Swarnachalida-স্বর্ণচালিদা

Swarnachalida-স্বর্ণচালিদা Swarnachalida or Sonchalida is a village, 24km from Barddhaman town, West Bengal...

"হে নূতন,        দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।।        তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন                     ...
09/05/2026

"হে নূতন,
দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।।
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
সূর্যের মতন।
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময়।
উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।।"

★★আজ পঁচিশে বৈশাখ। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে ওঁর প্রতি রইলো আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম...💐🙏🏼

15/04/2026

শেষ হলো বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শেষ পার্বণ শিবের গাজন... পুরনো যা কিছু জমা পড়লো জলের তলায়, নতুন বছরে নতুন উদ্যমে শুরু হোক আবার সব!🙏🏼😇

বিদায় বেলায় পৌষ ডাকা..."এসো পৌষ যেও না,জনম জনম ছেড়ো না।জনমে ছাড়িলে তুমি,পরানে যে মরিব আমি।পৌষ মাস লক্ষ্মী মাসনা দিব ছাড়ি...
13/01/2026

বিদায় বেলায় পৌষ ডাকা...

"এসো পৌষ যেও না,
জনম জনম ছেড়ো না।
জনমে ছাড়িলে তুমি,
পরানে যে মরিব আমি।
পৌষ মাস লক্ষ্মী মাস
না দিব ছাড়িয়া,
গুষ্টিসু্দ্ধ পূজি মোরা
চরণে ধরিয়া।
কাল দিয়েছি চাঁউড়ি
আজ দেব বাঁউড়ি
কাল দেব মকরের জল।
আদাড়ের পৌষ
পাদাড়ের পৌষ
সান্নুতের পৌষ
বড় ঘরের মেঝেয় পৌষ।।"

উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, নমস্কার...🙏🏼😇

পৌষপার্বণ, রাঢ়বাংলার পরম্পরা...মাঠের বাঁশি শুনে যখন আকাশ খুশি হয়, যখন রোদের সোনা মাটিতে আঁচল পাতে, তখন পৌষের ডাকে, ঘর ফস...
13/01/2026

পৌষপার্বণ, রাঢ়বাংলার পরম্পরা...

মাঠের বাঁশি শুনে যখন আকাশ খুশি হয়, যখন রোদের সোনা মাটিতে আঁচল পাতে, তখন পৌষের ডাকে, ঘর ফসলের ডালিতে ভরে ওঠে। গ্রাম বাংলা উদ্বেল হয়ে ওঠে সেই ডাক শুনে। চাষি বাড়ির পুরুষেরা যখন তাঁদের আশার ফসল ঘরে এনে গোলায় তোলেন, মহিলারা তখন ব্যস্ত হয়ে ওঠেন সেই সোনাকে যথাযথ মর্যাদায় রক্ষণ করতে। কৃষির অধিষ্ঠাত্রীদেবী লক্ষ্মী। সেই লক্ষ্মীর কৃপা পেতে, সংসারে ও ঘরে তাঁকে অচলা করে রাখতে পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন বাংলার ঘরে ঘরে যে লক্ষ্মীপুজো হয়, সেই উৎসবই 'পৌষপার্বণ' বলে খ্যাত।
পুজোর আগের দিন গোটা বাড়ি গোবর দিয়ে নিকনো হয়। ওই গোবরজল একটু শুকিয়ে গেলে আলপনা দেওয়ার মতো করে লালমাটি বা এলামাটির প্রলেপ দেওয়া হয়, যাতে সাদা আলপনা ভাল করে ফুটে উঠতে পারে। আগে আতপ চাল বেটে আলপনা দেওয়া হত। এখন অবশ্য খড়ি ব্যবহার করা হয়। ন্যকড়ায় ওই সাদা গোলা ভিজিয়ে অনামিকা ও মধ্যমাকে কাজে লাগিয়ে নিপুণ আলপনা ফুটে ওঠে। লক্ষ্মীর পা, ধানের শিষ, কুলো, মড়াই, পেঁচা ছাড়াও ফুল, লতা, পাতা নানা রকম কলকা প্রভৃতি যে দক্ষতায় আঁকা হয়, তা দেখলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। প্রায় অমসৃণ মাটির উপরে রং-তুলি ছাড়াও যে অনন্য শিল্পকর্ম সম্ভব তার প্রমাণ গ্রামের এই আলপনাগুলি।
প্রচলিত সংস্কার অনুযায়ী রাতে এক ঘুমের পরে এই আলপনা দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। মহিলারা রাতের খাওয়া সেরে শুয়ে পড়তেন। তার পরে, ভোরবেলা উঠে আলপনা দিতেন। বিদ্যুৎহীন গ্রামে, শীতের রাতে, হ্যারিকেন বা লম্ফের মাধ্যমে ভোররাত অবধি চলত সেই আঁকা। প্রতিবেশীদের মধ্যে এ নিয়ে একটা নিরুচ্চার প্রতিযোগিতা ছিল।
সময়ের সাথে সাথে বিবর্তন এসেছে অনেক, বদল ঘটেছে গ্রাম চরিত্রেরও। তবে পরম্পরা টিকে আছে এখনো...☺😇

সাঁওতাল পল্লীতে-পল্লীতে এখন লেগেছে সহরাই-বাঁধনা পরবের রঙিন ছোঁয়া...শরৎ কালে নতুন শস্যকে স্বাগত জানানোর উপলক্ষে গত হাজার ...
12/01/2026

সাঁওতাল পল্লীতে-পল্লীতে এখন লেগেছে সহরাই-বাঁধনা পরবের রঙিন ছোঁয়া...

শরৎ কালে নতুন শস্যকে স্বাগত জানানোর উপলক্ষে গত হাজার হাজার বছর ধরে এ উৎসব পালন করে আসছে এদেশের মূল অধিবাসীরা (অনেকটা আমাদের নবান্নের মত)।

