28/02/2026
কোন দিন হঠাৎ আবেগে পোষা প্রাণী পালবেন না।
আগে ভালো করে ভাবুন, প্রস্তুতি নিন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
আমার বিড়াল কোকো। বয়স ১.৫ বছর, ওজন ৩.৮ কেজি।
ছয় মাস আগে আমাদের বাসায় আরেকটা নতুন বিড়াল জিজি আসে। দেখতে খুব সুন্দর, মোটামুটি হেলদি, শুধু কৃমি আর উকুনের সমস্যা ছিল। ওর চিকিৎসা করা হয়, সাথে আমার আগের বিড়াল কোকোকেও একইভাবে ট্রিটমেন্ট করানো হয়।
কিছুদিন পর খেয়াল করলাম কোকোর ওজন কমছে, খাওয়া কমে যাচ্ছে, লোম পড়ছে। অনেক দিন ডিওয়ার্মিং করা হয়নি ভেবে আবার ডিওয়ার্মিং করালাম। নতুন করে দুই বিড়ালেরই ভ্যাকসিন আর ডিওয়ার্মিং সম্পন্ন করা হলো।
জিজি ধীরে ধীরে ভালো হয়ে উঠছিল, কিন্তু কোকো শুকিয়ে যাচ্ছিল। আগের তুলনায় সামান্য উন্নতি হলেও ওজন আর আগের মতো হয়নি। বারবার ডাক্তারকে বলেছি। তিনি ডিওয়ার্মিং আর ভিটামিন দেওয়ার কথা বলেছেন। সবই করেছি, কিন্তু তেমন ফল পাইনি।
আমরা দুজনই চাকরিজীবী ডাক্তার। প্রথমে কোকোকে অ্যাডপ্ট করি। পরে মায়া লেগে যায়। ও একা থাকে ভেবে জিজিকে নিয়ে আসি। কোকোই ছিল আমার প্রথম বিড়াল। ব্যস্ততার কারণে মাঝে মাঝে শুধু ক্যাট ফুড দিয়ে যেতে হতো। কিছুদিন ওয়েট ফুড খেলেও ধীরে ধীরে খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
কিছুদিন ধরে কোকো খুব ঘন ঘন নিজের মেল অর্গান চাটছিল। আমরা ভেবেছিলাম, নিউটার করা বিড়াল হয়তো আবার হিটে উঠতে পারে। অনেকে বলেছিল এমন হতে পারে। তাই খুব একটা গুরুত্ব দেইনি।
একদিন রাত ৩.৩০টার দিকে অদ্ভুত একটা শব্দ পেলাম। মনে হলো বাইরে থেকে আসছে। ৪.৩০টার দিকে আবার সেই শব্দ। আমি আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি কোকো কে দেখেছো,সে বলল না।
কিছুক্ষণ পর দেখি কোকোকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারপর বুঝতে পারি, ওই অদ্ভুত শব্দটা কোকোই করছিল।
আমরা দুজনই খুব ইমোশনাল হয়ে পড়ি। সময় তখন সকাল ৬টা। বুঝতেই পারছিলাম না কী হয়েছে। কয়েকজন ভেট ডাক্তারকে ফোন করি। সবাই বলেন হাসপাতালে নিয়ে আসতে। কিন্তু কোকোর যে অবস্থা, মনে হচ্ছিল আর এক মিনিটও বাঁচবে না।
সকাল ৮.৩০টার দিকে কোকোকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসক চেষ্টা করে বের করেন যে কোকোর মূত্রনালিতে ক্রিস্টাল জমে ইউরিনারি ব্লক হয়েছে। এক্স-রে করে ক্রিস্টাল প্লাগ বের করা হয়, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। বলা হয় সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু বাসায় এসে কিছুক্ষণ ভালো থেকে আবার আগের অবস্থা। এর মধ্যে কোকো দেড় দিন কিছু খায়নি। হাসপাতাল থেকে এসে একটানা প্রায় ৫০০ মি.লি. পানি খেয়েছে। তারপর শুরু হলো বমি। একবার, দুবার… দেখতে দেখতে ৮ বার বমি করল। রাতে আইএম এমেসেট দিয়েও দুইবার বমি করল।
আমার তখন মনে হচ্ছিল বুক ফেটে যাবে। কোকোর কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না। রাতে আরও ৫–৬ জন ভেটের সাথে কথা বললাম। সকাল হওয়ার অপেক্ষা। ঘুমের ওষুধ খেয়েও মাত্র ২ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছি। দুই দিন ধরে কোকো না খেয়ে, আর আমি প্রায় না ঘুমিয়ে একদম ক্লান্ত।
সকালে পুরান ঢাকা থেকে মোহাম্মদপুরে চিকিৎসক কাছে যাই। তিনি সব পরীক্ষা করে নতুন করে চিকিৎসা শুরু করেন। অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে ক্যাথেটারাইজেশন করা হয়। রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়া অনেক বেশি, মানে কিডনির সমস্যা তৈরি হয়েছে। লিভার এনজাইমও বেশি। সব রেগুলার খাবার বন্ধ করে তিনটি সিরাপ দেন, সাথে কিডনি-ফ্রেন্ডলি ওয়েট ফুড।
এক বসাতেই খরচ হয়ে যায় প্রায় ১৫,০০০ টাকা।
একজন সাধারণ মানুষের জন্য এটা বহন করা খুবই কষ্টের।
সবাই আমর কোকো এর জন্য দুআ করবেন প্লিজ ।
এই পুরো গল্প বলার একটাই কারণ—শুধু শখের বশে বিড়াল বা কোনো পোষা প্রাণী অ্যাডপ্ট করবেন না। আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, সে অসুস্থ হলে আপনি কি তার চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারবেন? তার কষ্টের সময় পাশে দাঁড়াতে পারবেন?
পোষা প্রাণী মানে শুধু আদর না, দায়িত্বও।
ভালোবাসা দিলে শেষ পর্যন্ত সেটা পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই দিতে হয়।