Makkah Hajj And Umrah service

Makkah Hajj And Umrah service Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Makkah Hajj And Umrah service, Travel Company, Misfala, Makkah.

18/08/2026
18/08/2026

মসজিদে জহুরানা মক্কা মিকাত মসজিদ।

18/08/2026

আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য বর্ণনা করে বলেন:
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ ۝ بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ
“আর যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে জিজ্ঞেস করা হবে—কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?”
—সূরা আত-তাকভীর, ৮–৯
এখানে الْمَوْءُودَةُ (আল-মাওউদাহ) অর্থ—যে কন্যাশিশুকে জীবন্ত অবস্থায় মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ এখানে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি প্রশ্ন করেছেন:
“কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?”
অর্থাৎ শিশুটির কোনো অপরাধ ছিল না। অপরাধ ছিল সেই হত্যাকারীর।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত
আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ ۝ يَتَوَارَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ۚ أَيُمْسِكُهُ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ
“তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হতো, তখন তার মুখ কালো হয়ে যেত এবং সে দুঃখে ভারাক্রান্ত হতো। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তার লজ্জায় সে লোকদের কাছ থেকে আত্মগোপন করত। সে কি অপমান সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটির মধ্যে পুঁতে দেবে?”
—সূরা আন-নাহল, ৫৮–৫৯
এখানে কুরআন শুধু হত্যার কথা বলেনি; কন্যাসন্তান জন্মের কারণে লজ্জিত হওয়ার মানসিকতারও নিন্দা করেছে।
🌸 কেন তারা কন্যাশিশুকে হত্যা করত?
কুরআনে কয়েকটি কারণের উল্লেখ পাওয়া যায়।
১. লজ্জা ও সামাজিক অপমানের ভয়
কন্যা হয়েছে—এ কথা শুনে কেউ কেউ মনে করত এটি পরিবারের জন্য অপমান।
আল্লাহ বলেন:
أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
“সাবধান! তারা যে সিদ্ধান্ত দেয়, তা কতই না নিকৃষ্ট!”
—সূরা আন-নাহল, ৫৯
২. দারিদ্র্যের ভয়
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ
“দারিদ্র্যের আশঙ্কায় তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।”
—সূরা আল-ইসরা, ৩১
আর সূরা আল-আনআমে বলেন:
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ
“দারিদ্র্যের কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।”
—সূরা আল-আনআম, ১৫১
অর্থাৎ সন্তানকে রিজিক দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহর।
🌹 সুন্নাহ থেকেও প্রমাণ
সহিহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ জাহেলিয়াতের বিভিন্ন অন্যায় কাজের কথা উল্লেখ করেছেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ عُقُوقَ الْأُمَّهَاتِ، وَوَأْدَ الْبَنَاتِ...
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য মায়েদের অবাধ্য হওয়া এবং কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হারাম করেছেন...”
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ রাসূল ﷺ নিজেই وَأْدَ الْبَنَاتِ (ওয়াদুল বানাত)—অর্থাৎ “কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া”—কে স্পষ্টভাবে হারাম বলেছেন।
❤️ ইসলাম এসে কন্যার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করল
যে সমাজে কোনো কোনো মানুষ কন্যাকে মাটিতে পুঁতে ফেলত, রাসূল ﷺ সেই সমাজকে শিক্ষা দিলেন—কন্যাকে ভালোবাসা, লালন-পালন করা এবং তার অধিকার আদায় করা সওয়াবের কাজ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ
“যে ব্যক্তি দুই কন্যাকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এভাবে পাশাপাশি থাকব।”
বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল ﷺ তাঁর দুই আঙুল পাশাপাশি করে দেখিয়েছেন।
—সহিহ মুসলিম
আরেকটি হাদিসে তিন কন্যাকে উত্তমভাবে লালন-পালনের ব্যাপারেও জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে। —সুনান আত-তিরমিজি
🌺 আমাদের জন্য শিক্ষা
আজ আমাদের সমাজে কেউ হয়তো কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেয় না, কিন্তু কখনো কখনো অন্যভাবে কন্যাকে অবহেলা করা হয়—
ছেলে হলে আনন্দ, মেয়ে হলে হতাশা;
ছেলের পড়াশোনায় গুরুত্ব, মেয়ের পড়াশোনায় অবহেলা;
ছেলের সম্পত্তির অধিকার দেওয়া, মেয়ের অধিকার নষ্ট করা;
কন্যাকে বোঝা মনে করা।
এগুলোও একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক মানসিকতা।
কন্যা আল্লাহর দান, আল্লাহর আমানত।
আল্লাহ বলেন:
يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ
“তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।”
—সূরা আশ-শূরা, ৪৯
🌹 শেষ কথা
সুতরাং নিশ্চিতভাবে বলা যায়:
জাহেলিয়াতের যুগে কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার প্রথা ছিল এবং কুরআন ও সহিহ হাদিস উভয়ই এর প্রমাণ বহন করে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট নারী বা শিশুর নাম উল্লেখ করে—“তাকে অমুক ব্যক্তি জীবন্ত কবর দিয়েছিল”—এ কথা বলার জন্য আলাদা নির্ভরযোগ্য সনদ প্রয়োজন। যেমন আমরা আগের আলোচনায় দিহইয়া আল-কালবী (রা.)-এর মেয়ে সুমাইয়া (রা.) সম্পর্কে যে গল্পের কথা বলেছি, সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
আল্লাহ আমাদের সন্তানদের—বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের—আল্লাহর আমানত হিসেবে ভালোবাসা ও উত্তমভাবে লালন-পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