ফি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে কালীপুজোর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় রাঢ় বঙ্গের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পরবের প্রস্তুতি৷ এ পরবের নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ নেই। গ্রামের মোড়লদের নিয়ে সভা করে উৎসবের দিন ঠিক করা হয়। তাই একেক গ্রামে একেক সময় এই উৎসব করা হয়। গাঁয়ের মোড়লের নির্দেশ মতো বিভিন্ন সহরাই উত্‍সব কোথাও চলে এক মাস, কোথাও তিন দিন, আবার কোথাও পাঁচ দিন৷ এই সহরাইকেই হান্টার সাহেব উল্লেখ করেছেন ‘জোহরাই’ বলে৷ আর সাঁওতালি ভাষায় সহরাইকে ‘হাতি চলকান’ পরবও বলা হয়৷ ছোটনাগপুর, মানভূম-সহ বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও মেদিনীপুরে সাঁওতাল ও মুন্ডাদের সবচেয়ে বড় উত্‍সব এটি৷ হুগলি, মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার দক্ষিণাঞ্চল ও বর্ধমানের পূর্বাঞ্চলের সাঁওতাল সমাজ কালীপুজোর সময় এই উত্‍সব পালন করলেও পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার উত্তরাঞ্চল, বর্ধমানের পশ্চিমাঞ্চল, এমনকি, বীরভূম ও বিহার, ঝাড়খণ্ডের দুমকা-সাঁওতাল পরগনা অঞ্চলে এই সহরাই উত্‍সব পালিত হয় পৌষ মাসে৷ তবে উত্‍সবের পালনীয় আচার-আচরণে তেমন ফারাক নেই৷

উত্‍সবের আগে বর্ষায় ধুয়ে যাওয়া মাটির ঘরের দেওয়াল গেরুয়া রঙের প্রলেপ দিয়ে রাঙিয়ে তুলে আলপনা দেন সাঁওতাল মহিলারা৷ মাটির দেওয়ালের গায়ে নতুন মাটি লেপে সংস্কারের সাথে সাথে উঠোনটাকে সুন্দর করে নিকিয়ে আল্পনা দেয়। মাটি লেপার কাজ শেষ হলে, আঙুল দিয়ে বা বাঁশের ছোট কঞ্চি দিয়ে দেওয়ালে বিভিন্ন বাস রিলিফ (Bas Relief) বানায়। বানানোর সময় গোবর, চিটেগুড়, আলকাতরা, খড়িমাটি, বেলেমাটি, ধানেরশীষ, ভেষজরঙ - ইত্যাদির ব্যবহার হয়। এই মিউরাল বা দেওয়াল চিত্র যেমন একদিকে সৌন্দর্যসাধন করে, ঠিক তেমনই মাটির দেওয়ালকে রক্ষা করে বর্ষার সময়। অমসৃণ দেওয়ালে বর্ষার জলধারা বহু ধারায় বিভক্ত হয়ে সহজে মাটি ধুয়ে নিয়ে যেতে পারেনা।
আসলে কী জানেন, নিজের বাড়িকে ভিতরে ও বাইরে থেকে সুন্দর করে তোলার প্রবৃত্তি মানুষের সহজাত। আমরা শহুরে মানুষ-জন ব্যবহার করি কেমিক্যাল আর যারা মাটির কাছাকাছি থাকে তারা প্রকৃতি থেকেই উপাদান খুঁজে নেয়।
এছাড়া এই রীতির সামাজিক দিকটাও ভীষণ আকর্ষণীয়। ভেবে দেখুন তো, নতুন শস্যের আগমন বার্তা পেয়ে গ্রামের বধূরা সব ঘর ছেড়ে, দল বেঁধে রাস্তায় নেমে এসেছে। নির্মল আনন্দ ও উছ্বলতায় সবার মন ভরপুর। একসাথে হাসিঠাট্টায় গাঁয়ের মেঠো পথের উপর দাঁড়িয়ে, যত্নসহকারে সবাই মাটি লেপে দিচ্ছে বর্ষায় ঘটা ক্ষতস্থানে। এ তো কেবল শুষ্ক আচার নয়। এই শিল্পরীতি গত হাজার বছর ধরে সাঁওতালদের মনে নিজের এই ছোট্ট মাটির বাড়ি, ছায়াঘেরা গ্রাম আর প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসার জন্ম দিয়েছে।
শিল্পের এই রীতি এত প্রাচীন যে আদিম গুহাচিত্রের সাথে এই সহরাই শিল্পের বহু মিল পাওয়া যায়। আঁকার বিষয়বস্তু ভীষণই সহজ সরল আর কাল্পনিক হলেও এই সব ছবিগুলোর মধ্যেই আভাস মেলে হাজার বছরের পুরনো গ্রামীণ ভারতবর্ষের।।

নতুন ধান্যে নবান্ন...অঘ্রানের মাঠে মাঠে সোনালি ধান। উত্তুরে হাওয়ায় লেগেছে শীতের কাঁপন। ইতু সেঁজুতি ব্রত-য় মাতোয়ারা অঘ্রা...
15/12/2025

নতুন ধান্যে নবান্ন...

অঘ্রানের মাঠে মাঠে সোনালি ধান। উত্তুরে হাওয়ায় লেগেছে শীতের কাঁপন। ইতু সেঁজুতি ব্রত-য় মাতোয়ারা অঘ্রানের সকাল সন্ধ্যা। একসময় অঘ্রান ছিল বছরের প্রথম মাস। 'অগ্র' শব্দের অর্থ আগে। আর 'হায়ণ' মানে বছর। এই হিসাবে বাংলার নববর্ষ ছিল ১লা অঘ্রান। তখন বলা হত মার্গশীর্ষ। অনেকই বলেন "অগ্রহায়ণ" শব্দের অভিধানিক অর্থ - বছরের যে সময় শ্রেষ্ঠ ব্রীহি বা ধান উৎপন্ন হয়। অতীতে কনকচূড়, কাঙুদ, কলমা, কসুমশালী, খিরখম্বা, গোতমপলাল, ঝিঙাশাল, সীতাশালী, লাউশালী, মুক্তাহার, মৌকলস গোবিন্দভোগ ইত্যাদি কুলীন ধানগুলি কাটা হতো অঘ্রান মাসে। সেইসব ধানের অন্ন দিয়ে জমে উঠতো নবান্ন উৎসব। আজও অতীতের ঐতিহ্য মেনে সারা অঘ্রানমাস জুড়ে রাঢ়বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় সাড়ম্বরে এই কৃষি-উৎসব। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন - 'নতুন ধান্যে হবে নবান্ন তোমার ভবনে ভবনে'।

অস্ট্রিক ভাষাভাষী প্রোটো-অস্ট্রালয়েড জনগোষ্ঠীই নাকি প্রথম ধান চাষ শুরু করেন বঙ্গোপসাগরের অববাহিকা অঞ্চলে। বর্ধমান জেলার 'পান্ডুরাজার ঢিবি' উৎখননে তাম্রযুগের প্রাচীনতম অধিবসতি পর্বে মিলেছে ধানের প্রত্ন-নিদর্শন। সেনবংশের তাম্রলিপিগুলিতে দেবদেবী বন্দনার পাশাপাশি ধান্যবন্দনার বাণীচিত্রও খোদিত হয়েছে। ক্রমশ ধান হয়ে ওঠেছে বাঙালি কৃষ্টির অন্যতম মাঙ্গলিক প্রতীক। নবান্ন এক প্রাচীন উৎসব। উল্লেখ রয়েছে বৃহদ্ধর্মপুরাণের উত্তরখন্ড, দশম অধ্যায়ে -

