20/04/2026
সেন্টমার্টিন কি তবে থমকে যাবে? দ্বীপবাসীর অস্তিত্ব রক্ষার আকুতি🥹
সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষের জীবন আজ এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। গত ৩১শে জানুয়ারি থেকে পর্যটন বন্ধ হওয়ার পর দ্বীপের অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়েছিল। এবার মৎস্য আহরণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা সেই সংকটে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল। দ্বীপের প্রায় প্রতিটি পরিবারের আয়ের সব পথ এখন পুরোপুরি রুদ্ধ।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা:
• আয়ের উৎস শূন্য: পর্যটন ও মাছ ধরা—এই দুইয়ের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষ এখন দিশেহারা। টানা কয়েক মাস কোনো উপার্জন না থাকায় জমানো পুঁজিও শেষ পর্যায়ে।
• আসন্ন কোরবানির ঈদ: সামনেই পবিত্র ঈদুল আযহা। যেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এক টুকরো মাংস জোগাড় করা কিংবা সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন জামাকাপড় কিনে দেওয়া এখন দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে।
• খাদ্য ও জীবনযাত্রা: নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের এই সময়ে আয়হীন জীবন মানেই প্রতিটি দিন অনাহারে বা অর্ধাহারে কাটানো।
আমাদের দাবি ও মানবিক আবেদন:
দ্বীপের মানুষের এই হাহাকার কমাতে প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ—
১. সীমিত পরিসরে পর্যটন: ট্রলার ও স্পিডবোটের মাধ্যমে অন্তত সীমিত আকারে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হোক। এতে করে দ্বীপের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গাইড এবং সাধারণ মানুষের আয়ের একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে।
২. বিশেষ সহায়তা: যেহেতু মাছ ধরা ও পর্যটন দুটিই বন্ধ, তাই দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক অনুদান নিশ্চিত করা হোক।
সেন্টমার্টিন শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি কয়েক হাজার মানুষের ঘর। এই কঠিন সময়ে দ্বীপবাসীকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সবার মানবিক দায়িত্ব।