন্ডিয়ান কাস্টমসে সাধারণত ডলার থাকলে ফেরত দিতে চায় না। ডলার ভাঙানোর সার্টিফিকেটের সাথে এন্ডোর্স করা ডলারের পরিমাণ মিলিয়ে দেখে। তবে, কাস্টমস এ ব্যাপারে যতটা না তৎপর, পেট্রাপোল বাজারের প্রতিটা মানুষ আরো বেশি তৎপর। বিভিন্ন কথা বলে আপনাকে আতংকিত করে ফেলবে এবং আপনার সাথে ফেরত আসা ডলার এক্সচেঞ্জ করানোর জন্য চেষ্টা করবে। এসব ব্যাপারে বাসের সুপারভাইজারের সাহায্য নিতে পারেন। আর এমিগ্রেশনে ঢোকার মুখে দাড়িয়ে থাকা কুলিদের সাহায্য নিলে লাগেজ চেকিংয়ের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। সব শেষ করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ুন, দেখবেন বুকের ভেতরে কেমন নতুন এক শক্তি এসে ভর করবে। নিজের দেশ বলে কথা।

(সংগৃহীত)


Follow Us:
Facebook:
https://www.fb.com/voyagerbangladesh
OR
https://www.fb.com/VoyagerBangladeshbd
Twitter: https://twitter.com/totravelbd
Web: www.voyagerbangladesh.com
Blog:http://voyagerbangladesh.blogspot.com

Address

42-43, Treasure Island (2nd Floor)
Shantinagar
1217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Voyager Bangladesh "ঘুরে দেখুন বিশ্ব কে" posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Voyager Bangladesh "ঘুরে দেখুন বিশ্ব কে":

Share

Category