মার্গশীর্ষে মহাভাগে নবান্নৈঃপূজয়েদ্ধরিম
পায়সংশর্করা দুগ্ধং দদ্যাৎ কৃষ্ণায় ভক্তিতঃ

অর্থাৎ অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন দ্বারা হরিপূজা করার বিধি আছে। তাঁকে ভক্তিপূর্বক দুধ ও চিনি এবং পায়েস নিবেদন করতে হবে। পরবর্তীকালে শ্রেণি ধর্ম নির্বিশেষে গ্রাম্যবাঙালির ফসল কাটার প্রাক-উৎসবে পরিণত হয় নবান্ন। কৃষিজীবী মুসলমানদেরও বড়ো প্রিয় উৎসব এটি। গ্রাম্যবাঙালির যথার্থ সার্বজনীন লোকউৎসবের দৃষ্টান্ত নবান্ন। অনেকেই বলেন বৈদিক যুগে বিশেষ বিশেষ ঋতুতে যজ্ঞ সম্পন্ন হতো। অগ্রহায়ণ মাসে 'আগ্রায়ণ ইষ্টি' নামে এক ঋতুযজ্ঞ হতো। সেই যজ্ঞে সুনাশীর নামে এক কৃষিদেবতাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হতো। হয়তো সেই থেকেও নবান্ন উৎসবের সূচনা হতে পারে।

গ্রামবাসীরা আগে থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে নবান্নের দিন ঠিক করে নেয়। গিন্নিরা সকাল সকাল স্নান সেরে নেন। নতুন বস্ত্র পরে নতুন হাঁড়িতে নতুন অন্ন পাক করেন নব উদ্যমে। লাল-মাটি দিয়ে নিকানো তকতকে উঠোন সুচিত্রিত হয়ে ওঠে মাঙ্গলিক আলপনায়। সকালেই 'চাল-নবান' পর্ব। চালের গুঁড়ির সঙ্গে নানাবিধ মিষ্টি আর ফলমূলের মিশ্রণ। এক অলৌকিক স্বাদ! কলার পাতায় গ্রাম-দেবতা, পিতৃ-পুরুষের নামে নৈবেদ্য। পশু পাখি রবাহুত অনাহুত সকলকে নবান্ন খাইয়ে বাড়ির সকলে বসে একসঙ্গে পঙক্তিভোজনে। সবার শেষে গৃহকত্রী নবান্নের প্রসাদ গ্রহণ করেন। দুপুরে 'ভাত নবান'। বিভিন্ন ভাজাভুজি যেমন আখ, কলা, নারকেল, তিল, পিটালি ভাজা ইত্যাদি। পালং শাকের ঘন্ট। ডাল-ফুলুরি, বেগুন, আলু, বড়ি, কুমড়ো দিয়ে রাঁধা অমৃতময় শুকতুনি। আঁদলসা, বড়া, আলু-ফুলকপির ডালনা, রুই-পোস্ত, কাৎলার কালিয়া, মেথি ভাজার গুঁড়ো ছিটানো শোলমাছের টক। নানা ধরণের পায়েস।চিনি দুধ নারকেল কোড়া মেশানো থকথকে রসা। এতে প্রকাশিত হয়েছে বাঙালির রন্ধনশিল্পের এক পরম্পরা। পরের দিন 'বাস নবান'। রসিয়ে পান্তা খাওয়ার দিন। অনেক গ্রামে তারপরের দিন তেসনবানেও ধূমধাম হয়।

নবান্নকে ঘিরে ঘিরে গ্রামে গ্রামে উৎসবের ঢেউ। হেমন্তের শিশির ভেজা রাতে জমে ওঠে যাত্রাপালার জমাটি আসর। কোথাও লেটো আলকাপের মুক্তমঞ্চ। কোথাও বা কবিগান সত্যপীরের দরদী লোকজ গান। গ্রামে গ্রামে ফুটবল, কাবাডি তাসখেলার আয়োজন। কোথাও বা দল বেঁধে মেলা দেখতে যাওয়ার ব্যস্ততা। প্রতি গ্রামে পূজিতা হচ্ছেন দেবী অন্নপূর্ণার মৃন্ময়ী প্রতিমা। তিনি ক্ষুধার্ত শিবকে অন্ন দান করছেন স্মিতহাস্যে। হাতে তাঁর অন্নের পাত্র। এই তো বাঙালির চিরন্তন কামনা। যেন নবান্ন উৎসবের রঙিন প্রচ্ছদপট! অনেক গ্রামে আবার নবান্নে কার্তিকঠাকুর পুজোর ধূম লেগে যায়।

নবান্ন আসলে বেঁচে থাকার কথা বলে। দুর্ভিক্ষ, আকাল, যুদ্ধ, মন্বন্তর, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করার কথা বলে। বিজন ভট্টাচর্যের নবান্ন নাটকে আকাল পীড়িত ক্ষুধার্ত গ্রাম্যচাষীরা নগরের পথে পথে ফ্যান চায়। অনেক লড়াই আর স্বজন হারিয়ে গ্রামে ফিরে এসে নতুন জীবনের অঙ্গীকার করে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠে। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রান্তিক মানুষ ঈশ্বরী পাটনি। দেবীর দয়া লাভ করেও ঘড়া ঘড়া মোহর চায়নি। চেয়েছিল একমুঠো অন্ন, প্রিয় সন্তানের জন্য - আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। বিভূতিভূষণের আরণ্যক উপন্যাসের হত-দরিদ্র গনোরি তেওয়ারির দল। দীর্ঘ নয় মাইল পথ হেঁটে এসেছিল স্রেফ এক মুঠো গরম ভাত খাওয়ার আশায়।

আজও আমাদের দেশে দারিদ্র্যসীমার নীচে অসংখ্য বুভুক্ষু মানুষ। কালাহান্ডি, আমলাশোলের রূঢ় বাস্তবতা এখনও বাসি হয়নি। পেটে জ্বলছে ক্ষিদের লেলিহান আগুন।

নবান্ন এই ক্ষিদে জয় করার উৎসব। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের বাস্তবতা। ব্যাকুল মাতৃমূর্তির অন্নপূর্ণা হয়ে ওঠার লৌকিক কাহিনি - এই নবান্ন উৎসব।

শীতকাল – নলেন গুড় এবং বাঙালি...—বলি ওকানে কী আচে? মধু আচে?মধুতে মজেছে মন। এই শীতে মধুতে মন না মজে থাকতে পারে! এ মধু মৌমা...
01/12/2025

শীতকাল – নলেন গুড় এবং বাঙালি...

