23/05/2026
হৃদয়ের জন্য একটুকু ‘কমা’
নতুন পাতার কোমল সবুজে পৃথিবী ধীরে ধীরে যেন নিজের রঙ পাল্টায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও হাঁটার শব্দে লেগে থাকে এক অদ্ভুত তাড়াহুড়ো—সবাই যেন কোথাও পৌঁছানোর অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।
ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাব, পার্ট-টাইম কাজ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—আমাদের দিনগুলো ভরে থাকে অসংখ্য “করতেই হবে” দায়িত্বে। তার ওপর ফোনের স্ক্রিন খুললেই অন্য কারও নিখুঁত মুহূর্ত, নতুন খবর, অন্তহীন তুলনা এসে জমা হয় মনের ভেতর।
আমরা হয়তো বুঝতেই পারি না—কত চাপ, কত শব্দ, কত অদৃশ্য প্রত্যাশা নীরবে আমাদের ঘিরে রাখে।
কখনও কি মনে হয়, শ্বাসটা একটু ভারী হয়ে আসছে?
যেন কেউ আমাদের দিয়ে একটানা দীর্ঘ বাক্য পড়িয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো কমা নেই, কোনো বিরতি নেই।
আমি যখন আমার প্রিয় মগে কফি ঢালি, তখন প্রায়ই এই কথাটা মনে হয়।
গরম কফির ধোঁয়া ধীরে ধীরে ওপরে ওঠে, আর সেই ছোট্ট নীরব মুহূর্তে অস্থির মনটা আস্তে আস্তে শান্ত হতে শুরু করে—কিছু না করেও।
আমরা “অর্থপূর্ণ কাজ” খুঁজতে খুঁজতে অনেক সময় ভুলে যাই—
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হলে শুধু এগিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট নয়, মাঝেমধ্যে থামতেও জানতে হয়।
জীবনের গল্পে টিকে থাকার জন্য দরকার ছোট ছোট বিশ্রাম—একটি বাক্যের মাঝখানে থাকা ক্ষুদ্র ‘কমা’র মতো, যেখানে আমরা একটু নিঃশ্বাস নিতে পারি।
হয়তো আপনার সেই ‘কমা’ হলো শুয়ে থেকে প্রিয় গান (ইসলামিক) শোনা।
হয়তো বিকেলের আকাশের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকা।
হয়তো কোনো কারণ ছাড়াই কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গে সময় কাটানো।
কারণ যেমন কেউ অনন্তকাল দৌড়াতে পারে না, তেমনি মন আর শরীরও বিরাম ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না।
নিজেকে একটু ঢিলে করে দেওয়ার মাঝেই আবার নতুন করে পথ চলার শক্তি জন্ম নেয়।
যদি আজ আপনার মনে হয়—“খুব ক্লান্ত লাগছে”—
তবে দিনের ভেতর একটা ছোট্ট ‘কমা’ বসিয়ে দিন।
একটু থেমে যাওয়া অলসতা নয়।
বরং এটাই সেই নীরব, প্রয়োজনীয় বিরতি—যা হৃদয়কে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়।