15/12/2018
পুরশুড়ার দেউলপাড়ায় সংখ্যালঘু বৌদ্ধরা নেই, রয়েছে বৌদ্ধমন্দির।।
সারা গ্রামে একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ নেই। অথচ রয়েছে বৌদ্ধমন্দির। ওই বৌদ্ধমন্দির গ্রামটিই চিনিয়েছে পুরশুড়ার এই দেউলপাড়া গ্রামকে। গ্রামে কমপক্ষে পাঁচশো পরিবারের বসবাস। এমনকী সারা পুরশুড়া ব্লকে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষের মধ্যেও কোন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবুও প্রায় ৩২ বছর ধরে এই মন্দিরটি সারা বছরের বিভিন্ন সময় ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের অন্যতম আকর্ষণ। বৌদ্ধ ধর্ম গুরু দলায়লামা এসেছিলেন এই মন্দিরে।
এই বৌদ্ধমন্দিরটি ১৯৮৫ সালে স্থানীয় সমাজসেবী তারকনাথ বাইরি প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্বোধন করেছিলেন দালাই লামা। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে স্থাপত্যশিল্পের সুন্দর কারুকার্য। তৈলচিত্রের ব্যবহারও সকলকে মুগ্ধ করে। আর মন্দিরের বাইরে রয়েছে সুন্দর বাগান ‘শান্তিবন’। দামোদর নদের তীরে এই মন্দির দর্শনের জন্য দূর দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ ছুটে আসেন। কারণ হুগলি জেলার মধ্যে এটিই একমাত্র বৌদ্ধ মন্দির। বৌদ্ধ পূর্ণিমার সময় এখানে মানুষের মেলা বসে যায়। এই সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে হাজির থেকে এই স্থাপত্যকীর্তির সৌন্দর্য অনুভব করেন। মন্দিরটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় সাহিত্যিকদের গল্প, প্রবন্ধে স্থান করে নিয়েছে। কয়েকবার এখানে সিনেমার শুটিংও হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের দৌলতে এর খ্যাতি ছড়িয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে। তাই এখন রাজ্য এমনকী দেশের বাইরে থেকেও মাঝে মাঝে এখানে কৌতূহলী বৌদ্ধরা ছুটে আসেন।
তবে গ্রামবাসীরা জানান, এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বাইরিরা বর্তমানে কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। আগেকার সেই জৌলুষ এখন আর নেই। বহুদিন সংস্কারের কাজ হয়নি। ফলে মন্দিরের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
মন্দির দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকার থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা অভিনব সামন্ত, বেলা দাস প্রমুখদের বক্তব্য, এই মন্দিরটি এলাকার মানুষের কাছে একটা গর্বের বিষয়। তাছাড়া এর একটা ঐতিহাসিক গুরুত্বও আছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই মন্দিরের অবিলম্বে সংস্কারের প্রয়োজন।