—বলি ওকানে কী আচে? মধু আচে?
মধুতে মজেছে মন। এই শীতে মধুতে মন না মজে থাকতে পারে! এ মধু মৌমাছিদের
চাকজাত নয়। এ মধু মধুবৃক্ষের।

শীতের অন্যতম আকর্ষণ কিন্তু গুড়। আর গুড় মানেই সর্বাধিক প্রাধান্য পায় নলেন গুড়। নলেন গুড়৷ নাম শুনলেই কেমন জিভে জল এসে যায়৷ স্বাদই এমন যে জিভে জল আসারই কথা৷ তার সঙ্গে রয়েছে সুন্দর গন্ধও৷ গুড় তৈরি থেকে শুরু করে খাওয়ার আগে পর্যন্ত ওই গন্ধই ম-ম করে সর্বত্র৷ তাই শীতের পর শীত ধরে নলেন গুড়ের জনপ্রিয়তা রয়ে গিয়েছে অমলিন৷ তবে পাটালি গুড়ও খুব একটা পিছিয়ে নেই। খাবারের পরে শেষ পাতে এক টুকরো পাটালি গুড় কিংবা নলেন গুড় কিন্তু শীতকালের খাওয়াকে সম্পূর্ণ করে।

খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড়ই হল খেজুরের গুড় বা নলেন গুড়। নলেন গুড় খাওয়া যতটা সহজ, তৈরি কিন্তু মোটেও সহজ নয়৷ এর জন্য পরিশ্রম করতে হয় নিরলস৷ ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত খাটতে হয়৷ তার পরই খেজুরের রস থেকে মেলে ‘লাভের’ গুড়৷ তাই প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তৈরি করতে হয় নলেন গুড়৷ সঠিক গুণমানের নলেন গুড় তৈরি করতে হলে বেশ কয়েকটি ধাপ মেনে কাজ করতে হয়৷ যার প্রথম ধাপই হল ‘গাছ কাটা’৷ হেমন্তের হিমেল হাওয়া যখন ধীরে ধীরে আমাদের চারপাশে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, সেই সময় থেকেই এই কাজ শুরু করতে হয়। শীতকাল শুরুর সঙ্গেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় খেজুর রস আরোহণকারীদের যারা পরিচিত ‘গাছি’ বা ‘শিউলি’ নামে। সারা বছর পাতায় ভরে থাকা খেজুর গাছ কেটে পরিষ্কার করতে হয়৷ কেটে ফেলতে হয় অধিকাংশ পাতা৷ এই কাজকেই গ্রাম্য ভাষায় বলে ‘গাছ কাটা’৷

গাছ কাটার পর খেজুর গাছের একেবারে উপরের দিকে পাতার ঠিক নিচের অংশে কান্ড কেটে পরিষ্কার করতে হয়৷ ধারালো কাটারি দিয়ে এই কাজ করে থাকেন শিউলিরা৷ ওই অংশ চেঁচে পরিষ্কার করার পর খেজুর গাছের কান্ডের ওই অংশ কিছুটা নরম হয়ে যায়৷ তখন কান্ডের অংশে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় একটা কাঠি৷ যে কাঠি বেয়েই বেরিয়ে আসে খেজুর রস৷ তবে যে কোনও কাঠিতেই কাজ হয় না৷ মূলত বাঁশের কঞ্চিকে ব্যবহার করতে হয়৷ কঞ্চির একটা অংশ কেটে নিয়ে সেটাকে লম্বালম্বি মাঝখান থেকে চিরে ফেলতে হয়৷ ফলে মাঝখানে একটা সরু পথ তৈরি হয়৷ সেই পথ দিয়েই রস বেরিয়ে আসে খেজুর গাছ থেকে৷

তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইদানীং গাছ কাটার কাজ কিছুটা হলেও পরে করা হয়৷ কারণ, আবহাওয়ার পরিবর্তের জন্য এখন শীতের হিমেল হাওয়া আসতে অনেক দেরি হয়ে যায়৷ তাই এখন হেমন্তকাল মানে কার্তিক মাস বা অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় গাছ কাটা শুরু হয় না৷ বরং নভেম্বরের গোড়া থেকে এই কাজ শুরু হয়৷

গাছ কেটে রস বেরনোর পথ তৈরি করার পর বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয় শিউলিদের৷ শীতের শুরু থেকেই গাছে রস আসতে শুরু করে৷ তখন শুরু হয় নলেন গুড় তৈরির দ্বিতীয় ধাপ৷ সূর্য ডোবার আগে মাটির কলসি কাঁধে নিয়ে গাছের গোড়ায় হাজির হতে হয় শিউলিদের৷ তার পর গাছে উঠে শিউলিদের তা ঝুলিয়ে দিতে হয়৷ কলসির মুখটা রাখতে হয় কাঠির নিচে৷ এর পর শিউলিদের আর কোনও ভূমিকা নেই৷ খেজুর গাছে হাঁড়ি বেঁধে তাঁদের বাড়ির পথ ধরতে হয়৷ ফিরতে হয় শেষরাতে৷ ততক্ষণে হাঁড়িতে রস জমেছে৷ রাতভর হাঁড়িতে ধীরে ধীরে রস জমা হয়৷ ভোরের আগে কলসি থেকে জমা রস নিয়ে আবার বাড়ির পথ ধরেন শিউলিরা৷

এর পরই শুরু আসল কাজ৷ নলেন গুড় তৈরির তৃতীয় তথা শেষ ধাপ৷ সবচেয়ে কঠিন কাজ৷ ভাল গুণমানের নলেন গুড় তৈরি করতে হলে তৃতীয় ধাপেই শিউলিদের যথেষ্ট মুন্সিয়ানার প্রয়োজন হয়৷ মাটির উনুনে কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করে রস ফোটাতে হয়৷ রস ফোটার সময় তার মধ্যে বিশেষ ধরনের হাতা দিয়ে সারাক্ষণ নাড়তে হয়৷ মূলত নারকেলের মালার অর্ধেক অংশে লম্বা কাঠ লাগিয়ে এই হাতা তৈরি করা হয়৷ কয়েক ঘণ্টা ধরে রস ফোটাতে হয়৷ যত সময় এগোয়, ততই নলেন গুড়ের গন্ধ পাওয়া যায়৷ গন্ধ যত বাড়বে, বুঝতে হবে গুড়ের মান ততই ভাল হচ্ছে৷