15/08/2026

🕋🌿 بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 🌿🕋

🌙 পবিত্র হজ ও উমরাহ সফরে আপনার বিশ্বস্ত সেবক ও নির্ভরযোগ্য সহযোগী 🌙

🤲 মক্কা মোয়াল্লেম গাইড | জিয়ারত | হোটেল বুকিং | হাজীদের পূর্ণাঙ্গ সেবা

আলহামদুলিল্লাহ।আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়া প্রতিটি মুসলমানের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এই বরকতময় সফরকে নিরাপদ, সুন্দর, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও চিন্তামুক্ত করতে আমরা আন্তরিকতার সাথে দীর্ঘদিন ধরে হজ ও উমরাহ যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছি।

আপনি একা, পরিবারসহ কিংবা গ্রুপের সাথে আসুন—ইনশাআল্লাহ, আপনার পুরো সফরের দায়িত্ব আমরা আন্তরিকতার সাথে পালন করব।

🌹 আমাদের নির্ভরযোগ্য সেবাসমূহ

✅ অভিজ্ঞ মক্কা মোয়াল্লেম গাইডের মাধ্যমে হজ ও উমরাহর সকল কার্যক্রমে সহযোগিতা।

✅ তাওয়াফ, সাঈ, আরাফা, মিনা, মুজদালিফা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে সঠিক দিকনির্দেশনা।

✅ মক্কা, মদিনা, জেদ্দা ও তায়েফের সকল ঐতিহাসিক ও পবিত্র জিয়ারতের ব্যবস্থা।

✅ জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাজীদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে নিরাপদ গাড়ির মাধ্যমে মক্কার হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।

✅ মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় সকল ধরনের হোটেল বুকিং।

✅ পরিবার, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত হাজীদের জন্য উন্নত মানের আবাসনের ব্যবস্থা।

✅ উন্নত মানের ক্যাটারিং খাবার ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা।

✅ সকল ধরনের গাড়ি ও যাতায়াতের সুবিধা।

✅ বয়স্ক, অসুস্থ ও হেঁটে চলতে অক্ষম হাজীদের জন্য হুইলচেয়ার ও বিশেষ সেবা।

✅ প্রথমবার হজ ও উমরাহ পালনকারীদের জন্য ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা।

✅ গ্রুপ পরিচালনা, হাজীদের খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা।

🤍 আমাদের অঙ্গীকার

আল্লাহর ঘরের মেহমানদের খেদমত করাই আমাদের গর্ব, দায়িত্ব ও সৌভাগ্য।আপনার প্রতিটি মুহূর্তকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্মরণীয় করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

✨ বিশ্বস্ততা • আন্তরিকতা • অভিজ্ঞতা • সর্বোত্তম সেবা ✨

📞 যোগাযোগ

👤 মোঃ শামছুদ্দোহা সুমন

📍 অফিস: মেসফালা, মক্কা, সৌদি আরব

📱 WhatsApp / IMO: +966 54 508 8485

🕋 আজই যোগাযোগ করুন।

আপনার হজ ও উমরাহ সফরের বিশ্বস্ত সহযোগী — ইনশাআল্লাহ।

🤲 আল্লাহ তাআলা আপনার হজ ও উমরাহ কবুল করুন এবং সফরকে সহজ, নিরাপদ ও বরকতময় করে দিন। আমীন

