13/07/2025
প্রতিষ্ঠান প্রধানের দূর্বল নেতৃত্ব ও গ্রুপিংয়ে শিক্ষা এবং প্রতিষ্ঠান তলানিতে
যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় ও বিশৃখংলার গভীরে তাকানো হয় তাহলে প্রথম যে চিত্রটি ফোঁটে উঠবে সেটি হলো- শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং বা দলাদলি৷
গ্রুপিং সৃষ্টি হয় কয়েকটি কারণে-
১৷ বাঁকা পথে প্রধান নিয়োগ - প্রতিষ্ঠান প্রধান মাল দিয়ে নিয়োগ নিলে তিনি জোর গলায় কিছু বলার সাহস পান না৷ তিনি সহকর্মীদের সাথে সমিহ করে কথা বলতে হয় এবং সহকর্মীদের দ্বারা মাল দিয়ে নিয়োগের কথাটি বারবার শোনেও না শোনার ভান ধরতে হয়৷ এজন্য তিনি নিজেই কয়েকজন শিক্ষককে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে হাতে নিয়ে গ্রুপিংটা প্রথম তিনিই উদ্ভোধন করে থাকেন৷ অত:পর এটা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে৷ তখন এটা আর কন্ট্রোল করা সম্ভব হয় না৷
২৷ ক্লাশ রুটিন নিয়ে গ্রুুপিং :যেমন সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক এমনকি ধর্মীয় শিক্ষকও চায় ইংরেজি, গণিত ক্লাশ পেতে৷ উদ্দেশ্য ক্লাশ পেলেই প্রাইভোট খাড়া! তাদের কাংখিত চাওয়া পূর্ণ না হলেই বসে বসে ফিসফিসানি ও গ্রুপিং৷
৩৷ প্রাইভেট নিয়ে গ্রুপিং : এটা ওপেন সিক্রেট৷ প্রাইভেট পড়ানোর পাল্লা ভারি করতে নিজ প্রাইভেট/কোচিং সেন্টার যেন একটা গীবত কেন্দ্র৷ শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও একই বিষয়ের অন্য শিক্ষককে দূর্বল করতে যা বলা লাগে সবাই থাকে সেখানে৷ এটা অনেক সময় সুযোগ পেলে আকার ইঙ্গিতে শ্রেণিকক্ষেও চলে৷ এর ফলে শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ে তেল ঢালে৷
৪৷ স্থানীয় আধিপত্য : যারা স্থানীয় শিক্ষক তারা চায় তাদেরকে যেন সবাই সমীহ করে, তেল মারে, তোষামদি করে৷ তাদের আকাংখার বাহিরে কেউ থাকলে তাকে নিয়ে শুরু হয়ে বদনাম ও মানসিক টর্চারিং৷
৫৷ কোনো শিক্ষকের অতিরিক্ত পারফর্মেন্স : এটা মারাত্মক৷ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাতে গুনা কয়েকজন শিক্ষক বেশ ভালো থাকে এবং তাদেরকে সবাই পছন্দ করে৷ এজন্য ঈর্শ্বান্বিত হয়ে অন্যেরা তাদের বিরোদ্ধে বসে বসে নিন্দা, গ্রুপিং করে দিন কাটায়৷ এতে ভালো পারফর্মেন্সের শিক্ষকের মধ্যে ধীরে ধীরে দূর্বলতা সৃষ্টি হয়৷
৬৷ শিক্ষক রাজনীতি : এটা শিক্ষক গ্রুপিংয়ে ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংশের অন্যতম কারণ৷ বর্তমানে অনেক শিক্ষকদের প্রোফাইল ঘাটলে দেখা যায় কে কত বেশি নেতার প্রতি তেল দিতে পারে সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে৷ পড়াশোনা যাই হোক চাকরির গোড়া শক্ত করতে এটা এখন কার্যকর মলম হিসেবে কাজ করছে৷
৭৷ দূর্বল মেধার শিক্ষক : যে শিক্ষক যতো দূর্বল তিনি ততো গ্রুপিং সৃষ্টিকারী৷ নিজ দূর্বলতা ঢাকতে সর্বদা প্রধানকে তেল মারতে থাকে এবং সহকর্মীদের বিরোদ্ধে প্রধানের কাছে ফিসফিস করতে থাকে৷ মাঝেমাঝে প্রধানের ব্যাগের বোঝা বহন করতে করতেও অন্যের বিরোদ্ধে পানি পড়াটা দিয়ে দেয়৷
৮৷ প্রতিষ্ঠানে কোচিং বানিজ্য : অন্যের মাথায় কাঠাল রেখে নিজে খাওয়ার এটা অন্যতম উপায়৷ কিছু প্রতিষ্ঠানে সকালে সারা বছর দুই ঘন্টা কোচিং চালানো হয়৷ এতে মোটা অংকের টাকা প্রধান ও তাঁর পকেটের শিক্ষকদের পকেটে যায়( সবস্থানে এক নয়, ন্যায়পরায়নতাও আছে)৷ এটা দোকানের মতো৷ দোকানের মালিক প্রধান৷ দেখাশোনা করে চামচেরা৷ কাজ করে পরিশ্রমিরা৷ পরিশ্রমিদেরকে যৎসামন্য দিয়ে বাকিগুলো তাদের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা হয়৷ কিছু প্রতিষ্ঠানে এটা শক্ত করে ধরে রাখতে কমিটিকেও কিছু ভাগ দেয়া হয়৷
তাহলে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ-প্রধানসহ অন্যান্য পদ অফিস সহকারী থেকে আয়া সবাই এনটিআরসিএ থেকে নয় কেনো!?