17/08/2026
অনবদ্য আন্দামান ( AC হোটেল ও গাড়ি সহ )
৬ রাত্রি ৭ দিনের প্যাকেজের ২০২৬ সালের যাত্রা শুরু ডেট গুলি হল —
Date
*১৯ শে নভেম্বর*, ২০২৬
এ ছাড়া যে কোনো দিন নূন্যতম ৬ জন হলেই ৷
প্রকৃতিকে তার আদিমরূপে দেখতে চাইলে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপগুলো অতুলনীয়। নগরজীবনের কোলাহল থেকে মুক্ত এক অন্য পৃথিবী। আট থেকে আশির স্বপ্নপূরণের আদর্শঠিকানা। তাসেরদেশের রাজপুত্রর কোন দূর দ্বীপের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিলেন অকূল সমুদ্রে তার আমরা কেউ জানি না। তবে এখানে পৌঁছে আপনার মনে হবে এ যেন সেই অচিন দেশের রাজপুত্রের স্বপ্নের দেশ "নীলের কোলে শ্যামল সে দ্বীপ প্রবাল দিয়ে ঘেরা" এর বালুকাবেলায় বসে অশান্ত সমুদ্রের গর্জনে ও ঝোড়ো হাওয়ায় আন্দোলিত শ্যামবনানীর মর্মর স্বরে শুনতে পাওয়া যাবে অনন্ত রহস্যের রোমাঞ্চকর আদিম মানুষের কথা। বঙ্গোপসাগর যেখানে কূলহারা ভারত মহাসাগরের বুকে গিয়ে মিশেছে তার কাছাকাছি নারিকেল কুঞ্জের শ্যামচ্ছায়া ঘেরা রহস্যময়ী আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভারততীর্থ আন্দামান মেইনল্যাণ্ড কোলকাতা থেকে ১২৩৬ কিমি দূরে অবস্থিত। পৃথিবীর সুন্দরতম স্হানগুলির মধ্যে অন্যতম। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বিরল সৌন্দর্যের লীলাভূমি। মাথায় পাহাড়ী উঁচু--নিচু ঘোমটা; আকাশের হালকা নীল আর বনানীর গাঢ় সবুজের সঙ্গে, সূর্যের সোনালী রঙ মিশে যেন এক নকশা বুনেছে,আর কোমরে তার ফিরোজ সবুজের সলিল ঘাঘরা,কটি দেশে ফেনময় উচ্ছ্বসিত তরঙ্গরাশি, কপাল তার আকাশের চাঁদ--টিপ, পায়ে তার ঘুঙুর বাজছে দিনরাতে। আহা! কি অপরূপা! কী লাবণ্যময়ী!
চলুন "ড্রিম ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস" এর ব্যবস্থাপনায় ঘুরে আসি নীল সাগরের দেশ আন্দামান থেকে।
প্রথম দিন: কলকাতা থেকে উড়ানে ঠিক দু’ঘণ্টার মধ্যে পোর্টব্লেয়ার বিমানবন্দরে অবতরণ করা যায় । প্রথমদিন হোটেলে পৌঁছেই স্নান আহার সেরে, এবং কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আমরা প্রস্তুত হবো ভারতবর্ষের বিখ্যাত জাতীয় ঐতিহ্য দর্শন করার জন্য, সেলুলার জেল, যার নাম শুনলে এখনও শিরদাঁড়া বেয়ে এক মারাত্মক কম্পন অনুভব করা যায়। সন্ধেবেলা এখানেই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হয়। তাতে আন্দামানের ইতিহাসের বিবরণ দেওয়া আছে। কীভাবে মানুষ এখানে প্রথম বসতি গড়ে, কীভাবে ব্রিটিশরা দখল করে, বিপ্লবীদের ‘শিক্ষা’ দেবার তরে জেল প্রতিষ্ঠা আর ব্রিটিশদের বিপ্লবীদের ওপর অমানবিক অত্যাচার—সবই তুলে ধরা হয় এখানে। জেলের কুঠুরির ভেতর বন্দিদের আর্তনাদ, প্রতিটি বেত্রাঘাতের সঙ্গে তাঁদের ‘বন্দেমাতরম’ চিৎকার মনকে ভারাক্রান্ত করে। আমরা আজ আনন্দ পাওয়ার জন্য এঁদের এই যন্ত্রণার স্থান দেখতে আসি। এই স্থানে ভ্রমণ কোনও তীর্থযাত্রা থেকে কম নয়।