তবে রসের উপরও অনেক সময় গুড়ের গুণমান নির্ভর করে৷ টানা তিনদিন রস সংগ্রহের পর বন্ধ করে দিতে হয়৷ একে বলে গাছের জিরেন৷ কারণ, প্রতিদিনই গাছে হাঁড়ি ঝোলানোর সময় কান্ডের কিছুটা অংশ চাঁচতে হয়৷ গাছকে জিরেন দিলে ওই তিন দিন, তা চাঁচতে হয় না৷ এর পর চতুর্থদিন বা জিরেনের পর প্রথমদিন যে রস সংগ্রহ করা হয়, তার স্বাদ অন্যদের তুলনায় একেবারেই আলাদা৷ অনন্য৷ এটা জিরেন-কাটের রস নামে পরিচিত৷ জিরেন-কাটের রস থেকেই জিরেন-কাটের গুড় তৈরি হয়৷ ওই গুড়ের স্বাদও একেবারে আলাদা৷

যদিও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার জেরে আজকাল এই নিয়ম আর মানেন না কোনও শিউলিই৷ তিনদিন রস সংগ্রহের পর একদিনের বেশি আর কেউ জিরেন দেন না৷ তাই জিরেন-কাটের রস আগের মতো মধুর হয় না৷

নলেন গুড়ের মধ্যে কিন্তু বেশ একটা সম্মোহনী ব্যাপার আছে। যে সম্মোহনে পড়ে সুগার-রুগী মানুষও চেখে দেখেন বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী সম্পদকে। নতুন ধানের চালের সাথে নলেন গুড় দিয়ে মাখা নবান্ন খেয়ে নলেন গুড়ের প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। আর ভাপা পিঠের সাথে মাখিয়ে খাওয়া গুড়! অমৃতের স্বাদ এই যুগেও পাওয়া যায়।

শুধু কি তাই! বাড়িতে নতুন গুড় দিয়ে তৈরি হওয়া চালের পায়েসের গন্ধ যখন ম-ম করে চারদিকে মর্ত্যে বসেই স্বর্গলাভ হয়ে যায় প্রায়। আর ভীষণ শীতের রাতে গরম গরম গুড়ের রসগোল্লা! বাঙালি এমনিই মিষ্টিপ্রেমী, আর রসগোল্লার সাথে বাঙালির সম্পর্ক আলাদা মাত্রার। আর সেই সুগার-রুগীদের সাথে গুড়ের রসগোল্লার সম্পর্ককে ‘পরকীয়া’ আখ্যা দেওয়া যেতেই পারে। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে অথবা বাড়িতে কাজের ফাঁকে দু’একটা রসগোল্লা…

তবে খেজুর গুড়ের উপকারিতা নেহাতই কম নয়। প্রতিদিন শরীরে যে পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন হয়, তার ৪ শতাংশই আসে গুড় থেকে। এছাড়াও এই গুড়ের রয়েছে নানা গুণ, যা আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে খেজুর গুড় খেতে পারেন। নিয়মিত খেজুর গুড় খেলে রক্ত পরিষ্কার হবে, নানা রোগ থেকে রক্ষা পাবেন। খেজুর গুড় খাবার হজমেও সাহায্য করে। বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশায় ইত্যাদি সমস্যা থাকলে নির্দ্বিধায় খেতে পারেন এই গুড়।

হ্যাঁ, খেজুর গুড় বাঙালির প্রেমই বটে। তবে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে খাওয়া কিন্তু কখনই উচিত নয়। তাহলে কিন্তু এমন মিষ্টি প্রেম বিচ্ছেদ ঘটতে সময় লাগবে না। আর গুড় ছাড়া বাঙালি ওই মাংস ছাড়া বিরিয়ানির মতই।

আজ অঘ্রানের পয়লা। চাষীর ঘরে মুঠ আনা আজ এক মজার অনুষ্ঠান। সকালবেলায় চাষী চান করে নতুন কাপড়-চোপড় পরে কাস্তে নিয়ে মাঠে হাজি...
18/11/2025

আজ অঘ্রানের পয়লা। চাষীর ঘরে মুঠ আনা আজ এক মজার অনুষ্ঠান। সকালবেলায় চাষী চান করে নতুন কাপড়-চোপড় পরে কাস্তে নিয়ে মাঠে হাজির। জমির ঈশাণকোনে আড়াই আলুই ধান আড়াই প্যাঁচে কেটে ছালের কাপড় জড়িয়ে মাথায় নিয়ে চুপটি করে সোজা বাড়ি। লক্ষ্মীর আটনের পাশে কলাবউ-এর মতো রেখে দিয়ে শুরু হয় পুজো-আচ্চা। পূর্ববঙ্গে ভিন্ন রীতি। বাতা গাছের পাঁচটা ডগি আর মাঙ্গলিক উপচার নিয়ে ধানী জমিতে গিয়ে বাতার ডগায় সিঁদূর মাখায়। পাঁচটা ধানের ছড়া তাতে বেঁধে নিয়ে লক্ষ্মীর সঙ্গে পুজো আরম্ভ হয়ে যায় ঘটা করে। ময়মনসিংহগীতিকার মলুয়া পালায় আছে :-

পাঞ্চগাছি বাতার ডুগুল
হাতেতে লইয়া।
ধানের গাড়ি মাঠ থেকে ঘরমুখো
মাঠের মাঝে যায় বিনোদ
বারোমাস্যা গাহিয়া।।

বস্তুতঃ একটা সময় এই মুঠ আনার মধ্য দিয়েই গ্রাম বাঙলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতো ধান কাটা। নতুন ফসল ওঠার মাস হিসেবে অগ্রহায়ণ দিয়েই শুরু হতো বছর গণনা। কালের বিবর্তনে নিয়ম বদলেছে, তবে প্রথা কিছু রয়ে গেছে।

ভেতো বাঙালীর কাছে ধান শুধু আহার্যবস্তুই নয়; অর্থনীতি থেকে শুরু করে লোক উৎসব - কৃষ্টি তথা লোকসংস্কৃতির বারো আনাই ধান কেন্দ্রিক। ফলনে পেছিয়ে পড়লে কি হবে আজও কুলীন সেই আমন ধান। আষাঢ় থেকে পৌষমাস - আমনধানচর্যার যেন মহাকাব্যিক বিস্তৃতি।

