28/06/2025
আরেক ভাইকে আমরা হারালাম 😰😰
ছবিটি হচ্ছে গতকালকে বাসা থেকে আপনের লাশ উদ্ধার করে নিচে আনার পর
আগামীকাল ২৭ তারিখ রোজ শুক্রবার সকাল দশটার সময় লিখন ভাই সহ আমরা তিন চার জন হিগাশিমাতসুয়ামা পুলিশ স্টেশন থেকে আপনের লাশ রিসিভ করে সাইতামা হাতোয়ামা মসজিদে নিয়ে যাব ওইখানে গোসল এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ করে
জুমার নামাজের পরপরই ওর জানাজার নামাজ হবে সময় হলে আশেপাশের আমরা সবাই থাকার চেষ্টা করব
এখন পর্যন্ত শেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওর পরিবারের রিকোয়েস্টে জাপান বাংলাদেশ কমিউনিকেশনের সিনিয়র কিছু মানুষের সহযোগিতায় অতি শীঘ্রই ওর লাশ দেশে নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে
তবে দীর্ঘ ছয় মাসের মত নিজেকে একা ঘর বন্দি করে রাখায় জাপানের অনেক কিছুই বিল পরিশোধ করে নাই….. এবং ওর লাশ উদ্ধার করা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যন্ত এবং লাশ ফ্রিজিং করে রাখা সহ অনেক কিছুতে টাকার প্রয়োজন হচ্ছে…আগামীকাল মসজিদে আসলে সবার সাথে সে ব্যাপারে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ সবাই সবার সমর্থ্য অনুযায়ী হেল্প করার চেষ্টা করবেন
😔😔
জীবনে কখনোই ভাবিনি আপনের এমন একটি মুহূর্ত দেখতে হবে ওর নিথর দেহটি যখন আমাদের চোখের সামনে পুলিশ বের করতেছে তখন দেখে মনে হয়েছে সবকিছু মিলে মনে হয় দশ কেজি ওজন নাই তার
পুলিশ বলেছে ওর পুরো শরীর নাকি অনেক শক্ত হয়ে আছে 。。。লাস্ট যখন এই মাসের 22তারিখ রবিবারে দেখা করতে গিয়েছিলাম তখন সে ভেতর থেকে বলেছিল সে নাকি চার দিন খাবার খাই নাই এবং আমি বাইরে থেকে রান্নাঘরের পাশে একটা জানালা খোলা ছিল সেখানে মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়েছি তারপরও সে বলতেছে সে নাকি চোখে কিছু দেখতেছেনা……আমরা শুধু বারবার ওকে রিকোয়েস্ট করেছি দরজাটা একটু খোলার চেষ্টা করুন。。আবার এদিকে বিল পরিশোধ করতে না পারায় লাস্ট দুই তিন মাস তার বাসায় কারেন্ট গ্যাস পানি সব কিছুই বন্ধ ছিল
ওই বিল্ডিং এর পাশের একজন ভাড়াটিয়া থেকে জানতে পারলাম লাস্ট ১৫ দিন নাকি সে বাসা থেকেও বের হয় নাই
বলতে গেলে পুরো একটা অন্ধকার জগতের মধ্যে সে ছিল কারণ তার মোবাইল ফোনটি পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে নাই সিম কার্ড বন্ধ….মোবাইলে চার্জ দিতে পারেনা
সে ভেতরের রুম থেকে এসে দরজাটুকু খোলার পর্যন্ত ন্যূনতম শক্তি ছিল না
সে শুধু বলেছিল পারলে কিছু খাবার কিনে বাহিরে রেখে দেন আমি পরে উঠলে নিয়ে নেব
যেহেতু জাপানের নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া কারো দরজা ভাঙা যায় না。。。তাই তার এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে সিনিয়রদের সাথে আলাপ করার পর সবাই মিলে আগামী রবিবার পুলিশ এম্বুলেন্স সবকিছু নিয়ে যাবে বলেছিলেন
