22/04/2026
থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করতে আসার ১১ প্রস্তুতি-
থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং জীবনমান ও খরচে পার্থক্য রয়েছে। তাই চিকিৎসা নিতে আসার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরী।
১. আন্তর্জাতিক মানের নয় শুধু, থাইল্যান্ডের চিকিৎসা ব্যবস্থা সারা দুনিয়ার সেরাগুলোর একটি। এখানে হাসপাতালগুলো এবং চিকিৎসকদের কাছে সর্বোচ্চ সেবা পাবেন আপনারা।
২. বাংলাদেশ বা ভারতের তুলনায় এখানে চিকিৎসা ব্যয়বহুল। অনেকেই এখানে চিকিৎসা করতে এসে ভারতের সঙ্গে খরচের তুলনা করেন। সেটা করা যাবে না। যেমন, ধরুন যে এক্সরে এর দাম বাংলাদেশ বা ভারতে ৬০০ টাকা এখানে সেটা ৬০০ বাথ। মানে ২৪০০ টাকা।
৩. থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের একটি সাধারন প্রশ্ন থাকে। অমুক বিষয়ে সেরা চিকিৎসককে দেখাতে চাই। বা সবচেয়ে ভাল ডাক্তারের খোঁজ দিন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই ভাল চিকিৎসক এর ধারনা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় দেখবেন। যারা বিভিন্ন দেশে থাকেন, তারাও আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, বিদেশে সাধারন ধারনা যে, ‘ভাল না হলে কেউ আবার চিকিৎসক হয় কিভাবে! স্থানীয়দের এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা বুঝতেই পারবে না!
৪. থাইল্যান্ডে চিকিৎসক নিজে নির্ধারন না করে হাসপাতালের উপর ছেড়ে দিন। এখানে স্থানীয়রা এভাবেই দেখান। আপনার রোগের ডিটেলস আমাদের জানান, আমরা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় তথ্য সহ পাঠাবো। সেখানে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স থাকেন। তিনি সবকিছু দেখে সম্পর্কিত বিভাগে পাঠাবে। সেখানে সব কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দিবে আপনার জন্য কোন চিকিৎসক উপযোগী।
৫. এরপরও অনেকেই এই কথায় খুশি হন না। তাদের জন্য আমরা কিছু চিকিৎসকের নাম বলি, যাদের কাছে পূর্বে বাংলাদেশি রোগীরা ভাল রিভিউ দিয়েছেন। তবে বাস্তবতা বললে, যে যার কাছে যান, তার কাছ থেকেই ভাল রিভিউ আসে।
৬. এখানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খুবই ভাল। তবে সহজে সিরিয়াল পাওয়া যায় না। কিং চুলালংকন বা শ্রীরাজের মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে অন্তত হাতে ১ থেকে ২ মাস সময় নিয়ে আসতে হবে।
৭. থাইল্যান্ডে ভারতের মতো মাস ভিত্তিক রুম পাওয়া যায় না। যেখানে রান্না বান্না করে খাওয়া যায়। এখানে কমপক্ষে ৬ থেকে ১২ মাসের জন্য রুম ভাড়া করতে হয়। তাও মেডিকেল বা ট্যুরিস্ট ভিসায় সাধারনত কনডোমোনিয়াম ভাড়া পাওয়া যায় না। তবে কিছু স্টুডিও এপার্টমেন্ট বা এয়ারবিএনবি’তে রাত অনুযায়ী রুম ভাড়া পাওয়া যায়। সেটি কমপক্ষে বাংলাদেশি টাকায় দৈনিক ৩ হাজার টাকা ধরে রাখতে হবে। সম্প্রতি অনেক বাংলাদেশিরা সেখানে বাসা নিয়ে সেটি আবার ভাড়া দিচ্ছে। সেটা সিলেক্ট করতে পারেন।
৮. থাইল্যান্ডে মিশনারিজ হাসপাতাল বলে কিছু নেই। অনেকের একটি ভুল ধারনা রয়েছে যে সেন্ট লুইস বা ব্যাংকক ক্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল মিশনারিজ হাসপাতাল। এটা সম্পূর্ন ভুল ধারনা। এখানে মধ্যম মানের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মতোই এগুলোর খরচ। বরং এখানে ইন্টারন্যাশনাল রোগীদের জন্য আলাদা সার্ভিস নেই বলে ভাষাগত জটিলতায় পড়তে হয়।
৯. বাংলাদেশি খাবার কিনে খেতে চাইলে সুকুমভিতে থাকার বিকল্প নেই। এছাড়াও রোগী নিয়ে আসলেও সুকুমভিতে থাকলে সন্ধ্যার পর সময় কাটানো যায়। যেহেতু নাইট লাইফ আছে। অন্য স্থানে থাকলে বিচ্ছিন্নের মতোই থাকতে হয়।
১০. থাইল্যান্ডে চোখ বুঁজে যে কোন হাসপাতালে সেবা নিতে পারবেন। প্রত্যেকটি হাসপাতালই ভাল সেবা প্রদান করে। তবে যেখানে আপনার পরিচিত পাবেন, যেখানে কমিউনিকেশনের লোক থাকবে সেই হাসপাতাল বাছাই করার পরামর্শ থাকবে।
১১. এখানে হাসপাতালে ওষুধের খরচ অনেক। তবে এখানে ফার্মাসিস্ট ওষুদ দেয়। তিনিই নিয়ম কানুন লিখে দেন। তাই হাসপাতালকে বলে কিছু ওষুধ নিবেন। বাকিগুলো বাইরে থেকে অনেক কম দামে কিনতে পারবেন। তবে এটাও খেয়াল রাখবেন সব হাসপাতালের কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ রয়েছে। যেটা সেই হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও পাবেন না।
থাইল্যান্ডে আপনাদের চিকিৎসা নিরাপদ এবং নিশ্চিন্তে হোক। যে কোন ধরনের সহযোগীতার জন্য +660828640477 (whatsapp) যোগাযোগ করুন।