06/09/2021
চেনা জগতের বাইরে কোথাও….
অচেনাকে চেনা,স্বল্প চেনা কে আরও ভালোভাবে চেনা বা চেনা জায়গার সাথে আবার নতুন করে আলাপ করা এই সবই ভ্রমণের এক একটি পর্যায়। অতএব চলুন পাড়ি দেওয়া যাক লেপচাজগৎ এ।নামের তাৎপর্য তো জায়গাটির পরিচয়পত্রতেই লেখা আছে ।অবশ্য লেপচা জনগোষ্ঠী এই পাহাড়ি পূর্বাঞ্চলের ‘ Aborigines’ ।
ইস্টিশনে বা বাগডোগরায় নেমে উঠে পড়ুন গাড়িতে আর তারপর শুরু হোক মোটামুটি 75কিমি পথ চলা।রাতভর ট্রেনসফর করলে বা বাসে আসলে যেটা দরকার সেটা হল উদরপূর্তির ব্যবস্থা।অতএব সমতলের কলকলানি থেকে একটু দূরে গিয়ে যাত্রাপথের ধারে কোথাও সেই কাজটিকে সেরে ফেলা যাক আর তারপর আশপাশে নজর ঘোরাতে ঘোরাতে হোমস্টের দোরগোড়ায়।এবারে একটু বিশ্রাম,ক্রমে দুপুরের খাওয়া আর তারপর হজমের জন্য একটু হাঁটুন জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি পথে, আলাপ করুন স্থানীয়দের সাথে।কিংবা যে প্রিয় লেখকের বেশ কিছু লেখা পড়ে উঠতে পারেন নি এতদিন তার লেখায় করুন মনোনিবেশ।কিন্তু কান খোলা রাখবেন কারণ প্রকৃতি সব সময় গান গাইছে যে!!সন্ধ্যেবেলার ঝিঁঝিঁর কোরাস ও মন্দ লাগবেনা।
পরদিন একটু হেঁটে ঘুরে আসতে পারেন হাওয়া ঘর ,আকাশ পরিষ্কার থাকলে দিনের প্রথম সাক্ষাতকার হয়েও যেতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘার সাথে ।ফিরে এসে জলখাবার খেয়ে ঘুরে আসতে পারেন 19 কিমি দূরে দার্জিলিঙ এ। অবশ্য সেটা নির্ভর করছে Colonial legacy আর অনাবিল প্রকৃতিকে যদি আপনি blend করতে চান তবেই আর না হলে তো বই পড়া ,পাখি দেখা,ঘুম rock থেকে বালাসুন উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ – প্রাপ্তির ভান্ডার ভরবেই কথা দিতে পারি এবং এর সঙ্গেই দ্বিতীয় রাত ও কোথা দিয়ে কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না।
‘অলস সময়ধারা’ তে একটু গা ভাসানোর জন্যই তো এই সব ছোট্ট ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ দু হাত উদার করে আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।অন্ততঃ দুদিন এর রাত্রিবাস যেমন আপনার কর্মক্লান্ত জীবনকে দেবে সঞ্জিবণি তেমনই এঁদেরকেও দেবে জীবনধারণের সহায়তা