15/08/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
🕋 আল্লাহর মেহমানদের সেবায় — আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা
মক্কায় ওমরাহ পালনে এসেছেন?
আপনার পবিত্র সফরকে সহজ, সুন্দর ও স্মরণীয় করতে আমরা আছি আপনার পাশে—ইনশাআল্লাহ।
যেসব এজেন্সি হাজী ও ওমরাহযাত্রীদের সাথে নিজস্ব মোয়াল্লেম/গাইড পাঠায় না, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা ওমরাহ পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করি।
🌿 আমাদের সেবাসমূহ
🕋 ওমরাহ পালনে পূর্ণ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা
🏨 মক্কায় প্রয়োজন অনুযায়ী হোটেল বুকিং
🍽️ ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে হাজী ও ওমরাহযাত্রীদের খাবার পরিবেশন
🚌 মক্কা ও তায়েফের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানসমূহে জিয়ারা
📍 জিয়ারার উল্লেখযোগ্য স্থান
জাবালে নূর • জাবালে সাওর • আরাফাত • জাবালে রহমাহ • মুযদালিফাহ • মিনা • তায়েফ • জাবালে শিফা • বনী সা'দ এবং ইসলামের ইতিহাস-সম্পর্কিত অন্যান্য স্থান।
বনী সা'দ অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
🤝 আমাদের অঙ্গীকার—
সততা • আমানতদারিতা • দায়িত্বশীলতা • সুন্দর ব্যবহার
আমাদের উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসা নয়—
আল্লাহর মেহমানদের আন্তরিকতার সাথে সেবা করাই আমাদের লক্ষ্য।
🤲 আল্লাহ তাআলা সকল হাজী ও ওমরাহযাত্রীর ইবাদত কবুল করুন এবং তাঁদের সফর নিরাপদ ও বরকতময় করুন। আমীন।
📞 বিস্তারিত জানতে ও সেবা গ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন।
WhatsApp IMO number +966545088485

13/08/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
জানাযার নামাজ মৃত মুসলিমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ, মুসলিম সমাজের কিছু লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়; কিন্তু কেউ আদায় না করলে সংশ্লিষ্ট সবাই গুনাহগার হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের জানাযায় ঈমান ও সওয়াবের আশায় উপস্থিত থাকে এবং তার দাফন পর্যন্ত থাকে, সে দুই কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে। প্রত্যেক কিরাত উহুদ পাহাড়ের মতো।”
— সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
২. জানাযার নামাজের উদ্দেশ্য
জানাযার নামাজে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা, রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া করা হয়। এটি সাধারণ নামাজের মতো রুকু-সিজদাযুক্ত নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তুমি কখনো তাদের কারও জন্য জানাযার নামাজ পড়বে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না।”
— সূরা আত-তাওবা, ৯:৮৪
এই আয়াতে মূলত মুনাফিকদের জানাযা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মুমিন মুসলিমের জন্য জানাযা আদায়ের শরয়ি ভিত্তি রয়েছে।
৩. জানাযার নামাজ কীভাবে পড়তে হয়
জানাযার নামাজে সাধারণভাবে চার তাকবির দেওয়া হয়।
প্রথম তাকবির:
তাকবির বলে হাত বাঁধা হবে এবং সানা পড়া হবে।
দ্বিতীয় তাকবির:
দরুদ শরিফ পড়া হবে।
তৃতীয় তাকবির:
মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দোয়া করা হবে। যেমন:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ
অর্থ: “হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি রহম করুন, তাকে নিরাপদ রাখুন এবং তাকে মার্জনা করুন।”
নারী হলে لَهُ-এর পরিবর্তে لَهَا বলা হবে।
চতুর্থ তাকবির:
তাকবির দিয়ে কিছুক্ষণ নীরব থেকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা হবে।
৪. জানাযায় রাসুল ﷺ-এর গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ জানাযায় মৃত ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমে এসেছে:
“হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড়, পুরুষ ও নারী—সকলকে ক্ষমা করুন।”
এছাড়াও মৃত ব্যক্তির জন্য বিশেষভাবে মাগফিরাতের দোয়া করা সুন্নাহ।
৫. জানাযায় বেশি লোকের উপস্থিতির ফজিলত
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“কোনো মুসলিমের জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক দাঁড়ায়, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না, তাহলে আল্লাহ তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করেন।”
— সহিহ মুসলিম
আরেক হাদিসে একশত মুসলিমের জানাযায় অংশগ্রহণের ফজিলতের কথাও এসেছে।
৬. জানাযার নামাজে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা
জানাযার মূল বিষয় হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা। তাই ইমাম ও মুসল্লিদের উচিত শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং অন্তর থেকে মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত, রহমত, কবরের প্রশান্তি এবং জান্নাতের দোয়া করা।
সারকথা:
মুসলিম মৃত ব্যক্তির জানাযা আদায় করা ফরজে কিফায়া। জানাযায় চার তাকবির রয়েছে এবং এতে রুকু-সিজদা নেই। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মৃত মুসলিমের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করা। জানাযায় অংশগ্রহণেরও বিরাট সওয়াব রয়েছে।