অঘ্রানের আরম্ভ। মাঠে মাঠে বেলা কাটে সকাল হতে সন্ধে। শুরু হয়েছে ধান কাটার মরশুম। মুনিশে আর মেশিনে মাঠ ছয়লাপ। নাস্তাপানি খাওয়া-দাওয়া সবই মাঠে-ঘাটে। মুর্শিদাবাদ, দুমকা, দূর-দূরান্তের গরিব-গুর্বো লোকজন। জন-মজুর খাটতে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের ধান্যগোলা খ্যাত বর্দ্ধমান (বর্তমান পূর্ব বর্দ্ধমান) জেলার গাঁ-গঞ্জে। এখানকার লোকেরা বলে বিদেশী মুনিশ। পরিযায়ী পাখির মতো দুদ্দার ভিড় করে বছরে দুবার। ধান লাগানো আর এই ধান কাটায়। রুইতে যেমন সরেস তেমনি পাই মানে লাইন খাড়া করে দ্রুত গতিতে ধান কাটতেও ওস্তাদ। কথা বলে সুরেলা গলায়। তবে ধান এঁটুতে (আঁঠি বাঁধতে) আবার ততটাই অষ্টরম্ভা! ঢিপ দেওয়া, পালা বাঁধা - বিঁড়ে সাজানোয় এ অঞ্চলের মুনিশরা এক একজন সহজ শিল্পী। এক পর (প্রহর) রাত থাকতে মাঠ উঠেছে জেগে। খাটো দিনের বেলা। দুপুরের আজান শুনেই কর্মবিরতি। বেলা ঢলতেই দিগন্তে কুয়াশার সঙ্গে আঁধার নামে গুটি গুটি পায়ে। জনহীন প্রান্তরে পড়ে থাকে মাঠের সোনালি শস্য - ধান!

গ্রাম বাঙলার মানুষের কাছে ধান শুধু আহার্য বস্তু নয়; সাক্ষাৎ লক্ষ্মী ঠাকরুন। জুতো পায়ে বা আকাছা হয়ে ধানে হাত-পা ঠেকানো একেবারেই বারণ। পৌষ মাসে রাত-বিরেতে টাকা-পয়সা ধার দেওয়া বা নেওয়া সর্বৈব নিষিদ্ধ। কিম্বা জোরে শব্দ করলে গেরস্থরা রেগে টঙ। কারণ লক্ষ্মী বড়ো পয়মন্ত শান্ত দেবী। বেশী গোলমাল হলেই তিনি টুকুস করে কেটে পড়েন। আর সেই স্থান দখল করবেন রুক্ষকেশী অলক্ষ্মী! তখন বুঝবে খুড়ি বেলা হলে! তাছাড়া ধান-চালের সঙ্গে বঙ্গবাসীর সম্পর্ক কী আজকের? সিন্ধুসভ্যতার সমকালীন হলো আমাদের বর্দ্ধমানের পান্ডুরাজার ঢিবি। প্রত্ন-উৎখননে সর্বনিম্ন স্তর থেকে বেরিয়ে এসেছে ধানচাষের প্রত্ন নিদর্শন। তারপর যতদিন গেছে ধানের সঙ্গে বাঙালীর মন প্রাণ মান গেছে জড়িয়ে। ধান শুধু বাঙালীকে ধনবানই করেনি; দিয়েছে সম্মান। চাষীর কাছে ধানী জমি জোয়ান ব্যাটার সমান। আবার অর্থ থেকে পরমার্থের প্রতীক ধান। মানুষের বিয়ে-থা মাঙ্গলিক কর্মে দান-ধ্যানের সঙ্গে দুব্ব্যো ঘাস সহ ধান হয়ে উঠেছে আশীর্বাদের প্রধান উপকরণ। বাংলাদেশের বগুড়া জেলার মহাস্থান থেকে প্রাপ্ত মৌর্য আমলের এক শিলালিপি। এতে খোদিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা ধান্যভান্ডারের কথা।

লক্ষণ সেনের আনুলিয়া, তর্পণদিঘি, গোবিন্দপুর, শক্তিপুর তাম্রশাসনগুলির মঙ্গলাচারণ শ্লোকে গাঁথা ধান্যবন্দনার কথিকা। উদাহরণ বাড়িয়ে লাভ নেই। বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল ধান। আজও তার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। তাই ধানী জমি নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তার পরিণাম যে ভয়ংকর - নন্দীগ্রাম কান্ড তার জীবন্ত উদাহরণ।

বোরো ধান বাজার মাত করলে কি হবে আমনের কাছে আমলই পায় নি কোনদিন। ধান কেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি আর যাবতীয় লোকউৎসব আমনকে কেন্দ্র করেই। রামাইপন্ডিতের শূণ্যপুরাণ নাকি চর্যাপদের সমসাময়িক রচনা। এতে হরেক রকম আমনধানের কথা আছে যেমন কনকচূড়, কাঙুদ, কলমা, কসুমশালী, খিরখম্বা, গোতমপলাল, ঝিঙাশাল, সীতাশালী, লাউশালী, মুক্তাহার, মৌকলস, গৃহিনীপাগল, ইত্যাদি। এখন অবশ্যি সে-সবের পাট নেই। আগে গোবিন্দভোগ ধানের মাঠে ভুর ভুর করে সুগন্ধ ছড়াতো হেমন্তের বাতাস। এখন সবই খরানির ধান। যেমন ফলন তেমনি অর্থকরী। তবে কুলীন সেই আমন ধানই। আষাঢ় মাসে মিগের বাত আর অম্বুবাচীর উৎসবে টানা বর্ষণে জল লেগে যায় জমিতে। নবোদ্যমে আজ হাসিম শেখ আর রামা কৈবর্তের দল আর অস্থি চর্মসার বলদ ও ভোঁতা হাল নিয়ে আচোট জমিতে নাঙল ঠ্যালতে যায়না, বরং ভাড়া করা কিম্বা কেনা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ দেওয়ায়। মাটির তলা থেকে এখনো বেরিয়ে আসে ঘুমন্ত গেঁড়ি গুগলি শামুক। ভিড় করে সাদা বকের দল। তবে চাষীরা আর আপন মনে দরাজ গলায় মাঠাল গানে ভরিয়ে দেয়না বর্ষণসিক্ত আষাঢ়ের মাঠ-ঘাট...