দ্বিতীয় দিন: আমাদের পরের দিনের ভ্রমণ তালিকায় রয়েছে রস আইল্যান্ড, যার নতুন নাম ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’র নামে। একবারে পরিকল্পিত, সুন্দর গোছানো একটা দ্বীপ। অনায়াসে হেঁটেই ঘুরে নেওয়া যায়। দ্বীপের মধ্যেই ভাড়া পাওয়া যায় ব্যাটারিচালিত গাড়ি, ছয়জন সওয়ারি নিয়ে দর্শনীয় সব স্থান ঘুরে দেখার জন্য। রস হল একটি ছোটো পাহাড়ি টিলামতো। তাই গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। প্রায় পুরো দ্বীপটাই ব্রিটিশ স্থাপত্যে ভরা, এখন সবই ভগ্নদশায় পড়ে আছে। দ্বীপে প্রচুর হরিণ এবং ময়ূর আছে। ময়ূরের ডাক সমানে শোনা যায়। একবারে ওপরে উঠে পুরো দ্বীপটাই দেখা যায় আর সঙ্গে একদিকে নর্থ বে আর অন্যদিকে পোর্টব্লেয়ারও দেখা যায় এখান থেকে। রসে প্রবেশ করতে গেলে আলাদা করে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে নিতে হয়। ব্যাটারি গাড়ি ভাড়া করতে হলে এখানেই দাম আলাদা করে দিয়ে দিতে হবে। এই টিলার ওপর থেকে চারপাশে নীল সমুদ্রের জল আর দু’দিকে দুটো সবুজ দ্বীপ দেখতে গিয়ে চোখ জুড়িয়ে আসে।
রস দ্বীপ থেকে নর্থ বে আরও দশ মিনিট মতো। এখানে সবরকম জল-ক্রীড়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যেমন স্কুবা ডাইভিং, স্নর কেলিং প্রভৃতি। গ্লাস বোটে করে নীচে সবই দেখা যায় । নর্থ বেতে আছে একটি বাতিঘর অথবা ইংরেজিতে বলে ‘লাইট হাউস’, যেটা পোর্টব্লেয়ারের সেলুলার জেল থেকে বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। আর সবথেকে বিশেষ তথ্য এই বাতিঘরের সম্বন্ধে হল যে আমাদের কুড়ি টাকার নোটে এই বাতিঘরের ছবি দেওয়া আছে। বিকেলে আবার অ্যাবার্ডিন ডক হয়ে ফিরে এলাম আমাদের পোর্ট ব্লেয়ারের হোটেলে।
তৃতীয় দিন: এইদিন সকালে পোর্টব্লেয়ারের থেকে হ্যাভলক দ্বীপ যাওয়ার জাহাজ উঠবো আমরা। প্রায় দু’ঘণ্টা লাগে পোর্টব্লেয়ার থেকে হ্যাভলক দ্বীপ পৌঁছতে। হ্যাভলক পৌঁছে নির্দিষ্ট গাড়িতে আমরা পৌঁছে যাবো আমাদের রিসোর্টে। দিনেরবেলা সমুদ্র এখানে বেশ দূরে, তখন মৃত কোরালগুলো সব বেরিয়ে পড়ে, বড়ো বড়ো পাথরের চাঁইয়ের মতো। আবার সন্ধেবেলা শোনা যায় সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন। কিন্তু এই সমুদ্রতট স্নান করার জন্য একবারেই উপযুক্ত নয় কেবল এই পাথরের মতো গজিয়ে থাকা মৃত কোরালের জন্য। ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। ভোরবেলার সূর্যোদয় এই সমুদ্রতটের এক নৈসর্গিক দৃশ্য যা দেখতে হলে ভোর সাড়ে চারটের মধ্যে অবশ্যই বিছানা পরিত্যাগ করতে হবে। হ্যাভলক তো আর বারবার আসা যাবে না, এইটুকু কষ্ট না হয় একটু মেনেই নিলেন।