12/08/2026

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশ থেকে এহরামের কাপড় পরিধান না করে আসে তাহলে করণীয় সম্পর্কে কোরআন হাদিসের ভিত্তিতে আলোচনা করা হইল। এখানে “এহরাম পড়া” এবং “এহরামের অবস্থায় প্রবেশ করা”—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে।
১. শুধু মনে মনে ওমরার নিয়ত করলেই কি এহরাম হয়ে যায়?
না, শুধু নিয়ত করলেই এহরামের অবস্থা শুরু হয় না।
এহরাম হলো একটি শরয়ি অবস্থা, যাতে প্রবেশ করার জন্য নিয়ত ও তালবিয়া গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের জন্য দুই টুকরা সাদা কাপড় পরা এহরামের পোশাক; কিন্তু শুধু কাপড় পরলেই এহরাম হয় না, আবার শুধু কাপড় না পরার কারণে সব অবস্থায় এহরাম হয় না।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মীকাত নির্ধারণ করে বলেছেন:
“এগুলো তাদের জন্য এবং যারা এ পথ দিয়ে অতিক্রম করে, তাদের মধ্যে যারা হজ ও ওমরার ইচ্ছা করে।”
— সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে মীকাত অতিক্রম করবে, তাকে মীকাতের আগেই এহরামে প্রবেশ করতে হবে।
২. বাংলাদেশ থেকে ওমরার নিয়ত করে বিমানে এলেন, কিন্তু মীকাতের আগে এহরাম করলেন না
ধরা যাক, ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন:
“আমি ওমরা করব।”
কিন্তু তিনি বিমানে মীকাত অতিক্রম করার সময়—
এহরামের অবস্থায় ছিলেন না,
তালবিয়া পড়েননি,
মীকাতের আগেই শরয়ি এহরাম গ্রহণ করেননি,
তারপর মীকাত অতিক্রম করে জেদ্দা/মক্কায় এসে এহরাম করলেন।
তাহলে শুধু বাংলাদেশে ওমরার নিয়ত করেছিলেন—এই কথার কারণে মীকাত অতিক্রমের বিধান মাফ হয়ে যাবে না।
৩. “আমি তো নিয়ত করেছিলাম”—এই দাবির উত্তর কী?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।
যদি তিনি শুধু ওমরার ইচ্ছা/পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু মীকাতের আগে এহরামের নিয়ত করে তালবিয়া বলেননি, তাহলে তিনি মীকাত অতিক্রমের সময় শরয়ি এহরামে প্রবেশ করেননি।
সুতরাং মীকাত অতিক্রম করে পরে এহরাম করলে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী দম ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি আসে।
অর্থাৎ, তাঁর এই কথা—
“আমি বাংলাদেশ থেকেই ওমরার নিয়ত করেছি, তাই আমার কোনো দম লাগবে না।”
—এভাবে বলা সঠিক নয়।
৪. তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম আছে
যদি ব্যক্তি মীকাত অতিক্রম করার পরও মক্কায় প্রবেশ করে ওমরার কার্যক্রম শুরু করার আগে আবার মীকাতে ফিরে যান এবং সেখান থেকে এহরাম গ্রহণ করেন, তাহলে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী দমের বিধান থেকে বাঁচার সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ:
মীকাত অতিক্রম → ভুল বুঝতে পারা → মীকাতে ফিরে যাওয়া → সেখান থেকে এহরাম → মক্কায় প্রবেশ → ওমরা
এভাবে করলে সাধারণত দমের বাধ্যবাধকতা দূর হয়ে যায়।
