13/05/2026
বিমানে জন্মদিনের কেক কাটার সৃতি 🥰
২০১৪ সালের কথা। আমি জেদ্দা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকা আসব। রাত ১০:৩০ মিনিটে ফ্লাইট ছিল।
সন্ধ্যা ৭টায় ইমিগ্রেশন শেষ করে ভেতরে গিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ ঘোষণা এলো যে, বিমানের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হবে। তাই আমাদের সবাইকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে।
আমরা সবাই হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে বাসে করে একটি হোটেলে চলে গেলাম। সেখানে আমাদের রাতের খাবার ও পরদিন সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করা হলো। পরদিন সকাল ৮টায় বাসে করে আবার এয়ারপোর্টে নিয়ে আসা হলো এবং সকাল ১০টায় ফ্লাইট ছাড়ল।
আমার সিট ছিল ৩৪-সি। বিমানে ওঠার সময় দিনা নামের একজন কেবিন ক্রু আমাকে সিট দেখিয়ে দিলেন। তখন আমি বয়সে ছোট ছিলাম বলে হয়তো উনি আমাকে হ্যান্ডব্যাগ গুছিয়ে রাখতেও সাহায্য করলেন।
উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি একা কি না এবং দেশের বাড়ি কোথায়? আমি জানালাম যে আমি একাই যাচ্ছি আর বাড়ি সিলেটে।
আমি গতদিনের ফ্লাইটের সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করলে উনি বললেন, লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে আসা এই বিমানটির চাকায় সমস্যা হয়েছিল, তাই ফ্লাইট দেরি হয়েছে।
উনি আরও বললেন— সবাই বাড়িতে আপনার ফেরার অপেক্ষায় আছেন। আমি বললাম, "আসলে তা নয়, আজ আমার জন্মদিন ছিল। যদিও পালন করি না, কিন্তু বন্ধুরা উইশ করছিল আর সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।"
উনি বললেন, "ও আচ্ছা, ঠিক আছে ভাইয়া, বসেন।" এরপর তিনি হাসিমুখে সবাইকে বসতে ও গুছিয়ে নিতে সাহায্য করলেন।
যথাসময়ে বিমান ছাড়ল, আর আমাদের জুস, বাদাম ও পানি দেওয়া হলো, এরপর দেওয়া হলো খাবার।
খাবার শেষে সবাইকে চা-কফি দিয়ে বিমানের লাইট অফ করে দেওয়া হলো। সবাই তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। ৩০-৪০ মিনিট পর কেবিনে মৃদু আলো জ্বলে উঠল।
দেখলাম কেবিন ক্রু দিনা আপু হাতে একটি ১ পাউন্ডের চকলেট কেক নিয়ে সামনের গ্যালি থেকে আসছেন। হঠাৎ কাছে এসে আমাকে বললেন, "ভাইয়া, আপনি আমার সাথে আসুন।"
উনার হাতে কেক আর সাথে আমাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।
আমি উনার সাথে বিমানের পেছনের গ্যালিতে গেলাম।
সেখানে দিনা আপু ছাড়াও আরও তিনজন কেবিন ক্রু— নওশাদ, মামুন এবং আরও একজন মেয়ে (নামটি মনে নেই) ছিলেন।
সেখানে উনারা আমাকে দিয়ে কেক কাটালেন এবং সবাই হাত তালি দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন। 🥰
আমি একদিকে যেমন অবাক হয়েছিলাম, তেমনি খুব উপভোগ করছিলাম।
সেই সময়ে কেবিন ক্রুরা সাধারণত ছবি তুলতে অপারগতা দেখাতেন, আর বিমান আকাশে ওঠার আগেই মোবাইল বন্ধ করতে হতো। তাই সেই মুহূর্তের কোনো ছবি বা ভিডিও করতে পারিনি, এটা একটা দুঃখ 😥
যাহোক, ৪০ হাজার ফুট ওপরে এটি ছিল এক অন্যরকম সারপ্রাইজ।
এজন্য স্মৃতিটি মাঝেমধ্যে খুব মনে পড়ে। নামার সময় দিনা আপুকে অনেক ধন্যবাদ দিলাম। উনি উনার ফোন নম্বর দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে উনার সাথে ফোনে অনেকবার কথা হয়েছিল।
নম্বরটি এখন বন্ধ থাকলেও আমার ইমেইলে সেটি এখনো সেভ করা আছে।
এই ঘটনাটি শেয়ার করলাম কারণ এমন সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকের সাথেই হয়েছে।।
পোস্ট দিয়ে আপনাদের বিরক্ত করার জন্য ধন্যবাদ 😁