কিন্তু রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা অনেক দেরি হয়ে যাবে মনে করে তারপর যখন আবার গতকালকে বুধবার ওর কি অবস্থা দেখতে গিয়েছিলাম গিয়ে দেখি বাইরে রেখে আসা খাবার ঠিক আগের অবস্থাতেই ছিল একটুও নড়ে নাই…তার মানে সে এই দুই দিন দরজা খুলে নাই বাহিরে থেকে অনেক ডাকাডাকির পরেও সে ভেতর থেকে কোন সাড়া দেয় নাই
পরে মাসুম ভাই এবং আরিফ ভাইয়ের সহযোগিতায় লিখন ভাইয়ের পরামর্শে পুলিশ এবং এম্বুলেন্স ফায়ার সার্ভিস নিয়ে ওকে উদ্ধার করলাম কিন্তু তখন তো আসলে আমাদের অনেক অনেক দেরি হয়ে গেছে
পরে আজকে পুলিশের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানতে পারলাম ওর মৃত্যুটা সোমবার হয়েছিল তার মানে ওর মৃত্যুর দুই তিন দিন পরেও সেই অন্ধকার রুমের ভিতর তার নিথর দেহটি পড়েছিল
ওর ছোট ভাই যখন আজকে সকালে ওর লাশ শনাক্ত করে তখনও ওর একটি চোখ খোলা ছিল আর একটি চোখ অর্ধেক খোলা ছিল চোখগুলো এমনভাবে সাদা হয়ে আছে মনে হয় যেন সে যুগ যুগ ধরে খাবার চোখে দেখে নাই খাবার খায় নাই এতটাই অপুষ্টি এবং রোগা ছিল এবং তার পুরো শরীরটা একটা কাঠের মত হয়ে গেছে
জাপানের মত এমন একটি দেশে থেকেও সেই মৃত্যুর কয়েক দিন আগ থেকে এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত খেতে পারে নাই😔 মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে হয়তো আমাদের কারো না কারো জন্য সে অপেক্ষায় ছিল কিন্তু আমরা তো সবাই সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত
আমাদের সবার অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে একটু মাত্র খাবারের অভাবে আজকে তাকে দুনিয়া থেকে চলে যেতে হয়েছে
হয়তো আমরা কখনো কেউ নিজেদেরকে ক্ষমা করতে পারবোনা
জাপানে ওর স্টুডেন্ট লাইফের প্রায় শেষের দিকে কলেজের বেতন নিয়ে ও অনেক ঝামেলায় পড়েছিল কিন্তু সেগুলো একা সমাধান করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না কিন্তু আশেপাশে আমরা অনেকেই জানতাম জেনেও তেমন একটা কেউ আগ্রহ দেখিয়ে সাহায্য করে নাই
মাঝে মাঝে 2-1 বার ওর বাসার সামনে গিয়ে তারপর দুই মাস আর কারো কোনো খবর থাকত না
মাঝখানে এই সময়টুকু ছেলেটা কি খাইছে সেটা কখনোই কেউ জিজ্ঞেস করে নাই যার কারণে আজকের এই করুন দিনটি
এর দায় আমাদের সবার
এই ব্যর্থতা আমাদের সবার
এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে আমাদের আশেপাশে আর কোন আপন যেন বিপদে পড়ে খাবার না খেয়ে একা একা মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে
রবিবারে ওর লাস্ট একটি কথা আমাকে অনেক কষ্ট দিতেছে লাস্ট সে অন্ধকার রুমের ভিতর থেকে শুধু এটাই বলেছিল
😔ভাই আবার আসিয়েন😔
আমি হয়তো শেষবারের মতো তার সাথে দেখাটা করতে পারি নাই কিন্তু এখনো মস্তিষ্কের ভিতর তার সেই আওয়াজটা আটকে আছে
[হাসান রবিন ভাই এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া]