23/04/2026
মক্কা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে…
একটি স্থান যেখানে হজ, উমরাহ আর ওহীর ইতিহাস একসাথে মিশে আছে। 🤍
মসজিদুল জি’রআনা (Masjid al-Ji’rranah)
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মীকাত স্থান
যেখান থেকে উমরাহর জন্য ইহরাম বাঁধা হয়।
৮ হিজরিতে, হুনাইন যুদ্ধের পর
রাসূল ﷺ এখানে কয়েকদিন অবস্থান করেন।
এখান থেকেই তিনি ইহরাম বেঁধে উমরাহর উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওনা হন।
🌿 নামের পেছনের গল্প
“জি’রআনা” নামটি এসেছে কুরাইশ গোত্রের এক নারী—রীতা থেকে, যাকে “জি’রআনা” বলা হতো।
তিনি সারাদিন সুতা কাটতেন,
আবার নিজেই তা টুকরো টুকরো করে ফেলতেন।
এই ঘটনাকেই ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে
“সেই নারীর মতো হয়ো না,
যে পরিশ্রম করে সুতা কাটার পর তা ছিন্নভিন্ন করে ফেলে…”
~ [সূরা নাহল ১৬:৯২, অংশ বিশেষ]
⚔️ হুনাইন যুদ্ধের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
এই জি’রআনাতেই
রাসূল ﷺ হাওয়াজিন গোত্র থেকে প্রাপ্ত গনীমতের মাল বণ্টন করেন।
পরে যখন হাওয়াজিন গোত্র তাওবা করে ফিরে আসে,
তারা তাদের বন্দি ও সম্পদ ফেরত চায়।
রাসূল ﷺ তাদের দুটি বিকল্প দেন;
বন্দি অথবা সম্পদ।
তারা বন্দিদের বেছে নিলে
রাসূল ﷺ সাহাবাদের নির্দেশ দেন
সব বন্দিদের তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে।
সাহাবারাও তা আন্তরিকভাবে মেনে নেন।
সেদিন সন্ধ্যায়
রাসূল ﷺ ইহরাম বাঁধেন, উমরাহ আদায় করেন
এবং একই রাতে মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
🤍 আনসারদের ভালোবাসার এক মুহূর্ত
গনীমত বণ্টনের সময়
নবী ﷺ নতুন মুসলিমদের বেশি অংশ দেন
তাদের অন্তরকে ইসলামের দিকে দৃঢ় করার জন্য।
এতে কিছু আনসার যুবকের মনে কষ্ট জন্মায়।
এই খবর পৌঁছালে
রাসূল ﷺ আনসারদের একত্র করে বললেন,
“তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও
মানুষ দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে যাবে,
আর তোমরা নিয়ে যাবে আল্লাহর রাসূলকে?”
এই কথা শুনে
আনসারদের চোখ অশ্রুতে ভরে যায়…
আর তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। 🤍
📖 এই স্থানেই নাযিল হয় এক গুরুত্বপূর্ণ আয়াত
“ وَأَتِمُّواْ ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِۖ وَلَا تَحْلِقُواْ رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْهَدْىُ مَحِلَّهُۥۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۦٓ أَذًى مِّن رَّأْسِهِۦ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍۚ فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلْعُمْرَةِ إِلَى ٱلْحَجِّ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَـٰثَةِ أَيَّامٍ فِى ٱلْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌۗ ذَٲلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُۥ حَاضِرِى ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ"
(আর হজ ও উমরা আল্লাহর জন্য পূর্ণ কর। অতঃপর যদি তোমরা আটকে পড় তবে যে পশু সহজ হবে (তা যবেহ কর)। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করো না, যতক্ষণ না পশু তার যথাস্থানে পৌঁছে। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে। আর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি উমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা যবেহ করবে। কিন্তু যে তা পাবে না তাকে হজে তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন সাত দিন সিয়াম পালন করবে। এই হল পূর্ণ দশ। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মাসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আযাবদানে কঠোর।)
~ [সূরা বাকারা ২:১৯৬]
একটি স্থান…
কিন্তু এর ভেতরে আছে
ইহরামের শুরু, উমরাহর প্রস্তুতি,
গনীমতের শিক্ষা,
আর ভালোবাসার এক গভীর ইতিহাস। 🕋🤍