সমুদ্রে স্নান করার জন্য এখানে রয়েছে আরেক তট বা সমুদ্রসৈকত, রাধানগর সমুদ্রসৈকত যা পৃথিবীর নামকরা সমুদ্রসৈকতের মধ্যে পড়ে। এই সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জন্য স্নানের পর ভেজা জামাকাপড় ছেড়ে কলের জলে নিজেকে শোধন করে নিয়ে পোশাক পরিবর্তন করার ব্যবস্থা আছে। এ এক অদ্ভুত সুন্দর সমুদ্রসৈকত, অনেকটা ইংরেজি অক্ষর ‘C’-এর মতো বাঁকানো। সামনে গাঢ় নীল সমুদ্র আর পেছনে ঘন গাছের বন।
চতুর্থ দিন: স্বরাজ অর্থাৎ হ্যাভলক দ্বীপ থেকে শহীদ (নীল) দ্বীপ যেতে একঘণ্টার কম সময় লাগে। জাহাজ থেকে নেমেই চোখ জুড়িয়ে যায় সাগরের নীল জলের দিকে তাকিয়ে। এখানে আকাশ ও জলের রঙ একইরকম নীল, তাই বোধহয় এর নীল নাম সার্থক। একদিকে স্বরাজ দ্বীপ সবুজে ঢেকে রয়েছে, আর রয়েছে আরও অন্য নাম না জানা দ্বীপ। আয়তনের দিক থেকে নীল খুবই ছোটো। দ্বীপের সবচেয়ে চওড়া অংশের দৈর্ঘ্য খুব বেশি হলে পাঁচ কিলোমিটার। লোকসংখ্যা পাঁচ-ছয় হাজারের মধ্যে। সারা দ্বীপ জুড়ে রয়েছে নানান ধরনের গাছগাছালি। নারকেল, সুপারি থেকে শুরু করে আম-জাম-কাঁঠালগাছও রয়েছে। গাছগাছালির বৈচিত্র্যের জন্যে নীল আইল্যান্ডকে বলা হয় আন্দামানের ‘সবজির পাত্র’ বা ‘ভেজিটেবল বৌল’। এই দ্বীপ ঘোরার মধ্যে দিয়েই আপনার দেখা হয়ে যাবে রামায়ণের প্রধান পৌরাণিক চরিত্রগুলোর নামে নামাঙ্কিত বিচগুলো—ভরতপুর, লক্ষ্মণপুর। আমরা দেখে নেবো লক্ষ্মণপুর বিচ বা সমুদ্রতট যাকে ‘কোরাল রিফ আইল্যান্ড’ও বলা হয়ে থাকে। এখানে রয়েছে দুটি চমৎকার প্রাকৃতিক কোরাল ব্রিজ যাকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছে ‘হাওড়া ব্রিজ’।
পঞ্চম দিন: আজ সারাদিন নীল (শহীদ) দ্বীপে কাটিয়ে আমরা বিকেলের দিকে ফেরত আসবো পোর্ট ব্লেয়াের। রাত্রিবাস সেখানেই।
(সমস্ত দ্বীপে যাত্রা নির্ভর করবে কোন সময়ের ক্রুসের টিকিট আমরা পাচ্ছি)
ষষ্ঠ দিন: আজ আমাদের গন্তব্য হবে আন্দামানের অন্যতম আকর্ষণ বারাটাং। সেখানে যাওয়ার রাস্তা গিয়েছে জারোয়া বসতির মধ্যে দিয়ে। খুব ভোরে আমাদের সেদিন বেরিয়ে পড়তেই হবে। গাড়ি জিরকাটাংয়ে পৌঁছনোর পর চারটে কনভয়ে পুলিশ পাহারায় গাড়িগুলি নিয়ে যাওয়া হয় জারোয়াদের জন্য সংরক্ষিত এলাকার মধ্য দিয়ে।
এই রাস্তায় গাড়ি যাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। যেমন গতি ঘণ্টায় ৪০ কিমির মধ্যে থাকবে, কোনও কারণেই গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না, ফটো বা ভিডিও করা যাবে না ইত্যাদি।