কিন্তু যদি তিনি মক্কায় ঢুকে যান এবং সেখান থেকেই এহরাম করে ওমরা করেন, তাহলে মীকাত অতিক্রমের ভুলের কারণে দম ওয়াজিব হবে—যদি শরয়ি কোনো ওজর না থাকে।
৫. তাঁর ওমরা কি আদায় হবে?
ইনশাআল্লাহ, ওমরা আদায় হয়ে যাবে, যদি তিনি পরবর্তীতে সঠিকভাবে এহরাম করে—
তাওয়াফ করেন,
সাঈ করেন,
মাথা মুণ্ডন/চুল ছোট করেন,
এবং অন্যান্য ফরজ-ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় করেন।
কিন্তু ওমরা সহিহ হওয়া এবং মীকাতের ওয়াজিব লঙ্ঘনের কারণে দম ওয়াজিব হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়।
অর্থাৎ:
ওমরা হয়ে যেতে পারে + একই সঙ্গে দম ওয়াজিব হতে পারে।
দম দিতে হবে না—এমন নয়।
৬. আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এহরামের কাপড়
যদি প্রশ্ন হয়, “লোকটি এহরামের দুই কাপড় পরেনি, কিন্তু মীকাতের আগে নিয়ত ও তালবিয়া করেছে”—তাহলে কী হবে?
এটা সম্পূর্ণ আলাদা মাসআলা।
পুরুষের জন্য এহরামের কাপড় পরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত/বিধান হলেও এহরামের কাপড় না পরা আর এহরাম না করা এক কথা নয়। কেউ যদি শরয়ি পদ্ধতিতে এহরামে প্রবেশ করে ফেলে, তারপর সাধারণ পোশাক পরে থাকে, তাহলে তার এহরাম হয়ে যেতে পারে; তবে সাধারণ পোশাক পরার কারণে আলাদা নিষেধাজ্ঞা ও ফিদয়ার বিধান আসতে পারে।
সুতরাং “এহরামের কাপড় পরিনি” এবং “এহরামই করিনি”—এই দুই বিষয়কে এক করা যাবে না।
সংক্ষেপে হুকুম
পরিস্থিতি
হুকুম
বাংলাদেশে শুধু ওমরার পরিকল্পনা/নিয়ত ছিল, কিন্তু এহরামে প্রবেশ করেননি
মীকাত পার হওয়ার সময় এহরাম করা জরুরি
মীকাত অতিক্রম করে মক্কায় এসে এহরাম করলেন
হানাফি মতে দম ওয়াজিব হওয়ার বিষয় আসে
ভুল বুঝে মীকাতে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে এহরাম করলেন
দমের বিধান থেকে বাঁচতে পারবেন
মীকাতের আগে নিয়ত ও তালবিয়া করে এহরামে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু নির্ধারিত কাপড় পরেননি
এহরাম না হওয়ার কথা নয়; তবে পোশাকের কারণে পৃথক বিধান হতে পারে
মীকাত অতিক্রমের পর মক্কায় এহরাম করে ওমরা করলেন
ওমরা আদায় হবে, কিন্তু মীকাতের বিধান লঙ্ঘনের কারণে দমের বিষয় থাকবে
সুতরাং আপনার বর্ণিত ব্যক্তির বক্তব্য—“আমি বাংলাদেশ থেকেই নিয়ত করেছি, তাই দম লাগবে না”—সঠিক নয়, যদি তিনি বাস্তবে মীকাত অতিক্রমের আগে শরয়ি এহরামে প্রবেশ না করে থাকেন।
তবে তিনি ঠিক কখন নিয়ত করেছেন, তালবিয়া পড়েছেন কি না, বিমানে মীকাত অতিক্রমের সময় কী অবস্থায় ছিলেন, এবং মক্কায় প্রবেশের আগে কোথায় এহরাম করেছেন—এসবের ওপর চূড়ান্ত ফতোয়ার খুঁটিনাটি নির্ভর করবে।আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে কোরআন সুন্নাহর আলোকে ওমরার নিয়ত সহ সম্পূর্ণ ওমরা পালন করার তৌফিক দান করুক আমিন।

Address

Misfala
Makkah
21955

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Makkah Hajj And Umrah service posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share