নাগর কোথায় রইল্যা রে...
জল লেগেছে তোমার বাকুড়িতে।।

শাওন মাসের রিমিঝিমি বরিষণে ধান্যসুন্দরীরা গায়ে গতরে বেড়ে ওঠে। আসে তাদের নবযৌবন। ধান্যবতীরা হয়ে ওঠে গর্ভবতী। ধীরে ধীরে বিয়েন ছাড়ে। থোড় আসে। আর জমে ওঠে দুধ। আশ্বিনসংক্রান্তি হলো ধানের পূর্ণ প্রসব কাল। তারপরই পেকে ওঠার সময়। ধানিজমি যেন কৃষিলক্ষ্মীর আদিগন্ত সবুজ শাড়ি। লেগেছে তাতে সোনার পরশ। ধানের বনে হিমেল হাওয়া আর সোনা রোদের মাখামাখি, মাতামাতি। পরম তৃপ্তিতে পেকে উঠেছে আগুন রঙা ধান।

অঘ্রান মাস পড়তে না পড়তে মাঠের রঙ বদলাতে শুরু করে। আগুন রঙা ধান ক্রমশ পাকা সোনায় পরিণত। উদ্ধত ঋজু ধান এবার সকল অহংকার লুপ্ত করে ফলভারে নত। শুরু হলো ধান কাটা। এবার লঘু অর্থাৎ নতুন ধান্যে হবে নবান্ন গ্রাম বাঙলার ভবনে ভবনে...🙏🏼😇

অলক্ষ্মী বিদায় নিয়ে লক্ষ্মী আসুক সবার ঘর আলোকিত করে...🪷🪔👣🙏🏼
20/10/2025

অলক্ষ্মী বিদায় নিয়ে লক্ষ্মী আসুক সবার ঘর আলোকিত করে...🪷🪔👣🙏🏼

আজ ধানের সাধভক্ষণ, নলসংক্রান্তি ব্রত।দিনটি গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ঐতিহ্যগত রীতি।আশ্বিনের শেষ দিন নলসংক্রান্তি নামে পরিচি...
18/10/2025

আজ ধানের সাধভক্ষণ, নলসংক্রান্তি ব্রত।

দিনটি গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ঐতিহ্যগত রীতি।

আশ্বিনের শেষ দিন নলসংক্রান্তি নামে পরিচিত। ধানফসলের একটি পবিত্র দিন। হিন্দু বাঙালিদের সাধভক্ষণ একটি বিশেষ রীতি। নল সংক্রান্তির মূল উদ্দেশ্য ঐ সাধভক্ষণ। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি থেকে কার্তিকের মাঝামাঝি আমন ধানের গর্ভকাল। নলগাছ বহু প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী। চাষিরা আশা করেন তাদের ধানগাছ গুলোও নল গাছের মত প্রজনন ক্ষমতার অধিকারি হোক। ফসলের মাঠ ভরপুর হয়ে উঠবে। বসুমতী কৃপা করবেন।
কোন কোন এলাকায় ডাক সংক্রান্তি নামেও পরিচিত। প্রথম পূজো হয় সারকুড়ে। তালের আঁটির ভেতর সুস্বাদু কলতা এই পূজোর প্রসাদ। সারকুড়ে নল গাছকে ও চালতা পাতায় টগর গেঁথে পুজো করে জমিতে গাড়া হয়। পোঁতার সময় এলাকাগত ভাবে নানা ছড়া চালু আছে।

আকাশের জল পাতালে নল,
ধান ফলা কলকল।

চাষি মানুষের আশা আকাঙ্খা প্রতীক নল সংক্রান্তি। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য নলসংক্রান্তি। আশ্বিনের সংক্রান্তি এলেই ফসলের দেবী লক্ষ্মীর সাধভক্ষণ করানোর রীতি বা উপচার হোলো এই নলসংক্রান্তি বা ডাকসংক্রান্তি বা সারধরা বা ডাক সাঁকরাত। প্রসূতিকে যেমন প্রসবের আগে সাধ ভক্ষণ করানোর চল আছে, তেমনি আশ্বিন মাসের শেষ দিন যখন ধানের শিষ এসে যায়, তখন ঢলঢলে জমিতে তথা আসন্ন প্রসবা লক্ষ্মীকে নানা খাদ্য সহকারে সাধভক্ষণ করানোর রীতি রয়েছে এই নলসংক্রান্তির মাধ্যমে।

বাংলার লোকায়ত জীবনে সংক্রান্তিগুলি নানান আচার পালনের মধ্যে দিয়ে, পূজাপার্বণ-ব্রত উৎযাপনের মধ্যে দিয়ে, সংস্কৃতির পরত মাখিয়ে শিকড়ের অনুসন্ধানে অনবধানে আমাদের কখন যেন পৌঁছে দিয়েছে৷। নানান বিধিনিষেধ মানার মধ্যে দিয়ে আমরা মরশুমি তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, সূর্যালোক, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির সঙ্গে নিজেদের শরীরকে খাপখাইয়ে নিতে পারি।

সংক্রান্তির দিন বাইরে থাকার নিয়ম নেই। অর্থাৎ গৃহ পরিবেশে পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঘরোয়া মেজাজে আনন্দ উৎসবে সামিল হবো সকলে। এই অসামান্য লোকচারণার মধ্যে বাংলার সংক্রান্তি গুলি নিবিষ্ট রয়েছে। বাঙালি জীবনে আশ্বিন সংক্রান্তিটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংক্রান্তি। কারণ এই সময়ের মধ্যেই বাংলায় দুর্গাপূজার আবহ — কোনো বছর দুর্গাপুজো শুরু হবে, কোনো বছর কালীপুজো আসছে। এই সময় আউশধানে কৃষকের গোলাখানি ভরা। আমন ধানে তখন লক্ষ্মী গর্ভে বসেছেন। ধানের শীষ আসার আগে গাছের ডগ ফুলে উঠেছে আনন্দে, যেন পোয়াতি মা। এই দিনটিকে বাংলায় ‘নল সংক্রান্তি’ বলে। নলপুজো হয় ধানের জমিতে।

নলপুজো হল গর্ভিণী ধানের সাধভক্ষণ উৎসব। শালিধান অর্থাৎ আমন ধান মাঠে মাঠে ঢেউ খেলে চলেছে। আসছে ধানের ফুল, পরাগমিলন হবে, তারপর দানা। সমগ্র প্রক্রিয়াটি যেন পোয়াতি মায়ের সন্তান ধারণের মতই ব্যাপার।

ধানের সাধ দেওয়া হয় আশ্বিন সংক্রান্তিতে। যখন ফুল আসার আগে পোয়াতি মায়ের মতই ধানের ডগা ফুলে ওঠে। ধান্যলক্ষ্মীর সাধ কৃষিজীবী মানুষের আবহমানকালের আচার। কোন প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসছে কেউ জানেন না। এই উৎসব আসলে ‘পৃথিবী পুজো’ (Earth Worship)। আদিম মানুষ বুঝেছিল, সন্তান আর ফসল দুই-ই উৎপাদন। সন্তান ধারণ করেন মা, আর ফসল ধারণ করে মাটি, সুতরাং ফসল নিয়ে আবির্ভূতা পৃথিবী বা মাটি মাতৃদেবী।