প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর আমরা যেখানে পৌঁছবো সেখানে বিশাল এক বার্জ অপেক্ষা করবে আমাদের জন্য। দু-তিনটে বাস, গোটা চারেক সুমো গাড়ির সঙ্গে প্রায় শ’দুয়েক মানুষ উঠে পরতে পারে এই বার্জে। পৌঁছে যাবো বারাটাং দ্বীপে। এখান থেকে স্পিড বোটে করে যেতে হয় চুনাপাথরের গুহা দেখতে ম্যানগ্রোভের অরণ্য আর ব্যাকওয়াটারের মধ্যে দিয়ে। বোট থেকে নেমে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে গুহায় পৌঁছতে হয়। যাত্রাপথ কষ্টকর হবে ঠিকই, কিন্তু সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা হবে দারুণ।
সপ্তম দিন: আজ আবার ফিরে যেতে হবে নিজ নিজ গৃহে, আবার যোগ দিতে হবে নিজেদের কাজে, যেটাকে বাংলা প্রবাদে বলা হয়ে থাকে ‘থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড়’, অর্থাৎ জীবনের দশা আগে পরে একইরকম, বৈচিত্র্যহীন। তবুও ক’টা দিন নির্মল অক্সিজেন নিতে পারবো আমরা।
কি কি পাবেন :—
১) সমস্ত ডিলাক্স ক্যাটাগরির এসি হোটেল এবং রিসোর্টে রাত্রিবাস ৷
২) প্রাইভেট এসি গাড়ী এসি থাকবে।
৩) সমস্ত বাঙালি খাবার ৷ সকালে চা ও জলখাবার, দুপুর রাত মাছ, মাংস,ডিম, ডাল,তরকারী সহ ভাত ৷
৪) সেলুলার জেলের "লাইট এন্ড সাউন্ড শো" এর টিকিট
৫) রস আর নর্থ বে দ্বীপ ঘোরার বোটের টিকিট
৬) পোর্ট ব্লেয়ার থেকে হ্যাভলক, হ্যাভলক থেকে নীল দ্বীপ এবং নীল থেকে পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়ার প্রাইভেট ক্রুস টিকিট
৭) বারাটাং ঘোরার সরকারী পারমিট
৮) সমস্ত টোল ট্যাক্স, পার্কিং
৯) সবচাইতে মূল্যবান জিনিস যেটা পাবেন সেটা হল, আমাদের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস আর ব্যবহার ৷
কি কি পাবেন না:—
১) মিনারেল ওয়াটার বা বাড়তি খাবারের খরচ
২) কুলির খরচ
৩) প্লেনের টিকিট
৪) দর্শনীয় স্থানের এণ্ট্রি ফী
৫) আর যেটা একদমই পাবেন না সেটা হল চিটিংবাজি ৷
খরচ কত ????
২০৫০০ টাকা জনপ্রতি
# # বুকিং এর জন্য জনপ্রতি ৮৫০০/- অগ্রিম জমা দিতে হবে ৷ যাত্রা শুরুর ৬০ দিন আগে আরো ৩০০০ টাকা দিতে হবে। বাকি টাকা প্রথমদিন হোটেলে পৌঁছে দিতে হবে ৷নতুন বছরে আবার অনবদ্য আন্দামান
যোগাযোগ :—
ড্রীম ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস
গোপাল চাকী — 7003829180/ 9433510348
সুদীপ্ত চক্রবর্তী — 9830861386 / 7980756933
অফিস— কেওটা জি.টি.রোড বটতলা
( কেওটা উজ্বল সংঘের বিপরীতে )
সাহাগঞ্জ, হুগলী, ৭১২১০৪
অফিসে থাকবেন সুজিত বিশ্বাস - 8777679372
দূর্গাপুর শাখা —হাডকো, বিধাননগর, দূর্গাপুর, ৭১৩২১২
অভিজিৎ চক্রবর্তী
089007 69074