17/05/2026
দিনশেষে নিজ দেশেই আসল ঠিকানা। তাই বিকল্প প্লান রাখা জরুরী।
১৮ বছর ধরে চালানো ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
জাপানে ব্যবসা ব্যবস্থাপক (Business Manager) ভিসার যোগ্যতার শর্ত কঠোর করার পর আবেদন সংখ্যায় নাটকীয় পতন দেখা গেছে। Immigration Services Agency (ISA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর এই ভিসার আবেদন প্রায় ৯৬% কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১,৭০০টি আবেদন জমা পড়ত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ৭০টিতে।
মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাপানের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা Kimi Onoda এই ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি, অনুমোদনের মানদণ্ড সংশোধনের ফলে ব্যবসা ব্যবস্থাপক ভিসাকে শুধুমাত্র অভিবাসনের একটি পথ হিসেবে অপব্যবহারের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে।”
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এখন কমপক্ষে ৩ কোটি ইয়েন (প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার) মূলধন দেখাতে হবে, যা আগে ছিল ৫০ লাখ ইয়েন। এছাড়া আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানে অন্তত একজন পূর্ণকালীন কর্মী থাকতে হবে, যিনি হয় জাপানি নাগরিক, নয়তো স্থায়ী বা স্থিতিশীল আবাসিক মর্যাদাসম্পন্ন বিদেশি বাসিন্দা।
এর পাশাপাশি জাপানি ভাষায় দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীদের অন্তত Japanese-Language Proficiency Test N2 সমমানের ভাষা দক্ষতা দেখাতে হবে।
এই কঠোর নিয়মের কারণে বিদেশিদের পরিচালিত ছোট ব্যবসা—বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা—চাপে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় তারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছেন না এবং বন্ধ করার ঝুঁকিতে আছেন।
গত মাসে Tokyo Shoko Research পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশি ব্যবসা মালিকদের ৫% ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাবছেন, আর ৪৫% মনে করছেন নতুন নিয়ম তাদের ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা গত অক্টোবরের আগে পুরোনো নিয়মে এই ভিসা পেয়েছেন, তাদের নতুন শর্ত পূরণের জন্য তিন বছরের সময় দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার জাপানের পার্লামেন্টে এই নিয়মের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে Manish Kumar নামে এক ভারতীয় রেস্টুরেন্ট মালিক জানান, তার ভিসা নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ১৮ বছর ধরে চালানো ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন,
“দুই সপ্তাহ আগে ISA আমাকে বলেছে নিজের দেশে ফিরে যেতে। আমার সন্তানরা জাপানেই জন্মেছে ও বড় হয়েছে, তারা শুধু জাপানি ভাষাই বোঝে, তাদের বন্ধুরাও সবাই জাপানি—এখন আমাদের ভারত ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। আমি কী করব?”
এ সময় Taro Tsurugashima নামের এক কর্মী প্রায় ৫৩ হাজার স্বাক্ষরসংবলিত একটি অনলাইন পিটিশন জমা দেন, যেখানে মূলধনের পরিমাণের বদলে ব্যবসার বাস্তব কার্যক্রম, কর প্রদান ও কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়।
সূত্র : Japantimes