ধানকে সাধ দেওয়া একটি অনুকরণাত্মক যাদু বা Imitative Magic. যা করবো বাস্তবে তাই হবে। ধানের শিষ আসার আগে ধানের ডগাটি পোয়াতি মায়ের পেট। ফুলে ওঠা এই পেটকে বলে ধানের ‘থোড় দশা’ বা Booting stage. এটিই হল ধানের গর্ভসঞ্চার। নল-খাগড়ার জঙ্গলে যেমন অসামান্য বংশবিস্তার! নল-খাগড়া যেমন ঝাড়ে জঙ্গলে বেড়ে ওঠে! তাই নলগাছের অবয়বে প্রভূত প্রজনন শক্তি বিরাজ করে, এটাই লোক-সমাজের বিশ্বাস। বিশ্বাস, ধানক্ষেতে নলপুজো করলে নলের প্রবণতা ধান-ফসলেও সঞ্চারিত হবে। তাতে প্রচুর ধান ফলবে। নৃতত্ত্ববিদ্যার ভাষায় একেই বলে Imitative magic বা অনুকরণাত্মক যাদু প্রক্রিয়া। বাংলার নানান অঞ্চলে নল সংক্রান্তি পালিত হয়। রাঢ় ও দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্ত বাংলায় নল পুজোর আগের দিন সশিষ নল গাছ কেটে আনা হয়। তাতে নানান বনৌষধি ও লৌকিক সামগ্রী বোয়াল পাতায় মুড়ে নলগাছের পাতায় বাঁধা হয়। বুনো ওল, কেশুতের শেকড়, রাই সরষে, হলুদ, নিম, শুকতো পাতা এবং চালের খুঁদ থাকে সামগ্রীর তালিকায়। কৃষক নলের গোড়া ধুয়ে শালুক ফুলে জড়িয়ে ধান-ক্ষেতে নিয়ে যায় নল পুজো করতে।

বাংলার কোনো কোনো জায়গায় আশ্বিন সংক্রান্তিতে ‘ধান-ডাকা’ নামক লোকানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এটি শস্যদেবীকে সন্তুষ্ট করার একটি আচার। প্রভূত ধান উৎপাদনই হবে — এটাই কামনা। কৃষকে কৃষকে উন্নত চাষের রেষারেষি এই উৎসবে ধরা পড়ে। লৌকিক ছড়ায় পাচ্ছি — “লোকের ধান হুলুসথুল/ আমার ধান শুধুই ফুল/ ধান — ফুল ফুল ফুল।” কোথাও ছড়া কাটা হয়, “অন-সরিষা, কাঁকুড় নাড়ি,/যা-রে পোক ধানকে ছাড়ি/এতে আছে শুকতা,/ধান ফলবে গজ মুক্তা।/এতে আছে কেঁউ,/ধান হবে সাত বেঁউ।”

আশ্বিন সংক্রান্তির দিনে পালিত হয় ‘গারসিব্রত’। এটি লক্ষ্মীব্রতের অন্যতর রূপ। অনেক জায়গায় ‘গারু সংক্রান্তি’ বা ‘গাস্বীব্রত’-ও বলে থাকেন লোকসমাজ। এই কৃষি আচারে লক্ষ্মীদেবীকে তাল মিছরি এবং ভেজানো খেসারির নৈবেদ্য দেওয়া হয়। ব্রতিনীরা উপবাস ভঙ্গ করেন ভেজানো বা রান্না করা খেসারির ডাল খেয়ে। হাল অথবা জাল ব্যবহার করে পাওয়া কোনো খাবার এদিন খেতে নেই। বছরের এই একটি দিন। ধান থেকে শুরু করে প্রায় সকল ফসল পেতে হয় জমিতে হাল দিয়ে বা লাঙ্গল দিয়ে। মাছ, কাঁকড়া প্রভৃতিও জাল দিয়ে ধরতে হয়। যেহেতু খেসারি চাষ করতে আলাদা করে কোনো হালের ব্যবহার হয় না, ‘পয়রা ক্রপ’ হিসাবে ধানের জমিতে ধান কাটার একমাস আগে ভেজা মাটিতে খেসারির বীজ ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মূল ধান কাটার প্রায় দুমাস পর একরকম বিনা কর্ষণে ফসল কেটে নেওয়া হয়। একেই কৃষির পরিভাষায় ‘পয়রা ফসল’ বলে। বাংলার লোকসংস্কৃতি চর্যায় খেসারির ডালের পর্যাপ্ত ব্যবহার রয়েছে। অথচ এই ডাল কাঁচা বা রান্না করে খেলে স্নায়বিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই কৃষিবিজ্ঞানীরা এই ডালের নার্ভ-টক্সিন দূর করতে সচেষ্ট হয়েছেন; বাংলার গবেষকদের দ্বারা উদ্ভাবিত ‘নির্মল’ জাতটি এই দোষ থেকে মুক্ত।

খুব ভোরে উঠে এদিন রান্না করতে হয় খেসারির ডাল; তারসঙ্গে হাল ব্যবহার না করে জন্মানো শাক সবজি সেদ্ধ দেওয়া হয়, যেমন মানকচু, দুধকচু, কৃষ্ণকচু, ওল। এই বিশেষ ডাল রান্নাকে বলে ‘আসমবারি’। এই ডালে হলুদ এবং তেল-মসলার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

দেবী লক্ষ্মীকে সন্তুষ্ট করতে ঘর ও উঠোন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। ব্রতিনীরা গারসির ব্রতকথা শোনেন পুজোর পর। বাড়ির মেয়ে-বউরা এই ব্রত করে থাকেন। কৃষি-কামনাই এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য। এই দিনে তাড়ানো হয় অলক্ষ্মীকে, বোধন করা হয় দেবী লক্ষমীকে।

গারসি ব্রতকথায় আছে, লক্ষ্মীরূপা সওদাগরের স্ত্রীর মৃত্যুর পর সংসারের সর্বত্র অলক্ষ্মীর আচরণ করতে থাকেন পুত্রবধূরা। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় সওদাগর-পরিবার। সেই সুযোগে সংসারে পাকাপাকি আসন পাতার উপক্রম করেন অলক্ষ্মী। কিভাবে কনিষ্ঠ পুত্রবধূ তার নিজের লক্ষ্মী-সম আচরণের দ্বারা সেই অমঙ্গলকর প্রয়াস ভেস্তে দিলেন — সেই সদাচরণই ব্রতকথার মূল সুর।

Address

Burdwan
713121

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Swarnachalida-স্বর্ণচালিদা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category